উড়োজাহাজ পরিষেবায় নতুন নীতিমালার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যেসব যাত্রী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ নিউজ কনফারেন্সে এমনটা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। খবর বিবিসি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আকাশপথে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নীতিমালা। পরিকল্পনা অনুসারে, যাত্রীদের দেয়া ক্ষতিপূরণে খাবার কিংবা হোটেলে অবস্থানের সুবিধাদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে অংশগ্রহণ করবেন, এমন নিশ্চয়তা প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভ্রমণ নীতিমালাবিষয়ক পরিকল্পনা প্রকাশিত হলো।
পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে, যেন তারা আকাশপথে ভ্রমণের সময় উড়োজাহাজ পরিষেবার বিঘ্ন ঘটলে বাড়তি খরচের মুখোমুখি না হন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের উড়োজাহাজ পরিষেবায় ক্ষতিপূরণবিষয়ক প্রথম নীতিমালা। উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠানকে আরো যাত্রীবান্ধব হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিলম্বিত সময়ের মধ্যে খাওয়া, থাকা কিংবা হোটেলের পুনরায় বুকিংয়ের ঝামেলার ভার বহন করতে হবে। নীতিমালাটিকে ‘কন্ট্রোলার ক্যানসেলেশন’ নামে অভিহিত করা হয় ঘোষণায়। ক্রুজনিত ত্রুটি, উড়োজাহাজ পরিষ্কার করা, মালামাল তোলা, জ্বালানি সরবরাহ কিংবা উড়োজাহাজ মেরামতজনিত সমস্যাগুলো এর আওতায় পড়বে। কিছু উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের হয়ে কাজ করতে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ঘোষণা প্রকাশ করা হলো। গত গ্রীষ্মে পরিবহন বিভাগে এ নীতিমালাবিষয়ক অনলাইন ড্যাশবোর্ড উন্মুক্ত করেন। তাতে উড়োজাহাজ পরিষেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় যাত্রীদের জন্য সুবিধা বাড়াতে। প্রতিক্রিয়ায় বেশকিছু মার্কিন উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় কিছু সুবিধা চালু করেছে। উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষের ত্রুটিতে বিলম্বিত হলে যাত্রীদের খাবার ও হোটেল ভাড়ার খরচের ভার গ্রহণ করে। কিন্তু পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ড্যাশবোর্ড অনুসারে, ৩ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকা যাত্রীদের সরাসরি অর্থ ফিরিয়ে দিতে পারবে না কোনো উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান।
সর্বশেষ ঘোষণা অনুসারে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে আমেরিকার উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের মোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের অর্ধেকই ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রণজনিত ত্রুটি।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব করার কোনো কারণ নেই। তারা সঠিক সময়ে ওঠানামা করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সবসময় অগ্রাধিকার দেয়া হয়। যাত্রীবান্ধব হওয়ার মাপকাঠিতে ইউরোপের বেশকিছু দেশের চেয়ে মার্কিন বিমান পরিষেবা পিছিয়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে যাত্রীপ্রতি ৬৬০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় বিলম্ব বা বাতিল হয়ে গেলে।










