জুনের ৩ তারিখে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে তার ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করেছেন। সঙ্গে ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং বর্তমান সরকারের ১২ বছরের পারফরম্যান্সের একটা ফিরিস্তিও তুলে ধরেছেন। যথারীতি পরের দিন তিনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বাজেট পুরোটাই ব্যবসাবান্ধব। একটি কাগজ তাদের খবরের শিরোনাম করেছে—বিনিয়োগ বাড়াতেই ব্যবসায়ীদের কর ছাড়। একমাত্র দৈনিক বণিক বার্তা ওইদিন (৫ জুন ২১) তাদের খবরের বড় শিরোনাম করেছে—এক দশকের ব্যবধানে বেতন-ভাতায় সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি ২২১ শতাংশ। বার্তা পরিবেশক প্রচুর পরিসংখ্যান দিয়েছেন তার প্রতিবেদনে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, বিশেষজ্ঞদের মতামতও তিনি তুলে ধরেছেন।

বাজেটের কোন বিষয় ধরে আলোচনা শুরু করি তাই ভাবছি। রাজস্ব আয়, রাজস্ব ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয়, বাজেট ঘাটতি, অর্থায়নের উৎস, মূল্যস্ফীতি ছাড়াও রয়েছে আমদানি-রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ইত্যাদি বিষয়। আমার মনে হয়, যেকোনো একটি ধরে এগোলোই অন্যটিতে যাওয়া যায়। অতএব, রাজস্ব বাজেট, যাকে আজকাল বলা হয় অনুন্নয়ন বাজেট বা পরিচালন বাজেট, সেটা ধরেই এগোনো যায়। বণিক বার্তার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। মোট পরিচালন বাজেটের পরিমাণ ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। অতএব, বেতন-ভাতা খরচ দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ। বার্তা পরিবেশকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকে বেতন-ভাতা বেড়েছে ২২১ শতাংশ। বাড়তে বাড়তে তা এখন মোট রাজস্ব বাজেটের ১৯ শতাংশ খেয়ে ফেলছে। এর সঙ্গে পেনশন বাবদ ২০২১-২২-এ যে টাকা খরচ হবে, তা ধরলে কর্মচারী-কর্মকর্তা বাবদ মোট খরচ দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এ খবর খুব আশাপ্রদ নয়। এর দ্বারা বোঝা যায় রাজস্ব ব্যয় কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বাবদ বেশি হচ্ছে। এমনিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তারা ভালো থাকুক সবাই চায়। তারা সুখে-শান্তিতে খেয়ে-পরে থাকুক তা-ই সবাই চায়। কিন্তু এখানে প্রশ্ন অন্যত্র। রাষ্ট্রের খরচ আরো আছে, আছে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রশ্ন। টাকার জোয়ার থাকলে কর্মচারী-কর্মকর্তারা আরো বেশি টাকা পাক, তাতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে টাকার অভাব, রাজস্বের অভাব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভারাক্রান্ত। উন্নয়ন ব্যয় বাড়ছে না। বরং এতে দেখা যাচ্ছে এক স্থবিরতা। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উন্নয়ন বাজেট মোট খরচের বাজেটের ৩৭-৩৮ শতাংশে আটকা পড়ে আছে। অর্থাৎ রাজস্বও আশানরূপ বাড়ছে না, উন্নয়ন বাজেট স্থবির অথচ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ইত্যাদি বাবদ রাষ্ট্রের ওপর বোঝা দিন দিন বাড়ছে। এর আবার আরেক ফল আছে। যেহেতু রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে, রাজস্ব আয় আশানুরূপ বাড়ছে না; অতএব, উন্নয়নের জন্য টাকা ধার করতে হচ্ছে বাজার থেকে এবং বিদেশ থেকে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ পায় কম। আবার সরকারি ব্যাংকের ওপর বোঝা বাড়ে। সরকার তাদের ঋণের ওপর সুদ দেয় কম। বিদেশী ঋণ নানা শর্তে ভরা। সুদও বেশি। অধিকন্তু, সুদ বাবদ খরচ হয় অনেক। ২০২১-২২ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে দেখা যাচ্ছে মোট রাজস্ব ব্যয়ের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশই সুদ ব্যয় হিসেবে রাখা হয়েছে। তাহলে কী দাঁড়াল? বেতন-ভাতা, পেনশন ও সুদের খরচ সামলাতেই বাজেটের ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ চলে যাচ্ছে। বলা বাহুল্য, এসবের পরিণাম উন্নয়ন বাজেটের জন্য খুবই খারাপ। উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়ানোই যাচ্ছে না। তাছাড়া রয়েছে গুণগত ব্যয়ের প্রশ্ন। উন্নয়ন বাজেটের খরচে আমরা ১ টাকার কাজ ২-৩ টাকায় করি, যার সম্পর্কে বণিক বার্তা প্রায়ই প্রতিবেদন প্রকাশ করে (রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে)। এসবের সমাধান হতে পারত রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করতে পারলে। আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে, তার থেকে দেখতে পাচ্ছি কোনো বছরই আমরা লক্ষ্যমাত্রা মাফিক রাজস্ব বাড়াতে পারছি না। হাজার হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রতি বছর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তো প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল। তাহলে রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় কী?

অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে খুবই প্রণিধানযোগ্য কয়েকটা কথা বলেছেন রাজস্ব সম্পর্কে। তিনি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটকে ‘ব্যবসাবান্ধব বাজেট’ হিসেবে নিজেই চিহ্নিত করেছেন। ব্যবসাবান্ধব বাজেট করতে গিয়ে তিনি ব্যাপক হারে ভ্যাট ও কর ছাড় দিয়েছেন। ছাড় দিয়েছেন আয়করে, অবশ্যই ব্যবসায়ীদের আয়করে। ভ্যাট, আমদানি-রফতানি শুল্কে তিনি কর অব্যাহতি দিয়েছেন, ট্যাক্স হলিডে দিয়েছেন, বিভিন্নভাবে কর হার হ্রাস করেছেন। দেশী শিল্পকে আমদানির হাত থেকে রেহাই দেয়ার জন্য নানা সুবিধা দিয়েছেন। এসব সুবিধা দিয়েছেন সব ধরনের ব্যবসাতেই। এতে কৃষিভিত্তিক শিল্প আছে, হালকা শিল্প আছে, ক্ষুদ্র, মাঝারি, কুটির শিল্প আছে, আছে বস্ত্র, তৈরি পোশাকসহ অনেক রফতানিমুখী শিল্প। তার ভাষ্য মোতাবেক এসবের উদ্দেশ্য: রাজস্ব আহরণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানো। কর হার, ভ্যট হার, শুল্ক হার, সম্পূরক শুল্ক হার প্রভৃতি হ্রাস করলে রাজস্ব বাড়বে। মানুষ/ব্যবসায়ীরা ভীতিমুক্ত হয়ে কর দেবে। তার মতে, কর হারের সঙ্গে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির গভীর সম্পর্ক আছে। কর হার কমালে শুধু রাজস্বই বাড়বে না, বাড়বে বিনিয়োগ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো তার বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর অনেক ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ দিয়েছেন। এক ধাক্কাতেই তিনি ঋণের ওপর সুদের হার ৯ শতাংশে সীমিত করেছেন। তা করতে গিয়ে তিনি আমানতের ওপর সুদের হার হ্রাস করেছেন। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের সুবিধা দিতে গিয়ে তিনি ‘ঋণ শ্রেণীকরণের’ লোন ক্লাসিফিকেশন) সংজ্ঞা সহজতর করেছেন। বড় বড় ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে ব্যাংকে মালিকদের আধিপত্য বাড়িয়েছেন। অপ্রদর্শিত টাকা করজালে আনার ব্যবস্থা করেছেন। এভাবে দেখলে আরো অনেক পদক্ষেপের কথা বলা যায়। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তিনি কারো কর হার কমাননি, এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদেরও তিনি কোনো সুবিধা দেননি। কিন্তু দিয়েছেন শুধু ব্যবসায়ীদের। ‘পাবলিকলি ট্রেডেড  কোম্পানির কর ২৫ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। পাবলিকলি ট্রেডেড নয় এমন কোম্পানির কর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ করেছেন। এক ব্যক্তি  কোম্পানির কর কমিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। ছিল সাড়ে ৩২ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে হবে মাত্র ২৫ শতাংশ। এসবের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি করা নয়। প্রধান উদ্দেশ্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, বেচা-কেনা বাড়বে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব করবেন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। তারাই থাকবেন ড্রাইভিং সিটে। তিনি আরো বলেছেন, প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের আরো ছাড় দেয়া হবে। কারণ তারাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। সরকার একা তা পারবে না। তিনি আরো বলেছেন, এতদিন বাজেটকে সাপোর্ট দেয়া হতো ‘মনিটারি পলিসি’ দিয়ে। তিনি মনে করেন, এটা ভুল নীতি। বাজেটকে সাপোর্ট দিতে হবে ‘ফিসক্যাল পলিসি’ দিয়ে। তিনি তা-ই করেছেন। আমরা এতদিন শুনে এসেছি, যারা আয় বেশি করবে তারা কর বেশি দেবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বলছেন, এ নীতি ঠিক নয়। হওয়া উচিত উল্টোটি।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটকে অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য ও তার গৃহীত পদক্ষেপ দিয়ে বিচার করলে বলা যায়, তিনি অতীতের পথ পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ নতুন পথ ধরেছেন। তিনি খোলাখুলি ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেনই, এ বাজেট হচ্ছে ‘ব্যবসাবান্ধব’ বাজেট। বলতে পারতেন, এ বাজেটটি হওয়া উচিত ছিল মধ্যবিত্তের জন্য বাজেট, গরিব মানুষের জন্য বাজেট, প্রান্তিক মানুষের জন্য বাজেট। না, তা তিনি বলেননি। তিনি ‘জীবন ও জীবিকার’ জন্য বাজেট করবেন বলেছিলেন বাজেটের আগে। বাজেট বক্তৃতায়ও ক্ষীণ কণ্ঠে তা বলেছেন। কিন্তু ব্যবসাবান্ধব বাজেট করতে গিয়ে তিনি ‘ব্যালান্স’ হারিয়ে ফেলেছেন। বাজেট শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। বাজেট সামগ্রিকভাবে দেশের সব শ্রেণী-পেশার লোকের বাজেট। এতে সবার হিস্যা আছে, স্বার্থ আছে। এটা শুধু ‘ফিসক্যাল পলিসি ডকুমেন্ট’ নয়। বাজেটের রাজনৈতিক সামাজিক দিক আছে। বাজেটের লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য অসমতা দূরীকরণও। তিনি নিজেই বাজেট বক্তৃতার ১২৪ পৃষ্ঠায় বলছেন, ‘প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা দূরীকরণের প্রধান নিয়ামক।’ তার মানে তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা সম্পর্কে সচেতন। সচেতন হতেই হবে। বাস্তব অবস্থা এবং সকল পরিসংখ্যান ও গবেষণা বলছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা অর্থাৎ বৈষম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে কোনো কিছুই হচ্ছে না। তার ধারণা উন্নয়ন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেই মানুষ আপসেই উপকৃত হবে। উন্নয়নের সুবিধা চুইয়ে নিচে গরিবের কাছে যাবে। এ তথ্য যে ভুল, তা সব দেশেই প্রমাণিত। আরো কথা আছে। তার পদক্ষেপ দেখে মনে হয়, তিনি দেশীয় শিল্পের উৎপাদন বাড়াবেন, বিনিয়োগ বাড়াবেন। এখানে প্রশ্ন, এই উৎপাদিত পণ্য/সেবা কে কিনবে? একথা জানা, বাজার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হচ্ছে মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্তই কর দেয়, তারাই পণ্য কেনে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে যায়, বিনোদনে যায়। তারাই বিলাস পণ্যও কেনে, ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম তারাই কেনে। জামাকাপড়, জুতা, পাঞ্জাবি, শাড়ি-ব্লাউজ, এসি, ফ্রিজ ও টিভি এসবের ক্রেতা মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্তের আকার যত বড়, সে দেশের উন্নয়নও তত বেশি। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বেশি হলে বাজারে উল্লম্ফন সৃষ্টি হয়। বোনাস পাওয়ার পর লোকের বাজারে যাওয়া বৃদ্ধি পায়। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কী করা হয়েছে? আমি অন্তত কিছু দেখি না।

মধ্যবিত্তের আয় কমেছে। আমানতের ওপর সুদের হার হ্রাস পেয়েছে। অনেকেই ঘরবন্দি। একমাত্র সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাদে বাকি সবাই দুশ্চিন্তায়; দুর্ভোগে বহুলোক ঢাকা ছাড়ছে। অনেকেই চাকরিচ্যুত, কর্মচ্যুত, ব্যবসাচ্যুত। তাদের জন্য কি আয়করের হার কিছুটা কমানো যেত না? এতে যে টাকা মানুষের হাতে আসত তা তো বাজারেই যেত। এতে কেনা-বেচা বাড়ত। বাজেটে না হোক, বাজেটের বাইরে হলেও তাদের সম্পর্কে ভাবা দরকার।

পরিশেষে পরিসংখ্যান নিয়ে দুটো কথা বলতে হয়। বাজেট বক্তৃতার শেষের দিকে প্রচুর তথ্য-পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সামগ্রিক খরচের খাতওয়ারি বাজেট বরাদ্দ। এর মধ্যে ছয়টি ভাগ আছে—সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত ও দায় এবং নিট ঋণ দান ও অন্যান্য। এসবের ভেতরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দও স্থান পেয়েছে। শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং খাদ্য, সামাজিক নিরাপত্তায় পরিমাণে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু মোট খরচের শতাংশ হিসাবে এসব খাতে বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে বলেই দেখা যায়। অথচ বক্তৃতার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে এমন পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে, যার সঙ্গে পুরো বাজেটের খাতভিত্তিক বরাদ্দের (বক্তৃতা পৃষ্ঠা-১৬৭) সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন। এটা কি আমাদের বোঝার ভুল, না উপস্থাপনার ভুল, না বাজেট কেরানিদের অবহেলা, তা বোঝা মুশকিল। পরিশেষে বলা দরকার, অর্থমন্ত্রীর নতুন চিন্তাভাবনার ফলে বিনিয়োগ কেমন বাড়ে, রাজস্ব কেমন বাড়ে, কর্মসংস্থান কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

 

ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক