“Our
priority in agriculture research and expansion service, farm mechanization,
irrigation and seed, agricultural subsidies including fertilizer subsidize will
continue in the next fiscal year to accelerate the progress that has been made
in the sector over the past few years” —Finance
Minister AHM Mustafa Kamal (Budget Speech 2022-23).
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে
কৃষি
খাতের
ভূমিকা
বাড়ছে
না
কমছে—এ
নিয়ে
বিতর্ক
আছে,
হয়তো
থাকবে।
এটা
সম্পূর্ণ
নির্ভর
করে
কোন
কোণ
থেকে
আমরা
বিষয়টা
দেখছি।
মোট
জাতীয়
আয়ে
এর
পড়ন্ত
অবদান,
ধরা
যাক
সত্তরের
দশকের
প্রায়
অর্ধেক
থেকে
বর্তমানে
১১
শতাংশ
ছুঁই
ছুঁই।
সুতরাং,
যারা
বলছেন
কৃষির
ক্রমহ্রাসমান
কৃতিত্বের
কথা,
তারা
সঠিক
বলছেন।
কিন্তু
তা
সত্ত্বেও
বাংলাদেশ
যে
এখনো
প্রধানত
কৃষিপ্রধান
দেশ—মোট
শ্রমশক্তির
৪০
ভাগ
এখনো
কৃষিতে
নিয়োজিত,
দেশের
কর্মসংস্থান,
খাদ্যনিরাপত্তা
এবং
দারিদ্র্য
নিরসনে
কৃষি
খাতের
অবদান
এখনো
অবিচল,
সেটা
প্রমাণ
করে
যে
কৃষি
খাতের
ভূমিকা
কোনোভাবেই
খাটো
করে
দেখার
নয়।
প্রসঙ্গত, জানান
দেয়া
দরকার
যে,
সম্পদের
শত
সীমাবদ্ধতা
সত্ত্বেও
শেখ
হাসিনার
নেতৃত্বে
আওয়ামী
লীগ
সরকার
যখনই
ক্ষমতায়
এসেছে,
তখনই
কৃষি
খাতের
উন্নয়নে
মনোযোগী
হয়েছে।
আর
যখন
বিরোধী
দলে
থাকতে
হয়েছে,
তারা
কৃষিবান্ধব
পদক্ষেপের
পক্ষে
অবস্থান
নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,
আরো
বলে
রাখা
দরকার,
জাতির
জনক
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সরকার
কৃষি
উন্নয়নে
যেসব
বৈপ্লবিক
পদক্ষেপ
প্রস্তাব
কিংবা
গ্রহণ
করেছিল,
বাংলাদেশের
অন্য
কোনো
সরকার
তার
ধারেকাছেও
যেতে
পারেনি।
তবে
স্বীকার
করতে
হয়,
তার
ধারাবাহিকতায়
এবং
পরিবর্তিত
অভ্যন্তরীণ
ও
বৈদেশিক
পরিস্থিতি
বিবেচনায়
নিয়ে
শেখ
হাসিনার
সরকার
আপ্রাণ
প্রচেষ্টা
নিবেদন
করেছে
কৃষিবান্ধব
নীতিমালা
পরিগ্রহণে।
এই তো
সেদিন
২০২২-২৩
অর্থবছরের
জাতীয়
বাজেট
জাতীয়
সংসদে
পেশ
করলেন
অর্থমন্ত্রী
আ
হ
ম
মুস্তফা
কামাল।
বাংলাদেশের
মতো
দরিদ্র
একটা
দেশে
যেখানে
নুন
আনতে
পান্তা
ফুরায়,
যেকোনো
বছরের
বাজেটই
চ্যালেঞ্জিং,
তবে
এবারের
চ্যালেঞ্জটি
বেশ
বড়
মাপের
বলে
আমাদের
কাছে
প্রতীয়মান
হচ্ছে।
কথা
ছিল
করোনা-পরবর্তী
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
ও
উন্নয়নের
গতিপথ
নির্ধারণ
করবে
সংসদে
পেশ
করা
এ
বাজেট,
কিন্তু
আন্তর্জাতিক
পরিস্থিতি
বিশেষত
রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ
সব
হিসাব-নিকাশ
পাল্টে
দিয়ে—যাকে
বলে
গোদের
ওপর
বিষফোঁড়া—এক
নতুন
চ্যালেঞ্জের
জন্ম
দেয়।
আর
যুদ্ধে
ব্যবহূত
এ
ক্ষেপণাস্ত্র
আমাদের
কৃষি
খাত
তথা
খাদ্যনিরাপত্তাকে
হুমকির
মুখে
ঠেলে
দেয়।
যেমন—আমাদের
আমদানি
করা
গমের
প্রায়
এক-তৃতীয়াংশ
ও
এক-চতুর্থাংশ
আসে
যথাক্রমে
রাশিয়া
ও
ইউক্রেন
থেকে।
তেমনি
আসে
পর্যাপ্ত
পরিমাণে
ফলমূল।
অন্যদিকে
যুদ্ধের
কারণে
সারের
দাম
বিপুল
বৃদ্ধি
পায়,
যেখানে
রাশিয়া
ও
বেলারুশ
বিশ্বের
প্রায়
৪০
ভাগ
পটাশ
সার
জোগান
দেয়।
বলার
অপেক্ষা
রাখে
না
যে
সারের
ঊর্ধ্বমুখী
দাম
বাংলাদেশের
কৃষির
জন্য
একটা
বড়
বিপর্যয়
হতে
পারে।
অন্যদিকে
পেঁয়াজ,
শস্যকণা,
রেইপসিড,
আমদানি
বিঘ্নিত
হয়ে
ব্যয়বহুল
হয়ে
ওঠে।
ইউক্রেন
যুদ্ধের
সঙ্গে
সংযুক্ত
পেট্রোলিয়ামের
মূল্যবৃদ্ধির
কারণে
দেশীয়
বাজারে
ডিজেলের
দামে
চাপ
অনুভূত
হচ্ছে।
আপাতত
ডিজেল
ইঞ্জিনের
বিকল্প
নেই
বলেই
যত
বিপত্তি
এবং
কৃষিতে
যন্ত্রের
ব্যবহার
কঠিন
করে
তুলছে।
মোট
কথা,
ইউক্রেন
যুদ্ধের
জন্য
বাংলাদেশের
খাদ্যনিরাপত্তা
এক
ধরনের
হুমকির
মুখে
পতিত।
প্রশ্ন
হচ্ছে,
এমন
একটা
ক্রান্তিলগ্নে
কৃষি
তথা
কৃষককে
সুরক্ষা
দেয়ার
ক্ষেত্রে
অর্থমন্ত্রী
কী
কী
পদক্ষেপ
প্রস্তাব
করতে
পারেন
যাতে
খাদ্যনিরাপত্তা
বিঘ্নিত
না
হয়
অথবা
তাপটা
স্তিমিত
হয়?
দুই.
আমরা
দেখছি,
বাজেটের
মোট
বরাদ্দের
৬
দশমিক
২
শতাংশ
নিয়ে
২০২২-২৩
অর্থবছরের
বাজেটে
কৃষি
হচ্ছে
দ্বিতীয়
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত
খাত।
গত
অর্থবছরে
তৃতীয়
স্থানে
থাকা
এ
খাতের
বরাদ্দ
বৃদ্ধি
২০
শতাংশের
মতো।
বাজেটে
কৃষি
খাতে
ভর্তুকি
প্যাকেজ
হিসেবে
বরাদ্দ
১৬
হাজার
কোটি
টাকার
একটু
বেশি,
মোট
ভর্তুকির
এক-পঞ্চমাংশ
এবং
গত
অর্থবছরের
প্রায়
১৩
হাজার
টাকার
তুলনায়
বেশি।
স্মর্তব্য,
কৃষি
ও
আনুষঙ্গিক
খাতের—যেমন
বন,
পরিবেশ,
গবাদিপশু—ভর্তুকি
এসব
খাতের
বাজেট
বরাদ্দের
৩৯
শতাংশ।
বলার
অপেক্ষা
রাখে
না
যে
ভর্তুকি
বৃদ্ধির
অন্যতম
প্রধান
কারণ
আন্তর্জাতিক
বাজারে
টিএসপি,
ডিএপি
এবং
এমওপি
রাসায়নিক
সারের
ব্যাপক
মূল্যবৃদ্ধি।
সুতরাং
কৃষি
খাতে
ভর্তুকি
বৃদ্ধির
পদক্ষেপ
প্রশংসার
দাবি
রাখে,
যেহেতু
খুচরা
পর্যায়ে
কৃষকের
জন্য
উপকরণের
দাম
স্থিতিশীল
থাকা
বাঞ্ছনীয়।
তবে আমরা
জানি,
বরাদ্দ
বৃদ্ধি
একটা
দরকারি
শর্ত
মাত্র;
যথেষ্ট
শর্ত
হচ্ছে
এর
যথাযথ
বাস্তবায়ন।
বাংলাদেশে
উন্নয়ন
পরিকল্পনা
তথা
সরকারি
যেকোনো
পরিকল্পনা
বাস্তবায়নে
প্রতিবন্ধকতার
অভাব
নেই।
তার
পরও
প্রাপ্ত
তথ্যের
ওপর
ভিত্তি
করে
বলা
চলে,
কৃষি
খাত
এক্ষেত্রে
ভালোই
করেছে—বার্ষিক
উন্নয়ন
কর্মসূচি
বাস্তবায়নে
কৃষি
খাত
এপ্রিল
পর্যন্ত
৫৫
শতাংশ
অর্জন
করেছে
এবং
কেরি
ওভার
প্রকল্পের
সংখ্যাও
বেশ
কমে
এসেছে।
তবে
নতুন
সংযোজিত
বেশকিছু
প্রকল্পের
ব্যয়
বৃদ্ধি
ও
সময়মতো
শেষ
না
হওয়ার
সম্ভাবনা
থেকে
যায়।
দ্বিতীয়ত, আশা
করা
যায়,
বাজেটে
নেয়া
নির্দিষ্ট
কিছু
রাজস্ব
ব্যবস্থাদি
কৃষিকেন্দ্রিক
শিল্প
উৎসাহিত
করে
বৈদেশিক
মুদ্রার
বাজার
স্থিতিশীলকরণে
অবদান
রাখবে।
আঠালো গমের
ওপর
আমদানি
শুল্ক
২৫
থেকে
১০
শতাংশে
নামানোর
ফলে
বাজারে
নিম্ন
আয়ের
জনগোষ্ঠীর
গমনির্ভর
খাদ্য,
যেমন
বার্লি
সুলভ
মূল্যে
প্রাপ্তি
ঘটবে।
আখের
চিনির
ওপর
আমদানি
শুল্ক
১৫
থেকে
১০
শতাংশ
নেমে
আসা
সাপেক্ষে
বাজারে
প্রক্রিয়াজাত
খাবার
বেকারি
দ্রব্য
ও
ক্যান্ডির
দাম
কম
হওয়ার
সম্ভাবনা।
আমদানি
করা
পনির
ও
দইয়ের
ওপর
সম্পূরক
কর
শূন্য
থেকে
২০
শতাংশ
করার
ফলে
আশা
করা
যায়,
বাজারে
পনিরের
আমদানি
হ্রাস
পেয়ে
বৈদেশিক
মুদ্রা
সাশ্রয়ে
সাহায্য
করবে,
যদিও
হোটেল-রেস্তোরাঁয়
পনিরভিত্তিক
খাবারের
দাম
বাড়তে
পারে।
তেমনিভাবে
প্রক্রিয়াজাত
কফির
আমদানির
ওপর
সম্পূরক
শুল্ক
বৃদ্ধি
পণ্যটির
আমদানি
হ্রাস
করে
বৈদেশিক
মুদ্রা
সাশ্রয়ে
সাহায্য
করতে
পারে।
কোল্ড
স্টোরেজের
চিলারের
ওপর
আমদানি
শুল্ক
হ্রাস
কোল্ড
স্টোরেজের
ব্যয়
কমিয়ে
পণ্য
সস্তায়
পাওয়ার
সুযোগ
সৃষ্টি
করবে।
এর বিপরীতে
কিছু
উপকরণের
ওপর
আমদানি
সুবিধা
বাজারে
উৎপাদন
বাড়াতে
সাহায্য
করবে।
শুধু কৃষিতে
ভর্তুকি
নয়,
উৎপাদনশীলতা
বাড়াতে
উৎসাহ
প্রদানের
প্রস্তাব
রাখা
হয়েছে।
কৃষিপণ্য
রফতানির
ক্ষেত্রে
২০
শতাংশ
নগদ
আর্থিক
উৎসাহ
এবং
বিদ্যুৎ
ব্যবহারকারী
পাম্পের
জন্য
বিদ্যুৎ
বিলে
২০
শতাংশ
ছাড়
কৃষিবান্ধব
কৌশল।
তাছাড়া
৪
শতাংশ
সুদে
অব্যাহত
থাকবে
২৪টি
শস্য
উৎপাদনে
কৃষিঋণ
বিতরণ,
যার
মধ্যে
বেশকিছু
অপ্রচলিত
শস্য
রয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষিকে
আধুনিকায়ন
করার
পদক্ষেপ
প্রশংসনীয়।
‘কৃষি
বাতায়ন’
নামে
প্রকল্প
সৃষ্টি
করা
হয়েছে
কৃষিসেবা
দোরগোড়ায়
নিয়ে
যাওয়ার
জন্য
এখন
তার
সঙ্গে
প্রায়
৫০০
‘কৃষি
তথ্য
ও
যোগাযোগ
কেন্দ্র’
খোলার
প্রস্তাব
করা
হয়েছে;
কৃষকের
জন্য
হটলাইন
১৬১২৩তে
সেলফোনে
কৃষিসংক্রান্ত
যেকোনো
তথ্য
পাওয়ার
সুযোগ
সৃষ্টি
করা
হয়েছে।
ব্যবস্থা
আছে
অনলাইনে/ওয়েবসাইটে
বিভিন্ন
বিষয়ে
উপদেশ
পাওয়ার
উপায়।
যা-ই
হোক,
সার্বিক
কৃষির
অগ্রাধিকার
বিবেচনা
করে
অর্থাৎ
কৃষি,
খাদ্য
ও
বন
উপখাত
নিয়ে
অর্থমন্ত্রী
বর্তমান
বাজেটে
বরাদ্দ
প্রস্তাব
করেছেন
৩৩
হাজার
৬৯৮
কোটি
টাকা,
যা
২০২১-২২
অর্থবছরের
বাজেটে
ছিল
২৪
হাজার
৩৪৫
কোটি
টাকা।
বিশেষত কৃষি
সম্প্রসারণ
নীতি
২০২০
আলোকে
প্রণীত
কর্মপরিকল্পনা
বাস্তবায়ন
করতে
পারলে
খাদ্যনিরাপত্তার
ক্ষেত্রে
বহুদূর
এগোনো
যাবে।
আন্তর্জাতিক ও
অভ্যন্তরীণ
পরিস্থিতে,
বিশেষত
কভিড-১৯-এর
বিরূপ
প্রভাব
কাটিয়ে
ওঠার
মুহূর্তে
অর্থমন্ত্রীর
বাজেট
ভাষণে
কৃষির
প্রতি
অতিরিক্ত
গুরুত্ব
প্রদান
সময়কে
ধারণ
করেছে
বলে
আমাদের
বিশ্বাস।
আশা
করা
যায়,
করোনাকালের
মতোই
বর্তমান
সন্ধিক্ষণেও
বাংলাদেশের
কৃষি
তার
প্রবৃদ্ধির
হার
৪
শতাংশের
ওপর
ধরে
রাখতে
পারবে।
তবে
খেয়াল
রাখতে
হবে,
রাঘববোয়ালদের
জন্য
যেন
চুনোপুঁটি
প্রান্তিক
ও
ক্ষুদ্র
চাষী
বিতরণ
প্রক্রিয়ায়—হোক
সে
ভর্তুকি,
ঋণ
কিংবা
তথ্য-উপাত্ত—যেন
বঞ্চিত
না
হন।
কৃষক
যেন
তার
পণ্যের
যথাযথ
প্রাপ্তি
ঘরে
তুলতে
পারেন।
কৃষিপণ্যের
বাজারে
তদারকি
আরো
বেশি
শক্তিশালী
করা
দরকার।
আরো
মনে
রাখা
দরকার,
খাদ্যনিরাপত্তা
নিশ্চিত
করতে
কেবল
লভ্যতা
ও
অভিগম্যতা
বৃদ্ধির
জন্য
কর্মসূচি
বাস্তবায়ন
শেষ
কথা
নয়,
এর
সঙ্গে
খাদ্যের
সঠিক
ব্যবহার
সম্পর্কে
ধারণা
থাকা
জরুরি।
সব শেষে,
কৃষিসংক্রান্ত
পরিসংখ্যান
পরিশুদ্ধকল্পে
সরকারি
প্রচেষ্টা
অপ্রতুল
বলে
ভরা
মৌসুমে
চালের
দাম
বেড়ে
যায়,
একদিকে
স্বয়ংসম্পূর্ণতার
ঢাকঢোল
পেটানো
হয়,
অন্যদিকে
চালের
আমদানি
বৃদ্ধি
পায়।
অনেক
দিন
ধরেই
অভিযোগ
উঠেছে,
কৃষি
উৎপাদনসংক্রান্ত
উপাত্ত
নিয়ে
বিভিন্ন
উৎসের
মধ্যে
বড়
ধরনের
গরমিল
রয়েছে,
যা
সঠিক
নীতি
গ্রহণে
বাধা
সৃষ্টি
করে
এবং
ভোক্তাদের
ভোগান্তির
কারণ
হয়।
আমরা ২০২২-২৩
অর্থবছরের
কৃষি
বাজেটের
পূর্ণ
এবং
যথাযথ
বাস্তবায়ন
প্রত্যাশা
করি।
আব্দুল বায়েস: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতির অধ্যাপক, বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক










