ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জনতা জুট মিলস লিমিটেডে ১৭ দশমিক ৮৪ মেগাওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ৮ দশমিক ৩৬ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ (বিইএসএস) স্থাপিত এ প্রকল্পে রয়েছে ছাদভিত্তিক, ভূমিভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর পাটকল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হওয়ার মাইলফলক অর্জনের দাবি করেছে জনতা জুট মিলস। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউর অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়।
ইডকলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর আনুমানিক ১৩ হাজার ৯৬০ টন কার্বন নিঃসরণ কমবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ। এছাড়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন কেএফডব্লিউর পরিচালক ড. কার্ক মিল্ডনার, ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল এবং আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে ইডকলের মো. এনামুল করিম পাভেল জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এরই মধ্যে প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট-পিক প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। আরো ৫০০ মেগাওয়াট-পিকের বেশি প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘আকিজ বশির গ্রুপ আন্তর্জাতিক ইআর১০০ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ ইডকলের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ পর্যন্ত ১৫৭ দশমিক ৪৪ মেগাওয়াট-পিক ক্ষমতার ১৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রুপটি কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।
জার্মান রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটিকে বাংলাদেশ ও জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।










