নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় আন্তঃসীমান্ত সংযোগ খুলে দিয়েছে চীন। মহামারীতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণে কাজ করছে দেশটি। তার পরও এপ্রিলে দেশটির আমদানি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে রফতানিও বেড়েছে শ্লথগতিতে। মূলত অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টিই এখানে প্রতিফলিত হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মূলত নাগরিক পর্যায়ে বিভিন্ন পরিষেবা গ্রহণের হার বাড়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেছে। কিন্তু দেশটির শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে যে ট্রেড নাম্বার রয়েছে সেটি কভিড-১৯-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে আরো লম্বা সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশটির কাস্টমস বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে অভ্যন্তরীণ শিপমেন্ট আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। যেখানে এক মাস আগে এর হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে রফতানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মার্চে যার হার ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। যেখানে রয়টার্সের এক ভোটে যুক্ত হয়ে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছিলেন, আমদানিতে জাপানের কোনো প্রবৃদ্ধি হবে না এবং রফতানি ৮ শতাংশ বাড়বে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একজন অর্থনীতিবিদ ঝু তিয়ানচেন বলেন, ‘‌সবকিছু চালু করে দেয়ার কারণে চলতি বছরের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিল যে আমদানি মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু সেটি এখন হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘‌কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে চীন দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সেটি আত্মকেন্দ্রিক ছিল। পুরো বিশ্ব এ বিষয়ে অবগত নয়।’

বিশ্বজুড়ে চলমান মূল্যস্ফীতি ও মন্দা শঙ্কার কারণে চীনের সরকারি কর্মকর্তারা জটিল ও কঠিন রফতানি পরিবেশের বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন। গত মাসে বাণিজ্যে যে পতন হয়েছে তা বৈদেশিক চাহিদা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বিষয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করবে। বিশেষ করে এক বছর আগে কভিড-১৯ মহামারী-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি এখানে মুখ্য।

এক নোটে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনা অর্থনীতিবিদ জিচুন হুয়াং বলেন, ‘‌বৈদেশিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে সে হিসাবে আমরা মনে করি বছরের শেষে রফতানি আরো কমবে।’

আমদানি সংকুচিত হওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যে চীনের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে না সেটিকে নির্দেশ করছে। সেমিকন্ডাক্টর আমদানি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমা চাহিদা হ্রাসের বিষয়ে জানাচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানান, ১২-১৮ মাস ধরে চলমান কঠোর মুদ্রানীতি ও পশ্চিমা ব্যাংকগুলোর দুরাবস্থার কারণে চীনের ও বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এপ্রিলে আসিয়ান অঞ্চলে পণ্য রফতানি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যেখানে মার্চে এর হার ছিল ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি চীনের অন্যতম রফতানি অঞ্চল। অন্যদিকে একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চীনে রফতানি কমে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। টানা ১০ মাস ধরে এটি নিম্নমুখী।

চীনের কয়লা আমদানিও ১৫ মাস ধরে শীর্ষে ছিল। এপ্রিলে সেখানেও পতন হয়েছে। এছাড়া তামা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিও কমেছে।