প্রায় ৯০ শতাংশ চীনা প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থা পিডব্লিউসির এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রমবর্ধমান মুনাফা, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য। শক্তিশালী আর্থিক নীতি ও কৌশল অঞ্চলটির বিনিয়োগের কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
এ জরিপে ১৩৬টি চীনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারা বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় বড় ধরনের বৃদ্ধি। ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেড়েছে। অন্যদিকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের হার নেমে এসেছে ১৫ শতাংশে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক অফিসের ওপর নির্ভর না করে ৭৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গরূপে স্থানীয় বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে চীনা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চীনা ব্যবসার শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে স্থান পেয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নাম। দেশ দুটিতে যথাক্রমে ৮৪ ও ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর পরই রয়েছে মিসর। সৌদি আরবের দ্রুত রূপান্তর ও বাজারের পরিসর একে আগামী তিন-পাঁচ বছরে সম্প্রসারণের শীর্ষ পছন্দে পরিণত করছে। অন্যদিকে বহুমুখীকরণ ও আঞ্চলিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবসায়িক পছন্দে অবস্থান করছে ইউএই।
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলে দ্রুতবর্ধনশীল খাতের দিকে নজর দিয়েছে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এআই ও বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। এসব খাত উপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা এবং চীনের বৈশ্বিক উদ্ভাবনী এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ অঞ্চলে ব্যবসায়িক নীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে জরিপে। যেখানে ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ফ্রি জোনের বাইরেও কর প্রণোদনা চায়। বিধিবিধান কাঠামোয় আরো স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা আশা করছে ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
পিডব্লিউসি চায়নার ইনবাউন্ড/আউটবাউন্ড বিভাগের প্রধান লিন্ডা কাই বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যকে এখন আর পরীক্ষামূলক বাজার হিসেবে দেখছে না চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো; বরং কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য কৌশলগত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।’
পিডব্লিউসি মিডলইস্টের ক্লায়েন্টস অ্যান্ড মার্কেটস বিভাগের প্রধান রামি নাজার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য একটি রূপান্তরমূলক যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক সংহতি আরো দৃঢ় হচ্ছে। চীনা কোম্পানির ক্রমবর্ধমান অঙ্গীকার এ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন ধাপ ইঙ্গিত করছে। অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো অঞ্চলটির টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।’










