ইংল্যান্ডে পড়তে যাওয়ার ধারণা প্রথম অঙ্কুরিত হয়েছিল অমর্ত্য সেনের পিতার মনে। তিনিও তিন বছর বিলেতে কাটিয়ে কৃষি রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ফিরেছিলেন। অমর্ত্য সেন যখন ক্যান্সারের কারণে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে রেডিওথেরাপি নিচ্ছিলেন, তার পিতা-মাতা চেয়েছিলেন স্বাস্থ্যগত গোলযোগ শেষে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে অমর্ত্য সেন চিন্তাভাবনা শুরু করুক। তার পিতা জানতে চাইলেন তিনি অনেক সুনামের অধিকারী লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে (এলএসই) যেতে আগ্রহী কিনা। অমর্ত্য সেন বললেন, ‘ওটা খুবই ভালো প্রস্তাব কিন্তু আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে কি?’ সে সময় এটাই একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন ছিল, কারণ পরিবারটি ধনী ছিল না এবং দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগে তার পিতার বেতন বেশ মাঝারি স্তরে ছিল।

উত্তরে তার পিতা জানালেন, তিনি হিসাব-নিকাশ কষে এ উপসংহারে পৌঁছেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসহ মাত্র তিন বছর লন্ডন থাকার ব্যয়ের বন্দোবস্ত করা যাবে। যেমন করেই হোক পিতা-পুত্রের সংলাপ হাইডোজ রেডিয়েশনের দৌর্বল্যকর প্রভাব প্রশমন সাপেক্ষে করণীয় নিয়ে অন্তত গবেষণার একটা সুযোগ করে দিয়েছিল এবং সেই সূত্রে বিষয়টি নিয়ে অমর্ত্য সেন তার অমিয় কাকার সঙ্গেও আলাপ করলেন, যিনি নিজেও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে ১৯৩০-এর দশকে পিএইচডি করেছিলেন। তবে অমিয় দাশগুপ্ত অমর্ত্যকে এলএসইতে না গিয়ে বরং কেমব্রিজে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন, কারণ তার ধারণা ছিল তখনকার নেতৃস্থানীয় অর্থনীতির আখড়া হিসেবে কেমব্রিজ বিখ্যাত। যা-ই হোক, অমর্ত্য সেন তখনকার ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিতে গিয়ে ইংল্যান্ডের কলেজ আর ইউনিভার্সিটির খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন। পরিশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন, বিশ শতকের সবচেয়ে সৃজনশীল মার্ক্সীয় চিন্তাবিদ মরিস ডব, অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক পিয়েরে স্রাফা এবং প্রধান উপযোগিতাবাদী অর্থনীতিবিদ ও মেধাবী রক্ষণশীল চিন্তাবিদ ডেনিশ রবার্টসন প্রমুখের সঙ্গে কাজ করা হবে তার জন্য রোমাঞ্চকর এবং সেটা যে ট্রিনিটি কলেজ, তা নিয়ে তার মনে সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। এমনকি তিনি ট্রিনিটি নিয়ে তার পছন্দে এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে শুধু সেখানে দরখাস্ত করেই ক্ষান্ত থাকলেন, অন্য কোনো কলেজে দরখাস্ত পাঠানোর প্রয়োজন বোধ পর্যন্ত করলেন না। বস্তুত, তার সিদ্ধান্ত ছিল ট্রিনিটি অথবা বাতিল (Triniti or bust)। কিছু ঘটন-অঘটনের পর জাহাজে করে ১৯ দিন পর তিনি ইংল্যান্ড পৌঁছেছিলেন।

দুই.

১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বর। লন্ডনের কিংস ক্রস থেকে ট্রেনে চেপে কেমব্র্রিজে নেমে অমর্ত্য সেন দেখলেন ট্রিনিটি কলেজ তার জন্য এক বাড়িওয়ালির বাড়ির একটা কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেছে। ইংরেজিতে এ ধরনের আবাসিক ব্যবস্থার নাম ‘Digs’। তখনকার প্রথা এটাই ছিল—প্রথম বর্ষের ছাত্ররা থাকবে ‘ডিগসে’ এবং জ্যেষ্ঠতা অর্জন সাপেক্ষে কলেজে আসনপ্রাপ্তি ঘটবে। অমর্ত্য সেন মনে করতেন এটা ভয়ংকর এক ব্যবস্থা ছিল, যেহেতু একজন নবাগতের জন্য অজানা শহরের অপরিচিত পরিবেশে বাস করা খুব কঠিন কাজ। তাছাড়া অমর্ত্য সেনের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িটি ছিল ট্রিনিটি থেকে বেশ দূরে প্রাইওরি রোডে। যদিও সেপ্টেম্বরের শেষে তিনি পৌঁছেছেন কিন্তু জানা গেল অক্টোবরের শুরুর আগে বাড়ি প্রস্তুত থাকবে না। আর সেজন্যই থাকার জন্য তাকে সাময়িকভাবে কেমব্রিজের কেন্দ্রস্থলের কাছে পার্ক প্যারেডে যেতে হয়েছিল।

পার্ক প্যারেডের এ কক্ষ ঠিক করে দিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন নামে এক পাকিস্তানি বন্ধু। তার পরিবার ছিল ঢাকায়। তিনি আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করতে কেমব্রিজে আসেন এবং তাত্ক্ষণিক অমর্ত্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ান। সাহাবুদ্দিন নিজেই নতুন ডিগসে চলে যাবেন বলে স্থির করে ফেলেছেন, তবুও দুই রাতের জন্য অমর্ত্যকে এ ব্যবস্থা করে দিলেন। কিন্তু একটু সমস্যা থেকে গেল, লন্ডনে অমর্ত্যের সুপ্রিয় বাড়িওয়ালির চেয়ে বর্তমান বাড়িওয়ালি কেমন যেন অন্য রকম, সর্বদা ক্ষোভে অসন্তোষে বিড়বিড় করা এক নারী।

যা-ই হোক, সেই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই সাহাবুদ্দিন লাইব্রেরির কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়িওয়ালি এসে অমর্ত্যকে সাহাবুদ্দিনের কাছে একটা ‘অভিযোগ’ পৌঁছে দিতে বললেন। অমর্ত্যের উদ্দেশে তিনি ত্যাজি কণ্ঠে শুধালেন, ‘তুমি জানো, একটা গোসলের দাম ১ শিলিং? কারণ গরম পানির দাম অনেক।’

অমর্ত্য বললেন, ‘আমি এখন জানলাম এবং অবশ্যই আমি গত রাতের গোসলের জন্য তোমাকে এক শিলিং দেব।’ ‘না না, ওটা আমার পয়েন্ট নয়’, বাড়িওয়ালি বলে চললেন, ‘তোমার বন্ধু একজন প্রতারক। সে দিনে চারবার গোসল করে কিন্তু সেটা অস্বীকার করে মিথ্যাচার করে। সে নাকি একবার গোসল করে আর অন্য সময় মাত্র হাত-পা ধোয়। কী রকম মিথ্যুক!’ অমর্ত্য সেনকে অনেক কষ্ট করে বাড়িওয়ালিকে বোঝাতে হয়েছিল যে মুসলমানদের প্রার্থনার আগে পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়, আর তাই কয়েকবার হাত-মুখ-পা ধুতে হয়। কিন্তু বাড়িওয়ালি অবিচলচিত্ত রইলেন। ‘তোমার পা এত ঘন ঘন ধোয়ার অর্থ কী?’ অমর্ত্য সেন আরো একটু বেশি ব্যাখ্যা করে প্রার্থনার আগে পবিত্রতার প্রয়োজন বোঝানোর চেষ্টা নিলেন। এবার ভদ্রমহিলা বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এমন করো?’ অমর্ত্য সেন তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘না, আমি একজন মুসলমান নই এবং আমি প্রার্থনা করি না, এমনকি আমি বিধাতায় বিশ্বাস করি না।’ একথা অমর্ত্যকে যেন উত্তপ্ত কড়াই থেকে উনুনে নিক্ষেপ করল। ‘তুমি বিধাতায় বিশ্বাস করো না’—অকস্মাৎ আতঙ্কে বস্ফািরিত চোখে বললেন বাড়িওয়ালি এবং অমর্ত্য বুঝে উঠতে পারছিলেন না এর মাশুল গুনতে গিয়ে এক্ষুনি ট্রাংক গোছাতে হয় কিনা। যা-ই হোক, তারপর সংকট পার হলো; ব্যবসায়িক স্বার্থ টিকে রইল এবং বাড়িওয়ালি জানতে চাইলেন অমর্ত্য সেন তার বন্ধুকে স্মরণ করিয়ে দেবেন কিনা যে প্রতি গোসলের দাম ১ শিলিং। অমর্ত্য সেন প্রতিজ্ঞা করলেন, তিনি তা করবেন। সেই বিকালে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা হলে অমর্ত্য সেন তাকে উপদেশ দিলেন বাড়িওয়ালির সঙ্গে আলাপ করতে। সাহাবুদ্দিন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বললেন, ‘ও একটা পাগল। আমি কালই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’ বস্তুত, পরের দিন সকালে অমর্ত্য সেন ও সাহাবুদ্দিন দুজনই পার্ক প্যারেড পরিত্যাগ করলেন। অমর্ত্য সেন বিবেচনা করলেন, বাড়িওয়ালি হয়তো নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবেন এই ভেবে যে সম্ভবত তিনি আর এমন ভাড়াটে পাবেন না, যারা হয় মিথ্যুক অথবা বিধাতাবিহীন অথবা সম্ভবত উভয়ই।

তিন.

তবে আগেও যেমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, অমর্ত্য সেনের প্রাইওরি রোডের দীর্ঘমেয়াদি বাড়িওয়ালি ছিলেন একেবারেই অন্য রকম। তিনি মিসেস হেঙ্গার বলে পরিচিত এবং অনেক দয়ালু ও পৃথিবী সম্পর্কে আগ্রহী। হেঙ্গার প্রথম সাক্ষাতে অকপটে স্বীকার করলেন, অমর্ত্যকে বাড়িতে পেয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন, কারণ এর আগে কখনো অশ্বেতাঙ্গ কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, যদিও ট্রেনে বা বাসে তিনি তাদের দেখেছেন। বস্তুত, তিনি ট্রিনিটিকে বলে দিয়েছিলেন ভাড়াটে অশ্বেতাঙ্গ না হলে তার জন্য ভালো হয়। এর উত্তরে কলেজ তাকে সাবধান করে বলে দিয়েছে, বাড়িওয়ালিদের তালিকা থেকে তার নাম তুলে নেয়া হবে। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বলেছেন, যে কেউ আসুক, তার কোনো আপত্তি নেই। অমর্ত্য সেন ভাবলেন, আবাস কর্মকর্তা এর পরই বোধ হয় মজা করার জন্য তড়িঘড়ি করে একজনকে পাঠিয়েছেন, যে সন্দেহাতীতভাবে অশ্বেতাঙ্গ।

দেখা গেল হেঙ্গারের অশ্বেতাঙ্গ মানুষের প্রতি ভীতির পেছনে তার বিজ্ঞানবোধের যৌক্তিক বিচারবুদ্ধি কাজ করেছে। প্রথম দিন অভ্যর্থনা জানিয়ে বস্ফািরিত দৃষ্টিতে প্রশ্ন ছুড়লেন অমর্ত্যের দিকে—‘গোসল করলে মানে প্রকৃত গরম পানির গোসলে তোমার রঙ কি গা থেকে গোসলখানার মেঝেতে নেমে যাবে?’ অমর্ত্য তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, তার গায়ের রঙ প্রীতিকরভাবে পোক্ত ও টেকসই। তারপর বাড়িওয়ালি ব্যাখ্যা করে চললেন কীভাবে বিদ্যুৎ কাজ করে এবং কীভাবে একটা উজ্জ্বল আলোকিত কক্ষে পর্দা না সরালেও অমর্ত্য সেনকে দেখা যাবে, এমনকি যখন অমর্ত্য দেখবেন বাইরে অন্ধকার ইত্যাদি।

এ ব্যাপারগুলো সমাধান হওয়ার পর বাড়িওয়ালির সব প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত হতে থাকল অমর্ত্য সেনের জীবন অপেক্ষাকৃত আরো ভালো এবং সুখকর করার উদ্দেশ্যে। কিছুদিন পর তার মনে হলো, অমর্ত্য সেন যেন শুকিয়ে যাচ্ছেন (আজ কী স্মৃতিজাগানিয়া চিন্তা অমর্ত্যের কাছে) এবং তিনি বেশ অপুষ্ট। সুতরাং বাড়িওয়ালি অমর্ত্যের জন্য একটা ফুল ফ্যাট মিল্ক ফরমাশ করে বললেন, ‘সেন, প্রতিদিন সকালে তোমাকে এটা পান করতে হবে, আমার জন্য অন্তত এক গ্লাস প্লিজ, আমাদেরকে ধীরে ধীরে তোমার শক্তি গড়ে তুলতে হবে।’

চার.

অবশেষে ১৯৫৪ সালের গ্রীষ্মে অমর্ত্য সেনকে ট্রিনিটির রাস্তার অন্যদিকে এবং গ্রেট কোর্টের বিপরীতে হেওয়েলস কোর্টের ট্রিনিটিতে জায়গা দেয়া হয়। একটা সুন্দর শোওয়ার ঘরসহ কক্ষগুলো সুপ্রশস্ত। অবশ্য যেমনটি ছিল অধিকাংশ কলেজে, স্নানাগার বা শৌচাগার পেতে কোর্ট পার হতে হতো এবং তোয়ালে হাতে গ্রেট কোর্টে গোসল সারতে যাওয়ার বিকল্প ছিল না। আবার যেহেতু রুমে গরম পানির ব্যবস্থা ছিল না, তাই প্রতিদিন সকালে বেড মেকার দুই জগ গরম ও ঠাণ্ডা পানি একটা বড় থালাসহ রেখে যেত, যাতে অমর্ত্য সেন প্রক্ষালন ও দাড়ি কামাতে পারেন।

কলেজে আবাসন পেয়ে অমর্ত্য সেন খুশি হয়েছিলেন, যদিও প্রাইওরি রোডে হেঙ্গারের বাড়ি ছাড়তে দুঃখ পেয়েছিলেন। এরই মধ্যে তিনি হেঙ্গারকে পছন্দ করতে শুরু করেছিলেন, কারণ বাড়িওয়ালি সর্বদাই বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন। মজার ব্যাপার, অমর্ত্য সেন ওখানে থাকার বছরেই বর্ণসমতার পক্ষে নিজেকে তিনি একজন ক্রুসেডর বা যোদ্ধা হিসেবে রূপান্তর করেছিলেন। ১৯৫৩ সালের অক্টোবরে প্রথম যখন অমর্ত্য তার বাড়িতে গিয়েছিলেন, তিনি সেনের গায়ের রঙ নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে তার গোসলখানায় অমর্ত্যের গায়ের রঙ নেমে যেতে পারে বলে শঙ্কিত বোধ করতেন। অথচ অমর্ত্য সেন চলে আসার আগে সেই হেঙ্গার আশপাশের সবাইকে ‘সব মানুষ সমান’—একথা উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

১৯৫৪ সালে যখন অমর্ত্য সেন তার কাছ থেকে বিদায় নিতে গিয়েছিলেন, তিনি অমর্ত্যকে ঘরে বানানো কেক ও চা দিয়ে আপ্যায়িত করে বলেছিলেন, অমর্ত্য সেনের অনুপস্থিতি তিনি অনুভব করবেন। তারপর কথোপকথনে বর্ণ-সম্পর্ক টেনে আনলেন, সঙ্গে বেশকিছু প্রগতিশীল প্রসঙ্গ। হেঙ্গার বললেন, নিয়মিতভাবে যেতেন এমন এক ডান্স ক্লাবে এক ইংরেজ নারীকে তিনি লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এবং এর কারণ সঙ্গী খুঁজছিল এমন এক অশ্বেতাঙ্গের সঙ্গে সে নাচতে রাজি ছিল না—‘আমি খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়লাম এবং লোকটিকে খপ করে ধরে তার সঙ্গে ১ ঘণ্টার বেশি নাচলাম যতক্ষণ না সে বাড়ি যেতে চাইল।’

অনেক বছর পর ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে কেমব্রিজে ফিরে এসে অমর্ত্য সেন ভদ্রমহিলার সঙ্গে আবার দেখা করতে চাইলেন এবং ভাবলেন মাস্টার্স লজে হয়তো তিনি এক কাপ চা উপভোগ করবেন। কিন্তু ফোন ডাইরেক্টরি কিংবা অন্যভাবে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার হদিস মিলল না। এমনকি তিনি প্রাইওরি রোডেও গেলেন কিন্তু কেউ বলতে পারল না হেঙ্গার কোথায় গিয়েছেন। অবশ্য শেষ দেখার ৪৮ বছর পর তাকে একই জায়গায় প্রত্যাশা করাটাও বোকাটে।

অবশেষে অমর্ত্য সেনের পরিতাপ—‘আমার উষ্ণ ও দয়ালু বাড়িওয়ালিকে একনজর দেখতে না পেয়ে আমি দুঃখিত হয়েছিলাম।’

 

আব্দুল বায়েস: অর্থনীতির অধ্যাপক; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক