যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের ৬৫০টি আসনের মধ্যে তার দল কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩৬৫টি আসন। আগের তুলনায় দলটি ৮৭টি আসন বেশি পেয়েছে। বিপরীতে জেরেমি করবিনের লেবার পার্টিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ২০৩টি আসন নিয়ে (এর মধ্যে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চার বিজয়ী প্রার্থী হচ্ছেন টিউলিপ সিদ্দিক, রুশনারা আলী, রূপা হক ও আফসানা বেগম)। তবে গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৫৯টি আসন হারিয়েছে দলটি। সামগ্রিক চিত্রটি ১৯৪৭ সালের পর আবারো টোরিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই প্রমাণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্গারেট থ্যাচারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এত বছর পর এবারই প্রথম টোরি পার্টির পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ। বিপরীতে লেবার পার্টির ২০০টির কিছু বেশি আসন জয় মূলত ১৯৮৩ সালে যুদ্ধ-উত্তর দুর্দিনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যা থেকেও কম। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই লেবার পার্টি উত্তর ইংল্যান্ড ও মিডল্যান্ডসে তাদের আসন খুইয়েছে। অ্যাশফিল্ড, বিশপ অকল্যান্ড ও ওয়াকিংটনের মতো জায়গাগুলোয় যেখানে সাধারণ নির্বাচনের আগে কখনই কনজারভেটিভ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি, তার ব্যত্যয় ঘটেছে এবার।
যা-ই হোক, টোরি পার্টির অনুকূলে দেশজুড়েই একটি নাটকীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে বলেই অনুমেয়। ২০১৬ সালের গণভোটে ওই আসনগুলোয় ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে ব্রেক্সিটের পক্ষে এবং সেখানে কনজারভেটিভ সমর্থক গড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ শতাংশের মতো। ওই আসনগুলোয় ৫৫ শতাংশের বেশি ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তবে দলের ভোট মূলত তিনটি পয়েন্টে কমেছে। এক্ষেত্রে ব্রেক্সিটপন্থী এলাকাগুলোয় লেবার পার্টির ভোট কমেছে প্রায় ১১টি পয়েন্টে। আর ব্রেক্সিটবিরোধী অঞ্চল থেকে কমেছে মাত্র ৫ পয়েন্ট করে।
মিডল্যান্ড, নর্থ ইস্ট আর ইয়র্কশায়ারে কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে সমর্থন বেড়েছে ৪ পয়েন্ট—ইংল্যান্ডের এ অঞ্চলগুলোর অধিকাংশই ভোট দিয়েছে ব্রেক্সিটের পক্ষে। বিপরীতে লন্ডন ও সাউথ ইস্টে দলটি ১ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। স্কটল্যান্ডে কনজারভেটিভদের ৪ পয়েন্টে হারানোর মাধ্যমে এসএনপির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে এসএনপি সংসদে লাভ করেছে আরো ১৩টি আসন। তবে ৪৮টি আসন জয় এসএনপি নেতা নিকোলা স্টুরজিওনকে স্কটিশ স্বাধীনতার বিষয়ে দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে উৎসাহিত করে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে তাকে বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাই এ জাতীয় পদক্ষেপ আবার প্যান্ডোরার বাক্সটি খুলে দিতে পারে।
অনেক বিশ্লেষকই পরামর্শ দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন সংস্থার নানা ধরনের প্রচারণা ব্রিটিশ নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্ররোচিত করেছে। এ প্রসঙ্গে ররি সেলান-জোনস ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক প্লাটফর্ম ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দৃশ্যমানতা তৈরি করতে এজেন্ডার সংস্করণটি নির্ধারণ করে এবং চলমান কথোপকথনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে আরো সামনে আনার জন্য দৃশ্যত বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহার করে। মজার বিষয় হচ্ছে, অভিযোগ করা হয়েছে যে নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় বরণকারী লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজয়ী কনজারভেটিভদের ছাড়িয়ে যায়। গবেষণা সংস্থা ‘হু টার্গেটস মি’ আরো উল্লেখ করেছে যে নির্বাচনে অনেক অখ্যাত সংগঠনকে দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দলই ঠিক প্রচারণা শুরুর আগেভাগে গঠিত এবং যারা ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়েছে। সংস্থাটি এ ধরনের সাতটি সংগঠন শনাক্ত করেছে, যারা কিনা কনজারভেটিভ, লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের থেকেও বেশি হারে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এর মধ্যে তিনটি ভুইফোঁড়সংস্থা তাদের প্রচারণায় ব্রেক্সিটের পক্ষে কৌশলে ভোট প্রদানকে উৎসাহিত করে এবং বাকি চারটি সংগঠন প্রচারণা চালিয়েছে জেরেমি করবিনের লেবার পার্টির বিরুদ্ধে। নতুন এ ধারাটি অবলোকন করে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ ‘হু টার্গেটস মি’ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যাম জেফার। তিনি তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অনলাইন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার নেপথ্যে আরো বেশি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা থাকার পাশাপাশি যারা এটি ব্যবহার করছেন, তাদের ব্যাপারে আরো বেশি তথ্য থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে এ অবস্থায় সিদ্ধান্তহীন ভোটাররা যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তা বিবেচনা করা গুরুতর হয়ে উঠেছে।
লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা কে হবেন তা নিয়ে রীতিমতো নির্বাচকমণ্ডলীর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাষ্ট্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান ও চীনের জল্পনা-কল্পনা চলছে। ১৯৩৫ সালের পর তাদের দলটির সবচেয়ে বাজেভাবে পরাজয়ের পরে জেরেমি করবিন আগামী নির্বাচনে লেবারকে নেতৃত্ব দেবেন না বলে জানিয়েছেন। পার্টির বর্তমান ছায়া অর্থমন্ত্রী জন ম্যাকডোনেলও নিজেকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিয়েছেন। অনিশ্চয়তার এ পরিসংখ্যানের মধ্যে অনেকে আছেন যারা একজন নারী নেত্রীকে বেছে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
জেরেমি করবিন বলেছেন যে তার নেতৃত্বে যাওয়ার বিষয়টি লেবার পার্টির পরিচালনা পর্ষদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) ওপর নির্ভর করছে। তিনি নতুন বছরের শুরুতে নতুন কাউকে নেতা হিসেবে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে মজার বিষয় হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের রুলবুক অনুসারে, যখন কোনো দলের প্রধান নেতা ও উপনেতার আসনটি স্থায়ীভাবে শূন্য থাকে, এনইসি তখন পোস্টাল ভোটিংয়ের আহ্বান জানাতে পারে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর উপনেতা টম ওয়াটসন পদত্যাগ করেছেন। চলতি বছরের ৭ মে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনের আগে এনইসি সম্ভবত নেতা হিসেবে নতুন কাউকে চাইবে। যদিও ২০১৫ সালে আমরা দেখেছি যে প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল নতুন নেতা নির্বাচনে। সে বছরের ৮ মে এডি মিলিব্যান্ড যখন পদত্যাগ করেন, তখন নতুন নেতা হিসেবে জেরেমি করবিনের নাম ঘোষিত হয় ১২ সেপ্টেম্বর। ২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তি এবারো হতে পারে।
এদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী বরিস জনসন ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন, কনজারভেটিভ এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন (যাদের অনেকেই লেবার পার্টির ঐতিহ্যবাহী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন), একটি
ছোট মন্ত্রিপরিষদ সাজানো (বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজেদের প্রত্যাহার করেছিলেন তাদের শূন্যস্থান পূরণ করা)। তাছাড়া ক্রিসমাসের আগে ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে আসার চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্ব পেয়েছে।
এ অবস্থায় সরকার চলতি বছরের শেষ দিকে ব্রেক্সিট থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়ার সময় বাড়ানোর বিষয়টি বাতিল করতে ব্রেক্সিট বিলে একটি নতুন ধারা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এভাবে তিন বছরের অচলাবস্থা আর বিলম্বের অবসান হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বরিস মন্ত্রীদের অবহিত করেছেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সময়মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বিলটি পাসের আশা করা হচ্ছে।
তাই বলা যায় নতুন পথচলার শুরু হয়েছে।
এদিকে রানীর ভাষণে নির্বাচনী প্রচারের সময় করা প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সরকারের আসন্ন আইনসভায় সংযুক্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এনএইচএস অর্থায়নের গ্যারান্টি। এ অবস্থায় জনসনকে তাত্ক্ষণিকভাবেই ইইউর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে এবং ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রেক্সিট-পরবর্তী উত্তরণ সময়কালের সমাপ্তির আগেই তা অনুমোদন করতে হবে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড সরকারকে সংসদে ফিরিয়ে এনে আবার সচল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। বিষয়টি অতিরিক্ত তাত্পর্য বহন করে, কেননা উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনীতির মধ্যে অনেক ইউনিয়নপন্থী জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তিকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখেন এবং বিশ্বাস করেন যে আইরিশ সাগরের মাঝামাঝি অংশে কার্যকরভাবে সীমানা এঁকে যুক্তরাজ্যের বাকি অংশ থেকে প্রদেশটিকে বাদ দিয়েছে। তাছাড়া ব্রেক্সিট অতীতের সমাধিস্থ ভূতগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে—রিপাবলিকান ও অনুগতপন্থীদের কয়েক দশকের পরম্পরাগত সহিংসতা—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। টোরির সর্বশেষ এ বিজয় মূলত মূল ভূমির সঙ্গে তরুণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী ভোটারদের সম্পর্ক হ্রাস করবে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেই থাকবে।
স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের চলমান পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ জাগিয়ে তুলেছে যে জনসন ইউনিয়নকে একত্র রাখতে সক্ষম হবেন কিনা! মুদ্রার অন্য পিঠের দৃশ্য অবশ্য নির্দেশ করে, জনসন তার বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে উতরে যেতে সক্ষম হবেন, কিন্তু সেখানকার বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে উপেক্ষা করবেন।
জনসনের অবিশ্বাস্য বিজয়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই সতর্কতার সঙ্গে ভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তাদের কৌশল সাজাচ্ছে। তারা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন, যেমন যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া ও দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক। বিশেষত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্রেক্সিট কার্যকরের আগ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা কী হবে। কারণ এ সময়ে ইইউতে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, অর্থাৎ ভোটাধিকার থাকবে না। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নির্ধারণের সুযোগ করে দেয়া। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ ২০২০ সালের ১ জুলাই শেষ হওয়ার আগে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে অথবা চুক্তির মেয়াদ আরো এক-দুই বছর বাড়াতে হবে।
লারিসা ব্রুন্নারের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছার আশা খুবই ক্ষীণ। যুক্তরাজ্য যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে সম্ভবত এ সময়ের মধ্যে উভয়ের সম্পর্ক নির্ধারণে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না বা আলোচনার সময় আরো বাড়াতে হতে পারে। এ সময়টি খুবই জটিল হতে পারে। ইইউ চাইবে যুক্তরাজ্য যেন দ্রুত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, কিন্তু জনসন এ প্রক্রিয়া বিলম্ব করতে চাইবেন। ইইউর কর্তৃত্ব এড়াতে যুক্তরাজ্যকে ইউনিয়ন বাজেটে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।
তাছাড়া বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্ব বহন করে, কারণ ব্রেক্সিটের পরিকল্পিত সমাপ্তির মেয়াদ ইউনিয়নের বর্তমান বাজেটের সময়কালের সমাপ্তির সঙ্গে মিলবে (২০১৪-২০)। ব্রেক্সিটের মেয়াদ যদি বাড়ানো হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যকে ইইউর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টি চালিয়ে যেতে হবে। আসন্ন ২০২১-২৭ দ্বিবার্ষিক আর্থিক কাঠামোর (এমএফএফ) পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিষয়টি চূড়ান্তকরণের আশা করছে।
জুনের শেষ দিকে বর্ধিতকরণের অনুরোধ হয়তো ইইউকে এর পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মেলাতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, সুতরাং সার্বিক প্রস্তুতি এখন ব্রাসেলসের আগ্রহের বিষয়। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাণিজ্য আলোচনার জন্য ও তাদের সম্ভাব্য ফলাফলের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে। তাছাড়া যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও এখন অনেকটা কঠিন হয়ে উঠেছে।
নতুন কনজারভেটিভ সরকারের অধীনে, ‘কানাডা
প্লাস’-এর মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে, তবে এতে পণ্যের সীমিত পরিষেবার বিধান রয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের উল্লিখিত লক্ষণ রেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তবে মূলত পরিষেবাভিত্তিক অর্থনীতির জন্য উচ্চমূল্য নিয়ে আসবে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ের সামনেই রয়েছে একটি পরাবাস্তব ভূদৃশ্য। তাই লন্ডন ও ব্রাসেলস উভয়কেই অতিযত্নসহকারে পা ফেলতে হবে।
মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার










