বিশিষ্ট ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। তিনি পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার। ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের পরিচালক ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সিটিব্যাংক এনএ, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট ও ইনস্টিটিউশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এম এম মুসা
চলতি বছরের
শুরুর দিকে
নতুন অর্থমন্ত্রী এসে বলেছিলেন খেলাপি ঋণ
কমিয়ে আনবেন। বছর শেষে
এক্ষেত্রে কোনো
অগ্রগতি দেখছেন?
আমি
খেলাপি ঋণের
সমস্যাটিকে অনেক
বড় করে
দেখি। এ
সমস্যাটি কেবল
ব্যাংকিং খাতের
নয়, আমাদের
করপোরেট খাতের।
বণিক
বার্তাসহ
প্রথম সারির
সংবাদ মাধ্যমে
প্রচুর প্রতিবেদনে
প্রকাশ হয়েছে
যে ব্যাংকিং
খাতের অর্থ
গুটিকয়েক লোকের
কাছে। আমরা
অর্থায়নকে (ফিন্যান্সিং)
বিভিন্ন কারণে
অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে
পারিনি। ফলে
ভালো হোক
বা মন্দ
হোক স্বল্পসংখ্যক
মুখচেনা ব্যবসায়ী
বা শিল্পগোষ্ঠীই
ব্যাংক খাতে
মোটা অংকের
ঋণ নিয়ে
থাকেন। সেদিক
থেকে ব্যাংকের
অর্থ ফেরত
দেয়া বা
পরিশোধের সঙ্গে
করপোরেট-শিল্প
খাতের নৈপুণ্যের
চরিত্রের একটি
সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথমে আসা
যাক চরিত্র
প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে
স্বজনতোষী পুঁজিবাদ
বা লুটেরা
বুর্জোয়াদের আশ্রয়-প্রশয়
দিয়ে বড়
করেছি, তারা
মোটা অংকের
অর্থ নিয়েছেন।
সেটি ১৯৭২
সালের পরে
বা এরশাদের
সময় কিংবা
সাম্প্রতিক সময়ে
হোক। আগে
ঋণের জন্য
অন্তত একটি
ব্যাংক উপযোগী
পরিকল্পনা (ব্যাংকেবল
প্ল্যান) করতে
হতো। নব্বইয়ের
দশকের পর
দেখেছি তাও
করতে হয়নি।
তার পরও
রাজনৈতিক আনুকূল্যে
তারা মোটা
অংকের ঋণ
নিতে পেরেছেন।
ইদানীং ঋণের
অ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে
ব্যাপক দুর্বলতা
দেখেছি।
অতীতে আমরা
তিনভাবে ঋণখেলাপি
দেখেছি। এক.
প্রয়োজনের অতিরিক্ত
অর্থ বেরিয়ে
গেছে, অর্থ
ডাইভার্ট হয়েছে
কিংবা অর্থ
বিদেশে চলে
গেছে; দুই.
এই শ্রেণীভুক্ত
ঋণখেলাপিরা প্রতিযোগিতাকে
নজরদারিতে আনেনি।
প্রতিযোগিতা কী।
একটা হতে
পারে মিয়ানমার
বা ভারত
থেকে স্মাগলিং।
আরেকটি হতে
পারে ডাম্পিং।
আমাদের উৎপাদন
খরচের তুলনায়
আরো কম
দামে পণ্য
সহজলভ্য করা
যাচ্ছে। আরেকটি
হলো আমাদের
কোনো কোয়ালিটি
শিফট ছিল
না, যা
উৎপাদন করা
হতো, তা-ই
আমরা পরিভোগ
করতাম। ইদানীং
মানুষের যেহেতু
ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে,
সেহেতু দেশে
কোয়ালিটির দিকে
তাদের ধীর
রূপান্তর ঘটছে।
তারা মানসম্পন্ন
পণ্য বেশি
দাম দিয়ে
কিনতে চায়।
যারা প্রচুর
টাকা ঋণ
নিয়েছে বাংলাদেশের
ব্যাংক থেকে,
কিন্তু তারা
মানসম্পন্ন পণ্য
উৎপাদন করতে
পারছে না।
ফলে তাদের
বিক্রি কমে
গেছে। কিন্তু
তারা তো
ঋণ নিয়েছে
অনেক। কাজেই
ঋণ ফেরত
দিতে পারছে
না।
চতুর্থ একটি
বিষয় আমরা
দেখতে পাচ্ছি।
যেহেতু বাংলাদেশের
ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে,
ডিসপোজাল ইনকাম
বেড়েছে, মানুষের
মাথাপিছু আয়
বেড়েছে (এটি
সামগ্রিক উন্নয়নের
সঙ্গেও সম্পর্কিত;
সেহেতু মানুষের
আগের চেয়ে
বেশি আর্থিক
সামর্থ্য রয়েছে।
ফলে অনেক
বিদেশী প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশে পণ্য
বিক্রি করতে
চায়। এসব
বিদেশী প্রতিষ্ঠানের
সঙ্গে প্রতিযোগিতা
করতে গিয়ে
বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো
নিজস্ব বাজার
ধরে রাখার
জন্য কিংবা
প্রতিযোগিতায় জয়লাভের
জন্য অত্যাধুনিক
যন্ত্রপাতি আনা
শুরু করেছে।
তারা বিদেশী
সিইও, সিইএফও,
প্লান্ট হেড
নিয়োগ করেছে।
ফলে সামগ্রিকভাবে
তাদের উৎপাদন
খরচ কমেছে।
কিন্তু তার
নিট মুনাফা
কমেছে। ব্যাংকের
অর্থ ফেরত
দেয়ার ক্ষেত্রে
সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য
বিষয় হলো,
নিট মুনাফা/
নিট মার্জিন।
অনেক প্রতিষ্ঠানেরই
নিট মুনাফা
ঋণাত্মক। ব্যাংকগুলো
কিছুটা ভুল
করেছে, কোম্পানিগুলোর
বিক্রয় বা
বাহ্যিক আকার-আয়তন
দেখে ঋণ
দিয়েছে। তারা
দেখে নেয়,
অভ্যন্তরীণ নগদ
প্রবাহ সৃষ্টি
কেমন। ফলে
খেলাপি ঋণ
বেড়েছে।
আরেক ধরনের
খেলাপি হলো,
উইলফুল ডিফল্টার।
এটা নিয়ে
প্রচুর লেখালেখি
হচ্ছে, কথাবার্তা
হচ্ছে। আমরা
দেখেছি, ইচ্ছাকৃত
ঋণখেলাপিরা বিভিন্ন
অপকৌশলে ব্যাংক
থেকে বিপুল
ঋণ বের
করে এনেছে।
বেশ কয়েক
বছর আগে
করা বাংলাদেশ
ব্যাংকের এক
গবেষণায় দেখা
গেছে, সকালবেলা
শিল্পঋণ নিয়েছে।
প্রথমে পুঁজিবাজারে
তা বিনিয়োগ
হয়েছে এবং
পরে টাকাটা
পাচার হয়ে
গেছে। তার
মানে আরেকটি
প্রবণতা হলো
অর্থ বাইরে
পাচার হওয়া।
আমাকে অনেকেই
প্রশ্ন করেন,
ঋণ দিলে
টাকা এক
ব্যাংক থেকে
আরেক ব্যাংকে
গেল। কিন্তু
টাকা গেল
কোথায়? তারল্য
সংকট কেন?
এর উত্তর,
আমাদের অনেক
টাকা আটকে
গেছে ডেড
স্টকে কিংবা
জমিতে। আমাদের
কমার্শিয়াল রিয়েল
এস্টেটের দাম
অনেক বেশি।
আমাদের যখন
জিজ্ঞাসা করা
হয়, বাংলাদেশে
বিদেশী বিনিয়োগের
পথে বাধা
কী কী।
আমরা বলি,
জমির ত্রুটিপূর্ণ
দলিলপত্র। সঙ্গে
এটিও বলি,
অবকাঠামোগত সমস্যা,
গ্যাস-বিদ্যুতের
সমস্যা। এটিও
বলি যে,
ল্যান্ড পার্সেল
ত্রুটিপূর্ণ, কমার্শিয়াল
রিয়েল এস্টেটের
দাম অনেক
বেশি এবং
নন-অ্যাক্রুয়াল
অ্যাসেট বাড়ছে।
বলা যায়,
বিভিন্ন কারণে
ঋণটা আমরা
পরিশোধ করতে
পারছি না।
ইদানীং সব
জায়গায় শোনা
যাচ্ছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর
মুনাফা কমে
গেছে। মনোযোগ
আকর্ষণের জন্য
আমরা বলে
থাকি আপনারা
তো আগে
লাভ করেছেন।
টাকাটা ফেরত
দেন। সেটি
বিশ্বের কোথাও
হয় না।
আমি আগে
লাভ করেছি।
তাই টাকা
ফেরত দিয়ে
দেব। আরেকটি
বিষয়, পছন্দ
করি বা
না করি—ভালো
ব্যবসায়ীদের প্রচুর
খরচ বেড়েছে।
বিভিন্ন মহলে
চাঁদা দেয়া,
বিভিন্ন দিবসে
কন্ট্রিবিউট করা
ইত্যাদি। ফলে
গুটিকয়েক ভালো
ব্যবসায়ী বেশ
চাপে আছেন।
তারপর হলো,
ব্যবসার একটি
বিরাট অংশ
সরকারের সঙ্গেও
সম্পাদন হয়।
যেহেতু আমাদের
এরই মধ্যে
রাজনৈতিক মেরুকরণ
ঘটেছে, সেহেতু
সরকারের আনুকূল্য
না পাওয়া
ভালো ব্যবসায়ীদের
টাকা দিতে
দেরি হচ্ছে,
টাকা পেতেও
দেরি হচ্ছে।
এতে তারা
নতুন ব্যবসা
খুলতে পারছে
না। তদুপরি
আমাদের ব্যবসা
চালানোর মতো
দক্ষ জনশক্তির
খুবই অভাব
রয়েছে। ব্যবসায়ী
পরিবারের নতুন
প্রজন্মের অনেকেই
বিদেশ থেকে
বাংলাদেশে আসতে
চাইছেন না।
ফলে চাকরি
করে এমন
পেশাজীবীদের ওপর
ব্যবসায়ীদের নির্ভর
করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা প্রায়ই
বলেন, তারা
পেশাজীবীদের কাছ
থেকে শতভাগ
সাপোর্ট পান
না। হয়
পেশাজীবীরা অদক্ষ
কিংবা দেশে
প্রবৃদ্ধি হচ্ছে
বলে তাদের
চাহিদা বেশি।
কিংবা নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন
পেশাজীবীদের সংখ্যা
খুবই কম।
তারপর পেশাজীবীরা
নিজেরাই চুরি
করছে। এটিও
একটি কারণ।
প্রায়ই দেখতে
পাচ্ছি, অত্যাধুনিক
সুরক্ষার ব্যবস্থা
না নিলে
বড় বড়
প্রতিষ্ঠানের অনেক
লোকসান হচ্ছে।
সেটি চূড়ান্তভাবে
তাদের আয়ের
প্রবাহে আঘাত
করছে। সামগ্রিকভাবে
ব্যবসার পরিবেশ,
ব্যবসার খরচ
বেড়ে যাওয়া,
নিট মুনাফা
কমে যাওয়া,
পেশাজীবীদের নীতি-নৈতিকতার
অভাব, ব্যবসায়ী
পরিবারগুলোর নতুন
প্রজন্মের মধ্যে
বাংলাদেশে ব্যবসার
হাল ধরার
অনীহা—এসব
বিষয় নিত্যনৈমিত্তিক
খেলাপি ঋণের
কারণের বাইরে
গিয়েও নতুন
কারণ হিসেবে
আবির্ভূত হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট কিছু
শিল্প গ্রুপ
নিজ থেকে
ঋণ নিতে
চায়নি। অনেকটা জোর করে
ব্যাংকগুলো ঋণ
দিয়েছে। পরে
সেগুলোই কিন্তু খেলাপি হয়েছে। এটাকে কীভাবে দেখবেন?
বণিক বার্তায় সম্ভবত
পড়েছিলাম, চট্টগ্রামের
একটি গ্রুপ,
যাদের নাম
ঋণখেলাপি হিসেবে
বিরাটভাবে এসেছে,
তারা অনেক
সময় ঋণ
নিতে চায়নি।
ওই গ্রুপের
যিনি ব্যাংকগুলোর
সঙ্গে সম্পর্ক
দেখেন, তিনি
বলেছেন, তাদের
জোর করে
এলসি খুলে
দিয়েছে চট্টগ্রামের
বিভিন্ন ব্যাংকের
শাখা। ডেড
স্টকে তাদের
টাকা চলে
গেছে, জমির
দাম কমে
গেছে, তারা
একটা টাকাও
বিদেশে পাচার
করেননি বলেছিলেন
তিনি। বলেছেন,
‘ডেড স্টকে
আমাদের টাকা
আটকে গেছে।
ব্যাংক বলেছে,
চা বাগান
কেনায় অংশ
নিন। কিংবা
কেউ বলেছে,
এখানে একটা
ফ্যাক্টরি করুন,
অমুকে করছে।
কিংবা আপনি
কমোডিটি ইমপোর্ট
করতে পারেন,
অনেকেই করছে।
দেশে ভোগ্যপণ্যের
সংকট হয়েছে।
এগুলো আমরা
আমদানি করেছি।
আমাদের পণ্য
যখনই পৌঁছেছে,
আমাদের রবিশস্যের
মৌসুম এসে
গেছে। ধান-চালের
অতিরিক্ত উৎপাদন
হয়েছে। ফলে
আমরা ব্যাংকগুলোর
কাছ থেকে
ভালো কোনো
পরামর্শ পাইনি।
এমনকি আমাদের
বাপ-দাদাদের
আমলে নিয়োগ
পাওয়া নিজেদের
লোকদের অভিজ্ঞতা
এত কম
যে তারা
আধুনিককালের ব্যবসায়িক
মডেলের সঙ্গে
খাপ খাওয়াতে
পারছিল না।
অভ্যন্তরীণ অনভিজ্ঞতা
ও ব্যাংকগুলোর
কারণে আমাদের
বিপুল অর্থ
ডেড স্টকে
আটকে গেছে।
এরই মধ্যে
আমরা প্রমাণ
পেয়েছি, ব্যাংকের
কর্মকর্তারা ফ্রড
করছেন। বিআইবিএমের
গবেষণায় দেখা
গেছে, ভুয়া
কোম্পানির নামে
এলসি খুলে
গ্রাহকের সঙ্গে
সঙ্গে ব্যাংকের
ম্যানেজারও পণ্য
আমদানি করেছেন।
ব্যাংকের লোকেরা
দেখভাল করবে
গ্রাহকের সম্পদের।
তারা নিজেরাই
যদি গ্রাহকের
প্রতিযোগী হয়ে
যায়, তাহলে
সমস্যা। এটিও
একটি বড়
কারণ ঋণখেলাপি
হওয়ার।
মাঝে বড়ভাবে
এসেছিল চট্টগ্রামের
অ্যাসেট পোর্টফোলিও,
চট্টগ্রামের ঋণ
গ্রাহক আলাদা
ধরনের। চট্টগ্রামের
ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে
প্রাথমিক পর্যালোচনায়
দেখা গেছে,
ব্যাংকের ব্যবস্থাপকরা
বিরাটভাবে দায়ী।
চট্টগ্রামটা অনেকটা
পারিবারিক পরিবেশে
ম্যানেজড হয়।
সেখানে খুব
একটা ক্রেডিট
স্ট্যান্ডার্ডস, ব্যালান্স
শিট ম্যানেজমেন্ট
এসবের চর্চা
নেই। অনেকটা
সাহসের ভিত্তিতে
তারা ব্যবসা
পরিচালনা করে।
এ কারণে
চট্টগ্রামের ঋণখেলাপের
বিষয়টি ঢাকাকেও
আচ্ছাদিত করেছে।
ঢাকায় যা
হয়েছে তা
হলো প্রচুর
আনরিলেটেড ব্যবসার
সম্প্রসারণ। নিজেদের
কিছু টাকা
আর ব্যাংকের
বিপুল টাকা,
যা অপ্রয়োজনীয়,
অপ্রযোজ্য, কম
লাভজনক ব্যবসায়
লগ্নি হয়েছে।
এখন বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতার সম্মুখীন
হয়ে ওইসব
ব্যবসা অলাভজনক
(নন-প্রফিটেবল)
হয়ে গেছে,
যার কারণে
অর্থ ফেরত
দিতে পারছে
না। এক্ষেত্রেও
পরোক্ষভাবে ব্যাংকের
কিছু কিছু
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ
দায়ী।
খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের আর কী
কী ক্ষেত্রে সংস্কার করা
বা আধুনিকায়ন করা দরকার?
আমাদের
বিদ্যমান ক্রেডিট
ইনফরমেশন ব্যুরোকেও
(সিআইবি) আধুনিকায়ন
করা দরকার।
কারণ সেখান
থেকে আমি
কোন ব্যাংক
থেকে ঋণ
নিয়েছি, তা
জানতে পারি।
জামানত হিসেবে
কী দেখিয়েছি
তাও জানা
যায়। একই
জামানত দেখিয়ে
অন্য ব্যাংক
থেকে ঋণ
নেয়া যায়
না। আরেকটি
কথা বলতে
চাই, সাবেক
গভর্নরের সঙ্গে
একটি আলোচনা
শুরু করেছিলাম।
সেটি হলো,
পেইড আপ
ক্যাপিটালের কত
শতাংশ ব্যাংক
ফান্ডেড ফ্যাসিলিটি
দিতে পারবে,
নন-ফান্ডেড
ফ্যাসিলিটি দিতে
পারবে কিংবা
সামগ্রিক ফ্যাসিলিটি
দিতে পারবে।
একইভাবে বড়
বড় কোম্পানির
সঙ্গে ঋণকে
সম্পৃক্ত করা
যায় কিনা।
এতে দুটি
লাভ হবে।
এক. কোম্পানিগুলো
যে বেহিসাবিভাবে
ঋণ নিচ্ছে
তা কমবে।
কারণ বলে
দেয়া হবে
তোমার ১০০
কোটির মূলধন
থাকলে তুমি
৫০০ কোটি
টাকা ঋণ
নিতে পারবে।
এর চেয়ে
বেশি ঋণ
নিতে হলে
তোমার ক্যাপিটাল
বাড়াতে হবে।
কাজেই এটি
পেইড আপ
ক্যাপিটাল এবং
ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের
রিজার্ভের সঙ্গে
যুক্ত হবে।
ফলে ঋণগ্রহণকারী
প্রতিষ্ঠানগুলো একটা
শৃঙ্খলায় আসবে।
দুই. ওই
কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে
যাবে। ফলে
পুঁজিবাজারকে আমরা
আরো সঞ্জীবিত
দেখতে পাব।
তিন. ভালো
কোম্পানিগুলো এখানে
ঋণ ব্যয়
বেশি হলে
স্থিতিপত্র ব্যবহার
করে বিদেশ
থেকে ঋণ
নেবে; যেটি
আমি মনে
করি আমাদের
এখানে কম।
বন্ড ইস্যু
করবে। তাতে
আমাদের আর্থিক
বাজারে গভীরতাও
আসবে। স্কয়ার,
সামিট, এসিআই,
আবুল খায়েরসহ
ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো
আমাদের দেখিয়েছে
কীভাবে ঋণ
নেয়ার ব্যয়
কমাতে পারি।
এবং সেটি
অবশ্যই নিজস্ব
নৈপুণ্যের উন্নয়ন
ঘটিয়ে। [চলবে]
শ্রুতলিখন:
হুমায়ুন
কবির










