বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল সাব-সাহারান আফ্রিকা। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলক দেশ নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলা। জ্বালানি তেলের বিশ্ববাণিজ্যে এসব দেশের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সংকটের কারণে অঞ্চলটি বিশ্ববাজার থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গ্লোবাল ডাটা জানায়, আন্তর্জাতিক প্রধান উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাব-সাহারান আফিকার দেশগুলোতে জ্বালানি তেল উত্তোলন খাতে বিনিয়োগ অগ্রাধিকার নীতি বদলাচ্ছে। এ কারণে চলতি দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্লোবাল ডাটার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর করোনা মহামারীর ধাক্কায় সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বর্তমানে মহামারীর প্রভাব সামলে উত্তোলন খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর উচ্চাভিলাষ রয়েছে এ অঞ্চলের দেশগুলোর। কিন্তু পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং প্রকল্পের অভাবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অঞ্চলটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে লাইনচ্যুত হতে পারে।

জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্য ও আফ্রিকা মহাদেশের প্রধান উত্তোলনকারী দেশ নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলা। সম্প্রতি এসব দেশ উত্তোলন খাতে স্বল্প সংখ্যক নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলো তাদের অগ্রাধিকার নীতি পুনর্মূল্যায়ন করছে।

গ্লোবাল ডাটা জানায়, চলতি বছর থেকে নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমতে শুরু করবে। আগামী বছরগুলোতেও নিম্নমুখী এ ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশ দুটি তুলনামূলক কম তেল উত্তোলন প্রকল্প গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এসব প্রকল্পের অধীনে ২০২৫ সালের মধ্যে উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

গ্লোবাল ডাটার জ্বালানি তেল ও গ্যাসবিষয়ক বিশ্লেষক কনর ওয়ার্ড বলেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন খাতে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তোলনের ক্ষেত্রে এ অঞ্চল খুব সহজেই ইউরোপের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেল উত্তোলক কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এ কারণে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে এক দশক আগে আবিষ্কৃত কিছু কিছু তেল ক্ষেত্র এখনো চূড়ান্ত বিনিয়োগ পায়নি। বিনিয়োগ বিলম্বের কারণে এসব তেলক্ষেত্র অচল পড়ে আছে। এ ধরনের তেলক্ষেত্রগুলোর অন্যতম একটি ব্রিটিশ-ডাচ বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেলের ‘বঙ্গা সাউথইস্ট অ্যাপারো’। এটি প্রায় ২০ বছর আগে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেসব দেশের অব্যবহূত বৃহৎ তেলভাণ্ডার রয়েছে এবং যেসব দেশ আর্থিক শর্তাবলি পূরণে শতভাগ সক্ষম, সেসব দেশেই বিনিয়োগের কথা ভাবছে কোম্পানিগুলো।