লা রিপাবলিকা ও লা স্টাম্পার মতো আইকনিক সংবাদপত্রের পাশাপাশি একাধিক রেডিও এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মালিক ইতালির জিইডিআই গ্রুপ। সম্প্রতি পুরো মিডিয়া ব্যবসা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি, সে বিতর্কের রেশ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়েছে। খবর ইউরো নিউজ।
এক্সর নামের হোল্ডিং কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে জিইডিআই। কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে, গ্রুপের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রির জন্য থিওডোর কিরিয়াকু মালিকানাধীন গ্রিক গ্রুপ অ্যান্টেনার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
খবরটি প্রকাশের পর পরেই লা স্টাম্পার সাংবাদিকরা টানা বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ঘোষণা করেন। ফলে গত সপ্তাহে একদিন সংবাদপত্র প্রকাশ এবং ওয়েবসাইট আপডেট হয়নি। সাংবাদিকরা বলছেন, মিডিয়া গ্রুপটি বিক্রির সিদ্ধান্তে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ রয়েছে। লা রিপাবলিকায় একই ধরনের আন্দোলন চলছে। তারা বলছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না দেয়া পর্যন্ত কিছু কাজ স্থগিত থাকবে। গ্রুপের সম্পাদকীয় বোর্ডগুলো বলছে, সংবাদপত্রগুলোর ভবিষ্যৎ, ক্রেতার আর্থিক স্থিতিশীলতা বা সাংবাদিক পেশাদারত্বের সুরক্ষা সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।
জিইডিআইয়ের অধীন সম্পদগুলো আলাদাভাবে বিক্রির পরিকল্পনা করছে এক্সর। লা রেপুবলিকা কিনতে পারে অ্যান্টেনা। এর সঙ্গে থাকবে ওয়েবসাইট, ডিজিটাল প্লাটফর্ম, ভিডিও নিউজরুম এবং বিশেষায়িত প্লাটফর্ম গুস্তো ও ইতালিয়ান টেক।
প্রধান প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জিইডিআই গ্রুপের তিনটি রেডিও স্টেশন রেডিও ডিজে, রেডিও ক্যাপিটাল ও এমটুও।
অবশ্য লা স্টাম্পার ভবিষ্যৎ আরো জটিল। তুরিনভিত্তিক সংবাদপত্রটি কিনতে আগ্রহী নয় অ্যান্টেনা। এখন প্রধান প্রার্থী হিসেবে রয়েছে এনইএম-নর্ডইস্ট মাল্টিমিডিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ইতালিয়ান ক্রেতা পাওয়া না গেলে সাময়িকভাবে অ্যান্টেনার ক্রয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে লা রিপাবলিকার ভাগ্য অনুসরণ করবে হাফপোস্ট ইতালিয়া।
আলোচনার কেন্দ্রে থাকা থিওডোর কিরিয়াকু গ্রিক মিডিয়া ও শিপিং ব্যবসায়ী মিনোস কিরিয়াকুর ছেলে। ১৯৮৯ সালে গঠিত অ্যান্টেনা গ্রুপ টেলিভিশন, ডিজিটাল, রেডিও, স্ট্রিমিং এবং বিভিন্ন দেশের কনটেন্টভিত্তিক প্লাটফর্মে সক্রিয়। বলকান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায়ও অ্যান্টেনার প্লাটফর্মগুলোর কয়েকশ কোটি গ্রাহক রয়েছে।
সম্ভাব্য এ বিক্রি নিয়ে বিতর্ক শুধু সংবাদকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়। ইতালির রাজনীতি, ইউনিয়ন ও ব্যবসায় জগৎও এতে জড়িয়ে গেছে। পার্লামেন্টে জরুরি ব্রিফিংয়ের দাবি করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি, গ্রিনস অ্যান্ড লেফট অ্যালায়েন্স ও ফাইভ স্টার মুভমেন্ট। এমনকি জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও তথ্য স্বাধীনতা রক্ষাসংক্রান্ত ‘গোল্ডেন পাওয়ার’ চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে।
অন্যদিকে ডিল নিউজের মতো গ্রিসের প্রধান সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য এ চুক্তিকে অ্যান্টেনার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইউরোপীয় মিডিয়া খাতে কিরিয়াকু গ্রুপের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে একে তুলে ধরা হয়েছে।










