আচ্ছা, আপনার দাদার কয়টা সন্তান ছিল? আপনার বাবার? আর আপনার? কখনো ভেবেছেন, এই পার্থক্যের রহস্য কী? এখন তিনের অধিক সন্তান খুব কম পরিবারেই দেখা যায়। অথচ আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম আট-দশটা সন্তান হওয়াকে মোটেই অস্বাভাবিক ভাবত না! তাহলে মাত্র এক প্রজন্মের ব্যবধানে একটা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির এত পার্থক্য কি এমনি এমনিই হয়ে গেছে? না, এই পটপরিবর্তনে ‘মার্কেটিং’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের ছোটবেলায় ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট’—এ কথাটা হাজার নয়, লক্ষবার শুনেছি। ফলে আমাদের কাছাকাছি বয়সীদের (অবচেতন) মনে সেটা গেঁথে যায়। এখন কথা হলো করোনাসৃষ্ট সংকট মোকাবেলায়ও মার্কেটিং কি তেমন কোনো অবদান রাখছে?

আসলে সুনামি, সাইক্লোন, ভূমিকম্প বা দাবানলের মতো দুর্যোগ আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জীবনধারাকে আকস্মিক স্তব্ধ করে দেয়। করোনা থেকে উদ্ভূত সংকট তার চেয়েও বহুমাত্রিক ও সর্বব্যাপী। ফলে হঠাৎ করেই থেমে যায় গোটা বিশ্বের চিরচেনা সেই রূপ। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ‘রিঅ্যাক্ট’ করা উচিত, তা বুঝতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। এখন চেষ্টা চলছে ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম রেখে সামনে অগ্রসর হওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে জ্ঞানের প্রতিটি শাখাই সচেষ্ট রয়েছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে। সেক্ষেত্রে আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জীবনীশক্তি ‘মার্কেটিং’ কীভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম, বিষয়টা বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কীভাবে অ্যাকটিভ স্টেকহোল্ডারদের সাহায্য করা যায়, সেই বিষয়গুলোয় আলোকপাত করাই আজকের নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

চীনের উহানে করোনা সংকটের সূচনালগ্ন থেকে মার্কেটিং কী যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে? আমার ধারণা, সেটা বেশ ভালোভাবেই পেরেছে। একবার ভাবুন, ঠিক ১০০ বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লুর প্রভাবে (মাত্র ১৮১ কোটি জনসংখ্যায়) ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল! শুধু আমেরিকায় মারা গিয়েছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার! অথচ এত ঢাকঢোল পিটিয়ে আসা করোনায় সে তুলনায় মৃত্যুহার এখনো বেশ কম। এর পেছনে মার্কেটিংয়ের ভূমিকা অনেক বেশি! কারণ চীন, ইরান, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের খবর-ছবি-ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। করোনাকেন্দ্রিক যে ইনফরমেশনের উদ্ভব ও বিস্তার হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য! স্বল্প সময়ে এত বিপুল জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রচার-প্রচারণা দারুণভাবে হয়েছে। 

ফলে বিশ্ববাসী এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার বা করণীয় নির্ধারণে যথেষ্ট সময় পেয়েছে। যদিও ‘যতক্ষণ আছে প্রাণ, শপিং আমার ধ্যান-জ্ঞান’—এমন পণ করা বাঙালির কাছে এসব বার্তা নিতান্তই অর্থহীন ঠেকেছে। তবুও বলা যায়, মার্কেটিংয়ের মূল হাতিয়ার ‘প্রমোশন’-এর সুবাদে বিশ্বব্যাপী করোনাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত অনুমানের চেয়ে বেশ কম হয়েছে। যেকোনো বড় সংকট মোকাবেলায় প্রচলিত মার্কেটিং সিস্টেম খুব বেশি কাজ করে না। তখন ‘মার্কেটিং ইনোভেশন’ দরকার হয়। এরই মধ্যে গোটা দুনিয়ার মতো আমাদের দেশেও তা ‘সীমিত আকারে’ শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতে এই গতি ও প্রবণতা বেশ লক্ষণীয়।

সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে নতুন বা ভ্যালু অ্যাডেড একাধিক সার্ভিস অফার করছে। দুর্যোগ বা মহামারীতে এমন উদ্ভাবন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তবে প্রতিষ্ঠানের ‘ইমেজ সংকট’ কাটাতেও এমন চর্চা দেখা যায়। সেটা হতে পারে একেবারে নতুন পণ্য অফার করা কিংবা বিদ্যমান পণ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা, অপ্রচলিত বণ্টন চ্যানেল ব্যবহার করা, কল্পনাতীত প্রমোশনাল টুলসের ব্যবহার কিংবা মূল্য নির্ধারণে অপ্রত্যাশিত কোনো উদ্যোগ নেয়া। সেবা পণ্যের ক্ষেত্রে কর্মীদের বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষ করা কিংবা সেবা প্রদানে অভিনব পন্থা প্রয়োগের মাধ্যমেও সেটা হয়ে থাকে।

করোনাসৃষ্ট সংকটের অর্থনৈতিক দিকগুলো এরই মধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্যোগ ও কর্মসূচিতে ভিন্নতা দৃশ্যমান হবে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইউনিক সব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগে নতুনত্ব দেখা যাবে। মানুষের নিত্যদিনের ভোগ ও ব্যয় কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কাঁচের পাত্র একবার ভেঙে গেলে যতই সুপার গ্লু লাগানো হোক, তা যেমন আগের মতো হয় না। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনও আর কখনো হয়তো আগের মতো হবে না।

মহামারীর মতো সংকট মোকাবেলায় সাধারণত তিনটি (Pre-crisis, Crisis response, and Post-crisis) পর্যায় থাকে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা প্রথম ধাপে ছিলাম। এখন দ্বিতীয় পর্যায় অতিক্রম করছি। আশা করা যায়, শিগগিরই এই ধাপেরও উত্তরণ ঘটবে। তবে তৃতীয় ধাপ হবে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ। অনেকের মতে, সেটা কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তাই নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়গুলোয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে এখনই উদ্যোগী হওয়া জরুরি। নইলে করোনার চেয়ে তার ‘আফটার শক’ বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মূলত বড় ক্ষতি হবে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে। ব্যক্তি পর্যায়ে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্তু হওয়ার বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। কারণ এখানে ব্যক্তিরা সংগঠিত নন। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া করোনা বিদায় নেয়ার পর অনেকেই হয়তো তাদের খোঁজখবর রাখবে না। ফলে ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন বা উদ্যম নিয়ে তারা পড়ালেখা করেছে কিংবা আপাতত একটা কিছু করছে, তাদের জন্য বড় ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশেই প্রতি বছর পাস করে বের হওয়াদের দুই-তৃতীয়াংশ (প্রত্যাশিত সময়ে) কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মরতদের চাকরির নিশ্চয়তা হুমকির মুখে পড়ছে। অনেকের দুই-তিন মাস হলো বেতন-ভাতা বন্ধ। ফলে বাস্তবতা মাথায় রেখে আগামীর পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে।

এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে বেশকিছু বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সারা জীবন একটা কাজ (চাকরি) করার ভাবনা আপাতত বাদ দিতে হবে। মার্কিনিরা কর্মজীবনে গড়ে ১২টা চাকরি করে। আমাদেরও সেদিকে হাঁটতে হবে। সার্ভিস সেক্টরে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। কারণ আগামীতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কৃষির প্রতি ব্যাপকভাবে মনোযোগী হতে হবে, সেখানে ভ্যালু অ্যাডিশনের যথেষ্ট সুযোগ এখনো বিদ্যমান। লেখাপড়া শিখে ওই খাতে গেলে এবং অপ্রচলিত ফল-ফসল উৎপাদন করলে অধিকাংশ চাকরির চেয়ে ভালো মানের জীবনযাপন করা সম্ভব। আগে বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের আগে যাবে না। এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নভেল করোনাভাইরাস হয়তো কখনই নির্মূল হবে না! তাই খাদ্যদ্রব্যের মতোই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন ও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া শেষে ৩০ শতাংশ মানুষ উদ্যোক্তা হয়। পাশাপাশি তাদের সারা জীবনই শিখতে (Life long learning) ও কাজ করতে হয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোয় প্রচলিত রিটায়ারমেন্ট ধারণা এরই মধ্যে বদলে গেছে। আমাদেরও নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। আগামীতে নামিদামি ডিগ্রি খুব একটা সাহায্য করতে পারবে না। ফলে বিভিন্ন বাস্তবমুখী কোর্স করতে হবে। গ্রেডের চেয়ে শেখার প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হবে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে হবে। কারণ কখন কে কীভাবে সংকটে পড়বে তা বলা মুশকিল। ফলে নিজের সুসময়ে অন্যদের প্রতি মানবিক ও আন্তরিক হতে হবে যেন আপনার বিপদের সময় তারা মুখ ফিরিয়ে না নেয়।

ডায়রিয়ায় কত মানুষ মারা যাওয়ার পরেই না ওরস্যালাইন তৈরি হয়েছিল। অথচ করোনা ছড়ানো শুরু হওয়ামাত্রই আমরা হ্যান্ডওয়াশ ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টা জানতে পেরেছি। একবার ভাবুন তো, শুধুমাত্র এই তথ্যটা জানা না থাকলে গোটা দুনিয়ায় আরো কত বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতো? এক্ষেত্রে আইসিডিডিআর,বি উদ্ভাবিত ‘সোপি ওয়াটার’ বিস্ময়কর এক অবদান রাখছে। এক টাকায় আশিবার হাত ধোয়ার প্রযুক্তি আসায় সাধারণ মানুষও এটাকে গ্রহণ করছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বাবদ অর্থ বরাদ্দে কার্পণ্য করছে না। এরই মধ্যে সু-কভার ডিসপেনসার, ভাইরাসমুক্ত কাপড়, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত অ্যাপস বাজারে এসেছে। ফুডপান্ডা এখন শুধু রান্না করা খাবার দেয় না, সঙ্গে ওষুধ, বেঙ্গল মিটের পণ্য, এমনকি টয়লেট টিস্যুও বাসায় পৌঁছে দেয়! ওয়ালটনের ভেন্টিলেটর, গণস্বাস্থ্যের পরীক্ষণ কিট, সাশ্রয়ী পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক ইত্যাদির বিশ্বময় নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে।

সব ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা এবার ঈদে অনলাইন শপিংয়ে বড় মাপের ডিসকাউন্ট ঘোষণা করেছে। পণ্য সরবরাহে পেশাদারিত্ব এবং গুণগত মান বজায় রাখতে পারলে আগামীতে ক্রেতাদের একটা অংশ আর দোকান দোকান ঘুরে পণ্য কেনার ঝামেলায় যাবে না। অর্থাৎ ক্রেতা আচরণে বড় একটা পরিবর্তন আসবে। বিগত তিন বছরে অনলাইন শপিংয়ে যতটা অভ্যস্ত করা যায়নি, মাত্র তিন মাসে তার চেয়ে বেশি হয়েছে! কথায় বলে না, আমরা বাতাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু ছাতাটা তো সেভাবে ঘুরিয়ে ধরতে পারি। করোনা সংকট মার্কেটারদের সামনে তেমন অসংখ্য উইন্ডো ওপেন করে দিচ্ছে। যারা তা ধরতে ব্যর্থ হবে, ভবিষ্যতে তাদের টিকে থাকা মুশকিল হবে।

আগামীতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যে ভ্যালু অ্যাডিশনের ওপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এটা এমন একটা গুণ যে ক্রেতারা ঘুরেফিরে অধিক ভ্যালুসম্পন্ন পণ্যের কাছেই যায়। এক্ষেত্রে ‘স্মার্টফোন’ হলো সর্বোত্তম উদাহরণ। অনেক ব্যক্তিই মনে করেন, এ জিনিসটা ভালো না, ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু পেশাগত প্রয়োজনে এখন তারাও স্মার্টফোন ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন! তাই আপনার পণ্য ও সেবায় অন্যদের চেয়ে দৃশ্যমানভাবে অতিরিক্ত ভ্যালু থাকলে দীর্ঘমেয়াদে একটা লয়াল কাস্টমার বেজ গড়ে উঠবে—যা ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য খুব দরকার হবে। 

টার্গেট গ্রুপের কাছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিবিলিটি বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কর্মীদের প্রশিক্ষিত ও আন্তরিক সেবাদানের যোগ্যরূপে গড়ে তুলতে হবে। অপারেটিং কস্ট কমাতে সদাতত্পর থাকতে হবে। এটা প্রাইসিং কম্পিটিটিভনেস অর্জনে সাহায্য করবে। ইন্টারনেট ও ফোননির্ভর ব্যবসায়ের প্রাথমিক প্র্যাকটিস তো হলো...আগামীতে এটা আপনার স্পেস ও ম্যানেজমেন্ট ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে। হোম বা অফিস ডেলিভারির অফার বিস্তৃত করতে পারলে মোট বিক্রয়ের বড় একটা অংশ সেদিক থেকে আসবে। পণ্যের পাশাপাশি সেবার মান বাড়াতে হবে। ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ করোনা সংকট ঠিক কতদিন ভোগাবে, তা এখনো অনুমান করা যাচ্ছে না।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে যে নগদ অর্থসহায়তা, বিনা জামানতে স্বল্প সুদে ঋণদান, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছলে তা ভালো ভূমিকা রাখবে। তবে দুর্নীতির লাগাম টানতে প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। তাছাড়া অনেক ভালো উদ্যোগও আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে পলিসি সাপোর্ট দিতে হবে। এবারের বাজেটের মূল ফোকাস হওয়া উচিত কর্মসংস্থান। কারণ অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি প্রবাসী একটা বড় গোষ্ঠী কর্মহীনদের তালিকায় যুক্ত হবে। আর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শুধু বরাদ্দ দিলে হবে না, সেগুলোর সদ্ব্যবহারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় শ্রমনির্ভর উদ্যোগ বাড়াতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। স্বায়ত্তশাসিত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামীতে নিজেদের আয় বৃদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে। কারণ সরকারকে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণেই অনেক বেশি তত্পর থাকতে হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের মেধা ও শ্রম কাজে লাগানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলে শিগগিরই আমরা করোনাসৃষ্ট সংকটগুলো কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

 মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক