সৌদি আরবের শিল্প খাতে অপ্রত্যাশিতভাবেই বাড়ছে বিনিয়োগ। ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করার সাত বছর যেতে না যেতেই অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল খাত খনিজ উৎপাদন ও নির্মাণ স্থাপনা। প্রকল্প ঘোষণার সপ্তম বছরে এসে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি। খবর আরব নিউজ।
শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্যে খনিজ শিল্প খাতে সৌদি আরবে ১ হাজার ৩৩০টি নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। বিনিয়োগ হয়েছে ১২ হাজার কোটি সৌদি রিয়াল। গত সাত মাসের ব্যবধানে পরিসংখ্যানে এ পরিবর্তন ছিল অপ্রত্যাশিত। গত বছরের অক্টোবরে সরকার নতুন খনিজ অনুসন্ধানের জন্য নিলাম আহ্বান করে। বলতে গেলে তাতে সাড়া দিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অভ্যন্তরীণ নির্মাণ খাতে সৌদি আরব সম্প্রতি দুই হাজারের বেশি প্রকল্পে নতুন লাইসেন্স দিয়েছে। কেবল ২০১৬ সালের পর থেকে ১ লাখ ৯৩ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে শিল্প খাতে। ফলে দেশটি ক্রমেই কাটিয়ে উঠছে কেবল তেলনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোকে। দেশটির অন্য উদীয়মান খাত হিসেবে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মন্ত্রণালয় নিলামে অংশগ্রহণকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়। তালিকা থেকে মাত্র দুটি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হবে পরবর্তী সময়ে। খননকার্য পরিচালিত হবে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অঞ্চল রিয়াদ ও আসিরে। উভয় খনিজ অঞ্চলেরই মূল্যবান ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে খ্যাতি রয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত আর রিদানিয়াহ খনিজ অঞ্চলটি দস্তা ও রৌপ্যসমৃদ্ধ। যার আয়তন প্রায় ৭৫ বর্গকিলোমিটার। বিপরীত দিকে আসিরে অবস্থিত মুহাদ্দাদ খনিজ অঞ্চলটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমে। ১৩৯ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে তামা, জিংক, লেড ও স্বর্ণ। কার্যক্রম শুরু হলে সৌদি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে পরিগণিত হবে এ দুই খনিজ অঞ্চল। মন্ত্রণালয় থেকে নিলামের ঘোষণা দেয়া হয়েছে মূলত বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে। যাতে খনিজ খাত ও জাতীয় শিল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। সেই সঙ্গে আকৃষ্ট হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। সেদিক বিবেচনায়ই পরিবর্তন আনা হয়েছে সৌদি আরবে খনিজ আইনে।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রায় খনিজ খাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে খনিজ খাতকে মোট জাতীয় আয়ের তৃতীয় বৃহৎ আয়ের উৎসে পরিণত করার। নেয়া হয়েছে খনিজ সম্পদকে ৫ ট্রিলিয়ন সৌদি রিয়ালের কাছাকাছি উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা। তার দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে দেশটিতে। ভিশন ২০৩০ ঘোষিত হওয়ার পর সৌদি আরবের কারখানা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। তৈরি হয়েছে নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণী। শিল্প ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ওসামা বিন আবদুল আজিজ আল জামিল মার্চে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশীয় অর্থনীতিতে পরিবর্তন তুলে ধরেছেন। তারও আগে প্রকাশিত হয়েছিল পরিসংখ্যান। তাতে সৌদি আরবে বিদ্যমান ১০ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক সুবিধার কথা উদ্ধৃত হয়েছে। কেবল ২০২২ সালেই দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১ হাজার ২৩টি কারখানা।










