বলা
হয়েছে বাজেটে
কেবল ধনিক
ব্যবসায়ী শ্রেণীকেই
সুবিধা দেয়া
হয়েছে, সরকার
বাজেটে উন্নয়ন
কৌশল হিসেবে
‘চুইয়ে
পড়া’ নীতি
অনুসরণ করেছে।
এটি এবার
থিংক ট্যাংক
থেকে বলা
হয়েছে। আসলে
মোটেই তা
নয়। এবার
দেখা যাক,
আসলে সরকার
দরিদ্র কিংবা
তৃণমূল জনগণের
জন্য বাজেটে
কোন ধরনের
কার্যক্রম গ্রহণ
করছে। বাজেট
রাজনৈতিক লক্ষ্য-অভীষ্টবিহীন
নয় অবশ্যই।
সেই রাজনীতির
লক্ষ্য হচ্ছে
সাধারণ মানুষ।
বাজেটে প্রতিফলিত
কিছু কর্মসূচি
এখানে উল্লেখ
করছি।
দরিদ্রকেন্দ্রিক ব্যয়
২০২১-২২
অর্থবছরে দারিদ্র্য
বিমোচনে বাজেটের
৫৫.৫৬
শতাংশ এবং
জিডিপির ৯.৮৬
শতাংশ ব্যয়
করা হবে।
সরকারে অষ্টম
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়
দারিদ্র্য বিমোচন
ও কর্মসংস্থান
বৃদ্ধির ওপর
সর্বোচ্চ গুরুত্ব
দেয়া হয়েছে।
বাজেটে ২০০৬-০৭
অর্থবছরে ব্যয়
হয়েছে ৩৯
হাজার ২৪৯
কোটি টাকা।
এবার দরিদ্র
সংবেদনশীল বরাদ্দ
৩ লাখ
৪২ হাজার
১০৬ কোটি
টাকা। প্রায়
নয় গুণের
কাছাকাছি। সামাজিক
সুরক্ষা ব্যয়টা
সরাসরি দরিদ্রদের
কাছে বিভিন্ন
ভাতা আকারে
দেয়া হয়।
পেনশন ও
সঞ্চয়পত্রের সুদের
হার সমেত
প্রায় ২৫
শতাংশ বাদ
দিলেও বাকিটা
সরাসরি গরিবদের।
সামাজিক সুরক্ষা
খাতে এবারের
বর্ধিত আকারে
বরাদ্দ ১
লাখ ৭
হাজার ৬১৪
কোটি, যার
৮০ হাজার
৭১০ কোটি
সরাসরি দরিদ্রদের
সংশ্লিষ্ট। ১৫০টি
দরিদ্রতম উপজেলার
সব দরিদ্র
বয়স্ক ব্যক্তি,
বিধবা ও
স্বামী নিগৃহীতা
মহিলা এবং
অন্য কোনো
ভাতার আওতাবহির্ভূত
অবশিষ্ট প্রতিবন্ধী
জনগোষ্ঠীকে ভাতার
আওতায় আনা
হবে। এজন্য
অতিরিক্ত বরাদ্দ
রাখা হয়েছে
১ হাজার
৯৫ কোটি
টাকা।
কৃষি খাতে
২০২১-২২
অর্থবছরে ১৬,১৯৭
কোটি টাকা
বরাদ্দ দেয়া
হয়েছে, যা
মোট বাজেটের
২.৬৮
শতাংশ। আমাদের
কৃষি খাতের
প্রায় ৯০
শতাংশজুড়ে আছে
দরিদ্র কৃষক,
প্রান্তিক চাষী,
বর্গাচাষী ও
ভূমিহীন কৃষক।
কৃষির ভর্তুকি
ও সার্বিক
ব্যয় সরাসরি
গরিবদের উপকার
করে। বিশেষভাবে
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত
৪ লাখ
৭ হাজার
৪০২ জন
ডেইরি ও
পোলট্রি খামারিকে
এবং ৭৮
হাজার ৭৪
জন মত্স্য
খামারিকে নগদ,
বিকাশ ও
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের
মাধ্যমে ৫৬৮
দশমিক ৮৭
কোটি টাকা
বিতরণ করা
হয়েছে, যার
কারণে তারা
নিজ নিজ
ব্যবসায় ঘুরে
দাঁড়িয়েছে। অধিক
খাদ্য উৎপাদনের
লক্ষ্যে কৃষি
খাতে জরুরি
সহায়তা ইত্যাদি
বাবদ ১০
হাজার ৫৫৫
কোটি টাকা
বরাদ্দ দেয়া
হয়েছে বাজেটে।
খাদ্য বাজেটে
ভর্তুকি বাবদ
৫ হাজার
৪২৭ কোটি
টাকা বরাদ্দ
রাখা হয়েছে।
অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান
কর্মসূচিতে বাজেটে
১ হাজার
৬৫০ কোটি
টাকা বরাদ্দের
প্রস্তাব করা
হয়েছে। এসবই
তৃণমূল জনগণকে
সরাসরি উপকৃত
করবে, কারোরই
ওপর থেকে
সহায়তা চুইয়ে
পড়ার অপেক্ষায়
থাকতে হবে
না।
পরিবহন ও
যোগাযোগ অবকাঠামো
খাতে ২০২১-২২
অর্থবছরে বরাদ্দের
পরিমাণ ৬৯,৪৭৪
কোটি টাকা,
যা মোট
বাজেটের ১১.৫১
শতাংশ। পরিবহন
খাতে যে
ব্যয় তাতে
সাধারণ ছোট
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও
সরাসরি উপকার
পেয়ে থাকে।
আগামী অর্থবছরে
পানি খাতে
৮,৮২৭
কোটি টাকা
(বাজেটের ১.৪৬
শতাংশ) বরাদ্দ
দেয়া হয়েছে।
পানি ব্যবহারের
বৃহৎ অংশে
আছে কৃষি
উৎপাদন, মাছ
ও গবাদি
পশু চাষ।
পানিতেও দরিদ্র
শ্রেণী উপকৃত
হয়ে থাকে।
পানি খাতের
ব্যয় সাধারণ
মানুষ সরাসরি
পেয়ে থাকে।
সরকারি স্বাস্থ্য
খাতে ২০২১-২২
অর্থবছরে ব্যয়
ধরা হয়েছে
২৫,৯১৪
কোটি টাকা
(বাজেটের ৪.২৯
শতাংশ)।
সর্বোপরি স্বাস্থ্য
খাতের উপকারভোগী
গরিব, নিম্নবিত্ত,
মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
প্রাথমিক ও
গণশিক্ষা খাতে
বরাদ্দ রাখা
হয়েছে ২৬,৩১৪
কোটি টাকা
(বাজেটের ৪.৩৬
শতাংশ), শিক্ষা
খাতে ৩৬,৪৮৫
কোটি টাকা
(বাজেটের ৬.০৪
শতাংশ)।
প্রাথমিক ও
গণশিক্ষার ব্যয়ে
দরিদ্র শ্রেণী
নিম্নবিত্ত সরাসরি
উপকৃত হয়ে
থাকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার
দশটি উদ্যোগ
এখানে উল্লেখ
প্রাসঙ্গিক হবে।
১. একটি
বাড়ি একটি
খামার প্রকল্প:
অর্থহীনে অর্থ
কর্মহীনে কর্ম
সৃজন এর
মূল বিষয়বস্তু।
এর উদ্দেশ্য
স্থায়ী দারিদ্র্য
বিমোচন ও
টেকসই উন্নয়ন।
৬৪টি জেলা,
৪৯০টি উপজেলা,
৪৫৫০টি ইউনিয়নের
৪০,৯৫০টি
ওয়ার্ডে প্রকল্পটি
বাস্তবায়ন করা
হচ্ছে।
২. আশ্রয়ণ
প্রকল্পের মাধ্যমে
এ পর্যন্ত
২,৯৮,২৪৯টি
ভূমিহীন-গৃহহীন-অসহায়-ছিন্নমূল
পরিবারকে পুনর্বাসন
করা হয়েছে,
২,৭৫,৬৫৬
জনকে আয়বর্ধক
পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ
দেয়া হয়েছে,
১,৩৮,৭১৮টি
পরিবারকে ঋণ
দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে
গ্রামে বসবাসরত
উপকারভোগীদের জীবনমান
সহজীকরণের জন্য
বিদ্যুৎ সংযোগ
প্রদান, সুপেয়
পানি ও
স্যানিটেশনের ব্যবস্থা
রয়েছে। সম্প্রতি
প্রকল্পের দ্বিতীয়
ধাপে সারা
দেশে আরো
৫৩ হাজার
৩৪০ ভূমিহীন
ও গৃহহীন
পরিবারকে জমির
মালিকানাসহ ঘর
দেয়া হয়েছে।
৩. ডিজিটাল
বাংলাদেশ বাস্তবায়নে
প্রতিটি ইউনিয়নে
তথ্য ও
সেবাকেন্দ্র স্থাপন
করা হয়েছে।
সবক’টি
উপজেলা ইন্টারনেটের
আওতায় আনা
হয়েছে। বাংলাদেশ
সরকারের ওয়েব
পোর্টাল বিশ্বের
অন্যতম বিশাল
ওয়েব পোর্টাল।
উপজেলা ও
জেলা হাসপাতালগুলোতে
মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা
ও টেলিমেডিসিন
সিস্টেম চালু
করা হয়েছে।
৪. শিক্ষাসহায়তা
কার্যক্রমের উদ্দেশ্য
হলো বিদ্যালয়গামী
ও ঝরে
পড়া সব
শিশুর শিক্ষার
সুযোগ নিশ্চিত
করা, বিনা
মূল্যে বই
বিতরণ ও
উপবৃত্তি কার্যক্রম,
সুবিধাবঞ্চিত গরিব
মেধাবী শিক্ষার্থীদের
শিক্ষা নিশ্চিত
করা।
শিক্ষা সহায়তা
ট্রাস্টের মাধ্যমে
ষষ্ঠ থেকে
স্নাতক পর্যন্ত
দরিদ্র মেধাবী
শিক্ষার্থীদের বিনা
বেতনে শিক্ষা
গ্রহণ ও
উপবৃত্তি, ভর্তি
সহায়তা, চিকিৎসা
অনুদান করা
হয়ে থাকে।
ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার
পর থেকে
২০১৩-১৪
অর্থবছর থেকে
জুন ২০২০
পর্যন্ত ভর্তি
সহায়তা কার্যক্রমে
৮৫৩ ছাত্র-ছাত্রীকে
৩১,৪৬,০০০
টাকা দেয়া
হয়েছে। ২০১৯
পর্যন্ত ১২,১৯,৭২৭
জন ছাত্র-ছাত্রীকে
মোট ৬৬১,০৬,২১,৫৮০
টাকা উপবৃত্তি
দেয়া হয়েছে।
উপবৃত্তি প্রাপ্তির
ক্ষেত্রে অর্থের
অভাবে শিক্ষার
সুযোগবঞ্চিত দরিদ্র
ও প্রতিবন্ধী
শিক্ষার্থী, এতিম,
অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের
সন্তান, নদীভাঙন
কবলিত পরিবারের
সন্তান এবং
দুস্থ পরিবারের
মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের
প্রাধান্য দেয়ার
মাধ্যমে দারিদ্র্য
বিমোচন এবং
জেন্ডার সমতা
অর্জন ত্বরান্বিত
হয়।
৫. নারীর
ক্ষমতায়ন: দুস্থ
মাতৃকালীন, অক্ষম,
তালাকপ্রাপ্তা নারীদের
অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের
জন্য ৫%
সেবামূল্য ক্ষুদ্র
ঋণ বিতরণ,
নারী উদ্যোক্তা
ক্ষুদ্র উদ্যোগ
তহবিলের ১০%
বাণিজ্যিক খাতে
১০% সুদের
মাধ্যমে ঋণ
দেয়া হয়।
৬. ঘরে
ঘরে বিদ্যুৎ:
বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত
জনগোষ্ঠী ২০০৯
সালে ৪৭
শতাংশ থেকে
২০২১ সালে
৯৯ শতাংশে
উন্নীত হয়েছে।
ফলে প্রান্তিক
জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের
সুবিধা পেয়েছে।
তাছাড়া, ২০০৯
সালে মাথাপিছু
বিদ্যুৎ উৎপাদন
ছিল মাত্র
২২০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা,
যা ২০২১
সালে ৫১২-এ
দাঁড়িয়েছে।
৭. সামাজিক
নিরাপত্তা কার্যক্রম:
(বয়স্ক অসহায়
অক্ষম পিছিয়ে
পড়া মানুষের
আর্থসামাজিক নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণ) বয়স্ক
ভাতা, বিধবা
ও স্বামী
পরিত্যক্ত দুস্থ
মহিলাদের জন্য
ভাতা, অসচ্ছল
প্রতিবন্ধীদের জন্য
ভাতা, দরিদ্র
মায়েদের জন্য
ভাতা, সরকারি
শিশু সদনে
দরিদ্র অনাথ
শিশুদের পড়াশোনা
থাকা-খাওয়ার
ব্যবস্থা, দুর্যোগে
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য
অনুদান, এসবই
সরাসরি ব্যয়।
৮. কমিউনিটি
ক্লিনিক ও
শিশু বিকাশ:
সারা দেশে
১৩,৫০০
কমিউনিটি ক্লিনিক
চালু করা
হয়েছে। এতে
৮২ শতাংশ
এলাকাবাসী সেবা
নেয়। এতে
বিনা মূল্যে
৩২ ধরনের
ওষুধ স্বাস্থ্য
ও পরিবার
পরিকল্পনা বিষয়ে
পরামর্শ দেয়া
হয়। শিশু
ও কিশোরীদের
বিনা মূল্যে
স্বাস্থ্যসেবা দেয়া
হয়।
৯. বিনিয়োগ
বিকাশ: দেশী-বিদেশী
বিনিয়োগ আকর্ষণে
ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে
‘বিনিয়োগ
বিকাশ’ করা
হচ্ছে। আগামী
১৫ বছরে
১০০টি বিশেষ
অর্থনৈতিক অঞ্চল
প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
দরিদ্রদের কর্মসংস্থান
বৃদ্ধি করা
হবে।
১০. পরিবেশ
সুরক্ষার মাধ্যমে
বর্তমান ও
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
জন্য সুস্থ
সুন্দর ও
নিরাপদ পরিবেশ
নিশ্চিত করার
লক্ষ্যে টেকসই
উন্নয়নে জনগণের
অংশগ্রহণ উৎসাহিত
করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের
বিরূপ প্রভাব
মোকাবেলার জন্য
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ
পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস
অব দ্য
আর্থ’ পুরস্কার
পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা।
শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ
মানবসম্পদ উন্নয়ন,
কৃষি, পানি,
পরিবহন ও
যোগাযোগ অবকাঠামোতে
ধারাবাহিকভাবে বর্ধিত
বাজেটের কারণে
বিগত দশকে
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক
উন্নয়নে ব্যাপক
অগ্রগতি সাধিত
হয়েছে। ফলে
গত যুগে
ভোগ ব্যয়ে
বৈষম্য বাড়েনি।
সব মিলিয়ে
সরকার দরিদ্রবান্ধব।
সরকারের মূল
দর্শন হলো
কৃষক, গ্রামীণ
জনগণ দরিদ্র
শ্রেণীকে সরাসরি
সুবিধা প্রদান।
এ সরকার
উন্নয়ন দরিদ্রদের
কাছে চুইয়ে
পড়বে সে
অপেক্ষায় থাকেনি।
সরকার ‘আমার
গ্রাম আমার
শহর’-এর
ধারণা বাস্তবায়নের
মাধ্যমে শহরের
সব সুবিধা
গ্রামে নিশ্চিত
করার মাধ্যমে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক
বৈষম্য দূর
করার দৃঢ়
প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর দীর্ঘমেয়াদি
লক্ষ্য হলো
বাংলাদেশকে একটি
সুখী ও
সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে
পরিণত করা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম,
প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদরা
বাংলাদেশের উন্নয়নের
উচ্চ প্রশংসা
করেছেন। এ
প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের
সাবেক প্রধান
অর্থনীতিবিদ এবং
ভারত সরকারের
প্রধান অর্থনৈতিক
উপদেষ্টা মনে
করেন বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়নে
রাজনৈতিক উপাদানের
ভূমিকা রয়েছে।
তাছাড়া তিনি
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির
মডেলকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’
বলে অভিহিত
করেন এবং
শিক্ষা, স্বাস্থ্য
ও নারী
ক্ষমতায়নে তৃণমূল
পর্যায়ে মানব
উন্নয়নের কথা
উল্লেখ করেন।
তার মতে,
বাংলাদেশ এখন
বিশ্বে দ্রুত
অর্থনৈতিক উন্নয়নের
মডেল। আন্তর্জাতিক
পরিমণ্ডলে খ্যাতিমান
দ্য ডিপ্লোম্যাট
ম্যাগাজিনের হিসেবে
বাংলাদেশ বিগত
৫০ বছরে
অনেক চড়াই-উতরাই
পেরিয়ে বিভিন্ন
ক্ষেত্রে দক্ষিণ
এশিয়ায় নেতা
হিসেবে আবির্ভূত
হয়েছে। নোবেল
বিজয়ী বাঙালি
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য
সেনের মতে,
বাংলাদেশ বিশ্বের
অনেক দেশের
জন্য অনুকরণীয়।
বাংলাদেশের কট্টর
সমালোচক রক্ষণশীল
ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনও
বাংলাদেশের স্বাধীনতার
৫০ বছরে
পদার্পণ উপলক্ষে
তার নিবন্ধে
বাংলাদেশের প্রশংসা
করতে বাধ্য
হয়েছে। ওয়াল
স্ট্রিট জার্নাল
বাংলাদেশকে দক্ষিণ
এশিয়ার বুল
(ঊর্ধ্বমুখী) কেস
হিসেবে অভিহিত
করেছে। বাজেট
প্রণয়নে সরকার
পরিপক্বতা অর্জন
করেছে। মধ্যমেয়াদি
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে
সামনে রেখে
লক্ষ্যাভিমুখী বাজেট
প্রণীত হচ্ছে।
উন্নয়নে চুইয়ে
পড়া সুবিধা
নয়, উন্নয়নের
সরাসরি উপকারসিক্ত
সাধারণ মানুষ
পল্লীবাসী নিম্নবিত্ত,
স্বল্পবিত্ত সবাই।
বাজেটের বরাদ্দগুলো
লক্ষ্যহীন বা
গতানুগতিক নয়,
অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার
লক্ষ্যে বিন্যাস
করা হয়েছে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক
পরিকল্পনার মূল
দর্শন হচ্ছে
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো
থেকে সাধারণ
জনগণ যাতে
মানসম্মত সেবা
পায় সে
বিষয়ে সরকার
সচেষ্ট রয়েছে।
কেবল বাজেটে
বরাদ্দ থাকলেই
হবে না,
বাস্তবায়ন দক্ষতা
আরো বাড়াতে
হবে।
ড. শামসুল আলম:
সদস্য
(সিনিয়র সচিব)
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন










