এ
সময়ে
দ্বীপরাষ্ট্র
ও
একসময়
কৃষিতে
সমৃদ্ধ
দক্ষিণ
এশিয়ার
সবচেয়ে
অগ্রসর
অর্থনীতির
দেশ
শ্রীলংকাকে
নিয়ে
বিশ্বব্যাপী
সচেতন
মহল
উদ্বিগ্ন।
কিছুদিন
আগেও
সামাজিক
সূচকে
শ্রীলংকা
ছিল
এ
অঞ্চলের
সেরা।
শিক্ষার
গুণাগুণেও
ছিল
সবচেয়ে
এগিয়ে।
দক্ষিণ
এশিয়ায়
পোশাক
খাতের
রফতানি
প্রথম
শুরু
হয়েছিল
এ
শ্রীলংকা
থেকেই।
আর
পর্যটনের
সেরা
পছন্দ
ছিল
শ্রীলংকাই।
এ
সত্ত্বেও
ধারণা
করা
হচ্ছে
দেশটি
খুব
দ্রুত
দেউলিয়াত্ব
গ্রহণ
করার
দ্বারপ্রান্তে
পৌঁছেছে।
অনেক
দিন
ধরেই
দেশটি
পড়েছে
ঋণের
ফাঁদে।
বিজ্ঞজনরা
বলছেন,
অতীতের
দুর্নীতিগ্রস্ত
রাজনীতিবিদ
আর
বর্তমানে
রাজাপাকসে
পরিবারের
গোষ্ঠীতন্ত্র,
খামখেয়ালিপূর্ণ
সিদ্ধান্ত,
ভুল
নীতি,
ভুল
প্রকল্প
বাছাই
ও
দুর্নীতির
কারণেই
শ্রীলংকা
আজকের
এ
অবস্থানে।
দেশটির
এ
দেউলিয়াত্ব
ডেকে
আনার
জন্য
করোনা
মহামারীও
কাল
হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
আবার
অনুমিত
ধারণাপ্রসূত
রাতারাতি
কৃষি
খাতে
‘অর্গানিক
ফার্মিং’
চালুর
জন্য
প্রেসিডেন্ট
গোতাবায়া
রাজাপাকসের
একটি
অপরিপক্ব
সিদ্ধান্তকে
সচেতন
মহল
দায়ী
মনে
করছে।
এতে
অর্গানিক
ফার্মিং
বা
জৈব
কৃষি
নিয়ে
একটি
নেতিবাচক
বার্তা
তৈরি
হয়েছে,
যা
বিশ্বব্যাপী
সম্প্রসারণশীল
পরিবেশগত
চাষবাস
বা
অ্যাগ্রো
ইকোলজিক্যাল
ফার্মিং
বা
জৈব
কৃষির
অগ্রযাত্রাকে
বাধাগ্রস্ত
করতে
পারে।
অধিকন্তু,
বর্তমান
অস্বাস্থ্যকর
খাদ্য
ব্যবস্থা
রূপান্তরের
সঙ্গে
যুক্ত
সবাইকে
নানা
প্রশ্নের
মুখোমুখি
হতে
হচ্ছে।
এ
নেতিবাচক
প্রভাব
মোকাবেলা
ও
জৈব
কৃষির
সম্ভাবনাকে
তুলে
ধরার
জন্য
শ্রীলংকার
কৃষি
খাতের
পদক্ষেপটি
নিয়ে
মূল্যায়ন
করা
প্রয়োজন
এবং
সেজন্য
দরকার
দেশটির
রাজনৈতিক,
সামাজিক
ও
অর্থনৈতিক
অবস্থার
মূল্যায়ন
করা।
শ্রীলংকায় কৃষির
রূপান্তর: শ্রীলংকা ঐতিহ্যগতভাবে
কৃষিনির্ভর
দেশ।
মানুষের
প্রধান
জীবিকা
কৃষি।
দেশটির উত্তর
ও
দক্ষিণাঞ্চলব্যাপী
নদী
উপত্যকা
ঘেঁষে
এ
ব্যবস্থার
উদ্ভব
ও
বিকাশ
ঘটে।
প্রাথমিক
অবস্থায়
বৃষ্টিনির্ভর
কৃষি
ছিল
এবং
ধানই
ছিল
প্রধান
ফসল।
এক
মৌসুমে
ধান
উৎপাদন
ও
শুষ্ক
মৌসুমে
পতিত
থাকত।
ফসল
উৎপাদন
বৃদ্ধির
ধারায়
শ্রীলংকান
সভ্যতার
অন্যতম
প্রধান
বৈশিষ্ট্য
হলো
সেচ
প্রযুক্তির
বিকাশ
এবং
এভাবেই
শ্রীলংকায়
হাজার
বছরের
কৃষির
উন্মেষ
ঘটে।
উনিশ
শতক
পর্যন্ত
দেশটির
কৃষি
ছিল
খোরপোশ
প্রকৃতির।
লংকান
কৃষির
বাণিজ্যিক
ধারা
শুরু
হয়
ওলন্দাজদের
১৭২২
সালে
কফি
প্রবর্তনের
মাধ্যমে
এবং
লন্ডনে
অব্যাহত
চাহিদার
দরুন
ব্রিটিশ
শাসকরা
কফি
চাষকে
ব্যাপকভাবে
উৎসাহিত
করতে
থাকেন।
লংকান
আবহাওয়া
ও
জলবায়ু
প্লান্টেশন
ফসল
বা
গাছজাতীয়
ফসলের
(ফল, সুপারি,
কাজুবাদাম,
রাবার,
কফি,
চা,
কোকা,
নারকেল
প্রভৃতি)
জন্য
অত্যন্ত
অনুকূল।
ফলে
সামগ্রিক
প্লান্টেশন
ফসলের
আধিক্যে
কফি
চাষ
কমে
যায়
এবং
চা
উৎপাদন
তার
স্থান
দখল
করে
নেয়।
নারকেল
একসময়
শুধু
বসতবাড়িতে
পাওয়া
যেত।
১৯০০
সালে
এসে
নারকেলের
চাহিদা
বৃদ্ধির
দরুন
মোট
কৃষিজমির
৪০
শতাংশ
এর
আওতায়
চলে
আসে।
উনিশ
শতকের
শেষে
এসে
লংকান
কৃষিতে
প্লান্টেশন
ফসলের
আধিক্যে
খাদ্যশস্য
উৎপাদন
একটু
কম
গুরুত্ব
পায়।
তবে
শ্রীলংকায়
খাদ্যশস্য
উৎপাদন
বৃদ্ধির
তাড়না
শুরু
হয়
স্বাধীনতার
পর
পরই।
ডিএস
সিরিসেনার
সময়ে
সরকার
দানাদার
ফসল
ও
সেচ
ব্যবস্থার
উন্নয়নে
ব্যাপক
কর্মসূচি
গ্রহণ
করে।
আবার
সে
সময়
বিশ্বব্যাপী
সবুজ
বিপ্লবের
প্রস্তুতি
চলছিল।
সবুজ
বিপ্লবের
ধাক্কায়
পৃথিবীর
অন্যান্য
দেশের
মতোই
শ্রীলংকার
কৃষি
ব্যবস্থায়
প্রাকৃতিক
উপকরণ
নির্ভরতা
থেকে
রাসায়নিক
ব্যবস্থায়
পরিবর্তনের
সূচনা
হয়
এবং
তা
করতে
ব্যাপক
ভর্তুকি
দেয়া
শুরু
হয়।
শ্রীলংকার
কৃষি
মৌসুম
দুটি—মাহা
(সেপ্টেম্বর- মার্চ)
ও
ইয়ালা
(এপ্রিল থেকে
আগস্ট)।
এ
দুই
মৌসুমে
দানাদার
ফসল
ও
প্লান্টেশন
ফসলের
সংমিশ্রণে
দেশের
প্রত্যন্ত
অঞ্চলের
৮০
শতাংশ
মানুষের
প্রধান
উপায়
হয়ে
ওঠে
কৃষি।
শ্রীলংকার
দানাদার
ফসল
প্রাপ্যতা
বৃদ্ধির
পাশাপাশি
অর্থকরী
ফসল
হিসেবে
চা
দেশে
ও
বিদেশে
বিশেষ
জায়গা
করে
নেয়,
যেমন
পৃথিবীর
২৩
শতাংশ
চা
উৎপাদন
করে
শ্রীলংকা
চতুর্থ
স্থানে
আছে।
তা
থেকে
জিডিপির
২
শতাংশ
জোগান
পাওয়া
যায়।
১
দশমিক
৩
বিলিয়ন
ডলার
আয়
হয়
এবং
চা
থেকে
রফতানি
আয়ে
দ্বিতীয়
স্থান
অর্জনকারী
দেশ।
আবার
৮০
ধরনের
সবজি
ও
ফল
উৎপাদন
হয়।
একসময়
তার
মূলধারা
ছিল
একসঙ্গে
একাধিক
ফসলের
আহরণ।
নারকেল
উৎপাদন
ও
রফতানিতে
দেশটি
চতুর্থ,
মসলা
ফসল
বিশেষ
করে
এলাচি
ও
দারুচিনি
উৎপাদনের
তীর্থস্থান,
ইন্নালা
ও
কিরি
নামে
কিছু
মূলজাতীয়
স্থানীয়
ফসল
পর্যাপ্ত
হয়,
তার
সঙ্গে
প্রচলিত
ও
অপ্রচলিত
সবজি
উৎপাদন
করে
দেশীয়
চাহিদা
মিটিয়ে
রফতানি
করা
হয়।
কৃষি
উৎপাদন
ধারা
সচল
রাখতে
সরকার
রাসায়নিক
উপকরণে
প্রণোদনা
বাড়াতে
থাকে
এবং
গত
ছয়
দশকে
দেশে
ফসল
উৎপাদনে
প্রতি
হেক্টর
জমিতে
ফসলভেদে
১০০-৭০০
কেজি
রাসায়নিক
সার
(ইউরিয়া+টিএসপি+এমপি),
যথেচ্ছা
পরিমাণ
রাসায়নিক
আগাছানাশক
ও
বালাইনাশক
ব্যবহার
করা
হতো।
যার
পুরোটাই
রাজস্ব
খাত
সাবসিডিনির্ভর।
এ
সাবসিডির
পরিমাণ
অব্যাহতভাবে
বাড়ছিল।
দেখা
গেছে
২০২০
সালে
শ্রীলংকার
বিদেশী
সারের
আমদানি
(রাষ্ট্রীয় ও
বেসরকারি
উভয়
ক্ষেত্রেই)
২৫৯
মিলিয়নে
পৌঁছে
এবং
মূল্যের
ভিত্তিতে
দেশের
মোট
আমদানির
১
দশমিক
৬
শতাংশ।
২০২১
সালে
আন্তর্জাতিক
বাজারে
সারের
মূল্যবৃদ্ধির
প্রেক্ষাপটে
সে
মূল্য
বিল
৩০০-৪০০
মিলিয়ন
ডলারে
উন্নীত
হওয়ায়
সরকার
তড়িঘড়ি
করে
ব্যয়বহুল
বৈদেশিক
মুদ্রা
নিষ্কাশনকারী
সার
ও
কৃষি
রাসায়নিক
আমদানি
নিষিদ্ধ
করে
দেয়।
অজুহাত
হিসেবে
জৈব
কৃষিচর্চা
বাস্তবায়ন
করাকে
দাঁড়
করানো
হয়।
জৈব চর্চা
ও শ্রীলংকা: জৈব
কৃষি
হলো
একটি
সামগ্রিক
প্রক্রিয়া,
যেখানে
স্থানীয়
জ্ঞান,
আধুনিক
জ্ঞানের
সমন্বয়ে
মাটি
ব্যবস্থাপনা
থেকে
সমগ্র
খাদ্য
ব্যবস্থার
প্রতিটি
অংশ
ও
উপাংশকে
সমানভাবে
গুরুত্ব
দেয়া
হয়।
অর্থাৎ
এটা
শুধু
ফসল
উৎপাদনে
মাটি
বা
গাছ
ব্যবস্থাপনার
কৌশল
নয়,
সামগ্রিক
পরিবেশগত
চর্চা।
সবুজ
বিপ্লবের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
(জীববৈচিত্র্য হ্রাস,
মাটির
স্বাস্থ্যহানি,
মানুষের
নন-কমিনিক্যাল
রোগের
প্রাদুর্ভাব,
পরিবেশের
নিদারুণ
ক্ষতি)
দৃশ্যমান
হওয়ার
পর
বিশ
শতকের
নব্বই
দশক
থেকে
সারা
পৃথিবীতে
জৈব
কৃষি
আন্দোলন
দানা
বাঁধতে
শুরু
করে,
সবুজ
বিপ্লবের
সূতিকাগার
খোদ
পশ্চিমারাই
সে
ধারায়
বেশি
সক্রিয়
হয়
এবং
বিশ্ববাজারে
জৈব
পণ্যের
চাহিদা
বাড়তে
থাকায়
তার
গতি
আরো
বেগবান
হয়।
উন্নয়নশীল
দেশগুলোয়ও
তা
জনপ্রিয়
হতে
থাকে,
শ্রীলংকাও
তার
ব্যতিক্রম
নয়।
তাহলে
দেখা
যায়
লংকায়
ঘোষণাপূর্ব
জৈব
কৃষির
অবস্থাটি
কেমন
ছিল।
দেশটির
রফতানি
উন্নয়ন
বোর্ডের
সহায়তায়
প্রত্যয়ন
দিয়ে
বিভিন্ন
দেশে
কৃষিসামগ্রী,
বিশেষ
করে
চা
বিক্রি
শুরু
হয়
১৯৮৬
সালের
দিকে।
মূলত
বেসরকারি
উদ্যোক্তারা
লংকান
জৈব
কৃষি
নিয়ে
কাজ
করেছেন,
সরকার
সেখানে
সহায়তা
দিয়েছে।
বিদেশে
রফতানি
করে
কিছু
বৈদেশিক
মুদ্রা
অর্জন
করেছে।
এ
সময়
সরকার
একটি
জৈব
পণ্য
কাউন্সিলের
সঙ্গে
পরিবেশ
মন্ত্রণালয়ের
অধীনে
গ্লোবাল
অ্যাফেয়ার্স
বিভাগ
তৈরি
করে,
যা
জৈব
পণ্য
রফতানি
খাতকে
সমর্থন
করেছে।
জৈব
কৃষির
পরিসংখ্যান
তৈরিকারী
সংস্থা
এফআইবিএলের
সূত্রমতে,
২০১৭
সালে
লংকান
কৃষিজমির
মোট
১২
শতাংশ
তথা
১
লাখ
৬৫
হাজার
৫৫৩
হেক্টর
জৈব
কৃষির
আওতায়
ছিল।
২০১৯
সালে
তার
পরিমাণ
কমে
দাঁড়ায়
৭০
হাজার
৪৩৬
হেক্টরে
(৫%)।
পৃথিবীর
১৫০টির
বেশি
দেশে
জৈব
কৃষির
জন্য
রাষ্ট্রীয়
নীতিমালা
আছে
কিন্তু
শ্রীলংকায়
তাও
নেই।
জৈব
কৃষি
আন্দোলন
খুবই
সীমিত
আকারে
ছিল,
মুষ্টিমেয়
কিছু
বেসরকারি
সংস্থা
তাতে
যুক্ত
ছিল
এবং
তাদের
তত্ত্বাবধানে
চা,
মসলা,
ফলসহ
১২
থেকে
১৬
ধরনের
পণ্য
রফতানি
করে
কিছু
বৈদেশিক
মুদ্রা
অর্জন
করা
হতো।
প্রধানত
রফতানির
জন্য
প্রত্যায়িত
জৈব
পণ্যগুলোর
উচ্চ
চাহিদাকে
সমর্থন
করার
জন্য
২০১৫
সালে
সাবেক
প্রেসিডেন্ট
মাইথ্রিপালা
সিরিসেনা
একটি
সামাজিক
আন্দোলন
শুরু
করেছিলেন।
নির্বাচনের
আগে
তার
ইশতেহারে
দেশের
মানুষের
কিডনি
রোগের
কারণ
সন্দেহে
কৃষিতে
কিছু
পরিবর্তনের
আভাস
দিয়েছিলেন
এবং
নির্বাচনে
জেতার
পর
তিনি
কৃষি
রাসায়নিকের
আমদানি
ও
বিতরণ
অবিলম্বে
নিষিদ্ধ
করার
ঘোষণা
দিয়েছিলেন।
কিন্তু
বাস্তবায়নে
অগ্রগতি
ছিল
না।
এছাড়া
সরকারের
একটি
প্রোগ্রাম
টক্সিস
ফ্রি
নেশন
বা
বিষমুক্ত
জাতি
গড়ার
কর্মসূচি
ছিল।
এটি
বাস্তবায়নে
সরকার
একটি
তিন
ধাপের
কৌশল
অবলম্বন
করেছিল,
যা
রাসায়নিকের
ব্যবহার
ধীরে
ধীরে
শূন্যে
কমিয়ে
আনা।
যাহোক,
কৌশলটি
কখনই
‘জৈব’-তে
রূপান্তরের
নাম
দেয়া
হয়নি।
তবে
একটি
দেশের
খাদ্য
উৎপাদন
ব্যবস্থা
জৈব
চর্চায়
নিতে
হলে
তার
জন্য
একটি
কম্প্রিহেনসিভ
নীতিমালা
একান্ত
প্রয়োজন।
এ
নীতিমালা
বাস্তবায়নে
আইন,
স্ট্যান্ডার্ড
ও
উৎপাদন
উপকরণসহ
সামগ্রিক
প্রস্তুতি
থাকা
অত্যাবশ্যক।
অর্থাৎ
প্রস্তুতি
বলতে
সামাজিক,
সাংস্কৃতিক
বা
মানসিক
ও
রাজনৈতিক
সক্ষমতা।
তাহলে
কেন
শ্রীলংকা
জৈব
কৃষি
বাস্তবায়নে
এত
তাড়াহুড়ো
করল?
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: সমাজবিজ্ঞানীদের
মতে,
শ্রীলংকার
গৃহযুদ্ধের
একতরফা
অবসানের
পর
প্রশাসন,
রাজনীতি,
মিলিটারি—সব
সিংহলি
সম্প্রদায়ের
একক
আধিপত্য
সৃষ্টি
হয়,
যার
নেতৃত্বে
চলে
আসে
সিংহলি
রাজাপাকসে
পরিবার।
২০১৯
সালের
নির্বাচনে
মাহিন্দা
রাজাপাকসের
ভাই,
সাবেক
সেনা
কর্মকর্তা
এবং
২০০৯
সালে
প্রতিরক্ষা
সচিবের
দায়িত্ব
পালনকারী
ও
গৃহযুদ্ধে
একতরফা
বিজয়
অর্জনকারী
গোতাবায়া
রাজাপাকসে
প্রেসিডেন্ট
নির্বাচিত
হন।
গৃহযুদ্ধে
সফলতার
পর
রাজনীতিতে
তার
আবির্ভাব
অত্যাসন্ন
হয়ে
ওঠে,
যদিও
তার
বিরুদ্ধে
যুদ্ধাপরাধের
অভিযোগ
দেশের
অভ্যন্তরে
ও
পশ্চিমা
বিশ্বে
আছে।
তার
রাজনীতিতে
আসার
পর
শ্রীলংকায়
একটি
জাতীয়তাবাদী,
অর্থনৈতিক
উন্নয়ন
ও
জাতীয়
নিরাপত্তা
প্লাটফর্মের
ব্যানারে
এবং
তার
প্রত্যক্ষ
ও
পরোক্ষ
তত্ত্বাবধানে
সিংহলি
প্রধান
সাবেক
আমলাদের
উদ্ভাবনী
সম্ভাবনা
কাজে
লাগাতে
ভিয়াথমাগা
নামে
একটি
টেকনোক্র্যাটিং
সিভিল
সোসাইটি
গড়ে
ওঠে,
যারা
নির্বাচনের
আগে
জেলায়
জেলায়
বিভিন্ন
সামাজিক
কর্মকাণ্ড
পরিচালনা
করে
গোতাবায়া
রাজাপাকসের
পক্ষে
জনমত
সৃষ্টি
করে
এবং
বিজ্ঞজনের
মতে,
এসব
কার্যক্রম
তার
নির্বাচনে
জেতায়
বলিষ্ঠ
ভূমিকা
রাখে।
পাশাপাশি
দেশটির
সামরিক
বাহিনীর
সদস্যদেরও
এক
ধরনের
প্রশাসনিক
আধিপত্য
তৈরি
হয়।
রাষ্ট্রীয়
পৃষ্ঠপোষকতায়
সৃষ্ট
এ
ব্যবস্থার
নাম
‘টেকনোক্র্যাটিং
পপুলিজম’,
যারা
সরাসরি
দেশ
শাসন
করবে
না
কিন্তু
শাসন
ব্যবস্থাকে
কার্যকরভাবে
প্রভাবিত
করবে।
সুতরাং
গোতাবায়া
রাজাপাকসে
শ্রীলংকার
রাজনীতিতে
দীর্ঘদিন
টিকে
থাকার
পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক
পরিমণ্ডলে
যুদ্ধাপরাধ
তকমা
কাটিয়ে
ওঠার
জন্য
বেশকিছু
সিদ্ধান্ত
নেন।
শ্রীলংকার
কৃষিক্ষেত্রে
জৈব
কৃষিনীতির
অনুসরণ
সেই
প্রক্রিয়ারই
অংশ।
রাজাপাকসে
নির্বাচনে
জয়
লাভ
করার
পর
দেশে
২০তম
সংশোধনী
আনা
হয়।
সেখানে
প্রশাসনিক
কর্তৃত্বকে
প্রাধান্য
দেয়া
হয়।
কৃষিনীতি
হিসেবে
জৈব
কৃষিকে
বেছে
নেয়া
হয়
এবং
সারা
দেশে
বাস্তবায়নের
জন্য
১০
বছর
নেয়া
হয়।
যদিও
সবুজ
বিপ্লবকেন্দ্রিক
৫০
বছরে
কৃষি
সংস্কৃতি
পরিবর্তনের
জন্য
১০
বছর
যথেষ্ট
নয়,
তার
পরও
সাধুবাদ
দেয়া
যায়
খাদ্য
ব্যবস্থা
রূপান্তরের
এমন
সিদ্ধান্ত
গ্রহণের
জন্য।
কিন্তু
অত্যন্ত
অপরিপক্ব
সিদ্ধান্ত
হলো
রাতারাতি
১০০
শতাংশ
জৈব
কৃষি
প্রবর্তন।
কারণ
সরকারের
কোনো
অঙ্গই
যেমন
গবেষক,
সম্প্রসারণকর্মী,
যারা
মূল
বাস্তবায়ক
লংকান
কৃষক,
তারাও
এমন
একটি
চ্যালেঞ্জিং
কাজের
বাস্তবায়নের
জন্য
প্রস্তুত
ছিলেন
না।
সরকার
শুধু
একটি
প্রজ্ঞাপন
জারি
করেছে
এবং
কৃষকদের
জন্য
কিছু
প্রণোদনার
ব্যবস্থা
করেছে
মাত্র
এবং
প্রশাসনিক
কর্তৃত্ব
কাজে
লাগিয়ে
তা
বাস্তবায়নের
উদ্যোগ
নেয়।
ফলে
এমনও
দেখা
গেছে
অনেক
কৃষক
প্রণোদনা
গ্রহণ
করেও
কোনো
ফসল
চাষ
করেননি।
আগেই
উল্লেখ
করা
হয়েছে,
শ্রীলংকায়
কৃষি
উৎপাদন
এমনিতেই
নিম্নমুখী
ছিল।
দেশের
কৃষিবিদ
ও
বিজ্ঞানীদের
সঙ্গে
শলাপরামর্শ
না
করেই
শুধু
ভিয়াথমাগাদের
সিদ্ধান্তে
প্রভাবিত
হয়ে
খামখেয়ালি
সিদ্ধান্তে
দেশের
কৃষিতে
রাসায়নিক
সার
ও
কীটনাশকের
ব্যবহার
নিষিদ্ধ
ঘোষণা
করেন।
কিন্তু
মতাদর্শগত
অবস্থান
থেকে
‘অর্গানিক
ফার্মিং’
পদ্ধতি
চালুর
ঘোষণা
দেয়া
এক
কথা,
আর
ধাপে
ধাপে
পরিকল্পিত
বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতিতে
তা
সফলভাবে
চালু
করা
আরেকটা
প্রক্রিয়া;
যা
সময়সাপেক্ষ
এবং
একটি
ব্যাপক
সামাজিক
আন্দোলনের
ব্যাপার।
এটি
হয়তো
তার
কিংবা
বড়
ভাই
প্রধানমন্ত্রী
মাহিন্দা
রাজাপাকসের
বিবেচনায়
যথাযথ
গুরুত্ব
পায়নি!
এ
কারণে
এক
অভূতপূর্ব
ফলন
বিপর্যয়ে
পতিত
হলো
শ্রীলংকার
কৃষি
খাত।
শতভাগ
সিদ্ধান্ত
গ্রহণের
সাফল্য
হিসেবে
ভিয়াথমাগার
সদস্যরা
কিউবার
উদাহরণ
সামনে
নিয়ে
আসেন।
এটা
ভুলে
গেলে
চলবে
না
যে
কিউবা
আমেরিকার
নিষেধাজ্ঞার
কবলে
পড়ে
দ্রুত
জৈব
কৃষি
গ্রহণ
করতে
বাধ্য
হয়েছিল।
সে
দেশের
জনগণ
তা
চ্যালেঞ্জ
হিসেবে
নিয়েছিল
এবং
সফলতাও
এসেছিল
দ্রুত।
শ্রীলংকার
বেলায়
নিজ
দেশের
সরকার
চাপিয়ে
দিয়েছে,
যারা
বাস্তবায়ন
করবেন
তাদের
প্রস্তুতি
নেয়ার
সময়
না
দিয়ে।
ভুটান
২০১৫
সালে
ঘোষণা
করেছিল—২০২০
সালের
মধ্যে
সারা
দেশ
জৈব
চর্চার
আওতায়
আসবে।
তারাও
শতভাগ
সফল
হতে
পারেনি।
সে
হিসাবে
পশ্চিম
এশিয়ার
রাষ্ট্র
কিরগিজস্তান
যুগোপযোগী
সিদ্ধান্ত
নিয়েছে,
তারা
যথেষ্ট
সময়
নিয়ে
শতভাগ
জৈব
চর্চায়
নেয়ার
পথ
বেছে
নিয়েছে।
ফলে
এ
পর্যন্ত
এককভাবে
কোনো
দেশ
একই
সময়ে
শতভাগ
জৈব
কৃষি
বাস্তবায়ন
করার
কৌশল
গ্রহণ
করেনি,
এমনকি
ইউরোপ,
আমেরিকায়
জৈব
কৃষিকে
রাসায়নিক
কৃষির
মতো
সাবসিডি
দিয়ে
এগিয়ে
নেয়া
হচ্ছে।
তাহলে
শ্রীলংকা
জৈব
চর্চার
রূপান্তরে
পরীক্ষিত
পথে
না
হেঁটে
এমন
সিদ্ধান্ত
কেন
নিল,
সেটাই
সর্বমহলের
প্রশ্ন।
বাজার দখল
তত্ত্ব ও
বৈশ্বিক ভাবমূর্তি: জৈব
খাদ্যবাজারের
আকার
২০২১
সালে
২২৭
দশমিক
১৯
বিলিয়ন
ডলার
থেকে
২০২২
সালে
১৪
শতাংশের
চক্রবৃদ্ধি
বার্ষিক
বৃদ্ধির
হারে
২৫৯
বিলিয়ন
ডলার
হবে
বলে
আশা
করা
হচ্ছে
এবং
একই
প্রবৃদ্ধি
থাকলে
২০২৬
সালে
৪৩৭
দশমিক
৩৬
বিলিয়ন
ডলার
হবে
বলে
আশা
করা
হচ্ছে।
শ্রীলংকার
জৈব
কৃষি
রূপান্তরের
বাহ্যিক
হাইপোথিসিস
হলো
জৈব
পণ্যের
বিশ্বব্যাপী
ইমাজিং
মার্কেটে
একটি
বৃহৎ
শেয়ার
দখল
করা।
আর
শ্রীলংকার
পর্যটন
খাতের
আয়
বর্তমান
থেকে
কয়েক
গুণ
বাড়ানো।
কারণ
পর্যটকরা
নিরাপদ
খাবার
খেতে
চায়,
জৈব
খাবার
গ্রহণে
তাদের
সংখ্যা
বেড়ে
যাবে
এবং
বৈদেশিক
মুদ্রার
সরবরাহ
বেড়ে
যাবে।
এখানেও
একটি
ভুল
অনুমান
আছে।
যেমন
শ্রীলংকা
বিশ্বের
বৃহত্তম
চা
উৎপাদনকারী
দেশ।
পৃথিবীতে
জৈব
চায়ের
বাজার
মাত্র
শূন্য
দশমিক
৫
শতাংশ,
ঠিক
তেমনটা
মসলার
বেলায়ও।
সুতরাং
বিশাল
পরিমাণ
পণ্য
দিয়ে
স্বল্প
পরিমাণ
বাজার
দখল
প্রস্তুতি
কতটুকু
যুক্তিসংগত!
আবার
পর্যটন
খাতের
প্রবৃদ্ধির
সব
আয়োজন
তছনছ
করে
দেয়
করোনা
অতিমারী।
দেখা
গেছে
২০১৮
সালে
এ
খাতের
আয়
ছিল
৪
হাজার
৩৮১
মিলিয়ন
ডলার,
২০২১
সালে
মাত্র
৫০৬
মিলিয়ন
ডলার।
গত
দুই
বছর
পর্যটক
না
আসায়
এ
খাতের
এমন
করুণ
দশা
তৈরি
হয়েছে।
অধিকন্তু,
শতভাগ
জৈব
চর্চার
সিদ্ধান্তটি
এক
ধরনের
চাপিয়ে
দেয়া।
সমীক্ষায়
দেখা
গেছে
কৃষকরা
জৈব
কৃষি
গ্রহণ
করতে
তেমন
আপত্তি
তোলেননি।
তবে
তাদের
মত
হলো,
সময়
নিয়ে
করা
দরকার।
তাই
বিজ্ঞজনরা
বলছেন,
১০০
শতাংশ
জৈব
কৃষি
রূপান্তরের
সিদ্ধান্ত
যত
না
সামাজিক
দায়,
তার
চেয়েও
বেশি
রাজনৈতিক
কারণ।
গোতাবায়া
রাজাপাকসের
বর্তমান
ভাবমূর্তি
আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে,
বিশেষ
করে
পশ্চিমা
বন্ধুদের
কাছে
উজ্জ্বল
করতে
এবং
তাদের
সমর্থন
পেতে
এমন
সিদ্ধান্ত
নেয়া
হয়েছে।
এখানে
রাতারাতি
শতভাগ
রূপান্তর
ঢাল
হিসেবে
ব্যবহার
করা
হয়েছে।
আর
হঠাৎ
করে
রাসায়নিক
সার
ও
কীটনাশক
আমদানি
বন্ধ
করার
কৌশলটা
ছিল
বৈদেশিক
মুদ্রা
ডলার
সাশ্রয়।
মানুষ ও
পরিবেশের
স্বাস্থ্য
বিধ্বংসী
বর্তমান
খাদ্য
ব্যবস্থার
রূপান্তর
সব
মহলের
প্রচেষ্টা।
বিশ্ব
সংস্থাগুলো
তার
উন্নয়নে
কাজ
করে
যাচ্ছে
এবং
তা
থেকে
উত্তরণের
পথ
হিসেবে
পরিবেশগত
চর্চা
বা
জৈব
চর্চাকে
গ্রহণের
সুপারিশ
করা
হয়েছে।
লংকানরা
সেদিক
থেকে
সঠিক
সিদ্ধান্তই
নিয়েছে।
তবে
বাস্তবায়ন
কৌশলটি
যেকোনো
বিবেচনায়
সঠিক
হয়নি।
ফলে
একটি
ভুল
বার্তা
তৈরি
হয়েছে।
তবে
আশা
করা
যায়
লংকানরা
সে
দেশের
সব
শ্রেণীর
উপকারভোগী
যথাযথভাবে
সম্পৃক্ত
করে
একটি
সামাজিক
আন্দোলনের
মাধ্যমে
তা
বাস্তবায়নের
কৌশল
গ্রহণ
করবে।
এতে
জাতীয়
ও
আন্তর্জাতিক
রাজনৈতিক
অভিধাও
পূরণ
হবে।
ড. মোহাম্মদ নাজিম
উদ্দিন:
জৈব
কৃষি
গবেষক
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর










