চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাপানের অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে পতন এবং উচ্চ আমদানি ব্যয় দেশটির পরিবার ও ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে দেশটির অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গিও অন্ধকারে রয়ে গিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পরও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। বিশ্বজুড়ে উচ্চমূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে রয়েছে জাপান।

মন্ত্রিসভা অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পূর্ব এশিয়ার দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। যেখানে অর্থনীতিবিদরা ১ দশমিক ১ শতাংশ সম্প্রসারণের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রসারিত হয়েছিল।

প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবেও জাপানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। যদিও দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদরা।

রেকর্ড মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার ও বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকির মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ৩২ বছরের সর্বনিম্নে চলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে জাপান। খাদ্য থেকে জ্বালানি প্রতিটি প্রণ্যের দাম বেড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

ইতোচু ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আতসুশি তাকেদা বলেন, অর্থনীতির এ সংকোচন একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আমদানি। তবে চাহিদার তিনটি মূল স্তম্ভ ভোগ, মূলধন ব্যয় ও রফতানি ইতিবাচক পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে। এগুলো শক্তিশালী পর্যায়ে না থাকলেও ভোক্তা চাহিদা সামগ্রিক পরিসংখ্যানের মতো দুর্বল না।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কিনারে পৌঁছানোয় জাপানের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী শিগেইউকি গোতো বলেন, বৈশ্বিক মন্দা আমাদের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আঘাত করতে পারে।

নীতিনির্ধারক ও বাসিন্দারা মহামারীর সম্ভাব্য অষ্টম ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাপানের অর্থনীতিতে অর্ধেকের বেশি অবদান রাখা ভোক্তা ব্যয় নিম্নমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয় মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ হার অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেশি। তবে এটি দ্বিতীয় প্রান্তিকের ভোক্তা ব্যয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জাপানের অর্থনীতিবিদ ড্যারেন টে বলেন, চলমান চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি পুনরায় প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে বলে আমরা আশাবাদী। অভ্যন্তরীণ পর্যটনে প্রত্যাবর্তন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসায় অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে অর্থনীতি সম্প্রসারিত হবে। তবে নতুন করে কভিডের সংক্রমণ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে ধীর করবে।