বিশ্ববিখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড নাইকির বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থা ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশন (ইইওসি) এ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির দাবি, নাইকির বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত নীতিমালা (ডিইআই) শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঘটনাটিকে মার্কিন করপোরেট খাতে বৈচিত্র্য অনুশীলনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ির নজির হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর ইউরো নিউজ।
সম্প্রতি মিসৌরির ফেডারেল আদালতে নাইকির বিরুদ্ধে একটি আবেদন দাখিল করেছে ইইওসি। সেখানে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে নাইকি যেন অভ্যন্তরীণ সব তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহ করতে বাধ্য থাকে। সংস্থাটি বিশেষ করে জানতে চেয়েছে, নাইকি কীভাবে কর্মীদের জাতিগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলে। এছাড়া কোম্পানিটির ১৬টি বিশেষ অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির তথ্যও চাওয়া হয়েছে, যেগুলোয় নির্দিষ্ট কিছু জাতির কর্মীদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণত কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ইইওসি এমন তদন্ত শুরু করে। কিন্তু নাইকির ক্ষেত্রে কোনো কর্মী সরাসরি অভিযোগ করেননি। এর পরিবর্তে ইইওসির বর্তমান চেয়ারপারসন আন্দ্রেয়া লুকাস নিজেই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি এ অভিযোগ তোলেন এবং বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নাইকির নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
২০২১ সালে নাইকি কোম্পানির কর্মসংস্থান নীতি পরিমার্জন করে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট কর্মকর্তাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৫ শতাংশ) আসবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী থেকে।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মুখে নাইকিসহ অনেক বড় কোম্পানি এমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ ধরনের লক্ষ্য শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের জন্য বৈষম্য তৈরি করে। কর্মকর্তারা মনে করেন, যোগ্যতার বদলে গায়ের রঙের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দেয়া আইনের পরিপন্থী।
এ আইনি পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছে নাইকি। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই ইইওসিকে সহযোগিতা করে আসছে। এরই মধ্যে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার তথ্য ও লিখিত জবাব দেয়া হয়েছে। নাইকির মতে, আদালতের মাধ্যমে এ ধরনের কড়াকড়ি অস্বাভাবিক ঘটনা।
কোম্পানিটি আরো দাবি করছে, তাদের কর্মসূচিগুলো মূলত বৈষম্য দূর করার জন্য এবং তারা সবসময় মার্কিন আইন মেনে চলে।
নাইকিই একমাত্র কোম্পানি নয়, যারা এমন তদন্তের মুখে পড়েছে। গত নভেম্বরে নর্থওয়েস্টার্ন মিউচুয়াল নামে একটি আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই করপোরেট এবং সরকারি পর্যায়ে বৈচিত্র্য বা ডিইআই কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের যুক্তি, এ ধরনের নীতিমালার কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আইন (টাইটেল সেভেন) অনুযায়ী, নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা নিষিদ্ধ। ইইওসি প্রধান আন্দ্রেয়া লুকাস মনে করেন, অনেক কোম্পানি এ আইনের অপব্যাখ্যা করছে এবং শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। এ তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়োগ নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










