অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১১ জুন আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন। এটি হলো তার দ্বিতীয় বাজেট পেশ। বাজেটে মোট ব্যয় ও আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এটি একটি ঘাটতি বাজেট এবং ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এটি ৪৯তম বাজেট এবং দেশে বাজেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। তত্কালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক উপস্থাপিত দেশের প্রথম বাজেটের (১৯৭২-৭৩) আকার ৭৮৬ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ওই বাজেটের আকারের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেট ৭২২ দশমিক ৬৪ গুণ বড়। আর দেশের প্রথম বাজেটের তুলনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পেশকৃত বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৬৬৬ গুণ বড়। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে দারিদ্র্য হার অতি দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে মর্মে একাধিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-সংস্থার সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলে উঠে এলেও আগামী অর্থবছরের বিশাল আকারের বাজেটে দারিদ্র্য হারের এ ঊর্ধ্বগতি রোধ করে তা হ্রাসে বিশেষ উদ্যোগ নেই।

সরকারি হিসাবে ১৯৯১-৯২ সালের ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ জাতীয় দারিদ্র্য হার ২০০৫ সালে ৪০ শতাংশে এবং ২০১০ সালে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৬ ও ২০১৯ সালে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৩ ও ২০ দশমিক ৫ শতাংশে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে (২০১৫-২০) দেশে দারিদ্র্য হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। তবে এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর দারিদ্র্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে কমলেও ২০১০ থেকে ২০১৬ সময়কালে তা কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে। ২০১৬ সাল-পরবর্তী তিন বছরেও দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ছিল নিম্নমুখী।

ধীরগতিতে হলেও দেশে যখন দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছিল, তখন চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে করোনা মহামারী পরিস্থিতি দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রক্ষেপণ ওলটপালট করে দিয়েছে। জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের কয়েক দিন আগে একাধিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-সংস্থার গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে,  করোনা পরিস্থিতিতে দেশে দারিদ্র্য হারে উল্লম্ফন ঘটেছে। গত ২০ মে ভার্চুয়াল এক সেমিনারে উপস্থাপিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে নতুন করে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ গরিব হয়েছে। অর্থাৎ নভেল করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে দেশে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে এখন মোট জনগোষ্ঠীর ৪৩ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এ গবেষণার ফল অনুযায়ী দেশে এখন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটির ওপরে। অন্যদিকে ৭ জুন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিং উপলক্ষে প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি ইন ২০১৯-২০ অ্যান্ড বাজেট চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনার কারণে দেশে দারিদ্র্য হার অনেক বেড়েছে। ২০১৬ সালে দেশে দারিদ্র্য হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সিপিডির এ রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের বর্তমান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৭ লাখের ওপরে।

আর ৮ জুন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৬৬ দিনের (২৬ মার্চ-৩০ মে) ঘোষিত ছুটিতে নিম্নমধ্যবিত্ত ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্য থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র হয়েছে। দরিদ্র থাকা ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ২ কোটি ৫৫ লাখ হতদরিদ্র হয়েছে।

এদিকে ৯ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় পরিচালিত ব্র্যাকের একটি জরিপে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘোষিত ছুটির কারণে ৯৫ শতাংশ মানুষ উপার্জনের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫১ শতাংশ মানুষের খানাভিত্তিক আয় শূন্যে নেমে এসেছে। দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল ও স্বল্প আয়ের মানুষের ৬২ শতাংশ চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছে।

করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে দেশে দারিদ্র্য হার অতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির মূল কারণ হলো, মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির উপর্যুক্ত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৬৬ দিনের ছুটিতে কাজ হারিয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। ঘোষিত ছুটিতে অর্থনীতির সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেবা খাত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে বলা হয়, ঘোষিত ছুটিতে কেবল এ খাতের ৫০ লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং তাদের অনেকে ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নামেন। তাছাড়া হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুরিজম ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়েন। প্রসঙ্গত, দেশের জিডিপিতে পরিবহন খাতের অবদান ৫৬ শতাংশ (সপ্তম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনা)।

‘মানুষের জীবন-জীবিকা অব্যাহত রাখতে’ সরকার ৩১ মে থেকে ‘বন্ধ অবস্থা’ খুলে দেয়। বন্ধ অবস্থা খুলে দেয়া হলেও বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম চলছে সীমিত পরিসরে। এদিকে বন্ধ অবস্থা খুলে দেয়ার পর থেকে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দেশজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফররত চীনের নভেল করোনাভাইরাস বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আমাদের করোনা পরিস্থিতির ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ভাইরাসটি কোথায় আছে আর কোথায় নেই তা জানা দুষ্কর। এখানে কাজ হচ্ছে অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো। এভাবে ভাইরাস মোকাবেলা করা সত্যি কঠিন (যুগান্তর, ২০ জুন)।’ তিনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘কার্যকর লকডাউন’সহ দ্রুত পরীক্ষা, কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং ও চিকিৎসার ওপর জোর দিয়েছেন। চীনা বিশেষজ্ঞ দলের প্রধানের পরামর্শ অনুযায়ী লকডাউন ঘোষণা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হার যে আরো বেড়ে যাবে তা জোর দিয়ে বলা যায়। কারণ বেকারত্ব ও দারিদ্র্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। 

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে দারিদ্র্য হার বৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় কোনো উল্লেখ নেই। করোনার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় অর্থমন্ত্রী সরকারের কর্মপন্থার যে চারটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো: এক. সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেয়া; দুই. ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে কতিপয় ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত হয়; তিন. হতদরিদ্র, কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনগণকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা। চার. বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেয়া প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, দেশে সরকারি খাতে কর্মসংস্থান খুবই কম। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল আউটলুক ২০১৮’-এর হিসাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে সরকারি খাতে কর্মসংস্থান সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। বাংলাদেশে মোট কর্মসংস্থানে সরকারি খাতের অবদান মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, পূর্ব তিমুর ও ভিয়েতনামে মোট কর্মসংস্থানে সরকারি খাতের অবদান যথাক্রমে ২২ দশমিক ৪, ৬ দশমিক ৩, ১২ দশমিক ২, ৮ দশমিক ৪, ২২ দশমিক ৬ ও ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে কর্মসংস্থানে সরকারি খাতের অবদান ১ শতাংশও বাড়াতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ করা অমূলক হবে না। 

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহের নিম্নগতি এবং দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নেয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যথেষ্ট পরিমাণে কমে যাবে। এসব কারণে দেশে বেসরকারি খাতে তেমন বিনিয়োগ না হওয়ায় এ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। উল্লেখ্য, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কম-বেশি ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিসঞ্চারের জন্য যেসব ঋণ সুবিধার কথা বলেছেন সেগুলো হলো: এক. তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠন; দুই. ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার এবং কুটির শিল্পসহ এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার দুটি আলাদা স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা চালুকরণ; তিন. বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের পরিমাণ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণ; চার. প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট রিফিন্যান্স স্কিম নামে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালুকরণ। অর্থমন্ত্রীর হিসাবে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ কতটা সহায়ক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক।

অর্থমন্ত্রী হতদরিদ্র, কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জনগণকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন। তিনি আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা এ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা বেশি। তবে সেই সঙ্গে তিনি ১১ লাখের বেশি নতুন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, উপকারভোগীদের জীবনমানে কোনো উন্নয়ন হবে না। আর যে বিষয়টি উল্লেখ করা দরকার তা হলো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য হার হ্রাসে কোনো অবদান রাখে না। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের অতিদরিদ্র, দুস্থ, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের কোনো রকমে জীবন ধারণের ব্যবস্থা নেয়া হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর কিছুসংখ্যক উপকারভোগীর শ্রেণী পরিবর্তন করা যায় কিনা, অর্থাৎ তাদের দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে ওপরে নিয়ে আসা যায় কিনা, এমন কৌশল উদ্ভাবনের বোধহয় সময় এসেছে। এমনটি করা গেলে তা দারিদ্র্য হার হ্রাসে কিছুটা হলেও অবদান রাখবে।      

করোনাজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করা এবং গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেটে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটা ঋণ হিসেবে দেয়া হলে তা যেন খুব কম সুদে দেয়া হয় এবং ঋণ প্রদান দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, প্রতি বছর কম-বেশি ২০ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে এবং শহরের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা হচ্ছেন এদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। শহরের এসব শিক্ষিত যুবক-যুবতীর জন্য বাজেটে কোনো প্রণোদনা নেই।     

এটা ঠিক যে ৩১ মে বন্ধ অবস্থা খুলে দেয়ায় ধীরগতিতে হলেও উন্নয়ন ও অনুন্নয়নমূলক সব খাতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করেছে। এতে কাজ হারানো অনেক মানুষ তাদের কাজ ফিরে পাওয়ায় বন্ধ অবস্থার দারিদ্র্য হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসে করোনা মহামারীর উন্নতি হলেও অর্থনীতির আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংক তো এরই মধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে যে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। দারিদ্র্যের ঊর্ধ্বমুখী হার রোধ ও তা নিম্নমুখী করতে সরকারের উচিত হবে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকা যেসব মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে, তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে সার্বিক সহায়তা করা। তাই এক্ষণে অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে মানুষের জীবন রক্ষা এবং দারিদ্র্যের ঊর্ধ্বমুখী হার রোধ ও তা নিম্নমুখী করায় সরকারকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সেজন্য সার্বিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশে দারিদ্র্যের উচ্চহার সরকারের উন্নয়নমূলক সব অর্জনকে অনেকটা মলিন করে দেবে।

 

মো. আবদুল লতিফ মন্ডল: সাবেক সচিব

latifm43@gmail.com