এভিয়েশন খাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এমিরেটস। ২০২১ সালে দেয়া ঘোষণায় জানানো হয়েছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের কথা। সে হিসেবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে কার্বনমুক্ত হয়ে উঠবে। পরিচালনা করবে গবেষণা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট পূর্বঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে না পারার আশঙ্কা জানিয়েছেন। খবর আরব নিউজ।
বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে পরিবহন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেদিকটা বিবেচনা করেই এভিয়েশন খাতের জ্বালানি নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা জানিয়েছেন এমিরেটস প্রধান টিম ক্লার্ক। তিনি জানান, এমিরেটস এর মধ্যেই ২০ কোটি ডলারের তহবিল তৈরি করেছে গবেষণা ও অন্যান্য প্রকল্পের জন্য। উড়োজাহাজ পরিষেবায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ও ইঞ্জিন, জ্বালানি সরবরাহ, নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিবেশগত প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি নিয়ে কাজের সমন্বয় করতে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে বর্তমান গতিতে এগিয়ে গেলে আকাশপথে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনা যাবে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। সংগৃহীত ২০ কোটি ডলার আগামী তিন বছরের মধ্যে বণ্টিত হওয়ার কথা। এমিরেটস অংশীদারত্বের মাধ্যমে কাজ করবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আইএটিএ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে আকাশপথে জ্বালানি ব্যবহারের খাতে প্রত্যাশার মাত্র ২ শতাংশ পূরণ হবে। যদিও এর মধ্যে অল্প পরিমাণ টেকসই উড্ডয়ন জ্বালানি (এসএএফ) তৈরি করা হয়েছে ভোজ্যতেল ও প্রাণিজ বর্জ্য থেকে। কিন্তু তাদের দাম প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি। ক্লার্ক মনে করেন, এমিরেটস প্রায়োগিক ও টেকসই সমাধানের বিষয়টি সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। তার জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকেই গ্রহণ করা হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। চলতে থাকবে গবেষণা। বিকল্প জ্বালানি পাওয়ার আগে পর্যন্ত চলাচলের ক্ষেত্রেও পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষার ব্যাপারে দেয়া হবে সর্বাধিক প্রাধান্য।
চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে এমিরেটস শতভাগ টেকসই উড্ডয়ন জ্বালানি (এসএএফ) চালিত উড়োজাহাজ সামনে আনে। অংশীদার হিসেবে ছিল বোয়িং ও জেনারেল ইলেকট্রিক। এপ্রিলে আইএটিএর কার্গোপ্রধান ব্রেনডান সালিভান দাবি করেন, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে এসএএফ উৎপাদনে সরকারের প্রণোদনা প্রয়োজন। এসএএফ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি কণাই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো এসএএফ খুব কম পরিমাণেই উৎপাদিত হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে সরকারের নীতিমালা জরুরি। তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ ২ হাজার কোটি লিটার এসএএফ উৎপাদিত হতে দেখা যেতে পারে। যদিও এটা আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। তার পরও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকবে কার্বনমুক্ত আকাশপথ তৈরি করার পথে।










