সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিরা গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলের মধ্যকার ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরে মিলিত হয়েছে। এ চুক্তি (হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের ভাষায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’) গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দুটি দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক জ্যারেড কুশনার ‘একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের’ সূচনা হিসেবে মার্কিন সমর্থিত এ শান্তি চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং বিতর্কিতভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এ ব্যাপারে সুদান, সৌদি আরবসহ আরো অনেক দেশকে পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের বেশ অগ্রগতি ঘটেছে। উপসাগরীয় দেশ ওমান ইসরায়েল ও বাহরাইনের মধ্যকার চুক্তির সূচনা করেছিল এবং সংকেতও দিয়েছিল যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তারা হতে পারে পরবর্তী দেশ। এ চুক্তিতে স্বল্পমেয়াদে অবশ্য সৌদি আরবের সই করার সম্ভাবনা মনে হয় কম।
ট্রাম্প আরো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ‘ইতিহাসের পরিক্রমা বদলে দেবে এবং কয়েক দশকের বিভাজন ও সংঘাতের অপসারণের মাধ্যমে একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ভোরের উদয় ঘটাবে।’ ট্রাম্প বলেছেন, এটি ‘ভবিষ্যতের দিকে যাত্রার একটি প্রধান পদক্ষেপ, যেটি সব বিশ্বাস ও অবস্থানের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতপূর্বক একত্রে বসবাসের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে।’
গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান মধ্যস্থতাকারী এবং ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চালক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটনে সর্বশেষ এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছিল ১৯৯৪ সালে, যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইত্জহাক রবিন ও জর্ডানের রাজা হুসাইনের যৌথ একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দর্শক হিসেবে ছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যেটি কয়েক মাস পর ওই অঞ্চলে শান্তির পথ তৈরি করেছিল। তারও আগে ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট কার্টার মিসরের প্রেসিডেন্ট সাদাত এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মিনাচেম বেগিনের মধ্যকার একটি শান্তি চুক্তির তত্ত্বাবধান করেছিলেন।
এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু একদিনে দুই দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি সই করেছেন। এটি তার রাজমুকুটে একটি নতুন পালক সংযোজন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হোয়াইট হাউজের অনুষ্ঠানটি নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ বিচ্যুত (১৮ শতাংশ বেকারত্ব মোকাবেলায় পর্যুদস্ত একটি অর্থনীতি, করোনাভাইরাস সংকটে দেয়া দ্বিতীয় সাধারণ লকডাউন ঘিরে বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগে তার নিজের বিচার প্রক্রিয়া প্রভৃতি) করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইরানের বিপক্ষে একটি পারস্পরিক মৈত্রী দ্বারা চালিত হয়ে ইসরায়েল সুন্নি অনেক উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখেছিল। এমনকি তাদের সম্পর্ক কিছু ক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি এক দশকের বেশি সময় আগে সম্পন্ন করায় সহায়তা করেছিল, যেহেতু উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অবস্থান থেকে সুবিধা নিতে এবং একইভাবে ইসরায়েল গোলযোগপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে তার অবস্থান নিশ্চিতের দিকে তাকিয়েছিল। এই গোপন সম্পর্কের নাটের গুরু হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৫ সালের শেষের দিকে ইসরায়েল আবুধাবিতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়্যাবল এনার্জি এজেন্সিতে একটি কূটনৈতিক মিশন খুলেছিল। ২০১৮ সালে তত্কালীন ইসরায়েলি সংস্কৃতিমন্ত্রী মিরি রেগেভ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত জোডো টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দেশটির গ্রান্ড মস্কে রাষ্ট্রীয় সফর করেছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানীয়দের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশয়-সন্দেহ কাজে লাগিয়েছে। বাহরাইনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ১৯৬৯ সাল নাগাদ ইরান দাবি করতে অভ্যস্ত ছিল যে অধিকারবলে বাহরাইনের কিছু অংশ তার ভূখণ্ড। বাহরাইনের সুন্নি শাসকরাও অশান্ত শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর একাংশকে ইরানের সম্ভাব্য ফিফথ কলাম হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে।
একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাহরাইনের ক্ষুদ্র অথচ স্থিত একটি ইহুদি জনগোষ্ঠীও বেশ অনেক বছর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এ জনগোষ্ঠীর একটি সদস্যও যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ক্ষুদ্র উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য হোয়াইট হাউজের পরিকল্পনার অর্থনৈতিক অংশ উন্মোচনেও হোস্ট হিসেবে কাজ করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে (এবং পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে) সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছে—যেটি এমন এক সময়ে করেছে, যখন ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনিদের সংঘাত নিরসনে কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। উল্লিখিত প্রতিটি দেশই তাত্পর্যজনক মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিতে সহায়তা করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনী আবুধাবির বিমান ঘাঁটিতে এফ-৩৫ ফাইটার জেট বিস্তৃত করেছে, অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহর ও কেন্দ্রীয় কমান্ড স্থাপিত হয়েছে বাহরাইনে। এই সামরিক উপস্থিতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে মূলত দেশ দুটির ইরানবিরোধী মৈত্রী এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে।
ফিলিস্তিনিরা যা ঘটেছে সেটিকে সম্পূর্ণ ন্যায্যভাবে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। মনে করা যেতে পারে যে আরব রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বেশ আগে ২০০২ সালের সৌদি পরিচালিত আরব পিস ইনিশিয়েটিভ ইসরায়েলি ফিলিস্তিনিদের সংঘাতের ইতি টানার আহ্বান জানিয়েছিল। সংঘাত অবসানের প্রস্তাবে কোনো অগ্রগতি না দেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এখন স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়েছে। সংগত কারণে ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেম, আল-আকসা মসজিদ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছে।
অবশ্য ফিলিস্তিনিদের সুযোগের তালিকা মনে হয় সংকুচিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ইরান, তুরস্ক ও আরো কয়েকটি দেশের সমর্থন রয়েছে, তবে এর ঐতিহ্যিক আরব অংশীদাররা ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দিকে যাত্রা করছে। উল্লেখ করা দরকার, এ যাত্রার লক্ষণ হিসেবে আরব লিগ ফিলিস্তিনিদের সমর্থিত একটি প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয়েছে, যার জন্য তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে।
তথাপি এখানে এটিও উল্লেখ করা যথার্থ হবে যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন কীভাবে এই সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা ঐক্যবদ্ধভাবে-সর্বসম্মতিক্রমে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সই হওয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব উল্লেখ করেছে যে ‘এটি আমাদের পিঠে এবং সব আরব জাতির পিঠে ছুরিকাঘাত।’ ফিলিস্তিনিদের নেতারা এও বলেছেন, আলোচ্য চুক্তি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনে সাহায্য করেছে। আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের করা মন্তব্য সম্পর্কেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা মত দিয়েছে—যিনি বলেছেন যে ‘আরো ইসরায়েলি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে আলোচ্য চুক্তি করা হয়েছে।’ ফিলিস্তিনিরা এ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা দেখছে না এবং তারা মন্তব্য করেছে, ‘এ চুক্তি পরোক্ষভাবে জেরুজালেমে ইসরায়েলের সম্প্রসারণ অনুমোদনেরই একটি ফরম্যাট।’ এটি অধিকতর দখলদারিত্বের বিরোধিতা করে বটে, কিন্তু এর মাধ্যমে আগের দখলদারিত্বের অনুমোদনই পাকাপোক্ত হলো। ফিলিস্তিনি এবং অন্য কিছু মুসলিম দেশের নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তির ক্ষেত্রে আল-আকসা মসজিদের পরিবর্তে হারাম আল-শরিফ শব্দবন্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ১৯৬৭ সালের স্থিতাবস্থার অধীনে কেবল মুসলমানরাই আল-হারাম-আল-শরিফে প্রার্থনা করতে পারে; আল-আকসা মসজিদ চত্বর নামেও যা পরিচিত। অমুসলিমরা বেড়াতে যেতে পারে বটে, কিন্তু তারা সেখানে প্রার্থনা করতে পারে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও ২০১৫ সালে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই স্থিতাবস্থা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। অবশ্য ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার সাম্প্রতিক চুক্তিতে সংযোজিত একটি ধারা ইঙ্গিত দেয় যে সেটি আর কোনো বিষয় না-ও হতে পারে। জর্ডান বর্ণনা করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তি স্থবির শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে পারে, যদি আলোচ্য ভূমিতে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র মেনে নেয়ায় ইসরায়েলকে উৎসাহিতকরণে এটি সফল হয়—যেটি ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় ইসরায়েল বেদখল করেছিল। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র, আলোচ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ চুক্তিকে ‘আবুধাবি ও তেলআবিব থেকে কৌশলগত নির্বুদ্ধিতার’ কাজ হিসেবে নিন্দা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জন্য তুরস্কও খুব গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেন এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের মন্তব্য থেকে এটি ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ ‘ছিল ওই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান’। রাশিয়া অবশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে ‘ফিলিস্তিন সমস্যার’ সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তি আসতে পারে না।
কাতার সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনিদের সংঘাত অবসানের ‘উত্তর’ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণ দখলদারিত্বের মধ্যে বাস করছে, যেন তারা ‘দেশহীন মানুষ’। এক্ষেত্রে এটি স্মরণ করা যেতে পারে যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর ২০১৭ সালের জুনে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একই সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ সমর্থন দিয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে দেশটি খুব ঘনিষ্ঠ—এ দাবি করে দোহার ওপর নৌ, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করেছে। কাতার ধারাবাহিকভাবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। দেশটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, ‘সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো ‘বৈধ ন্যায্যতা-সমর্থনযোগ্যতা নেই।’
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন, তিনি আশা করেন ইসরায়েল ও অন্যদের মধ্যকার সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ ফিলিস্তিনিদের নিয়ে ‘একটি দুই রাষ্ট্রিক সমাধান’ বাস্তবায়নে সাহায্য করতে পারে এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নেতাদের অর্থবহ আলোচনায় পুনরায় সম্পৃক্ত করার একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে—যা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনগুলো, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে একটি দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান বাস্তবায়ন করবে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রকাশ্য স্বীকৃতির অফার একটি সাধুবাদপ্রাপ্য, সাহসী এবং ভীষণভাবে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রনায়কত্বের কাজ...বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন এই অগ্রগতি শক্তভাবে বিনির্মাণের পথ সন্ধান করবে। একই বাইডেন ইসরায়েল কর্তৃক যেকোনো সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্ব সম্পর্কে উদ্বেগও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেকোনো সম্প্রসারণ-দখলদারিত্বের প্রচেষ্টা হবে শান্তির প্রশ্নে একটি শারীরিক আঘাত সমতুল্য, যেজন্য এখনই আমি এর বিরোধিতা করি প্রেসিডেন্ট হিসেবে।
এটিও উল্লেখ করা দরকার, বর্তমানে আমরা যা দেখছি, সেটি লেনদেনমূলক কূটনীতির ধ্রুপদী উদাহরণ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব জাপান—সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং গ্রুপ—এরই মধ্যে ইসরায়েলের ব্যাংক হাপোয়ালিমের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। উপসাগরীয় দেশটি এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি থেকে তারা যে সুফলটি দেখছে তা হলো, এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ পেতে অনেক সহজ হতে পারে। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক কুশনারও এই মতামত ব্যক্ত করেছেন। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণের ইউএস ইনভেনটরিতে অত্যাধুনিক ফাইটার জেট পাওয়ার সুযোগ এবং এ অঞ্চলে অন্য যেকোনো সামরিক বাহিনীর চেয়ে তাদের তাত্পর্যপূর্ণ শক্তি জোগাবে, কেবল ইসরায়েল বাদে। অবশ্য এটি কম স্পষ্ট যে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি থেকে বাহরাইন সুনির্দিষ্ট কী লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী। তবে ইউএই ও বাহরাইন উভয়ের জন্য আলোচ্য চুক্তি কারিগরি সহযোগিতার সম্ভাবনা, আয়রন ডোম মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের মতো সামরিক প্রযুক্তিসহ ইসরায়েলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেনা এবং স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে সহযোগিতার সুযোগ উন্মোচন করবে।
মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্রসংক্রান্ত বিষয়াদির বিশ্লেষক এবং সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার










