এবারের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ২০১৮-এর আন্দোলন উভয় ক্ষেত্রেই একটি বিষয় লক্ষণীয়, আর তা হলো আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই একের পর এক গোছানো, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের, পুরোপুরি বাতিলের নয়। তাদের দাবি সম্পূর্ণভাবে নাগরিক সমাজ মানবে কিনা সেটি নিয়ে নানা আলাপ-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ২০১৮ সালে বর্তমান সরকারপ্রধান পুরোপুরি কোটা বাতিল করে দেন। সে সময় কোটা বাতিল না করে সংস্কারের জন্য একটি কমিশন করা যেত। মাঝে ছয় বছর পেরিয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে হয়তো একটি যৌক্তিক সংস্কার পাওয়া যেত। কিন্তু আমাদের রাজনীতি কমবেশি সর্বদাই এক দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘাতের রাজনীতি। ফলে যেকোনো যৌক্তিক দাবিকেও ওই দ্বিদলীয় চক্রের ভেতরেই ভাবা হয়। আওয়ামী লীগ ভাবে বিএনপির দোষ, আবার বিএনপিও তেমনটাই ভাবে। এভাবে রাজনীতি দুই দলের দোষারোপের দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে। এ কারণে যেকোনো যৌক্তিক দাবিকে বিবেচনায় না নেয়া কিংবা দমনের ক্ষেত্রে তাদের খুব একটা অসুবিধা হয় না বলে আমার মনে হয়। কেননা ২০১৮ সালে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছে তখন প্রচণ্ড দমন-পীড়ন চলেছে। কিন্তু এটা সত্য যে, গোলাগুলি হয়নি বা হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাননি। এবার যখন আবার আন্দোলন শুরু হলো, তখনো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একই ব্যবহার করা হলো। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হলো। এতে ছাত্রছাত্রীদের মনঃক্ষুণ্ণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ছাত্রছাত্রীরা যেসব স্লোগান দিয়েছে এবং পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার যে ঘোষণা দেন, ছাত্রলীগকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেন, আমরা দেখেছি যে তার পরই ছাত্রলীগ বা তাদের মতো দেখতে মানুষজন পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এর পাল্টা জবাবে শিক্ষার্থীরাও যখন লাঠি নিয়ে নামে তখন গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়।
গোলাগুলি শুরু হওয়ার বিষয়টিই আশঙ্কাজনক ছিল। যখন ক্যাম্পাসগুলোয় গোলাগুলি শুরু হয়েছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এ বিষয়ে মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হতো তাহলে ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলো এড়ানো যেত। এরপর যখন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ মারা গেলেন তখন আন্দোলন আরো বেগবান হলো, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। সামাজিক আন্দোলনের ভাষায় এটিকে বলে ‘ব্যাকল্যাশ প্রটেস্ট’। কোনো সরকার যত বেশি অগণতান্ত্রিক হয়, সে তত বেশি ও দ্রুত তার বিরুদ্ধে যাওয়া আন্দোলনকে দমন বা নস্যাৎ করতে চায়। আর এ কাজ সরকার করে থাকে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন দিয়ে। এছাড়া যেন সরকারের শক্তি খুব বেশি খরচ না হয়ে যায় সেজন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় বর্বর আক্রমণ করে এবং দ্রুতই ফলাফল পেতে চায়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে যে সরকার কেন এমন আচরণ করে? এর উত্তর হলো, যে সরকার যত বেশি অগণতান্ত্রিক হয়, সে তত দ্রুত প্রতিবাদ দমন করতে চায়। কারণ তার মনে ভয় থাকে যেকোনো প্রতিবাদ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যাকল্যাশ প্রটেস্ট এ কারণে বলা যায়, কারণ ছাত্রলীগ, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, এপিবিএনের সম্মিলিত অতিরিক্ত ও অবৈধ শক্তি প্রয়োগও এ আন্দোলনকে দমন করতে পারেনি বরং তা বিশ্ববিদ্যালগুলোয় কেন্দ্রীভূত না থেকে পুরো দেশে ছড়িয়ে গেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করা, শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে দেয়া এবং এসবের মধ্যে অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড সব মিলিয়ে যখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকার রাস্তায় নামলেন, তখন গোলাগুলি চলল, টিয়ারগ্যাস ছোড়া হলো। কিন্তু এটি তো কোনো যুদ্ধাবস্থা নয়, বেসামরিক নাগরিকরা আন্দোলন করছিলেন। সেই আন্দোলন দমন করতে, এসব ফোর্সের ব্যবহার ইতিহাসে নেই এবং কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা ঘটে না। দেশজুড়ে সহিংসতায় অনেক মানুষের প্রাণ গেল, অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাংচুর ও ধ্বংস করা হয়েছে। ইদানীং শোনা যাচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে সব দোষ জামায়াত ও বিএনপির। আমার প্রশ্ন হলো, মেট্রোরেলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেটি ১৮ জুলাই বিকালের পর পুরো বন্ধ হয়ে যায় সেটির কলাপসিবল গেটও বন্ধ থাকে, সেখানে নিরাপত্তা প্রদানকারী ফোর্সও থাকে—এমন একটি স্থাপনা কে ভাঙল? এছাড়া বিটিভি, সেতু ভবন সেগুলোয় কারা আগুন দিলেন, জ্বালাও-পোড়াও করলেন? শিক্ষার্থীরা তো অবশ্যই না। এটি যদি বিরোধীদলীয় কেউ করে থাকে তাহলে এর দুটি অর্থ দাঁড়ায়। এক হতে পারে যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ অথবা পরিস্থিতি যেহেতু তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, কাজেই নানাভাবে ভেঙেচুরে ইচ্ছা অনুযায়ী কারো ওপর দোষ চাপানোর ব্যবস্থা করা। কোনটা ঘটেছে তা বোঝার জন্য পাঠকের বিবেচনাই যথেষ্ট।
এরই মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের পুলিশ বাহিনী ধরে নিয়ে নির্যাতন করছে, আটকে রেখে জবরদস্তি করছে, নির্বিচারে যে কাউকে, বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের মানুষকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, বহু মানুষকে রিমান্ড দেয়া হচ্ছে, পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়। এ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে অনেকেরই আশঙ্কা যে, যারা আসল অপরাধী তারা অগোচরেই থেকে যাবে এবং স্থাপনা ধ্বংসের দায়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা করা হবে।
এসবের মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, এতগুলো মানুষ যারা মারা গেলেন, তারা কারা? তাদের কে মারল? তাদের গুলি করার নির্দেশ কে দিল? মৃত ব্যক্তিরা জামাত-শিবির নাকি সাধারণ মানুষ? যতটুকু জানা যাচ্ছে সবাই প্রায় সাধারণ মানুষ। হয়তো বাজার করতে বের হয়েছিলেন, পুলিশ পেটে গুলি করেছে, কেউ হয়তো কেবল দেখতে বেরিয়েছিলেন যে কী চলছে। কেউ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন, তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। আহত মানুষকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে মানুষ, সেই আহত ছেলেটিকে ক্লোজ রেঞ্জে এগিয়ে গিয়ে গুলি করা হচ্ছে। কিন্তু গুলি করার নির্দেশ কে দিল? যারা এ নির্দেশ দিয়েছেন তাদের পদত্যাগ করা উচিত। যদি ধরে নেয়া হয়, বিরোধী দলের কেউ এ হামলা করে সেতুভবন পুড়িয়েছে বা স্থাপনা ধ্বংস করেছে, তবু যিনি সরকারের দায়িত্বে থাকেন তার একটি দায় থাকে মানুষের নিরাপত্তা বিধান করার। সাধারণ জনগণ হিসেবেও এমন পরিস্থিতি মেনে নেয়া কঠিন।
দেশের প্রধান স্থাপনাগুলো পুড়ে গেছে এবং একদম নিঃশেষ হয়ে গেছে। সে সময় সরকারের বাহিনীগুলো কী করছিল? তারা কাকে মারতে ব্যস্ত ছিল? তারা কি ছাত্র ছিল না? সাধারণ জনতা ছিল না? প্রথম তিনদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এতগুলো শিক্ষার্থী হত্যা করা হলো। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) এক ছাত্রের মরদেহ বা মৃতপ্রায় দেহ একটি সাঁজোয়া যানের ছাদে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বা ছুড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে রাস্তায়—এসবের ভিডিও তো আমরা দেখেছি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একজন নিহত হলেন। আর উত্তরায় আরো ভয়াবহ ব্যাপার ছিল। আমি খেয়াল করেছি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল লাঠি ও ঢিল। তাহলে এ লাঠি ও ঢিলের মধ্যে গুলি কোথা থেকে এল। গুলি যাদের কাছে রয়েছে তারা তো সরকারের বাহিনী। আর সরকারি বাহিনীর পেছনে যারা সাদা পোশাকে থাকে তাদের কাছে গুলি থাকে। তারা হতে পারে পুলিশ বাহিনীর অংশ। আর পুলিশ বাহিনীর অংশ যদি হন তাহলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ বেসামরিক জনতার ওপর গুলি চালানোর এ আদেশ কেন দিলেন? আর যদি তারা পুলিশ বাহিনীর সদস্য না হন তাহলে তারা কারা ছিল পুলিশের পেছনে পেছনে? আর আমি আমার গলিতেও দেখলাম যে, যখন পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড মারছে, গুলি করছে তখনো পুলিশের পেছনে সাদা পোশাকে মানুষ এবং তাদের হাতে অস্ত্র। আমি ধরে নিচ্ছি, যারা সাদা পোশাকে আছেন তারা ডিবি পুলিশ বা অন্য পুলিশ। যদি তা হয়, তার পরও ১২-১৩ বছরের শিশুদের গুলি করা হচ্ছে। এ আন্দোলনে যাদের প্রাণ গেছে তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক এবং এসবের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তারা আন্দোলনকারী। আন্দোলনকারী এতজনকে হত্যা করা হলো! সেটা নিয়ে কোনো কথা নেই? এর কোনো ব্যাখ্যা নেই কেন? এতগুলো মানুষকে জামাত-বিএনপি-শিবির মেরে ফেলেছে? যদি তা-ই হয়, মানে সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী যদি আসলেই বিএনপি-জামায়াতের লাশই দরকার ছিল, তাহলে যখন আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছিল, তখন তো তাদের মারা সহজ ছিল– তখন কেন মারেনি? সরকারকে এ দাবি করার সুযোগ দেয়ার জন্য?
মূলত এখন খুব দরকার, একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন হওয়া। একটা ট্রুথ কমিশন দরকার, যারা সত্য অনুসন্ধান করবেন। যারা প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য জোগাড় করবে যে, মৃত ব্যক্তিটি কে ছিলেন, কেন ও কীভাবে কার গুলিতে মারা গেলেন। হাসপাতালগুলোর কাছে এসব তথ্য আশা করে লাভ নেই। কারণ তারা তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে তেমনভাবে সহযোগিতা করে না আর এও শোনা যাচ্ছে যে, তাদের রেজিস্টার খাতা পুলিশ বাহিনী নিয়ে গেছে। পরিবারের কাছ থেকেই আসলে তথ্যগুলো নিতে হবে। ধরুন, যে শিশুটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে গুলি খেল কিংবা বাসার ছাদে গিয়ে বাবার কোলে গুলি খেয়ে মারা গেল—এ মানুষগুলোর হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়াটা জরুরি। সেটা নিয়ে সবার আগে কথা বলা প্রয়োজন।
এই যে অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো—এর দায় আসলে সরকার ছাড়া কাউকে দিতে পারছি না। আমার ধারণা, বেশির ভাগ নাগরিকই একমত হবেন এ কথার সঙ্গে। অনেকেই বলছেন মানুষ হঠাৎ ক্ষেপে গেল কেন! হঠাৎ তো না; ১৫ বছর ধরেই মানুষের মনে অসন্তোষ জন্মেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারি কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত রকমের দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া, হত্যা-হামলা-ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ বা যুবলীগের পার পেয়ে যাওয়া, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং এ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা না থাকা, সম্পূর্ণ নতজানু সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটি, জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে থাকা, উন্নয়নের ডামাডোলের মধ্যে তারা যা কিছু করছে, তার মধ্যে বিরাট অংকের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া—এগুলো তো আমরা দেখতে পাচ্ছি। পরিষ্কার দেখছি, কেউ না কেউ দুর্নীতি করে টাকা সরিয়ে ফেলছে। আর সেই বোঝাও দেশের সাধারণ জনগণকে টানতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে নেয়া টাকা যদি সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হতো তাহলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আমি আমার এলাকায় যাদের রাস্তায় নামতে দেখেছি, তাদের আমার কাছে মনে হয়েছে তারা একেবারেই সাধারণ মানুষ। তাদের হাতে লাঠি ও ঢিল ছাড়া কিছুই নেই। এর মধ্যে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাও একটি চরম অগণতান্ত্রিক আচরণ যা মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। একবিংশ শতাব্দীতে একটি জাতিকে অন্ধকারে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই হতে পারে না। সব বিবেচনা করলে বাংলাদেশে গত সাতদিনের ঘটনায় নানাভাবে মানুষের সাধারণ ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।
বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা জোর করে স্বাভাবিক হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে। সর্বপ্রথম একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন বা ট্রুথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা দরকার। আর কারফিউ প্রত্যাহার করা জরুরি। ক্যাম্পাসগুলোয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। যেসব উপাচার্য ও প্রক্টর পুলিশের মাধ্যমে ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে জোর করে বের করেছেন, সেসব উপাচার্য ও প্রক্টরের হাতে এ কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এটা ভীষণ কষ্টকল্পনা মনে হয়। সে কারণেই শিক্ষার্থীদের যদি নিরাপত্তা দিতে চাই তাহলে পরিবর্তন দরকার। এ পরিবর্তন না হলে আস্থা তৈরি হওয়া কঠিন।
এসব বিচারে আমার মনে হয়, সরকারের উচিত আস্থা ফেরাতে এখন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা। আর এরপর এমন পরিস্থিতি যেন কখনই তৈরি না হয় সেজন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। সরকার যদি নিজের দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে আসলেই উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন, তাহলে তার উচিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
সরকারের কাছে অনুরোধ, জনগণের করের টাকায় কেনা মেট্রোরেলের কাচের জন্য অশ্রু বিসর্জনের আগে দুই শতাধিক জনগণ হত্যার দায় নেয়ার সৎ সাহস দেখান। হাজারো আহত তরুণ, লাখো নাগরিকের ক্ষোভের দায় যদি নিতে পারেন তাহলে প্রমাণ হবে কেমন শাসক আপনারা। দায় নেবেন না বলেই জনতা আজ জানে, মানে এবং চিৎকার করে বলার সাহস ধরে—স্বৈরশাসক আপনারা!
সামিনা লুৎফা: সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










