কভিড-১৯ মহামারী শুরু হলে যে কয়টি খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তার অন্যতম আকাশপথে ভ্রমণ পরিষেবা। সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধীরে ধীরে উঠতে থাকে বিধিনিষেধ, খুলে দেয়া হতে থাকে সীমান্ত। তবে যাত্রী চলাচল শুরু হলেও এখনো কভিডপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি বেশির ভাগ এয়ারলাইনসের পরিস্থিতি। এ অবস্থায় হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক প্রত্যাশা করছে যে চলতি বছর যাত্রী পরিবহন প্রাক-কভিড পর্যায়ের ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে। পাশাপাশি আগামী বছর কভিডপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা করছে এয়ারলাইনসটি।
ক্যাথে প্যাসিফিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অগাস্টাস ট্যাং কিন উইং বলেন, মহামারীকালে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যদিও হংকং বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। যেমন অন্য অনেক দেশের তুলনায় দীর্ঘ সময় সীমান্ত বন্ধ থাকা। তবে এখন যে যাত্রীর চাপ রয়েছে তা সামাল দিতে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মী রয়েছেন। ফলে ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া আগামী বছর যে চাপ বাড়বে তা সামাল দেয়ার জন্যও আমাদের পরিকল্পনা চলছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই মহামারীর আগের অবস্থায় ফেরার প্রত্যাশা করছে ক্যাথে প্যাসিফিক। এর মধ্যে চলতি বছরই এক-তৃতীয়াংশ যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। যাত্রীর পাশাপাশি কার্গো পরিবহন সক্ষমতাও আগের পর্যায়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ক্যাথে প্যাসিফিকের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হয় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসকে। এ প্রতিষ্ঠানও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ২০১৯ সালের যাত্রী সংখ্যার অন্তত ৮১ শতাংশ পূরণের চেষ্টা করছে। ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফেরার বিষয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে।
এর আগে ক্যাথে প্যাসিফিক ও স্বল্প খরচের এয়ারলাইন এইচকে এক্সপ্রেসের মালিক দ্য ক্যাথে প্যাসিফিক গ্রুপ জানিয়েছিল যে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন তিন হাজার ফ্লাইট যুক্ত করা হবে। এছাড়া নতুন চার হাজার কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ক্যাথে। এর মধ্যে রয়েছেন ৭০০ পাইলট ও দুই হাজার কেবিন ক্রু। যেন আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে যে ভ্রমণ চাহিদা সৃষ্টি হবে তা সামাল দেয়া যায়। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ জনবল কমিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।










