ফক্সওয়াগনের ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জার্মানিতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কারখানা। সম্প্রতি এ ধরনের পরিকল্পনা পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। মূলত চীনের সাশ্রয়ী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছে জার্মান এ অটোমেকার। খবর সিএনএন।

বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতার একটি ফক্সওয়াগন। কোম্পানির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জার্মানির কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। এ ব্যবস্থার প্রস্তুতি হিসেবে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ১৯৯৪ সাল থেকে কার্যকর থাকা চাকরি সুরক্ষা চুক্তি শেষ করতে চায়।

এ বিষয়ে ফক্সওয়াগন গ্রুপের সিইও অলিভার ব্লুম জানান, ইউরোপের গাড়ি শিল্প একটি গুরুতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিবেশ আরো কঠিন হয়ে উঠেছে এবং বাজারে নতুন নতুন প্রতিযোগী প্রবেশ করছে। প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে এখানকার গাড়ি উৎপাদন বিশেষ করে জার্মানিতে কোম্পানিটি আরো পিছিয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একক বৃহত্তম বাজার চীনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ফক্সওয়াগন। গত বছরের শেষ দিকে কোম্পানিটি ১ হাজার কোটি ইউরো বা ১ হাজার ১১০ কোটি খরচ কমানোর পদক্ষেপ নেয়। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় চীনে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ কমেছে ৭ শতাংশ। এ সময় পরিচালন মুনাফা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১০ কোটি ইউরো বা ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারে নেমে আসে।

মূলত বিওয়াইডির মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে চীনে ফক্সওয়াগনের বাজার হিস্যা কমতে থাকে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারেও ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইভি খাতের শীর্ষ কোম্পানিটি।

আগস্টে কারখানা, সরবরাহ চেইন ও শ্রম ব্যয় কমানোর তথ্য দিয়েছিলেন ফক্সওয়াগনের সিইও অলিভার ব্লুম। তখন তিনি বিশ্লেষকদের বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজের প্রধান ক্ষেত্র খরচ কমানো। আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি। এর সবই খরচ সম্পর্কিত।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফক্সওয়াগনের খরচ কমানোর এ পরিকল্পনা শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে। কোম্পানির সুপারভাইজরি বোর্ডের প্রায় অর্ধেক আসন তাদের হাতে রয়েছে। এ বোর্ডই নির্বাহী পরিচালকদের নিয়োগ করে থাকে।

এদিকে জার্মানির প্রভাবশালী ইউনিয়ন আইজি মেটাল ফক্সওয়াগনের পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে চাকরি রক্ষার জন্য লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। এ সংগঠনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী থর্স্টেন গ্রোগার এক বিবৃতিতে ফক্সওয়াগনের কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিকল্পনা’ বলে উল্লেখ করেন। 

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ফক্সওয়াগনের কর্মী সংখ্যা ৬ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। এর মধ্যে জার্মানিতেই রয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মতো কর্মী। 

ফক্সওয়াগনের প্যাসেঞ্জার কার বিভাগের সিইও টমাস শেফার জানান, কোম্পানিটি ব্যবসায়িক অবস্থান থেকেই জার্মানির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসইভাবে ব্র্যান্ডের পুনর্গঠনের জন্য ফক্সওয়াগন জরুরিভাবে কর্মচারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে।