সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল্যস্ফীতি কিছুটা ধীর হলেও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে সমকক্ষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। খবর খালিজ টাইমস।
কামকো ইনভেস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ভোক্তামূল্য সূচক গত জুলাইয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের জুলাইয়ে বেড়েছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। গত ১৭ মাসে এটিই ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে সবচেয়ে কম পরিমাণে ভোক্তামূল্য সূচক বৃদ্ধি। দুবাইয়ের সিপিআইয়ের কমে আসার কারণ মূলত পরিবহন ব্যয় কমে আসা। গত জুলাইয়ে পরিবহন ব্যয় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। তবে আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ বার্ষিক ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। দুবাইয়ের ১৩টি সাবগ্রুপের মধ্যে মাত্র তিনটি সাবগ্রুপের বছরওয়ারি সিপিআই নিম্নমুখী ছিল।
কিছু সিপিআইয়ের সাবগ্রুপের জুলাইয়ে বছরওয়ারি বৃদ্ধি দেখেছে। যেমন খাদ্য ও পানীয়তে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে ৩ দশমিক ৫ ও শিক্ষা খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। মাসপ্রতি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ের সিপিআই সূচক ২০২৩ সালের জুলাইয়ে স্থিতিশীল বলেছে বিশ্লেষকরা। দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় সাবগ্রুপগুলোর মধ্যে আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে জুন মাসের তুলনায় দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি মাসপ্রতি সিপিআই বেড়েছে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে। এ খাতে সিপিআই বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ধীরে ধীরে কমচ্ছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো খাদ্যের মূল্য কমে আসা, বিদ্যুতের দাম কমা ও আর্থিক কঠোর নীতির অবলম্বনের কারণে বৈশ্বিক চাহিদা কমে আসা। কামকো বিশ্লেষকরা জানান, ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভের অধীনে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো থেকে শস্য রফতানি পুনরায় চালু হওয়ার মতো কারণগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্য কমাতে অবদান রেখেছে। তবে বছরের প্রথম সাত মাসে মূল্যস্ফীতির পতনের প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী শিরোনাম মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এদিকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আছে বলে জানায়।
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিরোনাম মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের ৮ দশমিক ৭ থেকে ২০২৩ সালে ৬ দশমকি ৮ শতাংশে নেমে আসবে। আর ২০২৪ সালে তা ৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালে বার্ষিক ৬ দশমিক ৫ থেকে ২০২৩ সালে ৬ শতাংশে পৌঁছবে এবং ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে।










