দেশের বিশেষ কোন সেক্টর বা কোন কার্যক্রমকে সঠিক ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করার জন্য সরকার আইন প্রণয়ন করে থাকে। পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সে আইন সংশোধন করার প্রয়োজন হয় এবং সরকার সংশোধন করে থাকে। কিন্তু যদি সেই সংশোধনের পরিমাণ মাত্রায় অধিক হয়ে থাকে তাহলে অনেক সময় পূর্ববর্তী আইনটিকে রহিত করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। যুগে যুগে দেশে বিদেশে আইনের সংশোধন বা পুরাতন আইনের পরিবর্তে নতুন আইন তৈরির এই রীতি অনুসরণ করে আসা হচ্ছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের পেছনের ইতিহাস ভিন্নতর হয়ে থাকে। আমাদের দেশের জন্য তেমনি একটি ভিন্নতর সময়কাল ছিল ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়কালে সরকারের দায়িত্বে ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু কী অবস্থায় দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তা হয়তো কারো অজানা নয়। তবু সংক্ষেপে এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, নিষ্ঠুর ঔপনিবেশিক শোষণের অবসানে ৩০ লাখ শহীদের আত্মোৎসর্গের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেল, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি বলতে কিছুই ছিল না, তা ধংসের শেষ সীমাতেই এসে পৌছেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন দেশের কোন শাষণতন্ত্র অর্থাৎ সংবিধান ছিল না। দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। দেশের সংবিধান প্রণয়নের পূর্বে বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু আদেশ জারি করা হয় যা সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সরকার সংবিধান প্রণয়নের পরে ১৯৭৩ সালে আরও অনেকগুলো আদেশ জারি করে।

গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়কালে প্রণীত কোন আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেগুলো নতুন আইন না করে সংশোধন আকারে হবে (২৫ আগস্ট ২০২০ তারিখের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত)। মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির পিছনে থাকে একটি লম্বা ইতিহাস। কালের বিবর্তনে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু রাষ্ট্র গঠনের পিছনের ইতিহাস কোন দিন পরিবর্তন হতে পারে না। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রথম সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম প্যারায় উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।’ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আজ প্রায় ৫০ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে, জাতীয় আয়সহ মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। বেড়েছে গড় আয়ু। সামাজিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু দেশের ইতিহাস কোনদিন পরিবর্তন হতে পারে না।

দেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যেমন পরিবর্তন হতে পারে না তেমনি পরিবর্তন হতে পারে না দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন অংগের ইতিহাস। যে ক্ষুদ্র অঙ্গগুলো দেশ প্রতিষ্ঠা লাভের সাথে সাথেই দাঁড় করানো হয় যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রাষ্ট্রের অর্থ সংগ্রহের জন্য রাজস্ব বোর্ড, ঋণ দানের জন্য ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ সদ্য স্বাধীন দেশের আর্থিক নীতি, ঋণ সরবরাহ এবং তার নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বিনিময় ইত্যাদি বিষয় সঠিক পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ ১৯৭২’ এর মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন দেশের ব্যাংকিং অবস্থা বিশ্লেষণে লক্ষ্য করা যায় দেশের ব্যাংকে এক আনার বৈদেশিক মুদ্রা এবং গোল্ড রিজার্ভ ছিল না। বরং বাংলাদেশে প্রচলিত সাবেক পাকিস্তান সরকারের ৩৫৮ কোটি টাকার দায় গ্রহণ করতে হয়েছিল। এই প্রচলিত মুদ্রাংকের সমর্থনে ব্যবহৃত স্বর্ন ও অন্যান্য জামানত করাচীতে সংরক্ষণ করা হতো বলে এ সম্পদ থেকে দেশ বঞ্চিত হয়েছিল। একদিকে স্বাধীনতা লাভের দিনে বৈদেশিক মূদ্রার তহবিল ছিল শূন্য অপরদিকে দেশের বন্দর দুটোই কার্যক্রমে না থাকায় রপ্তানির প্রবাহ ব্যাহত ছিল বিধায় বৈদেশিক মূদ্রা আহরণের পথও ছিল বন্ধ। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে যে আদেশ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির আদেশ নং -১২৭ জারি করা হয়, উক্ত অবস্থাসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে এবং উক্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে আদেশ প্রণয়ন এবং জারি করা হয়েছিল বলেই ধারণা করা যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকবাহিনী কর্তৃক দেশে প্রচুর ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, ধবংস করে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ লোক গৃহহীন হয়ে পড়েছিল।এমনি অবস্থায় গৃহ নির্মাণে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে একটি গৃহনির্মাণ ঋণদান সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন এবং জারি করা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আদেশ ১৯৭৩’। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কৃষিতেও অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল এবং দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষির উন্নয়নের উপর বেশ গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ জাতীয়করণের নীতি ঘোষণা উপলক্ষে বেতার টেলিভিশনে ভাষণদানকালে কৃষিব্যবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাদের সমাজে চাষিরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থা উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পিছনে নিয়োজিত করতে হবে।” কৃষির প্রতি বঙ্গবন্ধুর এমন পরিকল্পনার সময়ই কৃষিক্ষেত্রে ঋণদানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জারি করা হয় ‘বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩’। এমনি ভাবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জারি কৃত প্রতিটি আইনের পিছনে আছে তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপট। আইনগুলোর যতই বয়স হচ্ছে দেশের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে আইনগুলি পরিবর্তন প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিবর্তন বা যুগোপযুগি করা যায় সংশোধনের মাধ্যমে অথবা বিদ্যমান আইনের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করে। যদি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয় তাহলে এটি আশংকা করা যায় যে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল তৎকালীন সময়ে যে প্রেক্ষাপটে উক্ত আইনগুলি প্রণয়ন করা হয়েছিল তা আর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্থানান্তরিত হবে না অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে না কোন প্রেক্ষাপটে উক্ত আইনগুলি জারি করা হয়েছিল। ১৯৭২ থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যে আইনগুলো জারি হয়েছে তা সংশোধন করা যাবে তার পরিবর্তে নতুন আইন করা যাবে না মর্মে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তা এই আশঙ্কাকে দূর করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত এতোটাই যুগান্তকারী যে, একটি জাতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের যেমন জানার অধিকার রয়েছে তার দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তেমনি জানার প্রয়োজন রয়েছে সদ্য স্বাধীন দেশ পূর্ণগঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যে আইনগুলি প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে তার প্রেক্ষাপট বা পিছনের ইতিহাস। আর এই প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে সক্ষম হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত। 

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের একজন সাধারণ সচেতন নাগরিক হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইচ্ছা করলেও দুটি কারণে সেই ইচ্ছা যেন দায়িত্বে পরিণত হয়। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে জারিকৃত একটি আদেশ হালনাগাদ করণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আদেশটি রহিত করে আইনে রূপান্তরিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আদেশটি রহিত করে আইনে রুপান্তরিত করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ক্ষুন্ন হতে পারে আশঙ্কায় ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণে দেশের সাবেক শিক্ষা সচিব এবং বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি যাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান সাহেবের সহায়তায় বিষয়টি গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে নিয়ে আসা হয়। প্রধানমন্ত্রী ২৪ আগস্ট মন্ত্রিসভায় যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তা উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার ক্ষুদ্র প্রয়াসের সফল বাস্তবায়নই প্রকাশ করে। দ্বিতীয়ত, নিজে পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনন্ট্যন্ট এবং দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর সদস্য। আইসিএবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির আদেশ ২-এর মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু এই হিসাব পেশার এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে দেশ স্বাধীনতা লাভ করার মাত্র এক বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠা করেন এই ইনস্টিটিউট। এ প্রেক্ষিতে এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশে চার্টার্ড অ্যাকাউনন্ট্যান্ট বা সমমানের ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে লক্ষ্য করা যাবে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের ৪৬ বছর পর, পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের ১৪ বছর পর, শ্রীলংকায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের ১১ বছর পর, মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের ১০ বছর পর, ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের ১২ বছর পর, জাপানে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের তিন বছর পর, ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা লাভের দুই বছর পর, মালদ্বীপ ১৯৬৮ সালে এবং ভূটান ১৯০৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করলেও অদ্যবধি এরুপ কোন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। বিভিন্ন দেশের এই তথ্য বিশ্লেষণে এটি উপলব্ধি করা যায় যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশে হিসাব ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের ওপর কতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের হিসাব পেশার অন্যতম নিদর্শন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ এর ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। 

(প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের ব্যক্তিগত)

লেখক: সাবেক সহ-সভাপতি
দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ

sha.hossain@gmail.com