কালের
হিসাবে আমাদের
ব্যবসা দুই
ধরনের। একটি
হচ্ছে সারা
বছরের ব্যবসা,
নিত্যদিন চলে,
নিত্যদিনই তার
চাহিদা ও
সরবরাহ। এক্ষেত্রে
আছে ভোগ্যপণ্য,
মসলাপাতি, চাল-ডাল,
সয়াবিন, পেঁয়াজ-রসুন
ইত্যাদি। এসব
বাদে আমাদের
আছে বেশকিছু
মৌসুমি ব্যবসা।
এসব ব্যবসা
চলে বছরের
নির্দিষ্ট মৌসুম
ও সময়ে।
চাহিদাও এদের
মৌসুমি, সরবরাহও
মৌসুমি। দুই
ধরনের ব্যবসাই
আমাদের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ ও
দরকারি। ব্যবসায়ীরা
এ ধরনের
ব্যবসা করে
সারা বছর
ব্যস্ত থাকেন।
অনেক সময়
চাহিদা ও
সরবরাহের অসামঞ্জস্যের
সুযোগ নিয়ে
তারা মুনাফার
পাহাড় গড়েন।
মৌসুমি ব্যবসার
মধ্যে বাংলা
বছরের প্রথমেই
পড়ে বৈশাখ
মাস। চৈত্রের
শেষে বৈশাখ।
এ বৈশাখেই
উদযাপিত হয়
আমাদের নববর্ষ।
নববর্ষ উপলক্ষে
এখন আনন্দ-উৎসব
প্রচুর। দিনে
দিনে এর
পরিসর বড়
হচ্ছে। সাধারণ
মানুষের অংশগ্রহণ
বেশি বেশি
হচ্ছে। একসময়
গ্রামে-গঞ্জে
আড়ম্বরপূর্ণ নববর্ষ
উদযাপন করতেন
ব্যবসায়ীরা। নতুন
লাল রঙের
হালখাতা খোলা
হতো। পুরনো
বছরের হিসাব
ক্লোজড। নতুন
হিসাবের খাতা।
কোনো জের
টানার বিষয়
নেই। পাওনাদার
‘মহাজন’
এবং দেনাদার
ছোট ছোট
ব্যবসায়ীর মধ্যে
নতুন উদ্যমে
শুরু হতো
ব্যবসা। মহা
আনন্দের উৎসব।
মিষ্টি খাওয়ার
মাতামাতি গ্রামের
হাটে। আমরা
তরুণ-যুবকরা
সেই দিনের
আশায় থাকতাম।
এখন দেখা
যাচ্ছে, আমাদের
দেশের ব্যাংক
এবং অ-ব্যাংক
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো
একই পদ্ধতিতে
হিসাবরক্ষণ করছে।
জের টানা
নয়, নগদে
হিসাব। বছরশেষে
চূড়ান্ত হিসাব,
যা খারাপ
হিসাব তা
খারাপ হিসাব।
এর মুনাফা
হিসাবে নেয়া
যাবে না।
ঠিক যেন
বাঙালির চিরায়ত
ব্যবসা। অবশ্য
তা হয়
ইংরেজি বছরের
হিসাবে—ডিসেম্বরের
শেষে খাতা
ক্লোজড। বাঙালির
হিসাবে বাংলা
নববর্ষ হচ্ছে
চূড়ান্ত হিসাবের
সময়। এ
সময়টা গেছে
গত বৈশাখ
মাসে। সারা
দেশের ব্যবসায়ীরা
তা উদযাপন
করেছেন। শাড়ি-ব্লাউজ,
জামা-কাপড়,
জুতা-মোজার
ব্যবসা করেছেন
ব্যবসায়ীরা। লুঙ্গি,
পাজামা-পাঞ্জাবির
ব্যবসা হয়েছে।
মাছ-মাংসের
ব্যবসা হয়েছে।
ব্যবসা হয়েছে
ফুলের, মিষ্টির,
ভালো ভালো
খাবারের আয়োজন
উপলক্ষে নানা
উপকরণ বিক্রি
হয়েছে। গ্রামেগঞ্জে
বৈশাখী মেলা
বসেছে, লাখ
লাখ ক্রেতা-বিক্রেতা
তাদের যার
যার পণ্য
আদান-প্রদান
করেছেন। কুটির
শিল্প, অতি
ক্ষুদ্র শিল্প,
ছোট ছোট
উদ্যোক্তাদের পণ্য
বিক্রি হয়েছে।
গহনার ব্যবসা
হয়েছে। বলতে
গেলে নববর্ষ
উপলক্ষে হাজার
হাজার কোটি
টাকার ব্যবসা
করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এবার আরো
বেশি উদ্যমে
নববর্ষের বেচাকেনা
হয়েছে। শত
হোক, করোনাজনিত
কারণে দুই
বছর নববর্ষ
পালন করা
যায়নি খোলামেলাভাবে।
মানুষ প্রাণ
ভরে তা
করেছে। অধিকন্তু
ছিল পবিত্র
রমজান ও
পবিত্র ঈদের
মৌসুমি ব্যবসা।
বৈশাখ মাসেই
পড়েছিল রমজান
এবং পবিত্র
ঈদ। এটা
ঘটনাক্রমে। প্রকৃতপক্ষে
প্রত্যেক রমজান
মাস ও
ঈদই মৌসুমি
ব্যবসার সময়।
ঈদের সময়
যেমন জামা-কাপড়,
শাড়ি-ব্লাউজ,
জুতা-মোজা,
পাজামা-পাঞ্জাবি
বিক্রি বাড়ে,
তেমনি বাড়ে
মসলাপাতির বাজার।
অবশ্য রমজান
মাসের বড়
বাজার হচ্ছে
ইফতারির বাজার,
ছোলা-বুট,
খেজুর, মুড়ি,
ডাল, পেঁয়াজু,
চিনি ও
ময়দা-আটার
বাজার। সয়াবিন
ও পাম
অয়েলেরও বিক্রি
বাড়ে। গ্রীষ্মকালের
রমজানে ও
ঈদে বরফ
বিক্রি বাড়ে।
টেলিভিশন, ফ্রিজ,
এয়ার কন্ডিশনারের
বিক্রি বাড়ে।
লোকের যাতায়াত
বাড়ে ঈদে।
পর্যটন শিল্প,
পরিবহন, রেস্তোরাঁ-হোটেল
ব্যবসায় লাগে
এর ছোঁয়া।
তখন এসবের
বেচাকেনা চরমে
ওঠে। আজকাল
মিষ্টি, ফুলের
বাজারও রমজানে
ও ঈদে
বাড়ে। বলা
যায়, রমজান
ও ঈদের
বাজার একটি
মৌসুমি বাজার।
অবশ্য কোরবানির
ঈদের বেচাকেনায়
এসব পণ্যের
প্রয়োজনীয়তা কম।
তখন গবাদিপশুর
বাজারই প্রধান
বাজার। সারা
বছর গবাদিপশু
যা বিক্রি
হয় তার
সমপরিমাণ বিক্রি
হয় কোরবানির
ঈদের সময়।
গবাদি প্রাণী,
হাঁস, মুরগি,
মাংস, ডিম
ও দুধের
বাজারও তখন
চড়ে। প্রাণিজ
আমিষের চাহিদা
মেটানোর ক্ষেত্রে
প্রাণিজ সম্পদের
জিডিপিতে অবদান
দিন দিনই
বাড়ছে। ২০১৯-২০
অর্থবছরে এ
খাতের অবদান
জিডিপিতে ছিল
১ দশমিক
৪৩ শতাংশ।
গবাদি প্রাণীর
প্রাপ্যতা সারা
বছরে ৫৬০
লাখের মতো।
হাঁস-মুরগির
সংখ্যা বছরে
৩ হাজার
৫৬০ লাখ।
দুধ, মাংস
ও ডিমের
উৎপাদনও দিন
দিন বাড়ছে।
বলাবাহুল্য ঈদের
বাজারে এসবের
চাহিদা বেশ
বাড়ে। এবার
গ্রীষ্মকালের মধ্যে
এবং এর
অব্যবহিত পরই
দুই ঈদ
অনুষ্ঠিত হয়েছে
এবং হবে।
এটা বরাবরের
চিত্র নয়।
কারণ রমজান
ও কোরবানির
ঈদ প্রতি
বছর কয়েকদিন
করে এগোয়।
সে যা-ই
হোক, মৌসুমি
বাজারের ক্ষেত্রে
এ উৎসব/ধর্মীয়
উৎসব খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। রমজান
ও দুই
ঈদ বাদে
রয়েছে হিন্দু
সম্প্রদায়ের বৃহত্তম
ধর্মীয় উৎসব
দুর্গা পূজা।
এখন দুর্গা
পূজার সময়েও
বাজার জমে।
সাধারণত পূজার
মৌসুমি বাজার
হচ্ছে প্রতি
বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে।
তখন অগ্রহায়ণী
ধান মাঠে
থাকে। পাটও
বাজারে উঠতে
শুরু করে।
পাটের বাজারও
মৌসুমি। এর
বিশাল বাজার।
৬০-৭০
লাখ বেল
কাঁচা পাট
বাজারে ওঠে।
এদিকে ধানের
বাজারও মৌসুমি
বাজার। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
হচ্ছে বোরো
ধানের মৌসুম।
বোরোর ফলন
এখন সবচেয়ে
বেশি। এর
বাজারও বড়।
এ সময়ে
সরকার ১০-১৫
লাখ টন
ধান/গম
সংগ্রহ করে
খোলাবাজার থেকে।
এরপর রয়েছে
আউশ ও
আমন ধানের
মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণের
দিকে আউশ
ধানের ফলন
হয়। আর
আমন ধান
ফলে কার্তিক-অগ্রহায়ণে।
তখন বাঙালির
বড় উৎসব
হচ্ছে নবান্ন।
ঘরে ঘরে
নতুন ধান-চাল।
কৃষকের মধ্যে
আনন্দের সীমা
থাকে না।
বলাবাহুল্য এসব
মৌসুমি বাজার
বাংলাদেশের অর্থনীতির
প্রাণ। বেচাকেনা,
লেনদেন, কাজের
ব্যস্ততা, জিডিপিতে
অবদানের দৃষ্টিকোণ
থেকে এসব
মৌসুমি বাজার
অপরিসীম গুরুত্ব
বহন করে।
বৈশাখের নববর্ষ
এবং এবার
রমজান ও
ঈদের আনন্দ-উল্লাসের
পর এসেছে
গ্রীষ্মকালেরই দ্বিতীয়
মাস জ্যৈষ্ঠ
মাস। এ
মাসেই জাতীয়
ফল কাঁঠালের
আমদানি সবচেয়ে
বেশি হয়।
কাঁঠাল ঝুলন্ত
ফলের মধ্যে
বৃহত্তম। বেশ
জনপ্রিয়। এমন
একসময় ছিল
যখন গ্রামের
মানুষ একটি
কাঁঠাল খেয়েই
দিন কাটাতে
পারত। তখন
কাঁঠালের চাষ
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে
হতো না।
অনেক ক্ষেত্রেই
লোকজন, বিশেষ
করে ছেলেরা
বিনা পয়সায়
গাছ থেকে
কাঁঠাল পেড়ে
খেতে পারত।
এখন আর
সে দিন
নেই। এখন
শুধু কাঁঠাল
নয়, জ্যৈষ্ঠ
মাসে বাজারে
কত রকমের
মৌসুমি ফল
ওঠে। এর
বাজার বিশাল।
এটাও আমাদের
ব্যবসায়ীদের কাছে
মৌসুমি বাজার।
গ্রীষ্মকালের এ
সময়ে কী
কী সুস্বাদু
ও উপভোগ্য
ফল বাজারে
ওঠে? যেসব
ফল বাজারে
সহজলভ্য হয়
তার মধ্যে
আছে; আম,
কাঁঠাল, লিচু,
তরমুজ, জাম,
তাল, বেল,
জামরুল, সফেদা,
গাব, আনারস,
পেয়ারা, পানিফল,
বাঙ্গি, তালের
শাঁস ইত্যাদি।
এসব ফলের
খাদ্যগুণ প্রচুর,
এসবে রয়েছে
প্রচুর পুষ্টি।
পাকা আমের
৬০ শতাংশই
ক্যারোটিন, কাঁঠাল
শক্তি-বর্ধক
ও রুচিবর্ধক,
লিচু জলের
চাহিদা মেটায়,
তরমুজে ৯০
শতাংশই জল,
জামে রয়েছে
আয়রন ও
ভিটামিন সি,
তালে ভিটামিন
বি-কমপ্লেক্স,
বেলের শরবত
প্রাণ জুড়ায়।
এককথায় জ্যৈষ্ঠ
মাসের অর্থনীতিতে
প্রভূত অবদানের
উৎস এসব
ফলমূল আমাদের
পুষ্টি বর্ধনে
কাজে লাগে।
এসব খাদ্য
নিরাপত্তার সঙ্গেও
জড়িত। খাদ্য
বলতে আমাদের
অনেকের ভুল
ধারণা আছে।
আমরা খাদ্য
বলতে ভাত-আটাকেই
বুঝি। কিন্তু
শুধু শর্করা
জাতীয় খাদ্যই
যথেষ্ট নয়।
শরীরের জন্য
পুষ্টি ভীষণ
দরকার। আমাদের
শিশুদের বড়
সমস্যা পুষ্টির।
তারা পুষ্টির
অভাবে শরীরে
বড় হতে
পারে না।
সিলেটের শিশুরা
ভীষণ খর্বকায়।
পুষ্টি জাতীয়
খাবার মেধার
বৃদ্ধির অন্যতম
উপায়। অতএব
মৌসুমি ফল,
জ্যৈষ্ঠ মাসের
‘মধুময়’
ফল শুধু
পুষ্টির চাহিদাই
মেটায় না,
এর সঙ্গে
জড়িত হাজার
হাজার, লাখ
লাখ মানুষের
জীবন ও
জীবিকা। বাণিজ্যিক
গুরুত্ব অপরিসীম।
এ মাসে
ফলের বাজার
লাখকোটি টাকার।
শুধু ফলই
নয়, এর
সঙ্গে যোগ
হয় মাছ-মাংস,
দুধ-ডিম,
শাক-সবজির
নিয়মিত বাজার।
এসবের সঙ্গে
লাখ লাখ
লোকের জীবন
ও জীবিকা
জড়িত। কলা
তো সারা
বছরই এখন
পাওয়া যায়
এবং তার
বাণিজ্যিক চাষ
হচ্ছে। মত্স্য
চাষের সঙ্গে
কলার চাষ
জড়িয়ে গেছে
পুকুরের চার
পাড়ে অনেক
মত্স্য খামারি
আজকাল কলাগাছের
চারা লাগান।
এ মুহূর্তে
বাজার ভর্তি
আম, কাঁঠাল
ও লিচুতে।
তরমুজের আবেদন
একটু পেছনে
পড়েছে; রোদ
থেকে এখন
কিছু বৃষ্টিপাত
হওয়ার ফলে।
তাও তরমুজের
একটার দাম
৩০০-৪০০
টাকা। একশ
পিচ লিচু
২৫০ থেকে
৫০০-৬০০
টাকা। কাঁঠালের
‘ইঁচড়’
বড়ই সুস্বাদু।
‘ইঁচড়’
খাওয়া হয়
কচি কাঁঠাল
দিয়ে। বৈশাখের
শেষে তা
ছিল উপাদেয়
খাদ্য। এ
সময় কাঁঠালের
ভরা মৌসুম।
২০০ টাকা
থেকে ৪০০-৫০০
টাকা কাঁঠালের
দাম। বিদেশী
ফল আঙুর,
আপেল, মালটা
ইত্যাদির বাজার
এখন একটু
মন্দা যাচ্ছে।
কারণ বাজার
ভর্তি দেশী
ফলমূলে। লিচু
উঠেছে কিছুদিন
আগে। বেশির
ভাগই ঢাকার
পাশে সোনারগাঁ
অঞ্চলের। এ
এলাকায় মোট
পাঁচ জাতের
লিচু উৎপাদন
হয়। পৌর
এলাকায় যেমন
লিচু হয়,
তেমনি আশপাশের
অঞ্চলে লিচু
হয়। লিচুচাষীরা
বলেন, বছরে
তাদের ৩০-৫০
কোটি টাকার
লেনদেন হয়।
উৎপাদক পর্যায়ে
এ পরিমাণ
টাকা হলে
সোনারগাঁর লিচুর
ব্যবসাই হবে
কত শত
কোটি টাকার।
অবশ্য রাজশাহী-দিনাজপুর
ও ঈশ্বরদীর
লিচু এখনো
সেভাবে আসতে
শুরু করেনি।
সবাই অপেক্ষা
করে আছে
ওই লিচুর
জন্য। লাল
টসটসে, প্রায়
বিচিহীন ওইসব
লিচুর দাম
বেশ বেশি।
মুশকিল ওই
লিচু বাজারে
থাকে খুব
কম সময়ের
জন্য। তবে
এ ধরনের
লিচুর চাহিদা
যেমন বেশি,
দামও বেশি,
ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যও
হয় অনেক
বেশি।
ফলের রাজা
আম। অথচ
জাতীয় ফল
কাঁঠাল। আমের
রাজত্ব দুই-তিন
মাস। এখন
উঠতে শুরু
করেছে। বিভিন্ন
অঞ্চলের আম
সেভাবে তত
জনপ্রিয় নয়,
যেমন জনপ্রিয়
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের
আম। উত্তরাঞ্চল
আমাদের ধান-চাল
দেয়। আবার
পুষ্টিও সরবরাহ
করে। বঙ্গবন্ধু
সেতুর জন্য
এসবের দাম
সামান্য একটু
সস্তা পড়ে।
আম যাতে
কচি অবস্থায়
বিক্রি না
হয়, সেজন্য
প্রশাসনিকভাবে তা
বাজারজাতের তারিখ
ঠিক করে
দেয়া হয়েছে।
তারিখ অনুযায়ী
ক্রমান্বয়ে বাজারে
আসবে গুটি
আম, গোপাল
ভোগ, রানিপছন্দ,
লক্ষ্মণভোগ, হিম
সাগর, ক্ষীরসাপাতি,
লেংড়া, আম্রপালি,
আশ্বিনী, ফজলি,
গৌরমতি ইত্যাদি
ধরনের আম।
আমাদের দেশে
৭২ জাতের
আম ফলে।
বছরে উৎপাদনের
পরিমাণ হচ্ছে
১ লাখ
৭৯ হাজার
টন। আমে
আমরা বিশ্বে
অষ্টম স্থান
অধিকার করেছি।
বেশকিছু আম
রফতানিও হয়।
ইংল্যান্ড, ইতালি,
হংকং, নেদারল্যান্ডসসহ
বিভিন্ন দেশে
আম রফতানি
হয়। এর
ফলে আম
ও অন্যান্য
ফলের আমদানির
পরিমাণ ক্রমেই
কমছে।
বর্তমানে আমাদের
ফলের চাহিদা
বছরে ৬০-৭০
লাখ টনের
মতো। কিন্তু
প্রাপ্যতা হচ্ছে
৩০-৪০
লাখ টনের
মতো। বাকি
চাহিদা মেটাতে
হলে হয়
আমদানিনির্ভরতা বাড়বে
অথবা দেশীয়ভাবে
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে
হবে এবং
পচনশীলতা রোধ
করতে হবে।
একটি হিসাবে
দেখা যায়,
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে
প্রতি বছর
নষ্ট হয়,
যদিও আগের
তুলনায় এখন
ফল কম
নষ্ট হয়।
কিন্তু প্রয়োজন
কয়েকটি বিষয়।
অর্থায়ন দরকার
বাণিজ্যিক উৎপাদনে।
রক্ষণাবেক্ষণে দরকার
বিশেষ ধরনের
কোল্ড স্টোরেজ।
সবচেয়ে উত্তম
ফলনির্ভরশীল শিল্প
গড়ে তোলা।
শিল্প হয়েছে,
তার পরিমাণ
খুবই সামান্য।
বস্তুত ফলের
জন্য শিল্প
গড়ে তোলা
যায় সরকারের
সাহায্য ও
সমর্থন থাকলে।
লক্ষণীয়, গত
কয়েক বছরে
আমাদের ফলের
তালিকায় ৫৬
জাতের নতুন
ফল যোগ
হয়েছে। যেমন
ড্রাগন, অ্যাভোকাডো,
স্ট্রবেরি, বাউকুল,
আপেল কুল
ইত্যাদি। এদের
জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সরকার তার
নতুন বাজেটে
এক্ষেত্রে কিছু
বরাদ্দ দিলে
এবং গবেষণার
সুযোগ দিলে
পুষ্টি সরবরাহে
ফলফলারি অনেক
অবদান রাখতে
পারবে।
ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনৈতিক
বিশ্লেষক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক










