বিশ্ব আজ করোনা দুর্বিপাকে। সারা বিশ্ব থেমে গেছে। ভেঙে পড়েছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা। বিযুক্ত হচ্ছে বৈশ্বিক, দেশীয় সব অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। করোনাকালের আরম্ভটা চীন দিয়ে। করোনার সেই থাবা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় গভীরভাবে তার আগ্রাসী থাবা পড়তে শুরু করেছে। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের থাবা ক্রমে তীব্রতর হচ্ছে। করোনার ভয়বহতায় জনজীবনে অসহায়ত্বের গভীর ছায়া পড়তে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। সাধারণ এই ছুটি ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ও সারা বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি, উন্নয়নমূলক অর্থনৈতিক সব কর্মপ্রবাহ থেমে গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ছোট দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি চাকুরে, ছোট-বড় হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, ছোট দোকানদার ও কর্মচারী, রফতানিমুখী পোশাক শিল্প শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, হকার, বাসাবাড়িতে কাজ করেন—এমন সব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী চলছে লকডাউন।
২. ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মানুষ গ্রামমুখী হয়। পরবর্তীতে বিজিএমইর সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতার কারণে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিয়ে দেশ ও সরকার পড়ে বিপদে। প্রথমত, পোশাক শিল্প শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঢাকা থেকে গোটা দেশময় ছড়িয়ে পড়েন। এরপর পোশাক শিল্পের মালিকপক্ষের নির্দেশনায় ৪ এপ্রিল চাকরি হারানোর ভয়ে ও বেতন-ভাতার আশায় ট্রাকে চড়ে, শত মাইল হেঁটে ঢাকামুখী হন শ্রমিকরা। আবারো সিদ্ধান্তের পরিবর্তন। ঝুঁকি নিয়ে পয়সা খরচ করে আসা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়। বেতন না পেয়ে তারা ঢাকায় বিক্ষোভ করছেন। পোশাক শ্রমিকদের হয়রানি, শ্রমিকসহ গোটা দেশবাসীর নভেল করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য কারা দায়ী?
প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে রফতানি খাতে অগ্রিম ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সাড়ে ৭২ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা দেন। দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের সঙ্গে জড়িত এসব শ্রেণী-পেশার মানুষ এ প্যাকেজের উপকারভোগী। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খোলার নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে এমএফএস অপারেটররা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দেশের টিভি চ্যানেলগুলোয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। এমএফএসকে জরুরি সেবা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করছে। বিকাশ ও রকেটের এজেন্ট পয়েন্টগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছে।
৩. বাংলাদেশ ব্যাংক ২ এপ্রিল ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-বিষয়ক নীতিমালা প্রদান করে। ৬ এপ্রিল পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনটিতে তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্রধান নির্বাহীকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংক ও এমএফএস প্রোভাইডারদের জন্য চারটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত, রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০ এপ্রিলের মধ্যে এমএফএস হিসাব খুলতে হবে। পোশাক শিল্প মালিকরা সরকারি স্বল্প সুদে যে আর্থিক সহায়তা পাবেন, সেই অর্থ যেন শ্রমিকদের এমএফএস হিসাবে সরাসরি বেতন-ভাতা হিসেবে প্রদান করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ৩০ এপ্রিলই পোশাক শ্রমিকরা এপ্রিলের বেতন পাবেন।
দ্বিতীয়ত, এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে পোশাক শিল্পসহ সব রফতানিমুখী শ্রমিক-কর্মচারীদের এনআইডি/জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে এমএফএস হিসাব খুলতে হবে।
তৃতীয়ত, এমএফএস হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চার্জ/ফি গ্রহণ করা যাবে না।
চতুর্থত, এ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রাহক হিসাব খোলার উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের সচেতন ও উৎসাহিত করার জন্য প্রচারণাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
দেশের আর্থিক সঞ্চালন ব্যবস্থাকে চালু রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের (ব্যাচ) কার্যক্রম সাধারণ ছুটির দিনগুলোয় খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। সার্কুলারে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত খোলা রাখতে বলা হয়েছে।
৪. এই আপত্কালীন আর্থিক সঞ্চালন ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য এমএফএস একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এর উপস্থিতি রয়েছে। গত এক দশকে সব ধরনের ব্যাংকিং খাতের কমপ্লায়েন্স নিয়ে সেক্টরটি গড়ে উঠেছে। পোশাক খাতের রফতানিমুখী পোশাক শিল্প শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এমএফএসের মাধ্যমে বেতন-ভাতা ও সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সার্বক্ষণিক বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রথমত, রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে সহজ শর্তে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে, রফতানিমুখী পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পৌঁছানোর জন্য নানা পর্যায়ের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার যুক্ত। এ স্টেকহোল্ডাররা যথাক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিজিএমই, সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্প, সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্পের মানবসম্পদ ও হিসাব বিভাগ, শ্রমিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক ও এমএফএস অপারেটর। অন্যান্য শ্রমজীবীর ক্ষেত্রে বিষয়টি অবশ্য চ্যালেঞ্জিং। আর সেজন্য প্রয়োজন উপকারভোগীদের সঠিক তালিকা বা ডাটাবেজ এবং তাদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর জন্য এমএমএফ হিসাবের তালিকা। এক্ষেত্রে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবতার ভিত্তিতে সব স্টেকহোল্ডারের ভূমিকা তিনটি স্তরে বিভক্ত—ক. প্রথম ধাপের মূল দায়িত্ব বিজিএমই ও সংশ্লিষ্ট সব পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের। সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের মানবসম্পদ ও হিসাব বিভাগের মাধ্যমে তিন মাসের (ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে জানুয়ারি ও ফেব্রয়ারি ২০২০) শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা তৈরি এবং তাদের বেতনের শিটসহ তফসিলি ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করবে; খ. দ্বিতীয় ধাপে তফসিলি ব্যাংক তার গ্রাহক সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্পের কাছ থেকে প্রাপ্ত আবেদনপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুসারে শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা ও বেতন শিট পরীক্ষা করে দেখবে। পরীক্ষা করে তারা সন্তুষ্ট হলে ব্যাংক দ্রততার সঙ্গে ঋণের টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা করবে; গ. তৃতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্পের পক্ষ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের চূড়ান্ত তালিকা, প্রত্যেকের ব্যাংক কিংবা এমএফএস হিসাব ও বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও এমএফএস অপারেটররা কেবল পেমেন্ট চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। কাজেই পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পৌঁছানোর প্রধান ও প্রাথমিক দায়িত্ব পোশাক শিল্পের মালিকদের। আপত্কালীন অন্য স্টেকহোল্ডাররা সংবেদনশীলতা নিয়ে গোটা কাজটি এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সরকারকে বিষয়টির ওপর নজর রাখা দরকার।
৫. এই আপত্কালে আর্থিক সঞ্চালন ব্যবস্থা চালু রাখার স্বার্থে এমএফএস নির্ভরশীল মাধ্যম। এটি সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের মূল মাধ্যম এমএফএস। বিদেশী রেমিট্যান্সের কিছু অংশ এমএফএসের মাধ্যমে গ্রাহকরা তৃণমূল পর্যায়ে পেয়ে থাকেন। নীরবে দেশের এমএফএস খাত, দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, বাজার ও বিপণন নেটওয়ার্ক, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, কৃষি উপকরণ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, গরিব ও সব প্রান্তিক ও অবস্থাপন্ন সবাই আজ এমএফএসের সেবা নিচ্ছে। অনলাইন কেনাবেচায় এমএফএস মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জীবনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এক দশক ধরে এ খাত অপরিসীম ঝুঁকি নিয়ে নীরবে দেশের জরুরি আর্থিক সঞ্চালন প্রবাহ ধরে রেখেছে। করোনাকালে এমএফএস খাত ঘিরে আমার পর্যবেক্ষণ নিম্নরূপ:
প্রথমত, লকডাউনের কারণে শুরুতেই প্রায় ৭০ শতাংশ লেনদেনের পরিমাণ কমে যায়। কারণ শহর ও গ্রাম উভয় জায়গায় ছোট ছোট দোকানের এমএফএস এজেন্টদের একটা বড় অংশ বন্ধ; বন্ধ অর্থনৈতিক সব কর্মপ্রবাহ।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংক মাত্র ২ ঘণ্টা খোলা। ব্যাংকের আরটিজিএস সিস্টেম বন্ধ। বিএফটিএম অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকছে। কাজেই ব্যাংকিং লেনদেন কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্টরাই মুখ্যত ব্যাংকের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক এমএফএস খাতের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল চালু রাখতে এমএফএস বিদ্যুৎ, পানি ও ব্যাংকিং সেবার মতো একটি সার্বক্ষণিক জরুরি সেবাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেছে। সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এরই মধ্যে গরিববান্ধব এ খাতটি গরিবদের কষ্ট লাঘবের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বিকাশ তাদের সব গ্রাহককে ৫০০ পর্যন্ত প্রতিবারের লেনদেন বিনা মূল্যে করার সুয়োগ দিচ্ছে, যার উপকারভোগী হচ্ছেন সব গ্রাহক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রিকশা, বেবি, ঠেলা, ভ্যানচালক, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এমএফএসের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাঠানোর কথা বলেছেন।
চর্তুথত, সামাজিক গণমাধ্যমে এমএফএস খরচ বেশি এমন প্রচারণা বেশ জোরদার করার চেষ্টা আছে। বিষয়টির গভীরে গিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি। সাধারণভাবে ১ হাজার টাকায় ক্যাশ আউট ফি ১৮ দশমকি ৫০ টাকা, চারটি পক্ষ ভাগ পায়। এক. ডিস্টিবিউটর ও এজেন্ট, দুই. মোবাইল টেলিফোন কোম্পানি, তিন. এমএফএস প্রোভাইডাররা, চার. সরকার। এজেন্ট ও ডিস্টিবিউটররা পায় ৭৮ শতাংশ, মোবাইল ফোন অপারেটর পায় ৮ শতাংশ, বিকাশের মোট রেভিনিউ ১৪ শতাংশ। সরকার তার নিয়মনীতি অনুসারে তিন পক্ষ থেকেই ভ্যাট ও আয়কর পায়। আর সেই সঙ্গে এজেন্টদের উল্লেখ করতে চাই, এ এজেন্টরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং দারিদ্র্যরেখার আশেপাশে তাদের অবস্থান। এজেন্টদের অবস্থান ও তাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পরিশেষে নীতিনির্ধারকদের জন্য বলব, এমএফএস খাতটি অন্যান্য খাতের চেয়ে বয়সে নবীন। এমএফএস প্রোভাইডাররা এখনো লাভের মুখ দেখেনি। গত ১৫ তারিখে এ খাতের এক এমএফএস প্রোভাইডার শিওরক্যাশ বিনা নোটিসে ১০৮ জন কর্মচারী ছাঁ্টাই করছে। বিগত ছয় বছর নিজ উদ্যোগে এবং বিডিআইএসের সঙ্গে গবেষণার সূত্রে এ খাতটিকে আমার গভীরভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই সম্ভাবনাময় গরিববান্ধব এ খাতটির ওপর আমরা যেন অন্যায্য কোনো আবদার না করি। সার্মথ্যের বাইরে অতিরিক্ত বোঝা না চাপাই। এ খাতে সর্বোচ্চ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এই আপত্কালে নীরবে ঘরের দোরগোড়ায় এমএফএস তাদের সেবা পৌঁচ্ছে দিচ্ছে। রকেটও তাদের সেবা অব্যাহত রেখেছে। এভাবে এমএফএস খাত হয়ে উঠেছে ভরসার প্রতীক।
খন্দকার সাখাওয়াত আলী: সমাজতাত্ত্বিক ও গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, নলেজ অ্যালায়েন্স










