অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে রাশিয়ার আয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে দেশটির আয় বেড়েছে বলে সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর আরটি।
এছাড়া রাশিয়ার নতুন আইন অনুযায়ী, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার জ্বালানি তেল সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত খনিজ নিষ্কাশন কর (এমইটি) প্রদান করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর নির্ভর করে এমইটি পরিবর্তন হয়। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এ খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস রফতানি থেকে রাশিয়ার আয় ৮২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ চার মাসে মোট ৪২০ হাজার কোটি রুবল (৪ হাজার ৫৩০ কোটি) মূল্যের জ্বালানি তেল রফতানি করেছে রাশিয়া।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) ও তাদের মিত্র দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে রাশিয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও জ্বালানিপণ্য রফতানিতে রাশিয়ার আয় বেড়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর জ্বালানি তেল রফতানির জন্য এশিয়ার দেশগুলোকে বেছে নেয় রাশিয়া। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীন রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রফতানি করছে।
প্রসঙ্গত, ওপেক প্লাস লম্বা সময় ধরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ কমাচ্ছে। জোটের সদস্য হিসেবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি কমাতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। জোটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল করে রফতানি কমানোর কথা জানায় দেশটি। জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) উত্তোলন কমানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই মূলত এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।










