শিক্ষার
লক্ষ্য হলো
মানুষের মতো
‘মানুষ’
হওয়া। ছোটবেলা
বড়দের কাছে
তেমনটাই শিখেছিলাম।
কিন্তু পরে
বুঝলাম জীবনে
আর্থিক নিশ্চয়তা
ও সম্মানজনক
পেশায় যুক্ত
হওয়ার লক্ষ্যেই
মূলত আমরা
পড়ালেখা করি।
হয়তো সে
কারণেই কর্ম
ও কর্মীর
সংখ্যায় চাহিদা
ও জোগানে
এত পার্থক্য
হচ্ছে। প্রতি
বছর বিপুলসংখ্যক
তরুণ পাস
করে বের
হচ্ছেন। কিন্তু
সে তুলনায়
তাদের দৃষ্টিতে
‘সম্মানজনক’
কর্মের সুযোগ
সৃষ্টি হচ্ছে
না। ফলে
বেকারত্বের বোঝা
বাড়ছে। আমাদের
সীমিত সামর্থ্য
দিয়ে সহসা
তা সমাধানের
লক্ষণও স্পষ্ট
নয়।
স্বভাবতই মানুষের
যা থাকে,
তাকে খুব
একটা ‘ভ্যালু’
দেয় না।
যা নেই
বা যে
বিষয়ে বাস্তব
অভিজ্ঞতা কম,
সেগুলোকে অনেক
বেশি আকর্ষণীয়
মনে হয়।
পেশা পছন্দের
ক্ষেত্রেও তার
ব্যতিক্রম হচ্ছে
না। দেশের
অধিকাংশ তরুণ
কৃষক পরিবারে
জন্মগ্রহণ করলেও
কৃষিকাজ তাদের
কাছে আকর্ষণীয়
নয়। বিদেশ
গমন, সরকারি-বেসরকারি
চাকরি, এমনকি
ব্যবসা তাদের
কাছে সম্মানজনক
মনে হলেও
সাধারণত কৃষিনির্ভর
একটা কিছু
করার কথা
তারা ভাবতে
পারেন না।
এক্ষেত্রে ছোটবেলা
দেখা ‘সারেন্ডার’
সিনেমার কথা
মনে পড়ছে।
ধনীর দুলালী
শাবানাকে বিয়ের
জন্য গরিব
পরিবারের সন্তান
জসিম প্রস্তাব
নিয়ে যায়।
তখন চৌধুরী
সাহেব জানতে
চান, তোমার
বাবা কী
করেন? নায়ক
বলল, কৃষিকাজ
করেন। নায়িকার
বাবা তখন
তাচ্ছিল্য করে
বলেন, ও
তার মানে
চাষা! জসিম
প্রতিবাদ করে
বলে, না
তিনি একজন
চাষী। জবাবে
চৌধুরী সাহেব
বলেন, আ-কারই
(া) লাগাও
আর ঈ-কারই
(ী) লাগাও,
অর্থের কিন্তু
কোনো পার্থক্য
হয় না!
হয়তো সে
কারণেই আমাদের
প্রচলিত শিক্ষা
ব্যবস্থা প্রত্যেক
শিক্ষার্থীকে ‘সাহেব’
বানানোর অঘোষিত
এক প্রক্রিয়া
চালু রেখেছে।
তারা এমএ
পাস করে
১০-১২
হাজার টাকা
বেতনে এনজিওর
চাকরি করতে
দেশের এক
প্রান্ত থেকে
অন্য প্রান্তে
ছুটতে রাজি
আছেন, কিন্তু
পৈতৃক পেশা
কৃষিকে অবলম্বন
করে একটা
উদ্যোগ নেয়ার
কথা কল্পনাও
করেন না।
এ-সংক্রান্ত
আলোচনায় আমরা
সাধারণত এমন
মনোভাবের জন্য
তরুণদের একচেটিয়া
দোষারোপ করি।
বিপুল সম্ভাবনা
থাকা সত্ত্বেও
তারা কেন
কৃষিসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে
মনোযোগী হচ্ছেন
না, তা
নিয়ে উষ্মা
প্রকাশ করি।
কিন্তু বিষয়টা
গভীরভাবে চিন্তা
করলে অনেক
দৃশ্যমান ও
অদৃশ্য বাধা
লক্ষ করা
যায়। সেগুলো
অতিক্রম করে
একজন তরুণের
পক্ষে কৃষি
উদ্যোক্তা হওয়া
সত্যিই কঠিন,
অনেক ক্ষেত্রে
অসম্ভব। আজকের
নিবন্ধে সেদিকগুলো
সংক্ষেপে তুলে
ধরতে চেষ্টা
করব।
আমাদের নীতিনির্ধারক,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ,
অভিভাবক এমনকি
শিক্ষার্থী সবারই
মোটের ওপর
মানসিক গঠন
এমন যে
লেখাপড়া করতে
হয় ‘চাকরি’
করার জন্য।
এমনকি যারা
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বা ইনস্টিটিউটগুলোয়
পড়ালেখা করেন,
তাদেরও লক্ষ্য
থাকে সংশ্লিষ্ট
ক্ষেত্রগুলোয় চাকরি
করা। লেখাপড়া
শিখে কৃষিকাজে
যুক্ত হওয়া
যায় বা
সম্ভব, পুরো
সিস্টেম সেটা
মনে করে
না।
ফলে কোনো
তরুণ-তরুণী
সৃজনশীল ধারণা
নিয়ে কৃষিতে
একটা কিছু
করতে চাইলে
চারপাশ থেকে
অসংখ্য নেতিবাচক
কথা শুনতে
হয়। তারা
বহু অসহযোগিতার
সম্মুখীন হন।
শিক্ষিত সন্তান
বছরের পর
বছর বেকার
থাকলেও মা-বাবার
সহ্য হয়।
কিন্তু সে
কৃষিসংশ্লিষ্ট কোনো
কাজ করবে,
সেটা তারা
মানতে পারেন
না!
বলা হয়,
আমাদের দেশ
কৃষিপ্রধান। অথচ
শিক্ষার কোনো
স্তরে কৃষিকে
সেভাবে গুরুত্বসহকারে
তুলে ধরা
হয় না।
এমনকি কৃষিকাজ
যে সম্মানজনক
পেশা হতে
পারে তেমন
ধারণাও দেয়া
হয় না।
ফলে পড়ালেখার
একেকটি ধাপ
অতিক্রমের মাধ্যমে
কৃষির সঙ্গে
দূরত্ব বাড়তে
থাকে। হয়তো
সে কারণেই
অচেনা-অজানা
পরিবেশে গিয়ে
চাকরি করা
সহজ মনে
হলেও চিরচেনা,
নিজের বসতভিটার
আশপাশে কৃষিকাজ
করা ‘অসম্ভব’
মনে হয়।
ছাত্রজীবনে অনেকেই
পৈতৃক জমি,
পুকুর ও
বাগানকেন্দ্রিক একটা
কিছু করার
কথা কল্পনা
করেন। কিন্তু
‘লোকে
কী বলবে’—এ
বাধা অতিক্রম
করে সত্যিকারের
উদ্যোগী হতে
পারেন না।
আমাদের কারিকুলামেও
উদ্যোক্তা বলতে
শিল্প ও
বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট উদ্যোগকেই
বোঝানো হয়।
ফলে ইচ্ছা
থাকা সত্ত্বেও
অসংখ্য তরুণের
নষ্ট হয়
জীবনের স্বর্ণালী
সময় ও
বিপুল সম্ভাবনা।
এত বাধা
পেরিয়ে তার
পরও কিছু
শিক্ষিত তরুণ
কৃষি ক্ষেত্রে
উদ্যোক্তা হতে
আসছেন। তারা
অনেক বেশি
সহযোগিতা পাওয়ার
কথা ছিল।
কিন্তু নীতিমালা
থেকে শুরু
করে সংশ্লিষ্ট
প্রতিষ্ঠানগুলোর কোথাও
তাদের জন্য
বিশেষভাবে চিন্তা
করা হয়নি।
ফলে যত
আকর্ষণীয় আইডিয়া
নিয়েই তারা
শুরু করুক
না কেন,
শিগগিরই হতাশ
হতে হয়।
প্রথম বাধা
আসে পরিবার
থেকে। মা-বাবা
বেঁচে থাকলে
স্বভাবতই তার
নিজস্ব কোনো
সম্পত্তি থাকে
না। অন্য
ভাইবোনেরা ভাবে
সব জমি
তাকে চাষাবাদ
করতে দিলে
ভবিষ্যতে তারা
সেগুলোর ভাগ
পাবে না।
ফলে তাকে
যৎসামান্য জমি
দেয়া হয়,
যা দিয়ে
হয়তো তার
মেধা ও
শ্রমের সর্বোচ্চ
বাস্তবায়ন সম্ভব
নয়। অন্যের
জমি বর্গা
বা লিজ
নিতে গেলে
তারা ভাবে—‘শখ’
করে এসেছে,
দুদিন পর
সব ছেড়ে
চাকরিতে চলে
যাবে। তাই
তাকে কেউ
জমি দিতে
চান না।
অর্থাৎ দ্রুতই
তিনি উপলব্ধি
করেন যে
চারপাশের মানুষগুলো
তাকে (বা
তার উদ্যোগকে)
বিশ্বাস করে
না!
এরপর ব্যাংক
বা অন্য
কোনো উৎস
থেকে ঋণ
নিতে গেলে
তারা মর্টগেজ
হিসেবে স্থাবর
সম্পত্তি চায়।
একজন তরুণ
তা পাবেন
কোথায়? আমাদের
দেশে বাবা
মারা যাওয়ার
বহু বছর
পরও নানা
কারণে সম্পদের
ভাগ-বাটোয়ারা
হয় না।
ফলে তার
হাতে আসলে
দেয়ার মতো
কোনো ‘কাগজ’
থাকে না।
আর মা-বাবাও
এ ব্যাপারে
সম্মত হন
না, কারণ
তারা ভাবেন,
যে কখনো
কৃষিকাজ করেনি,
তার উদ্যোগের
জন্য জমির
দলিল দেয়া
মোটেই বুদ্ধিমানের
কাজ নয়।
ফলে একদিকে
বিপুল পরিমাণ
জমি অনাবাদি
থাকছে, কৃষি
শ্রমিক পাওয়া
যাচ্ছে না;
অন্যদিকে কৃষি
উদ্যোক্তাকে কেউ
সহযোগিতা করছেন
না।
তার পরও
কিছু তরুণ
এগোতে চেষ্টা
করছেন। তারা
সনাতনী ধারার
চাষাবাদের পরিবর্তে
বৈচিত্র্যময় কিছু
করতে উদ্যোগী
হচ্ছেন। বিশেষত
দেশী-বিদেশী
নানা জাতের
ফুল ও
ফলের ক্ষেত্রে
তারা উল্লেখযোগ্য
কাজ করছেন।
দেশের বিভিন্ন
প্রান্তে এমন
উদ্যোগের কথা
আমরা গণমাধ্যমের
বদৌলতে প্রায়ই
জানতে পারি।
কিন্তু এক্ষেত্রে
ময়মনসিংহের গফরগাঁও
উপজেলার বারবাড়ীয়া
পর্যটন শিল্প
সমবায় সমিতির
উদ্যোক্তা মোখলেছুর
রহমান বেশকিছু
সমস্যার দিকে
ইঙ্গিত করেছেন।
তিনি কাজে
নামার পরে
বুঝতে পারছেন,
দেশের অধিকাংশ
নীতিমালা ও
সাপোর্ট সার্ভিস
সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর
জন্য। অর্থাৎ
এককভাবে কোনো
ব্যক্তি যতই
চেষ্টা করুক
না কেন
কৃষি উদ্যোক্তা
হিসেবে সেই
সুবিধাগুলো পাবেন
না।
গভীর নলকূপ
স্থাপন, দামি
কৃষি যন্ত্রপাতি
কেনা, প্রশিক্ষণ,
উৎপাদিত পণ্য
বাজারজাত ইত্যাদি
ক্ষেত্রে একজন
কৃষি উদ্যোক্তা
কোনোভাবেই সুবিধা
করতে পারবেন
না। তাদের
সমবায় সমিতি
বা অন্য
কোনো ফরম্যাটে
দলবদ্ধ হয়ে
কাজ করতে
হবে। সেক্ষেত্রে
সমমনা, মিলেমিশে
কাজ করার
মতো অন্তত
২০ জন
মানুষ পাওয়া
এখনকার দিনে
অত্যন্ত কঠিন।
ফলে সরকারি
বিভিন্ন দপ্তরের
কৃষিসংশ্লিষ্ট যে
সুযোগ-সুবিধাগুলো
রয়েছে, তা
ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের
খুব একটা
সাহায্য করতে
পারছে না।
ব্যাংক ও
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
কাগজে-কলমে
কৃষকদের সহযোগিতার
অনেক কথা
বললেও একজন
তরুণ উদ্যোক্তার
পক্ষে সেগুলো
থেকে সুবিধা
নেয়া প্রায়
অসম্ভব ব্যাপার।
অথচ শিক্ষিত
তরুণরা কৃষিতে
গেলে আধুনিক
প্রযুক্তি ও
জ্ঞান-বিজ্ঞান
ব্যবহারের মাধ্যমে
বহুগুণ ভ্যালু
অ্যাড করতে
সক্ষম। তাই
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
ও প্রতিষ্ঠানগুলোর
এ ব্যাপারে
আন্তরিকভাবে উদ্যোগী
হওয়া দরকার,
যেন তরুণরা
কৃষি উদ্যোক্তা
হতে আগ্রহী
হন।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে
বড় জটিলতা
জমিসংক্রান্ত। একদিকে
বিপুল পরিমাণ
জমি অনাবাদি
পড়ে রয়েছে,
অন্যদিকে আগ্রহীরা
প্রয়োজনীয় পরিমাণ
ভূমি পাচ্ছেন
না। বিশেষত
সিলেট ও
প্রবাসী অধ্যুষিত
এলাকায় এ
চিত্র প্রায়ই
দেখা যায়।
কারণ তারা
কাউকে চাষাবাদের
জন্য জমি
দিয়ে গেলে
কয়েক বছর
পরে দেখা
যায় তা
নানাভাবে হাতছাড়া
হয়ে যায়।
নিজের জমিতে
আর ফিরতে
পারেন না।
ফলে অলস
ফেলে রাখাকেও
তারা ভালো
মনে করেন!
এক্ষেত্রে কৃষি
দপ্তরের অধীনে
যদি এমন
জমিগুলো অধিগ্রহণ
করে সম্ভাব্য
উদ্যোক্তাদের মাঝে
লিজ দেয়ার
প্রথা চালু
করা যায়,
তবে চাহিদা
ও জোগানের
গ্যাপ অনেকটাই
কমিয়ে আনা
সম্ভব হতে
পারে।
শুধু আবেগ
ও আইডিয়া
থাকলে হবে
না। কৃষিতে
নামার আগে
প্রয়োজন বাস্তবসম্মত
জ্ঞান ও
প্রশিক্ষণ। সেক্ষেত্রে
সরকার যেমন
আইটি খাতে
প্রশিক্ষণ ও
পরবর্তী সাপোর্ট
দিচ্ছে, কৃষিতেও
সেটা করা
দরকার। তাদের
প্রাথমিক অর্থায়নের
ব্যাপারে আরো
সহজ নীতিমালা
হওয়া দরকার।
শিল্প উদ্যোক্তাদের
অনেকে হাজার
হাজার কোটি
টাকা ঋণ
নিয়ে মেরে
দিচ্ছেন, আমরা
সেটা সহ্য
করতে পারছি।
কিন্তু কৃষিকাজে
জড়িতদের মাত্র
কয়েক হাজার
টাকা লোন
পেতে বহুত
কাঠখড় পোড়াতে
হয়। তারা
যদি টাকা
মেরেও দেন,
তা অন্যদের
মতো বিদেশে
পাচার হবে
না, দেশের
মধ্যে থাকবে।
তাই তরুণ
কৃষি উদ্যোক্তাদের
জন্য সহজ
শর্তে (সম্ভব
হলে বিনা
সুদে) ঋণ
ও প্রণোদনা
দেয়ার ব্যবস্থা
করতে হবে।
কৃষির সবচেয়ে
জটিল অংশ
হলো উৎপাদিত
পণ্যের বাজারজাত।
কৃষক তার
সর্বোচ্চ চেষ্টা
দিয়ে ভালো
মানের পণ্য
উৎপাদন করতে
পারেন। কিন্তু
তার মার্কেট
খুঁজে বের
করা, যথাযথ
সংরক্ষণ ও
প্যাকেজিং করা,
ভোক্তার কাছে
পৌঁছানো ইত্যাদি
কাজ তাদের
পক্ষে করা
সম্ভব নয়।
ফলে মধ্যস্বত্বভোগী
এক গোষ্ঠীর
উদ্ভব হয়েছে,
যারা সিংহভাগ
মুনাফা পকেটে
পুরছে। ক্রেতা
অনেক দাম
দিচ্ছেন কিন্তু
তা কৃষকের
হাত পর্যন্ত
পৌঁছাচ্ছে না।
এক্ষেত্রে সরকারকে
প্রয়োজনীয় সিস্টেম
ডেভেলপ করতে
হবে যেন
কৃষকরা প্রকৃত
সুবিধাভোগী হন।
তার চেয়ে
বড় কথা
হলো, আজকের
দুনিয়ায় শুধু
ডমেস্টিক মার্কেটের
কথা বিবেচনায়
নিয়ে কাজ
করা উচিত
নয়; বরং
বিশ্ববাজারে আমাদের
কৃষিপণ্য পৌঁছার
জন্য সংশ্লিষ্ট
সংস্থাগুলোকে উদ্যোগী
হতে হবে।
আমাদের ফুল-ফল-সবজির
মান পৃথিবীর
অনেক দেশের
থেকেই উন্নত।
তাই সেগুলোকে
যথাযথভাবে প্রমোট
করতে পারলে
কৃষি ও
বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জনে বড়
ভূমিকা রাখতে
সক্ষম। সেক্ষেত্রে
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ
ও প্রসেসিংয়ের
জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক
কোল্ড স্টোরেজ,
প্রসেসিং প্লান্ট
এবং ওয়্যারহাউজ
নির্মাণ করতে
হবে। কার্গো
বিমানের চলাচল
বাড়াতে হবে।
পরিশেষে দুটো
তথ্য দিয়ে
শেষ করতে
চাই। ইসরায়েলকে
বলা হয়
স্টার্টআপ নেশন।
অনেকের ধারণা,
তাদের মানুষের
তুলনায় উদ্যোগের
সংখ্যা বেশি!
সেখানে কোনো
উদ্যোক্তা ব্যর্থ
হলে বাঁকা
চোখে দেখা
হয় না;
বরং তার
আইডিয়া জেনুইন
হলে রাষ্ট্র
তাকে বারবার
সুযোগ দেয়
নিজের ধারণা
বাস্তবায়ন করে
জাতির জন্য
অবদান রাখতে।
অথচ আমাদের
দেশে কোনো
উদ্যোক্তা একবার
ফেল করলে
তাকে ঋণদাতাদের
ভয়ে ফেরারি
জীবনযাপন করতে
হয়! কৃষিক্ষেত্র
যেহেতু অনেকটা
প্রকৃতিনির্ভর, তাই
একজন কৃষি
উদ্যোক্তা ফেল
করতেই পারেন।
তারপর যেন
তাকে হতাশ
হতে না
হয়, সেজন্য
ব্যাকআপ সিস্টেম
ডেভেলপ করতে
হবে। তার
উদ্যম, মেধা
ও সৃজনশীলতাকে
আর্থিক ও
অন্যান্য সাপোর্ট
দিতে হবে।
অন্যদিকে প্রায়
৭০ বছর
আগে বঙ্গবন্ধু
চীন সফরে
গিয়ে দেখেছিলেন,
সেখানে কৃষকদের
উৎপাদিত পণ্য
তুলনামূলক বেশি
দামে কেনাবেচা
হয়। কারণ
সে দেশের
মানুষ জানে,
কৃষক ন্যায্য
দাম না
পেলে তার
কাজে আগ্রহ
হারিয়ে ফেলবেন।
তখন বিশাল
জনসংখ্যার ওই
দেশের শুধু
আমদানিনির্ভর খাদ্যের
ওপর ভরসা
করা মোটেই
ঠিক হবে
না। আমাদের
ক্ষেত্রেও একই
কথা প্রযোজ্য।
এ ব্যাপারে
বিস্তারিত জানতে
তার লেখা
‘আমার
দেখা নয়াচীন’
বইটি পড়তে
পারেন।
নোট: বাংলাদেশ
কৃষি যন্ত্রপাতি
প্রস্তুতকারক সমিতির
সভাপতি ও
আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ
লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক আলীমুল
এহছান চৌধুরী
প্রয়োজনীয় তথ্য
ও মতামত
দিয়ে লেখককে
সহযোগিতা করেছেন।
ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ‘মার্কেটিংয়ের সহজপাঠ’ বইয়ের লেখক










