পৃথিবীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের মধ্যে অন্যতম একটি হলো ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ   রেসকোর্স ময়দানে দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ। রাজনৈতিক বা স্বাধীনতার ঘোষণার ইঙ্গিতবাহী ভাষণ হলেও  সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ইউনেস্কো এ ভাষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে: ‘‌The speech effectively declared the independence of Bangladesh. The speech constitutes a faithful documentation of how the failure of post-colonial nation-states to develop inclusive, democratic society alienates their population belonging to different ethnic, cultural, linguistic or religious groups.’ 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের এ  ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক ভাষণে যেমন স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার কথা বলা আছে, তেমনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও বলা হয়েছে। এ ভাষণে উঠে এসেছে বাঙালির প্রতি পাকিস্তানিদের অত্যাচারের কথা, বাঙালির বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা। যেখানে তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও বলেছেন। তত্ত্বগত ধারণার দিক থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি না থাকলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অর্থহীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সেটা খুব ভালোভাবে জানতেন। এ কারণেই তিনি একদিকে যেমন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন অন্যদিকে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন। ভাবলে খুব অবাক হতে হয় বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিকটিতে জোর দিয়েছিলেন। কারণ অর্থনৈতিক মুক্তি পেতে গেলে সমাজের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েও ঔপনিবেশিক পুঁজিবাদের রূপান্তর থেকে স্বাধীন হতে পারেনি। পূর্ব বাংলার ওপর পাকিস্তানি এবং অবাঙালি শিল্পপতিদের আবারো ঔপনিবেশিক ধরনের জাতিগত শোষণ চেপে বসে। যাকে বলা যায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন এর একমাত্র পরিত্রাণ হলো স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে সেই অর্থনৈতিক মুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে বললেন, ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।’ 

১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলা যে স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল সেটা দেখা যায়নি। সেখানে গণতন্ত্র যেমন প্রতিষ্ঠা হতে পারেনি, ঠিক তেমনি সুখী ও সুন্দর সমাজও প্রতিষ্ঠা হতে পারেনি। পরিবর্তে এ দেশের মানুষ পেয়েছিল লুটেরা ধনিক গোষ্ঠীকে। যেখানে সামরিকতন্ত্র এবং পুঁজিবাদ চেপে বসেছিল বছরের পর বছর। এজন্যই আমরা দেখি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ছয় দফা ঘোষণা করলেন। এর পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ এক নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বাঙালির প্রাণের দাবি ছয় দফাকে আওয়ামী লীগ সত্তরের নির্বাচনে নির্বাচনী মেনিফেস্টো হিসেবে ঘোষণা করলে বাঙালি জনসাধারণ সেটাকে প্রাণের দাবি হিসেবে মেনে নেয়। কিন্তু ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ফলাফল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ভূমিধস বিজয় এনে দিলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা এমনকি গণপরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে বাঙালিদের হতাশায় ফেলে দেয়। 

এমনি পটভূমিতে ১৯৭১ সালের মার্চ ছিল উত্তাল। যাকে আমরা বলি উত্তাল মার্চ কিংবা অগ্নিঝরা মার্চ। রাজনৈতিক আন্দোলন পরিণতির দিকে যায় স্বাধীনতার আন্দোলনে। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো শুরু হয়। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার অলিগলিসহ সারা দেশের রাজপথ। স্লোগানে স্লোগানে প্রতিধ্বনিত হয় বাংলাদেশ। আর সেই স্লোগান হলো ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানাতে থাকে ছাত্রসহ বীর জনতা।  ১৯৭১ সালের মার্চের এ পটভূমিতেই বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সেই ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিলেন। ১০ লাখ লোকের সামনে পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নির্ভীক চিত্তে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একটি ভাষণেই পাল্টে দিল বাঙালির ইতিহাস। বাঙালি হয়ে উঠল স্বাধীনতাকামী। 

বঙ্গবন্ধু মাটি ও মানুষের নেতা। তাই তার ভাষণেও মাটি ও মানুষের ভাষা লক্ষ করা যায়। তার ভাষণে উঠে আসে পাকিস্তান আমলের দুই যুগের শোষণ ও বৈষম্য। তাই তো ৭ মার্চের  ভাষণে বঙ্গবন্ধু  তুলে ধরেন শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস। ভাষণে তিনি বললেন,  ‘২৩ বছরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাংলার ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।’

বাঙালি জাতির মহান মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের ভাষণের দিনটির ইতিহাস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জলদগম্ভীর কণ্ঠে শুরুতেই বললেন ‘ভায়েরা আমার’—এ যেন ইতিহাসের সামনে লক্ষ জনতাকে সাক্ষী রেখে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা প্রদান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাকের মধ্যেই ছিল সামাজিক বিপ্লব। গণআন্দোলন যাতে ব্যাহত না হয় এজন্য  তিনি গণমানুষের রুটি-রুজির পথও খোলা রেখেছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেও যাতে নিম্নবর্গের খেটে খাওয়া মানুষের আর্থিক আয়ের পথ চালু রাখা যায় সে ব্যবস্থাও তিনি করেন। বঙ্গবন্ধু দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বললেন, ‘‌আমি বলে দিতে চাই আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।  কোনো কর্মচারী অফিসে যাবে না। এ আমার নির্দেশ। গরিবের যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য রিকশা চলবে, ট্রেন চলবে, আর সব চলবে।’ সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো বন্ধ থাকলেও  ব্যাংকিংয়ের জন্যও তার নির্দেশনা ছিল এ রকম: ‘‌শুধু পূর্ব বাংলার আদান-প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলো দুঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা যেতে পারবে না, বাঙালিরা বুঝে শুনে চলবেন।’ এভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যেও তিনি গরিব-দুঃখী মানুষের শান্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের রিলিফ কমিটি ও সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রদান করলেন।  ভাষণের এ অংশে তিনি অনুরোধ করেছেন দেশের মানুষের প্রতি। আত্মপ্রত্যয়ী বঙ্গবন্ধু বলছেন—‘‌আমার অনুরোধ প্রত্যেক গ্রামে, মহল্লায়, ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকুন।’

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে সংবাদপত্রে এক বিবৃতি পাঠানো হয়। এ বিবৃতি ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এ বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। এ বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক বিষয়ের দিকেও দৃষ্টিপাত করেন। এতে বলা হয়: ‘‌আমাদের জনসাধারণ বিশ্ববাসীর কাছে ঘোষণা করেছে যে, তারা উপনিবেশ বা বাজার হয়ে আর শোষিত হতে চায় না। তারা তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেছে যে, তারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়ে বাঁচতে চায়। ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের মেহনতি মানুষকে রক্ষা করতে হবে। ঘূর্ণিদুর্গত এলাকার লাখ লাখ মানুষকে এখনো পুনর্বাসন দিতে হবে। যদি ক্ষমতাশীল কোটারী এ সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার প্রয়াস পায়, তাহলে তারা তাদের মুক্তির জন্য দীর্ঘ এবং অব্যাহতভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।’ (পূর্বদেশ, ৮ মার্চ ১৯৭১)

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের বয়ানে পাওয়া যায় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা এবং মানবিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যে ভাষণেও বঙ্গবন্ধু শোষণমুক্ত এক সমাজের  কথা বলেছেন। তার এ রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা, আত্মত্যাগ এবং আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততা বাঙালিকে নিয়ে গেছে চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে।  রাজনীতি ও অর্থনীতির চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে এক নতুন দেশ বিনির্মাণে এগিয়ে গিয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে তাই তো আমরা দেখি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তুলে ধরার পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া বৈষম্য, নির্যাতন এবং অধিকার ও সম্পদ লুটপাটের করুণ কাহিনী তুলে ধরেছেন। বলা যায়, বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের দর্শন ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা। 

পাকিস্তানের আধিপত্য থেকে বেরিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জন এবং শোষণ-বঞ্চনাহীন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য। যার পেছনে ছিল সম্পদের সুষম বণ্টন করার মতামত। তিনি চাইতেন সমাজের বিশেষ একটা শ্রেণীর হাতে যাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত না হয় তার নিশ্চয়তা প্রদান করা। তিনি দেখেছেন পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্পদের সুষম বণ্টন না হওয়ার কারণে বাঙালি দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে চলেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ গিয়ে জমা হচ্ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তান আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত হয় আর পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহকারী ও উৎপন্ন দ্রব্যের বাজারে পরিণত হয়।

স্বাধীনতা যেমন একদিনে অর্জিত হয়নি, তেমনি স্বাধীনতা সংগ্রামের এ পথ কখনই মসৃণ ছিল না। সময়োপযোগী রাজনৈতিক কৌশল রচনা ও অবলম্বন এবং তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দেন স্বাধীনতার লক্ষ্যে। আর এগুলোর জন্য যে মঞ্চটি দরকার ছিল সেটা হলো ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দান।  আন্দোলনের মধ্যেও ছিল বঙ্গবন্ধুর ক্ষতিপূরণের চিন্তাভাবনা। যে কারণে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘‌শহীদদের ও আহতদের পরিবারের জন্য আওয়ামী লীগ সাহায্য কমিটি করেছে। আমরা সাহায্যের চেষ্টা করব। আপনারা যে যা পারেন দিয়ে যাবেন। সাতদিনের হরতালে যেসব শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছেন, কারফিউর জন্য কাজ করতে পারেননি—শিল্পমালিকরা তাদের পুরো বেতন দিয়ে দেবেন।’

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে বাঙালি জাতি সাহসী হয়ে ওঠে। বলা চলে, এ ভাষণে পাল্টে দেয় এ দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত। মাত্র ১৮ মিনিটের অসামান্য ভাষণে সাড়ে সাত কোটি মানুষ নতুন জীবনের মন্ত্র পেলেন। কী সেই মন্ত্র? সেই ভাষণের মন্ত্রগুলো হলো—

প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো কিংবা তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। কেউ যদি পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালিদের ওপর তাদের নির্যাতন, বৈষম্য কিংবা বঞ্চনার ইতিহাস জানতে চায় তাহলে এ ১৮ মিনিটের বক্তব্যেই তার সবকিছু জানতে পারবে। এক কথায় আমরা বলতে পারি, ৭ মার্চের ভাষণটির মূল বক্তব্য ছিল স্বাধীনতা-সংগ্রাম তথা মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি প্রায় ৫০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।  এখনো এ ভাষণ শুনে আবেগতাড়িত হয় যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন এ ভাষণ জাতির সামনে তুলে ধরা হয়নি। সামরিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোর রোষানলেও পড়েছিল এ ভাষণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘদিন সরকারি প্রচার মাধ্যমে এ ভাষণ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল।  কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে।

বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাষণের সঙ্গে যেমন  আব্রাহাম লিংকনের ‘‌গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’, উইনস্টন চার্চিলের ‘‌উই শ্যাল ফাইট অন দি বিচেস’, জওহরলাল নেহরুর ‘‌ট্রাইস্ট উইথ ডেসটিনি’, মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘‌আই হ্যাভ এ ড্রিম’—বিখ্যাত এ চার ভাষণের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের তুলনা করা হয়। তার ভাষণের কারণেও আজ আমাদের দেশ ও জাতি সম্মানিত হয়েছে। মহিমান্বিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাংলা ভাষা ও সোনার বাংলাদেশ।

ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম