বিশ্ব অর্থনীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যার স্বাভাবিক কার্যক্রম মহামারীর কারণে ব্যাহত হয়নি। কর্মক্ষম মানুষ একরকম ঘরবন্দি হয়েই ছিল গত বছরের অনেকটা সময়। যারা বাসা থেকে অফিসের কাজ চালিয়ে নিয়েছেন, তাদের কাজের দক্ষতা ও কার্যকারিতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম ছিল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে, ২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২০ সালের বিশ্বের মোট সাড়ে ২৫ কোটি পূর্ণকালীন চাকরির সমান কর্মঘণ্টা ক্ষতি হয়েছে (৮ দশমিক ৮ শতাংশ)। এ সংখ্যা ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটকালের তুলনায় চার গুণ বেশি।

উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ক্ষতির পরিমাণটা একটু বেশিই হবে। কারণ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে উন্নত বিশ্বে ঘরে বসে অফিসের কাজ করার সুযোগ থাকলেও সেই সুযোগটা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে অনেকটাই সীমিত। ফলে বেকারত্বের হার বেড়ে গেছে অনেকটাই। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সমীক্ষা অনুযায়ী কভিড-১৯-এর কারণে বেকারত্বের হার বেড়ে প্রায় ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তদুপরি মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশ থেকেই বাংলাদেশী অভিবাসী দেশে ফেরত এসেছেন, যা বেকারত্বের সংখ্যাকে আরো স্ফীত করেছে। দেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে অবশ্যই কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে হবে, যা নির্ভর করছে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হলেও বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যাকে বোঝা ভাবার কোনো উপায় নেই। বরং অনেক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হলো কর্মক্ষম জনশক্তির অভাব। রুচির শর্মা তার বিখ্যাত বই ‘দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব নেশনস’-এ এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শেষভাগ পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান উপাদান ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চহার। তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কিছু নিয়ামক জনসংখা বৃদ্ধিকে, বিশেষ করে উন্নত দেশে, উল্লেখযোগ্য হারে বাধাগ্রস্ত করেছে। যেমন কর্মক্ষেত্রে নারীদের বর্ধিত অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা, শিশু প্রতিপালনে নানা জটিলতা এবং প্রজননক্ষমতা হ্রাসসহ আরো কিছু নিয়ামক জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে নিম্নগামী করছে। জাপান, জার্মান, ইতালিসহ আরো অনেক ইউরোপীয় দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক। তাই এসব দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের সব রকম প্রচেষ্টাই চলমান। রুচির শর্মা দেখান, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জার্মানিতে অভিবাসনের ফলে জনসংখ্যা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এ বৃদ্ধি জনসংখ্যা হ্রাসের তুলনায় কম। জার্মানি যদি তাদের কর্মক্ষম জনসংখ্যার বর্তমান ভারসাম্য এবং অবসরপ্রাপ্তদের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখতে চায়, অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১৫ লাখ অভিবাসী নিতে হবে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডার অবস্থা একই। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা অভিবাসীর মাধ্যমে জনসংখ্যার নিম্নগতি রোধে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে, যদিও কর্মক্ষম জনসংখ্যার সাম্যবস্থা বজায় রাখার জন্য অভিবাসনের এ ধারা চলমান থাকতে হবে। জনসংখ্যার নিম্নগতির এ ধারায় আগামী দিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে সেই সব দেশে, যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। আর এ সুযোগই কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, যেখানে কর্মক্ষম জনসংখার অনুপাত বেশি।

বাংলাদেশ একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার দেশটিকে অচিরেই একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবে—এমন ধারণা রয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদিও করোনার কারণে ২০২০ সালের প্রবৃদ্ধির গতি অনেকটা শ্লথ, তবুও সব প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে শিগগিরই প্রবৃদ্ধির হার করোনা-পূর্ববর্তী ধারায় ফিরবে এমন নির্ভরযোগ্য অনুমান রয়েছে। সেটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। তবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া বা প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করবে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যবহারের সার্বিক অবকাঠামোর ওপর। বর্ধিত জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। ম্যানুফ্যাকচারিং বা শিল্প উৎপাদন এখনো দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠতে পারেনি, বরং কৃষি ও সেবা খাতের ওপরই দেশজ উৎপাদন অনেকটা নির্ভরশীল। সেবা খাতে শ্রমের চাহিদা শিল্প খাতের মতো বেশি নয়। আবার কৃষি খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োজিত। সুতরাং শিল্পের প্রসারই শ্রমশক্তি কাজে লাগানোর বাস্তবসম্মত উপায়।

তৈরি পোশাক খাত আগামী কয়েক দশক দেশের শিল্প উৎপাদনে তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে। এ খাতের একটি বিশেষ দিক হলো, নারী শ্রমিকের কাজের ক্ষেত্র তৈরি। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ শহরাঞ্চলে ৩১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৪০ শতাংশ। বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতে ৪০ লাখের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত, যার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই নারী। কর্মক্ষম জনসংখ্যার বিরাট একটা অংশ নারী এবং তাদের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন অসম্ভব। তদুপরি গ্রামাঞ্চলে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানের প্রধান ক্ষেত্র হলো কৃষিকাজ ও পশুপালন এবং এর বেশির ভাগই বিনা পারিশ্রমিকের কাজ। তাই তৈরি পোশাক খাতের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য বহুমুখী। এর সঙ্গে চামড়াজাত পণ্যের প্রসার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ানোর প্রতি নজর দিলে তা সুফল বয়ে আনবে।

তবে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের দিকে। কারণ কভিডের জন্য অর্থনীতির অবকাঠামোর যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতেই প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে। যেমন অনলাইনে পণ্যদ্রব্যের অর্ডার, সরবরাহ থেকে শুরু করে শিক্ষাদান, আর্থিক সেবা কার্যক্রম ইত্যাদি প্রযুক্তির সাহায্যে অনেকটাই সম্ভব হয়েছে। প্রযুক্তির এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বলা বাহুল্য, আগামী দিনগুলোয় ব্যাংকিং ও অব্যাংকিং আর্থিক সেবা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হবে। ফিনটেকভিত্তিক এসব সেবা খাতই হবে ‘নতুন স্বাভাবিক’ অর্থনীতিতে উদ্যোক্তা তৈরির উপযুক্ত ক্ষেত্র।

অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্র, যেমন কৃষি, মূলধারার উন্নয়নে অনেকটাই অবহেলিত। তবে চলমান মহামারী সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে এবং এসব খাত নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। যেকোনো মহামারীতে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা প্রকট। তাই কৃষির আধুনিকীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কৃষি বাংলাদেশের একটি অতি প্রয়োজনীয় খাত হওয়া সত্ত্বেও কৃষি যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের জন্য খাতটি হয়ে উঠতে পারে খুব সম্ভাবনাময়। শুধু দরকার সঠিক শিল্পনীতির। আর এ শিল্পনীতির একটি বড় নিয়ামক হবে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সম্প্রতি চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একটি ভালো দিক হলো, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা শূন্যের কোটায়। এ সুবিধাকে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজে লাগাতে হবে।

দেশীয় শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশী শ্রমবাজারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ যেমন সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও কুয়েত বাংলাদেশের শ্রমবাজার হিসেবে খ্যাত। তবে এসব বাজারের কাজের প্রকৃতি গত গয়েক দশক আগে যেমন ছিল, আর তেমনটি নেই। বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা এবং দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশ শ্রমনির্ভর থেকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশী শ্রমিকদের কায়িক পরিশ্রমের দক্ষতা আছে বেশ, সেটা এখন আর এসব শ্রমবাজারে তেমন চাহিদা নেই। তাই বলে এসব দেশে শ্রমিকের চাহিদা যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নয়, বরং কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। যেমন পর্যটন শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ জনবলের চাহিদা বেড়েছে। আবার ব্যাক অফিসের কাজ যেমন তথ্য সংরক্ষণ, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনাসহ হিসাবরক্ষকের কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ব্যাংকিং এবং অন্যান্য খাতে। বড় বড় শপিংমলসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে, অটোমোবাইল শোরুমে বিক্রয়কর্মীর চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যে এখনো যথেষ্ট। কিন্তু এসব কাজে বাংলাদেশী শ্রমিক একেবারে অনুপস্থিত বললেই চলে। কারণ ইংরেজি ভাষাসহ বিক্রয়ের দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকা।

গালফভুক্ত দেশগুলোয় নিজেদের কর্মক্ষম জনশক্তি পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব দেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এ শ্রমবাজারে আমাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এসব দেশের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে শ্রমশক্তি রফতানির লক্ষ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে জোর দিতে হবে। শ্রমশক্তি রফতানিতে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য অনেক বাধা বিরাজমান, যা দূর করার কোনো বিকল্প নেই। দুই. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এবং পাঠ্যপুস্তকে সফট-স্কিল গঠনে বিশেষ নজর দিতে হবে। এটা অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। দক্ষ শ্রমশক্তির অভাবে তৈরি পোশাক খাত ও চামড়া শিল্পের সবটুকু সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টায় শ্রমিকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাসহ কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। তিন. শ্রমবাজারে যারা প্রবেশ করছে তাদের নিজেদের বিভিন্ন সফট-স্কিল, যেমন কম্পিউটারে দক্ষতা, বিদেশী ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল নতুন শ্রমবাজার খুঁজে নিতে পারবে। পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঋণাত্মক হার। তাদেরও প্রচেষ্টা থাকবে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ করে উৎপাদন ব্যাবস্থাকে ঠিক রাখা। নতুন এসব শ্রমবাজারের সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

জনসংখ্যাকে এখন আর অভিশাপ হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ শ্রমশক্তিই হবে আগামী বিশ্বের অর্থনীতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তবে জনসংখ্যা শুধু সংখ্যায় হলে ‘পপুলেশন ডিভিডেন্ড’ বাস্তবে পাওয়া যাবে না। যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলেই অর্থনীতিতে বর্ধিত জনসংখ্যার সুফল মিলবে।

 

ড. মোহাম্মদ দুলাল মিয়া: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ফাইন্যান্স ও অর্থনীতি বিভাগ, নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওমান

ফারহীন হাসান: সহযোগী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ বিভাগ

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ