প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বের শীর্ষ দুই কফি উৎপাদক ব্রাজিল ও ভিয়েতনামে ফসলহানি ঘটেছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে কফির দাম বেড়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) প্রতি পাউন্ড অ্যারাবিকা কফি ২ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ১ ডলার ৮০ সেন্ট। অন্যদিকে রোবাস্তা কফির দাম ২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনে ২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। খবর ইউরো নিউজ। 

এদিকে কফির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে গ্রাহক পর্যায়েও। বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে কফিপ্রেমীদের। ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন (আইসিও) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কফির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ। সম্প্রতি তীব্র খরার কবলে পড়েছে দেশটি। অন্যদিকে ভয়াবহ টাইফুন আঘাত হেনেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদক ভিয়েতনামে। 

বিশ্বের মোট কফি উৎপাদনের ৪০ শতাংশ হিস্যা ব্রাজিলের। দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সঙ্গে লড়াই করছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন অঞ্চল মিনাস জেরাইস। গত কয়েক মাসে অঞ্চলটিতে অনাবৃষ্টি দেখা গেছে। এতে অঞ্চলটিতে ব্যাপকভাবে ফলন কমে গেছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সস্তা রোবাস্তা কফি বিন উৎপাদক ভিয়েতনাম। রোবাস্তা ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরিতে বেশি ব্যবহার করা হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে টাইফুন ইয়াগির আঘাতে দেশটির সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস অঞ্চলের প্রধান কফি উৎপাদনকারী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে অন্তত ৬০ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। এতে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ায় কফির ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছে।

২০২৩-২৪ উৎপাদন মৌসুমে কফির ফলন এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, এ বছর কফির মোট উৎপাদন ২০ শতাংশ কমতে পারে।

আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইনভার্টোর ক্যাথারিনা এরফোর্ট শিগগিরই স্বাভাবিক দামে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কফি খাতের দ্রুত পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম, এমনকি সরবরাহে উন্নতি হলেও।’

জার্মান কোম্পানি স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, ইউরোপীয়রা বছরে প্রায় ৩২ লাখ টন কফি পান করে, যা বিশ্বের মোট কফির প্রায় ৩৩ শতাংশ। বিশ্বের শীর্ষ দুই কফি উৎপাদনকারী দেশে সংকট তৈরি হওয়ায় কফির বিশ্ববাজার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিন দিন কফি চাষের জন্য উপযুক্ত জমির পরিমাণ কমছে। এতে কফি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী কফিপ্রেমীদের বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে।