বিক্রি ধীর হওয়ায় মুনাফায় বড় পতন দেখেছে মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার (এমঅ্যান্ডএস)। ১ অক্টোবর শেষ হওয়া ছয় মাসে ব্রিটিশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ২৪ শতাংশ কমেছে। এজন্য আগামী বছরটা আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে এমঅ্যান্ডএসের ধারণা, গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ জমিয়ে রাখার প্রবণতা আরো বাড়বে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক, খাবার ও বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় মাসে বিক্রি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৬০ কোটি পাউন্ডে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু করপূর্ব মুনাফা ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৫৫ লাখ পাউন্ডে।
যদিও এমঅ্যান্ডএস জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবসা ভালোমতোই চলছে। কারণ পোশাকের বিক্রি ৪ দশমিক ২ শতাংশ, খাবার ৩ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বিক্রি ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্কি নরম্যান বলেন, বর্তমানে এ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সংকটকালীন সময়ে রয়েছে। তাছাড়া বেতন, জ্বালানি, প্যাকেজিং ও যাতায়াতের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ে নানা সংকটও রয়েছে।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী বছর পরিস্থিতি আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। যদিও গত কয়েক বছর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবসায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট মেশিন বলেন, এমঅ্যান্ডএস কিছু জরুরি পোশাক যেমন স্কুলের ইউনিফর্ম ও মোজার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি আরেকটু বয়সী এবং আরো একটু সমৃদ্ধ গ্রাহকদের প্রতি নজর দেয়া হচ্ছে। কারণ এসব গ্রাহকের ওপর সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব কম।
নতুন নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য খুচরা বিক্রেতার তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। স্টুয়ার্ট মেশিন বলেন, মহামারীর কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এমঅ্যান্ডএসের গ্রাহকরা পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটায় ব্যয় করতে পছন্দ করছেন।
এমঅ্যান্ডএসের খাবারের ব্যবসায় মুনাফা ৪২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে পোশাকের দাম ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় আরো দাম বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ৫০টি এক্সটার্নাল ব্র্যান্ড যুক্ত হওয়ায় বিক্রি আরো বেড়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন তরুণ ক্রেতাও। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে জানিয়েছিল, বড় বড় দোকানের ২৫ শতাংশ বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার পরিবর্তে ১০০টি শুধু খাবারের আউটলেট চালু করা হবে। বাড়তে থাকা দাম আর কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুতগতিতে বিকল্প পরিকল্পনা নিচ্ছে এমঅ্যান্ডএস।










