কভিড-১৯ মহামারীর সময় কাজ হারিয়ে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের পেশাজীবী ও শ্রমজীবীরা। এতে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বর্তমানে সেসব কর্মী আবার ফিরতে শুরু করায় দেশটির অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করেছে। পাশাপাশি মহামারী চলাকালীন যারা অবসর নিয়েছিলেন বা কাজ হারিয়েছিলেন, তারা আর কখনো ফিরবে না, এ ধরনের উদ্বেগও কমতে শুরু করেছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ২৫-৫৪ বছর বয়সের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মী শ্রমশক্তিতে ফিরে এসেছে। ২০০৭ সালের মহামন্দা-পরবর্তী যা সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। এপ্রিলে ২ লাখ ৫৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা। ফলে মহামারী-পরবর্তী দেশটির বেকারত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
আগাম অবসর, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাব, কভিডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু এবং অভিবাসন কঠোরতার ফলে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার থেকে যে কর্মীরা ‘হারিয়ে গিয়েছিল’ তারা আবার ফিরতে শুরু করেছে। এ প্রত্যাবর্তন ৪০ লাখের বেশি কর্মীর অভাব পূরণ করতে সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুসারে, নতুন ও ফিরে আসা কর্মীরা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ প্রাক-মহামারী স্তরে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করাতে উল্লিখিত ঘাটতির ৭৫ শতাংশেরও বেশি পূরণ সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক সমিতি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন বলেন, ‘রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান কর্মক্ষেত্রে ফিরেছে। আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি লোক আমাদের কাছে কাজ করার আবেদন নিয়ে আসছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।’
সম্প্রতি আমেরিকান শ্রমবাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকরা। এপ্রিলে নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার। কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের বেকারত্বের হার নেমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে। হিস্পানিক ও এশীয় শ্রমিকদের বেকারত্বের হারও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিম্নগামী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মহামারীর আগের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন কর্মিবাহিনীতে ৩৩ লাখের বেশি আমেরিকান কাজ করছে।
ফিরে আসা শ্রমিকরা নতুন শিল্পে নতুন ধরনের চাকরি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির রূপরেখারও বাঁকবদল ঘটাচ্ছে। দূরবর্তী ও নমনীয় কাজের সুযোগ তৈরি করে এ ধরনের খাত যেমন আর্থিক ও পরিষেবায় মহামারীর আগে তাদের তুলনায় বর্তমানে কয়েক হাজার বেশি কর্মী কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও আতিথেয়তাসহ অন্য খাতগুলো ব্যাপক হারে কর্মী সংকটে ভুগছে।
জিপরিক্রুটারের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুলিয়া পোলাক বলেন, ‘একটি কঠোর শ্রমবাজার পরিস্থিতিতে লোকেরা উচ্চ বেতন ও আরামদায়ক চাকরি বেছে নিয়েছে। তারা দরকষাকষির মাধ্যমে নিজেদের ভালো বেতনের কাজের সঙ্গে নিযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।’
তবে একমুখী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কর্মশক্তির গতিশীলতাকে পরিবর্তন করেছে। মহামারী শুরুর প্রথম মাসে দুই কোটির বেশি আমেরিকান চাকরি হারায়। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হওয়ার ধারাবাহিকতায় ওই শ্রমিকরা প্রযুক্তি, অর্থ, উৎপাদন ও আবাসনের মতো নতুন শিল্পে কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছে। এ খাতগুলোয় কর্মী চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতনের পরিমাণও বেশি।
তবে বিপরীত চিত্রও বিদ্যমান। প্রযুক্তি, মিডিয়া, আর্থিকসহ মহামারী চলাকালীন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া খাতগুলো বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। এ অবস্থায় দেশটির অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা চাকরির বাজারের ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। কেননা মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ১০ বার সুদহার বাড়িয়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা চাকরির বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।










