সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের বিক্রি চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর সুবাদে আলোচ্য সময়ে ৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২৮০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৯৪ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ২৭ পয়সা। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ১ পয়সায়।
এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের বিক্রি হয়েছে ৩৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৩৪৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিট লোকসান ছিল । তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৮ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৬৪ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় পণ্য বিক্রির মূল্য বাড়ার কারণে কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৮ টাকা ৪১ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬০ টাকা ৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬৬ টাকা ৬০ পয়সায়।
১৯৮৯ সালে দেশের পুঁজিবাজারে আসা হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মুলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৫৯০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে গত সোমবার হাইডেলবার্গ সিমেন্ট শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ২৪৭ টাকা ৮০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৭৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৩৪৯ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










