সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে ৩৬ বছর ধরে যে আইনটি বিদ্যমান ছিল, সেটি হলো মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমানে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো বাতিল ঘোষণার কারণে ওই অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পাওয়ায় সড়ক পরিবহন আইন নতুন করে প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এছাড়া গত বছরের ২৯ জুলাই দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে হোটেল র‍্যাডিসনের বিপরীত পাশের উড়াল সড়কের ঢালে জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাস রেষারেষিতে একটি বাস রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে। এতে রাজীব ও দিয়া নিহত এবং ১০-১২ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। ওই ঘটনার পর রাজধানীর স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে এবং আন্দোলনে লিপ্ত হয়। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার এহেন পরিস্থিতিতে নতুন আইন প্রণয়নের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায় এবং সরকার নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করে গত ১ নভেম্বর গেজেটের মাধ্যমে তা কার্যকর করে। আইনটি কার্যকর করার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ বেশকিছু সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনে নামে এবং আইনটি সংশোধন বিশেষ করে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির ধারাগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের চাপের মুখে নতুন আইনের বিধানমোতাবেক যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন ও লাইসেন্স হালনাগাদের জন্য আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়, ওই সময় পর্যন্ত লাইসেন্স ও ফিটনেসের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন সড়ক পরিবহন আইনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারের এ ঘোষণায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ কিছুটা স্তিমিত হয়। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, দেশে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনায় বেড়েই চলেছে মানুষের মৃত্যু। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে প্রায় আট হাজার মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত বা নিহত হয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে অনেক দরিদ্র পরিবার। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ নতুন আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী। কিন্তু শুধু সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নয়, আইনটি বিশ্লেষণে লক্ষণীয় যে, এর পূর্ণাঙ্গ সফল প্রয়োগ বেশ সময়সাপেক্ষ। কারণ বিশ্লেষণে লক্ষ করা যায় যে, আইনটিতে ২৯৫টি উপধারাসংবলিত ১২৬টি ধারা রয়েছে। ওই ২৯৫টি উপধারার ৮১টি প্রয়োগের জন্য বিধি, প্রবিধান বা গেজেট প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ ওই আইনের অধিকাংশই বিধি, প্রবিধান বা সরকারের গেজেট প্রজ্ঞাপন ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ আইনটির ৫(১) ধারার নির্দেশনা হচ্ছে, ‘কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র ব্যতীত গণপরিবহন চালাইতে বা চালাইবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না’। আইনের এ ধারাটি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ৫(২) উপধারায় যেটি উল্লেখ আছে, তা হলো, ‘গণপরিবহন চালনা, চালনার অনুমতিপত্র প্রদান ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে’। অর্থাৎ এটি স্পষ্ট, যতদিন এ বিধি প্রণয়ন না হবে, ততদিন ওই গুরুত্বপূর্ণ ধারার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এছাড়া আইনের ৫০(২) ধারায় উল্লেখ করা হয়, ‘কোনো সড়কের ডিজাইন বা নির্মাণজনিত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত ত্রুটির কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব, ক্ষেত্রমত, নির্মাণকারী