আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও সৃষ্ট জটিলতার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট হয়নি। সুদহার বাড়ানো নিয়ে জন্ম নেয়নি গুঞ্জন। বরং জ্বালানি তেল বহির্ভূত অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাংক খাতও শক্তিশালী রয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ বালামা দাবি করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ২০২২ সালজুড়ে ছিল স্থিতিশীল। প্রধান অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোই পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। দেশের ভেতরে অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ, পর্যাপ্ত তহবিল ও তারল্য অনুকূলে ছিল।
আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। কম খরচ ও সুদহারের কারণে বেড়েছে আয়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নিট আয় বেড়েছে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। ঋণদাতা গোষ্ঠীও ভালো করেছে বছরজুড়ে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় পর্যাপ্ত পুঁজি ছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে খুব দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য ও কভিড-১৯ সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সরকার অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য কিছু লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকার বাইরেও সারা পৃথিবীতে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বাড়ানো একটা সাধারণ দৃশ্য হয়ে দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমিরাতে সে সংকট প্রভাব ফেলেনি।
আরব আমিরাতের জিডিপি ২০২১ সালে বেড়েছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে গত বছর বেড়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময়ে তেল বহির্ভূত খাতের তৎপরতা বিশেষভাবে নজরে পড়ার মতো। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে, যার পেছনে ভূমিকা পালন করবে তেলের উৎপাদন কমে আসা ও জ্বালানি তেল বহির্ভূত খাতের প্রসার। জ্বালানি তেল খাতে জিডিপি বাড়বে ৩ শতাংশ, যেখানে জ্বালানি তেল বহির্ভূত খাতে জিডিপি বাড়বে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
ইউএইর ব্যাংক খাতে ঋণপ্রদানের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ইতিবাচক দিক ইঙ্গিত করে। বেসরকারি ও সরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি খাতটিকে শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে আমানত। ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত সাত বছরে সর্বোচ্চ। খুচরা পরিষেবা, বেসরকারি বাণিজ্য ও সরকারি আমানত খাতটিতে ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বের গড় মুল্যস্ফীতি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট নিচে। এ প্রসঙ্গে বালামা জানিয়েছেন, দেশীয় অর্থনৈতিক উৎপাদন পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়লেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল আরব আমিরাতে।










