ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রধান। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিজনেস স্কুল, ক্রেনফিল্ড স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, ফ্রান্সের ইনসিয়াড, ভারতের ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেসে। প্রায় ২৬ বছর কাজ করেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকে, দেশে ও বিদেশে। পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসনের খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। করপোরেট এক্সিলেন্সের জন্য পেয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পুরস্কার। সম্প্রতি তিনি করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসায় খাত নিয়ে বণিক বার্তার নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে কেমন পরিবর্তন আসতে পারে বলে আপনি মনে করছেন? বিশেষ করে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত এবং তত্সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

যারাই এই করোনাকালে বাসা থেকে কাজ করেছেন কিংবা দেশে-বিদেশে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংযোগ রেখেছেন, তারাই একটি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কাজ করতে গেলে আরো অনেক দিন এই ‘ওয়ার্কিং ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে। এতে নতুন নতুন যোগাযোগ প্রযুক্তি সমাধান শিখতে হবে বা তার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে। এই ওয়ার্কিং ফ্রম হোম আমাদের জীবনাচরণেও অনেক পরিবর্তন এনেছে এবং আনবে। নগরের যানজট, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, ভোরে তাড়াহুড়ো করে অফিসের প্রস্তুতি, দেরি করে বাড়ি ফেরা, সন্তানদের বা মা-বাবার সঙ্গে প্রায় দেখা না হওয়ার অবস্থা পাল্টেছে এবং আরো পাল্টাবে। এমনকি নিয়মিত প্রার্থনার অভ্যাসও গড়ে উঠবে। গড়ে উঠবে রান্নাঘরে বা ঘরের কাজে জীবনসঙ্গীকে সহায়তা করার অভ্যাস। এমনকি কাজের ফাঁকে একটু চোখ বুজে নিলেও কোনো সমস্যা নেই। হয়তো অভ্যাস গড়ে উঠবে সবাইকে নিয়ে ছবি বা নাটক দেখার বা গান শোনার। অনেকে ঢাকার বাইরে থেকেও কাজ করতে পারবেন। অনলাইন ক্লাসের সুযোগে সন্তানরাও প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হতে পারবে।

এরই মধ্যে ব্যক্তি ব্যাংকিংয়ে আমরা প্রায় সবাই অনলাইন ব্যাংকিং বা অল্টারনেট ব্যাংকিংয়ের (ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা পশ মেশিন) সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছি। মোবাইল ব্যাংকিং তো এরই মধ্যে অনেক জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে অনলাইনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ আরো কাজ বা ট্রানজেকশন সম্পন্ন করা যাবে। এ কাজে হয়তো নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আরো তত্পর হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ব্যাংকগুলো আরো বিনিয়োগ করবে। নগরীর দামি দামি জায়গায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো তুলে দিতে পারলে অনেক খরচের সাশ্রয় হবে। এমনকি ‘ওয়ার্কিং ফ্রম হোম’ ব্যবস্থায় আরো বেশি কর্মীকে রাখতে পারলে অফিসেও জায়গার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে এবং ভাড়া বাবদ অনেক টাকার সাশ্রয় হবে। কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেটের খরচ কমবে। তার প্রভাবে ব্যাংকের পরিচালনগত খরচও কমবে। কর্মকর্তাদের অনেকেই পালা করে বাড়িতে বসে কাজ করতে পারবেন বলে তাদের জীবনমান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। 

করোনা-পরবর্তী কর্মসংস্থান হারানোর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশে নিশ্চয়ই এ ধরনের প্রবণতা দেখা যাবে। তাতে অর্থনীতি-বাণিজ্য ও সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

অন্যান্য দেশে আপৎকালে বেঁচে থাকার প্রধান উপায় খরচ কমানো। সবাই যে শুধু কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমায় তা নয়। আমার পরিচিত একটি বহুজাতিক কোম্পানি, তাদের দক্ষিণ এশিয়ায় ৪০০ জনের মতো সিনিয়র যারা হচ্ছেন পার্টনার বা এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, তাদের সুযোগ-সুবিধা ২৫ শতাংশ কমিয়েছেন, আগামী তিন-ছয় মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ বিদেশ ভ্রমণ ও হোটেলে থাকা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ৫০-৭৫ শতাংশের মতো লোক ওয়ার্কিং ফ্রম হোম করবে বলে অফিস ভাড়া, যাতায়াত ও চা-নাশতার খরচ অনেক অনেক কমে আসবে। এতে যদি সেই কোম্পানি দুর্দিনে বছরে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা বাঁচিয়ে ফেলতে পারে তাহলে তো ছোটদের ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন নেই। অবশ্যই তাদের অনেক অনেক যাচাই-বাছাই না করে নতুন লোক নিয়োগ দিতে অনীহ হতে হবে এবং দুর্দিনে গ্রাহকসেবা বা ব্যবসা উন্নয়নে সক্ষম বা দক্ষ লোকদেরই বেশি দেখভাল করতে হবে। কেউ যদি তাদের ছেড়ে যায়, তার জায়গায় অন্তর্বর্তীকালে কোনো লোক নেয়া হবে না। এভাবেই বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হয়, আমাদেরকেও একই ধারায় টিকে থাকতে হবে। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে বাহুল্য খরচ না কমিয়ে উপায় নেই। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও প্রশাসনিক খরচ কমানোর কথা ভাবতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের কথা ভাবতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোক থাকলে ছাঁটাইয়েরও দরকার হতে পারে। অনেকটা সক্রেটিসের ‘হাউ মেনি থিংস আই অর উই ক্যান ডু উইদাউট’। এক্সপেন্স অপ্টিমাইজেশন বা বিজনেস প্রসেস রিইঞ্জিনিয়ারিং পশ্চিমা বিশ্বে একটি বহুল পরিচিত বিষয়।   

কর্মচ্যুতির সংখ্যা কমিয়ে আনতে ব্যক্তি খাত কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে? সরকারইবা কী ধরনের সহায়তা জোগাতে পারে?

পরিচালনগত খরচ কমানোর বিকল্প নেই। নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। জুনিয়রদের বাঁচিয়ে রাখতে সিনিয়রদের ত্যাগ বা স্যাক্রিফাইস করতে হবে। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান যদি সরকার থেকে কোনো সাহায্য বা প্রণোদনা নিয়ে থাকে তাহলে হয়তো সরকারের কথা মেনেই ছাঁটাই করতে পারবে না। কোনো সাহায্য না নিয়ে থাকলে বাধ্যবাধকতাও থাকবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশের মতো সরকার চাইলে যেকোনো ব্যক্তিকে নগদ বা ত্রাণ সহায়তা দিতেই পারে। তারা চাকরিচ্যুত হোন আর না-ই হোন।

করোনা ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সাশ্রয় ও সম্পদের আরো অধিক দক্ষ ব্যবহারের নানা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনও করেছে বটে। এতে আগামী দিনে ব্যবসা পরিচালনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

আমাদের মুরুব্বিরা একটি কথা প্রায়ই বলেন, জিততে হয় কেনায়। আপৎকালে সব পুরনো বা চলমান ক্রয়চুক্তি পুনর্মুল্যায়ন করতে হবে। আউটসোর্সিং বা শেয়ার্ড সার্ভিসের কথা ভাবতেই হবে। খরচ বাঁচানোর নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই হবে।

কর্মচ্যুতির হার বাড়লে বা বেকারের সংখ্যা বাড়লে দেশে কী ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হতে পারে? এমনিতেই বলা হচ্ছিল আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানহীন। করোনা-পরবর্তী এক্ষেত্রে কী হবে?

বিরাট হাহাকার লেগে যেতে পারে। সামাজিক সমস্যাও হবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় যদি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কিংবা সরকার যদি আইনানুযায়ী নজরদারি করে তাহলে এ সমস্যা অনেক কমে আসতে পারে। কোম্পানি যদি গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সেপারেশন বেনিফিট ঠিক সময়ে পরিশোধ করে, তবে এ টাকা কাজে লাগিয়ে অনেক নতুন উদ্যোক্তারও জন্ম হতে পারে। এমনিতেই আমাদের দেশে হোম ডেলিভারি, লজিস্টিকস এবং সস্তায় মানসম্মত খাবারের ব্যবসার নতুন করে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। 

প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্ষম, দক্ষ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে আপনার পরামর্শ কী থাকবে? কর্মচ্যুতি নাকি বেতন হ্রাস, নাকি সম্পদের আরো দক্ষ ব্যবহার নাকি উভয়ের সমন্বয়—কোনটিকে আপনি সমর্থন করেন?

প্রথমে পরিচালনগত ব্যয়ের প্রতিটি হেড বা আইটেম ধরে ধরে নিরীক্ষণ, সব সম্ভাব্য ব্যয় হ্রাস, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া, ভ্রমণ আয়োজকদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে খরচ কমানো, আপ্যায়ন ব্যয় কমানো, তার পরে একটি পর্যায়ে সিনিয়রদের বেতন হ্রাস। জুনিয়রদের বেতন হ্রাস বা ছাঁটাই হবে সর্বশেষ পর্যায়। কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিতেও নজর দিতে হবে। 

দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান, তার মধ্যে অনেক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরের পর বছর মোটা অংকের মুনাফা করেছে, তারা পর্যন্ত বেতন-ভাতা কমাচ্ছে, এমনকি কর্মচ্যুতির কথাও বলছে করোনা আক্রান্ত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই। এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে আপনার বিশ্লেষণ কী?

এটি গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে তারা যদি কোনো সরকারি সুযোগ নিয়ে থাকেন। তা না হলে তাদের সব পদ্ধতি বা আইন মেনেই কাজ করতে হবে। তাছাড়া ভালো প্রতিষ্ঠান কখনই ভালো কর্মীকে হারাতে চাইবে না। অবিরাম গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের জন্যও প্রশিক্ষিত ভালো কর্মী দরকার। এখানে নেতৃত্বও একটি বিরাট বিষয়। 

করোনার কারণে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এতে অফিস স্পেস ও ব্যয় হ্রাস করার কথাও বলছেন অনেকে। তাহলে আমরা কি এতদিন সম্পদের অপচয় করে আসছিলাম?

অবশ্যই। প্রযুক্তির সহায়তায় বিকল্প পদ্ধতিতে কাজের মাধ্যমে ব্যয় হ্রাসের কোনো বিকল্প নেই। এমনিতে ঢাকায় কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেটের দাম অনেক বেশি বলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন। অধিকসংখ্যক লোক বাসায় থেকে কাজ করতে পারলে বা প্রযুক্তি সহায়তা থাকলে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, আগ্রাবাদে বড় বড় বাড়ি বা অট্টালিকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় ব্যাংক শাখার কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো হবে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ড’সের শাখা। এমনিতেই বাংলাদেশে করপোরেট গ্রাহকরা শাখায় আসেন না এবং বেশির ভাগ ব্যাংকই সত্যিকারের রিটেইল ব্যাংকিং বা ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট করে না। রিটেইল ব্যাংকিংয়ের নামে যা করে তা সহজেই অল্টারনেট ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব।

ভবিষ্যতের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা বাড়তে পারে? করোনা যদি আরো বেশকিছু সময় ধরে থাকে, তবে বাণিজ্যে ব্যয় বেড়ে উঠবে নিরাপত্তা উপকরণ নিশ্চিত করতে। এ ব্যয় সামাল দিতে করণীয় কী?

সোজা কথায়, নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে আবার সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়বে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লে প্রযুক্তি ব্যয় কমে আসবে। এতে নিরাপত্তাসহ নতুন বিনিয়োগও সম্ভব হবে। 

করোনার এমন প্রভাব আরো অনেক দিন চলতে থাকবে, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের?

কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া, মুনাফা এবং ভালো কর্মীদের ধরে রাখতে পারার চ্যালেঞ্জ। 

অনানুষ্ঠানিক খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ এখানে কাজ করে। যেখানে হোটেল শ্রমিক থেকে শুরু করে অনেকেই আছেন। কী হবে এসব খাতে? তারা কীভাবে টিকে থাকবেন?

অনানুষ্ঠানিক খাতে সরকারি সহায়তার বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে এ কাজে এনজিও, ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা এমনকি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।

করোনা-পরবর্তী কোম্পানির মুনাফায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? পরিচালনায় কী ধরনের পরিবর্তন আপনি প্রত্যাশা করছেন? আগামীতে টিকে থাকতে হলে কী করতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে?

খরচ কমাতে না পারলে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিনবত্ব না আনতে পারলে বেশির ভাগ কোম্পানিরই মুনাফা কমে যাবে। হয়তো টেকনোলজি, মোবাইল অপারেটর বিশেষ করে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এর ব্যতিক্রম হবে। অন্যদিকে পরিচালনগত খরচ কমাতে পারলে, ভালো কর্মীদের ধরে রাখতে পারলে, ব্যবসার মডেল পরিবর্তন করতে পারলে ভবিষ্যতে অনেকের মুনাফাও বাড়বে। 

অনেকে স্বল্প বেতন-ভাতা, কর্মসংস্থান, সীমিত ভোগ, সীমিত বিনিয়োগ, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, অর্থনীতি পেছনের দিকে চলে যাওয়ার মতো দুষ্ট চক্রে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এক্ষেত্রে আপনার মত কী?

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে, সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন উন্নত করা গেলে, সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে এবং রাজস্ব বাড়িয়ে প্রণোদনা বাড়াতে পারলে আমরা এটি এড়াতে পারব। সেই সঙ্গে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে যায় তাহলে তা হবে পোয়াবারো।

করোনা আরো দীর্ঘায়িত হলে তা মোকাবেলায় ব্যক্তি খাতের করণীয় কী?

বেঁচে বা টিকে থাকতে পারাটাই হবে বিরাট সাফল্য। আগে যেমন বলেছি খরচ কমানো এবং খরচ কমানো, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ব্যবসার মডেল পরিবর্তন ও সিনিয়রদের স্যাক্রিফাইস।