বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবে গত বছর মন্দা পরিস্থিতিতে পড়ে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন। তবে চলতি বছর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে খাতটি। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিলে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। খবর রয়টার্স।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ মাসে ইস্পাত উৎপাদন ১৬ কোটি ৯৫ লাখ টনে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময় করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের কারণে ধাতুটির উৎপাদন প্রায় তলানিতে ঠেকেছিল। তবে এ বছর ওই সময়ের তুলনায় উৎপাদন আকাশচুম্বী।

গত বছর দেশে দেশে লকডাউনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এ কারণে ইস্পাত কারখানাগুলোয় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। বছরের শেষ ভাগে এসে আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশ ছোঁয় ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল আকরিক লোহার দাম। এসব কারণে গত বছর ২০১৯ সালের তুলনায় বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন কমে যায়। এ বছরের প্রথম মাস থেকেই বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। জানুয়ারিতে উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন বাড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। মার্চে প্রবৃদ্ধি আসে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

বিশ্বজুড়ে করোনাকালীন বিধিনিষেধ শীথিল হতে থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে ইস্পাতের আন্তর্জাতিক বাজারদরও। এসব কারণেই বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামী মাসগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে আফ্রিকা ১৩ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশে গত মাসে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় মহাদেশ দুটি উৎপাদন করেছে মোট ১২ কোটি ৫০ হাজার টন ইস্পাত। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে (সিআইএস) উৎপাদন ২০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিলে অঞ্চলটিতে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টনে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে ইস্পাত উৎপাদন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪২ লাখ টন, মধ্যপ্রাচ্যে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ লাখ, উত্তর আমেরিকায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৭ লাখ ও দক্ষিণ আমেরিকায় ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষক ক্যারোলিন বেইন এক বিবৃতিতে বলেন, মৌলভিত্তিক পরিবর্তনজনিত কারণে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক ইস্পাত উত্তোলন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। বিশ্ববাজারে ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী ভাব উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

ধাতব পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের দিক থেকে চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। এপ্রিলে দেশটির ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ মার্চের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯ কোটি ৭৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশটির উৎপাদন বেড়েছে।

শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় এর পরই রয়েছে ভারত। দেশটি গত মাসে ৮৩ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। তৃতীয় শীর্ষস্থানীয় দেশ জাপান ৭৮ লাখ এবং এর পরের অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ৬৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে।