বিশ্বজুড়ে
সংবাদপত্রের প্রথম
পাতায় এখন
মূল্যস্ফীতির খবর
জায়গা করে
নিয়েছে এবং
সেটি সংগত
কারণেই। অনেক
পণ্য ও
সেবার মূল্য
এমনভাবে বাড়ছে,
যা কয়েক
দশকে দেখা
যায়নি। এই
মূল্যস্ফীতিমূলক ঊর্ধ্বমুখিতা
(কিছুটা প্রকৃত
আবার কিছুটা
সরবরাহ ঘাটতিজনিত)
ভোক্তা ও
উৎপাদকদের উদ্বেগ
বাড়াচ্ছে। অসমতা
পরিস্থিতির আরো
অবনতি এবং
কভিড মহামারী
থেকে অতি
প্রয়োজনীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে
বিচ্যুতির হুমকি
তৈরি করে
মূল্যস্ফীতি বিভিন্ন
দেশে একটি
উত্তেজনাকর রাজনৈতিক
ইস্যু হতে
চলেছে।
এ প্রেক্ষাপটে
যুক্তরাজ্য ও
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা
অবশ্য এখন
‘সাময়িক’
মূল্যস্ফীতির বয়ান
থেকে বেরিয়ে
আসতে শুরু
করেছেন। তবে
বিশেষ করে
বিশ্বের সবচেয়ে
শক্তিশালী ও
পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
আর্থিক নিয়ন্ত্রক
সংস্থা ফেডারেল
রিজার্ভের ক্ষেত্রে
এ ধারণাগত
রূপান্তর এখনো
অসম্পূর্ণ এবং
পর্যাপ্ততার দিক
থেকেও সেটি
বেশ দূরে
রয়েছে। তদুপরি
উৎপাদনশীলতা ও
শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ
বাড়াতে প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপগুলোর অনুমোদনে
কংগ্রেসের বিলম্ব
এক্ষেত্রে তাদের
খুব একটা
সাহায্যও করছে
না।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির
অনুঘটকগুলো কারোরই
অজানা নয়।
উজ্জীবিত চাহিদার
বিপরীতে অপর্যাপ্ত
সরবরাহের মুখোমুখি
হচ্ছে বিশ্ব,
বিশেষ করে
পরিবহন ও
সরবরাহ ব্যবস্থা
ব্যাহত হওয়া,
শ্রমিক সংকট
এবং জ্বালানি
ঘাটতির কারণে।
এও লক্ষণীয়
যে এ
মূল্যবৃদ্ধি ১৯৭০-এর
দশকে দুই
অংকের মূল্যস্ফীতি
হারে ফিরে
যাওয়ার সংকেত
নয়। চলতি
সময়ে কঠোর
কস্ট প্রাইস
ইনডেক্সিং বেশ
বিরল। মূল্যস্ফীতিমূলক
প্রত্যাশা তৈরি
সম্পর্কিত প্রাথমিক
শর্তগুলো বর্তমানে
অনেক কম
অস্থিতিশীল অবস্থায়
আছে, এর
সঙ্গে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাও
বেশ উঁচু
পর্যায়ে বিদ্যমান—যদিও
এ বিশ্বাসযোগ্যতা
কয়েক দশকের
মধ্যে সবচেয়ে
বড় পরীক্ষার
মুখে পড়েছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে
হচ্ছে, ফেডারেল
রিজার্ভের শীর্ষ
কর্মকর্তাদের ভাবনার
চেয়ে সামনে
মূল্যস্ফীতি শব্দটি
আরো বেশি
উচ্চারিত হবে,
মানুষের দুশ্চিন্তা
বাড়াবে। নিয়ন্ত্রক
সংস্থাটির কর্তারা
বারবারই মূল্যবৃদ্ধির
চাপটিকে সাময়িক
প্রপঞ্চ বলে
বাতিল করে
এসেছে। এমনকি
আজকেও তাদের
মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন
(এরই মধ্যে
কয়েকবার সংশোধন
করা সত্ত্বেও)
এখনো যা
বিরাজ করছে
তার চেয়ে
অনেকটা অবমূল্যায়িত।
জরিপভিত্তিক মূল্যস্ফীতি
প্রত্যাশার তথ্য
বলছে, ফেড
এক ও
তিন বছর
উভয় হিসাবেই
মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা
৪ শতাংশের
ওপরে বাড়িয়েছে।
ব্যয় তাড়িত
মূল্যস্ফীতির (কস্ট-পুশ
ইনফ্লেশন) প্রবণতাগুলো
ক্রমেই বাড়ছে।
মার্কিন কর্মীদের
মধ্যে এখন
চাকরি ছাড়ার
হার রেকর্ড
সর্বোচ্চে, কর্মীরা
ভালো বেতনের
চাকরির সন্ধান
কিংবা কাজ
ও জীবনের
মধ্যে আরো
ভালো ভারসাম্য
প্রতিষ্ঠা করতে
চাইছে। আগের
চেয়ে শ্রমিক
বিক্ষোভ বা
ধর্মঘটের কথাও
বেশি শোনা
যাচ্ছে এবং
এর সবই
ভোক্তা ও
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উভয়
দিক থেকে
ভবিষ্যৎ চাহিদার
ব্যাপারে উদ্বেগ
বাড়াতে ভূমিকা
রাখছে।
বর্তমান দফার
মূল্যস্ফীতি বৈশ্বিক
সামষ্টিক অর্থনৈতিক
প্যারাডাইমে সাধারণ
কাঠামোগত পরিবর্তনের
একটি অংশ।
আমরা সামষ্টিক
চাহিদার ঘাটতি
অবস্থা থেকে
উজ্জীবিত চাহিদার
একটা পরিবেশে
পদার্পণ করেছি।
তথ্য খতিয়ে
দেখলে দেখা
যাবে যুক্তরাষ্ট্রে
খুচরা বিক্রয়
গত সেপ্টেম্বরে
প্রত্যাশার চেয়ে
বছরভিত্তিক হিসাবে
১৩ দশমিক
৯ শতাংশ
বেড়েছে। এটা
ইঙ্গিত দেয়
যে দমিত
ক্রয়ক্ষমতা কার্যকর
চাহিদায় পরিণত
করতে এখনো
বেশকিছু পকেট,
ফুরসত আছে।
তার মানে
এটি বলছি
না যে
চাহিদার গঠন
সম্পর্কিত কোনো
ইস্যু নেই,
যা মোকাবেলা
করতে হবে
না। বর্তমানে
অসমতা—কেবল
আয় ও
সম্পদ নয়,
সুযোগের অসমতাও—একটি
জরুরি উদ্বেগ
হিসেবে রয়ে
গেছে। এটা
প্রশমনে অবশ্যই
কাজ করতে
হবে।
সত্যি কথা
বলতে কি,
উচ্চতর ও
ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি
এ ধরনের
উদ্বেগ নিরসনের
(পড়ুন অসমতাজনিত
উদ্বেগ) ওপরে
আরো বেশি
জোর দেয়ার
বিষয়টি সামনে
আনে। কারণ
এর প্রভাব
বহুমুখী—অর্থনৈতিক,
আর্থিক, প্রাতিষ্ঠানিক,
রাজনৈতিক ও
সামাজিক। প্রভাবের
জায়গা থেকে
এ ধরনের
উদ্বেগগুলো বেশ
অসমও প্রমাণ
হবে, কেননা
সেগুলো বিশেষ
করে দরিদ্রদের
সবচেয়ে বেশি
ভোগাবে। বৈশ্বিকভাবে
মূল্যস্ফীতিমূলক উল্লম্ফন-সৃষ্ট
অভিঘাত কিছু
নিম্ন আয়ের
দেশকে অর্থনৈতিক
স্থবিরতার দিকে
ঠেলে দেবে।
এ অবস্থায়
ফেডারেল রিজার্ভ
ও কংগ্রেসের
আরো দ্রুততার
সঙ্গে কাজ
করাটা অনেক
বেশি জরুরি।
তাদের নিশ্চিত
করতে হবে
যে বিদ্যমান
মূল্যস্ফীতিমূলক পর্যায়
যেন আবশ্যিকভাবে
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
কমানো, অসমতা
বাড়ানো এবং
আর্থিক অস্থিতিশীলতা
উসকে দেয়ায়
পর্যবসিত না
হয়। এখন
উল্লেখযোগ্য মাত্রায়
আর্থিক প্রণোদনা
হ্রাস করার
সময় এসেছে,
যেটি এখনো
অতিজরুরি পদক্ষেপের
মতো চলছে।
ফেডকে এটি
আমলে নিতে
হবে। শুধু
নিয়ন্ত্রক সংস্থার
নয়, রাজনীতিবিদদেরও
এক্ষেত্রে করণীয়
রয়েছে। মার্কিন
আইনপ্রণেতারা মূলধন
ও শ্রম
উভয়ের জন্য
সরবরাহ বাড়ানোর
উদ্যোগ আরো
জোরালোভাবে এগিয়ে
নিয়ে এক্ষেত্রে
সহায়তা করতে
পারে, যেটি
আসলে তাদের
এখতিয়ারের মধ্যেই
পড়ে। মোদ্দা
কথা হলো,
অবকাঠামো আধুনিকায়ন,
উৎপাদনশীলতা ও
শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ
বাড়াতে তাদের
জরুরি ভিত্তিতে
পদক্ষেপ নিতে
হবে।
নীতিনির্ধারকদের প্রুডেনশিয়াল
রেগুলেশন ও
আর্থিক খাত
বিশেষ করে
ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থায়
নজরদারি আরো
শক্তিশালী করা
দরকার। করপোরেট
প্রফিট মার্জিনে
বড় চাপ
ও সরবরাহ
ব্যবস্থা ব্যাহত
হওয়া থেকে
সুযোগ লাভে
বৃহৎ প্রতিষ্ঠান-করপোরেশনগুলোর
অধিকতর সামর্থ্যের
বাস্তবতায় নীতিপ্রণেতাদের
অবশ্যই প্রতিষ্ঠান
কেন্দ্রীকরণের (ফার্ম
কনসেনট্রেশন) ওপর
নিবিড় নজর
রাখতে হবে।
ভালো সংবাদ
যে প্রাথমিক
ও ধাবাবাহিকভাবে
মার্কিন মূল্যস্ফীতি
গতিশীলতা সম্পর্কে
বিভ্রান্তির পর
আরো বেশিসংখ্যক
ফেডের কর্মকর্তা
এখন পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনতে
মাঠে নেমেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
করতে আরো
দ্রুত কাজ
করতে ফেডের
প্রতি পরামর্শ
থাকবে। তা
না হলে
বিরাজমান মূল্যস্ফীতি
পারস্পরিক দোষারোপের
খেলায় পর্যবসিত
হবে, যা
ফেডের নীতিগত
বিশ্বাসযোগ্যতা আরো
খর্ব করবে
এবং এর
রাজনৈতিক অবস্থানে
আরো চিড়
ধরাবে বৈকি।
[স্বত্ব:
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
]
মোহাম্মদ আল-আরিয়ান: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের
কুইন্স কলেজের
সভাপতি; ইউএস
প্রেসিডেন্ট বারাক
ওবামা প্রশাসনের
গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট
কাউন্সিলের সাবেক
চেয়ারম্যান
ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির










