নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পাকিস্তানের সিমেন্ট রফতানি খাত। দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি আগের তুলনায় বাড়লেও কমতির দিকে রয়েছে রফতানি আয়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম তুলনামূলক কম থাকায় সিমেন্ট রফতানিতে আয় ক্রমেই কমছে পাকিস্তানের। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে চললে দেশটির রফতানিমুখী সিমেন্ট শিল্প গভীর সংকটে পড়তে পারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ডন।
সিমেন্ট রফতানির চালচিত্র নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ফেডারেল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এফবিএস)। এতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) পাকিস্তানের সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫৯ লাখ ৪৯ হাজার টন সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পাকিস্তান থেকে ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার টন সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি হয়েছিল।
তবে রফতানিতে প্রায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকার পরও চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি করে পাকিস্তানের আয় কমতির দিকে ছিল। এ সময় দেশটির রফতানিকারকরা এ খাত থেকে সব মিলিয়ে ২২ কোটি ৩২ লাখ ডলার আয় করেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি করে পাকিস্তানের মোট ২৪ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় হয়েছিল।
তবে চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান থেকে সিমেন্ট ও ক্লিংকার বেশি রফতানি হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে ২০২০ সালে এসে রফতানি অনেকটাই শ্লথ হয়ে এসেছে। মাসভিত্তিক হিসাবে গত এপ্রিলে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৩ টন সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এফবিএস, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
এ সময় সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি করে পাকিস্তানি রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। আর গত মার্চে দেশটি থেকে মোট ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯৯ টন সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে মার্চের তুলনায় গত এপ্রিলে পাকিস্তানের সিমেন্ট ও ক্লিংকার রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। রফতানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।
পণ্যটির রফতানি খাতের এমন ধারায় উদ্বেগ জানিয়েছে অল পাকিস্তান সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এপিসিএমএ)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে মহামারীর কারণে চীন সিমেন্ট ও ক্লিংকার আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গেও স্থল সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থগিত হয়ে গেছে সিমেন্টের একাধিক রফতানি চালান। অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে সিমেন্ট ও ক্লিংকার আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এসব ঘটনা পাকিস্তানের রফতানিমুখী সিমেন্ট শিল্পে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। পণ্যটির ফতানি আয় কমতে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রফতানিমুখী সিমেন্ট শিল্প আরো গভীর সংকটে পড়তে পারে।
পাকিস্তাানে সিমেন্টের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ডিজি সিমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির সিএফও ইনায়েত উল্লাহ নিয়াজি বলেন, সামনের দিনগুলোয় পাকিস্তানের সিমেন্ট শিল্পের রফতানি প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে। চীন থেকে বাংলাদেশ, ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্য—সবখানেই ভিয়েতনামিজ সিমেন্টের জয়জয়কার। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর এ সময়ে ভিয়েতনামের সাথে জোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে পাকিস্তানের সিমেন্ট শিল্পকে।










