পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
সাধারণভাবে লিউ শাও চির সঙ্গে মাও সে তুং লাইনের বিরোধের সারকথা ছিল এ রকম যে যেখানে লিউ মনে করতেন মালিকানার যৌথায়নের আগে উৎপাদনের বিকাশ হওয়া দরকার, সেখানে মাওয়ের অবস্থান ছিল উৎপাদিকা শক্তির বিকাশের চেয়ে যৌথায়নকে বা সমাজের বিপ্লবী রূপান্তরকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা। লিউ তখন ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট, পার্টির মধ্যে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বর্শাফলক তার দিকে তাক করা থাকলেও পার্টির উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে সরানো সহজ ছিল না।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অনেক চড়াই-উতরাই, ভুল ও বাড়াবাড়ি, সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনার মধ্যেই ১৯৬৮ সালের ১৩ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হয়। ৩১ অক্টোবর অধিবেশন সমাপ্ত হয়। এ অধিবেশনে পার্টির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে লিউ শাও চির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক বিপ্লব চলাকালে বক্তব্য ও কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়। চৌ এন লাই চীনের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও লিন পিয়াও ততদিনে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অধিবেশনের শেষে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সর্বসম্মতিক্রমে মন্তব্য করে যে আমাদের মহান নেতা কমরেড মাও সে তুং স্বয়ং যে সর্বহারা শ্রেণীর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করেছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা হচ্ছে আমাদের দেশের সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের শর্তে বুর্জোয়া শ্রেণী ও সমস্ত শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর একটি মহান রাজনৈতিক বিপ্লব।’
লিন পিয়াও
সম্পর্কে
বলা
হয়,
‘সভাপতি
মাওয়ের
সর্বহারা
শ্রেণীর
বিপ্লবী
লাইন,
সর্বহারা
শ্রেণীর
মহান
সাংস্কৃতিক
বিপ্লব
সম্পর্কে
সভাপতি
মাওয়ের
মহান
রণনীতিগত
পরিকল্পনা,
মহান
সাংস্কৃতিক
বিপ্লবের
বিভিন্ন
পর্যায়ে
সভাপতি
মাও
প্রদত্ত
বহু
গুরুত্বপূর্ণ
নির্দেশ
ও
সহকার
সভাপতি
লিন
পিয়াওয়ের
বহু
ভাষণ
সবই
নির্ভুল।’
লিউ
শাও
চি
সম্পর্কে
অধিবেশনের
বক্তব্য
ছিল,
‘... গণমুক্তি
ফৌজের
সমর্থনে
বারবার
শ্রেণী
লড়াইয়ের
মধ্য
দিয়ে
বুর্জোয়া
শ্রেণীর
সদর
দপ্তরকে,
লিউ
শাও
চি
যার
প্রতিনিধি
এবং
যা
পার্টির
নেতৃত্ব
ক্ষমতা
ও
সেনাবাহিনীর
নেতৃত্ব
ক্ষমতাকে
কুক্ষিগত
করার
অপচেষ্টা
করেছিল,
আর
দেশের
বিভিন্ন
স্থানে
তার
দালালদের
অবশেষে
উত্খাত
করা
হয়েছে
এবং
ক্ষমতার
যে
অংশটা
তারা
কুক্ষিগত
করে
নিয়েছিল
তা
আবার
কেড়ে
আনা
হয়েছে।...
এরই
মধ্যে
এ
ব্যাপকতম
সর্বহারা
শ্রেণীর
মহান
সাংস্কৃতিক
বিপ্লব
বিরাট
ও
চূড়ান্ত
বিজয়
অর্জন
করেছে।’
এ
অধিবেশনের
আগেই
লিউ
শাও
চির
বিরুদ্ধে
কেন্দ্রীয়
কমিটির
একটি
বিশেষ
গ্রুপ
তদন্ত
পরিচালনা
করে
এবং
সেই
তদন্ত
রিপোর্টকে
ওই
অধিবেশন
অনুমোদন
করে।
সুতরাং
এ
অধিবেশনের
মধ্য
দিয়েই
পার্টি
ও
রাষ্ট্রে
লিউ
শাও
চির
সব
প্রভাব
ও
ক্ষমতা
চূর্ণ
হয়।
কিন্তু
আমরা
পরে
দেখব
‘চূড়ান্ত বিজয়’
সম্পর্কে
এ
ঘোষণাকে
ভুল
প্রমাণ
করে
অনেক
বেশি
দক্ষিণপন্থী
ধারা
পরে
আরো
শক্তিশালী
আকারে
আবির্ভূত
হয়।
১৯৫৬
সালে
পার্টির
অষ্টম
কংগ্রেস
অনুষ্ঠিত
হলেও
নবম
জাতীয়
কংগ্রেস
অনুষ্ঠিত
হয়
এর
১৪
বছর
পর,
১৯৬৯
সালে।
সাংস্কৃতিক
বিপ্লবকালে
সবচেয়ে
প্রভাবশালী
নেতা
হয়ে
ওঠা
লিন
পিয়াও
তখন
কার্যত
কর্তৃত্বে,
তিনিই
এ
কংগ্রেসে
রিপোর্ট
পেশ
করেন
ও
তা
গৃহীত
হয়।
রিপোর্টে
বলা
হয়,
‘চীনা
কমিউনিস্ট
পার্টির
সব
সাফল্যই
হচ্ছে
সভাপতি
মাওয়ের
প্রত্যক্ষ
নেতৃত্বের
ফল
এবং
সবই
মাও
সে
তুং
চিন্তাধারার
বিজয়।’
আরো
বলা
হয়,
‘সভাপতি মাও...
রাজনৈতিক,
সামরিক,
অর্থনৈতিক,
সাংস্কৃতিক
ও
দর্শন
প্রভৃতি
ক্ষেত্রে
মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে
উত্তরাধিকার
সূত্রে
লাভ
করেছেন,
রক্ষা
করেছেন
ও
বিকশিত
করেছেন
এবং
মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে
এক
সম্পূর্ণ
নতুন
পর্যায়ে
উন্নীত
করেছেন।
মাও
সে
তুং
চিন্তাধারা
এমন
একটা
যুগের
মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ,
যে
যুগে
সাম্রাজ্যবাদ
সামগ্রিক
ধ্বংসের
মুখে
চলেছে
আর
সমাজতন্ত্র
এগিয়ে
চলেছে
বিশ্বব্যাপী
বিজয়ের
পথে।’
নবম
কংগ্রেসে
লিন
পিয়াও
এ
রিপোর্ট
পেশ
করেন
কিন্তু
এর
চার
বছর
পর
১৯৭৩
সালের
২৪
আগস্ট
থেকে
অনুষ্ঠিত
দশম
কংগ্রেসে
উপস্থাপিত
রিপোর্টের
মূল
আক্রমণের
লক্ষ্যবস্তু
ছিলেন
তিনি
নিজেই।
তাঁর
বিরুদ্ধে
মাওকে
হত্যা
এবং
সামরিক
অভ্যুত্থানের
চক্রান্ত
করার
অভিযোগ
আনা
হয়।
এ
রিপোর্টে
লিন
পিয়াওকে
‘বুর্জোয়া উচ্চাভিলাষী,
চক্রান্তকারী,
দ্বিমুখী,
দলত্যাগী
ও
দেশদ্রোহী’
হিসেবে
অভিহিত
করে
বলা
হয়,
“১৯৭০
সালের
আগস্টে
নবম
কেন্দ্রীয়
কমিটির
দ্বিতীয়
পূর্ণাঙ্গ
অধিবেশনে
এক
প্রতিবিপ্লবী
অভ্যুত্থান
শুরু
করার
জন্য
সে
আরেক
পদক্ষেপ
এগিয়ে
যায়,
যা
নস্যাৎ
করে
দেয়া
হয়।
তারপর
১৯৭১
সালের
মার্চে
‘৫৭১’ প্রকল্পের
রূপরেখা
নামে
এক
সশস্ত্র
প্রতিবিপ্লবী
অভ্যুত্থান
সংগঠিত
করার
জন্য
এক
পরিকল্পনা
সে
প্রণয়ন
করে
এবং
৮
সেপ্টেম্বর
আমাদের
মহান
চেয়ারম্যান
মাওকে
হত্যা
করে
প্রতিদ্বন্দ্বী
কেন্দ্রীয়
কমিটি
স্থাপনের
চেষ্টায়
সে
এক
অভ্যুত্থান
ঘটায়।
১৩
সেপ্টেম্বর
তার
চক্রান্ত
ব্যর্থতায়
পর্যবসিত
হলে
লিন
পিয়াও
গোপনে
এক
বিমানে
আরোহণ
করে
পার্টির
প্রতি
ও
দেশের
প্রতি
বিশ্বাসঘাতকতা
করে
সোভিয়েত
সংশোধনবাদীদের
আশ্রয়ে
যাওয়ার
জন্য
পালিয়ে
যায়
এবং
গণপ্রজাতন্ত্রী
মঙ্গোলিয়ার
উন্দুরখানে
এক
বিমান
দুর্ঘটনায়
মৃত্যুবরণ
করে।”
এ
সময়
পার্টির
রাজনৈতিক-মতাদর্শিক
অবস্থানে
আরো
পরিবর্তনের
সূচনা
দেখা
যায়।
সাংস্কৃতিক
বিপ্লবে
মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদের
বিরুদ্ধে
কঠোর
অবস্থান
বারবার
ঘোষিত
হয়েছে।
সোভিয়েত
ইউনিয়নের
বিরুদ্ধে
চীনা
পার্টির
অন্যতম
অভিযোগ
ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রতি
তাদের
নমনীয়তা,
শান্তিপূর্ণ
সহাবস্থানের
নীতি।
কিন্তু
১৯৭১
সালের
আগেই
যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে
সম্পর্ক
স্বাভাবিক
করার
জন্য
চীনের
ভেতরে
ও
বাইরে
বহুদিক
থেকে
তাগিদ
তৈরি
হয়।
নানাভাবে
অপ্রকাশ্যে
যোগাযোগও
শুরু
হয়,
১৯৭১
সালেই
তা
স্পষ্ট
রূপ
নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে
চীনের
যোগাযোগ
এবং
রাজনৈতিক
ও
অর্থনৈতিক
সম্পর্ক
স্থাপনের
ক্ষেত্র
তৈরি
হয়
৬০
দশকের
শেষদিকে।
আগেই
বলেছি,
৬০
দশকের
শুরুতে
সীমান্ত
বিরোধ
নিয়ে
চীন
ভারতের
সঙ্গে
যুদ্ধে
জড়িয়ে
পড়ে।
বিরোধপূর্ণ
অঞ্চল
দখল
করেও
কিছুদিনের
মধ্যে
চীন
নিজে
থেকে
যুদ্ধবিরতি
ঘোষণা
করে,
কিন্তু
বিরোধের
সমাপ্তি
হয়নি।
সোভিয়েত
ইউনিয়নের
সঙ্গে
মতাদর্শিক
বিরোধে
সীমান্ত
বিরোধ
যুক্ত
হয়
৬০
দশকের
শেষে,
এ
বিরোধও
একপর্যায়ে
যুদ্ধের
পরিস্থিতি
তৈরি
করে।
সীমান্তের
কোথাও
কোথাও
উত্তেজনা
দেখা
দেয়,
স্বল্পস্থায়ী
হলেও
সৈন্য
তৎপরতা
দেখা
যায়
দুই
দেশেরই।
অন্যদিকে
এ
সময়েই
এশিয়ার
চীনসংলগ্ন
অঞ্চলে
যুক্তরাষ্ট্র
তার
প্রভাব
বলয়
বৃদ্ধির
জন্য
জোর
তৎপরতা
শুরু
করে।
আর
তা
মোকাবেলায়
সোভিয়েত
ইউনিয়নও
সামরিক-রাজনৈতিক
বিভিন্নমুখী
পদক্ষেপ
নিতে
সক্রিয়
হয়ে
ওঠে।
এ
রকম
পরিস্থিতিতে
চীন
আর
সোভিয়েত
ইউনিয়নের
বিরোধ
ছিল
যুক্তরাষ্ট্রসহ
সাম্রাজ্যবাদী
বিশ্বশক্তির
জন্য
বিরাট
আশীর্বাদ।
চেকোস্লোভাকিয়ায়
সোভিয়েত
সামরিক
অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রকে
বাড়তি
প্রচারের
সুবিধা
দেয়।
চীনের
জন্যও
তা
নতুন
যুক্তি
যোগ
করে।
ভিয়েতনামে
মার্কিন
আগ্রাসনের
ভয়াবহতা
তখন
বিশ্ব্বব্যাপী
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী
আওয়াজ
আরো
বিস্তৃত
করেছে।
ভিয়েতনামে
হো
চি
মিনের
নেতৃত্বে
মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদী
দানবের
বিরুদ্ধে
দুর্বল
নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ
জনগোষ্ঠী
তখন
অবিস্মরণীয়
যুদ্ধ
পরিচালনা
করছে
গ্রামে-শহরে
পথে-ঘাটে।
বিশাল
শক্তিধর
অত্যাধুনিক
অস্ত্রশস্ত্রে
সজ্জিত
মার্কিন
সামরিক
বাহিনী
ভিয়েতনামের
কিশোর-তরুণ
গেরিলা
যোদ্ধাদের
হাতে
তখন
প্রতিনিয়ত
কাবু
হচ্ছিল।
এ
পরিস্থিতিতে
চীন-সোভিয়েত
বিরোধ
ভিয়েতনামের
মুক্তিযুদ্ধের
জন্য
একটি
বড়
সমস্যা
হয়ে
দাঁড়ায়।
কারণ
পরাক্রমশালী
মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদের
বিরুদ্ধে
লড়াইয়ে
ভিয়েতনাম
যাদের
ওপর
প্রধান
ভরসা
করছিল,
দিনে
দিনে
তারা
নিজেদের
মতাদর্শিক
বিরোধ
থেকে
দ্রুত
রাজনৈতিক
ও
সামরিক
বৈরিতার
দিকে
যাচ্ছিল।
সে
কারণে
ভিয়েতনামের
নেতারা
বারবার
তাদের
সমঝোতার
চেষ্টা
করতে
থাকে।
কিন্তু
এর
মধ্যেই
হো
চি
মিন
মৃত্যুবরণ
করেন
১৯৬৯
সালের
২
সেপ্টেম্বর।
তবে
তার
প্রতি
শ্রদ্ধা
জানাতে
চৌ
এন
লাই
কোসিগিনসহ
চীন
সোভিয়েত
দুপক্ষের
নেতারাই
হ্যানয়ে
উপস্থিত
হয়েছিলেন।
ভিয়েতনামের
উদ্যোগে
সীমান্ত
বিরোধ
নিয়ে
চীন
ও
সোভিয়েত
এ
দুপক্ষের
মধ্যে
সে
সময়
আলোচনাও
শুরু
হয়।
আলোচনার
মধ্য
দিয়ে
সীমান্ত
সংঘর্ষ
থামানো
সম্ভব
হলেও
রাজনৈতিক
বিরোধ
বাড়তেই
থাকে।
এর
মধ্যেই
চীনের
সঙ্গে
সম্পর্ক
স্থাপনের
জন্য
যুক্তরাষ্ট্র
বিভিন্নমুখী
তৎপরতা
শুরু
করে।
চীনও
সাড়া
দেয়।
এশিয়ার
বিভিন্ন
প্রান্তে
তখন
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রভাব
বাড়ছে।
বেশির
ভাগ
দেশে
তার
আধিপত্য
নিশ্চিত
করার
প্রধান
অবলম্বন
ছিল
সেসব
দেশের
মার্কিন
প্রভাবিত
জেনারেলদের
নেতৃত্বাধীন
সেনাবাহিনী।
ইন্দোনেশিয়ায়
সুকর্ণ
সরকারকে
উচ্ছেদ
এবং
১০
লক্ষাধিক
মানুষকে
হত্যা
করে
সিআইএর
প্রত্যক্ষ
পৃষ্ঠপোষকতায়
জেনারেল
সুহার্তোর
নেতৃত্বে
ক্ষমতা
দখল
করে
সেদেশের
সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানে
সেনাশাসনের
ওপর
প্রথম
থেকেই
ভর
করে
ছিল
যুক্তরাষ্ট্র।
জেনারেল
আইয়ুব
এবং
পরে
জেনারেল
ইয়াহিয়া
বরাবরই
তাদের
হাতের
মুঠোতেই।
মালয়েশিয়া
ও
ফিলিপাইনেও
তখন
উগ্র
মার্কিনপন্থী
সরকার।
ইরানের
শাহানশাহ
ছিলেন
উপসাগরীয়
অঞ্চলে
মার্কিন
ক্ষমতার
খুঁটি।
কোরিয়া
ও
ভিয়েতনামের
একাংশ
তখন
তাদের
দখলে।
যুক্তরাষ্ট্র
নেতৃত্বাধীন
সাম্রাজ্যবাদী
শক্তিগুলোর
এ
অগ্রযাত্রায়
তাদের
প্রধান
উদ্বেগের
বিষয়
ছিল
সোভিয়েত
ইউনিয়ন
ও
চীন—এ
দুই
বড়
সমাজতান্ত্রিক
শক্তি।
এ
দুই
শক্তিকে
একসঙ্গে
মোকাবেলার
সাধ্য
সাম্রাজ্যবাদের
ছিল
না।
সুতরাং
যখন
দুইয়ের
সম্পর্কে
ফাটল
দেখা
দিল,
তখন
সেই
ফাটলে
প্রবেশে
তারা
আর
দেরি
করেনি।
এখানেই
পরবর্তী
আরো
বহু
দশকের
জন্য
সাম্রাজ্যবাদের
বিজয়
নিশানের
খুঁটি
পোঁতা
হলো।
১৯৬৮
সাল
থেকেই
মার্কিন
নেতারা
চীনের
সঙ্গে
সম্পর্ক
স্থাপনের
লক্ষ্যে
চীনের
নামে
স্তুতি
শুরু
করে।
১৯৬৯
সালের
১
ফেব্রুয়ারি
প্রেসিডেন্ট
নিক্সন
হেনরি
কিসিঞ্জারকে
চীনের
সঙ্গে
সম্পর্ক
স্থাপনের
জন্য
যা
কিছু
করা
দরকার
তা
করতে
নির্দেশনা
দেন।
কিসিঞ্জার
তখন
ছিলেন
প্রেসিডেন্ট
নিক্সনের
প্রধান
পররাষ্ট্রবিষয়ক
উপদেষ্টা।
এর
পাশাপাশি
কূটনৈতিক
অন্যান্য
পথেও
কাজ
শুরু
হয়।
একই
বছর
২২
এপ্রিল
মার্কিন
পররাষ্ট্র
সচিব
তাদের
সরকারি
ভাষ্যে
চীনকে
প্রথম
‘পিপলস রিপাবলিক
অব
চায়না’
হিসেবে
উল্লেখ
করেন।
১৯৭০
সালের
১৩
অক্টোবর
কানাডার
সঙ্গে
চীনের
কূটনৈতিক
সম্পর্ক
স্থাপিত
হয়।
ওই
সময়ের
মধ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে
সম্পর্ক
উন্নয়নে
চীনের
আগ্রহ
বিভিন্নভাবে
প্রকাশিত
হতে
থাকে।
চীনের
সঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রের
যোগাযোগ
মাধ্যম
হিসেবে
তখন
উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা
পালন
করেছে
পাকিস্তান
ও
রুমানিয়া।
বিশ্বের
মুক্তিকামী
মানুষের
জন্য
ভিয়েতনাম
যুদ্ধ
তখন
ছিল
একটি
বিশাল
অনুপ্রেরণা
ও
শক্তির
উৎস।
ভারতের
বাংলায়
সে
সময়ই
শুরু
হয়
চারু
মজুমদারের
নেতৃত্বে
সশস্ত্র
সংগ্রাম।
পাকিস্তানি
সামরিক
শাসনের
বিরুদ্ধে
একটানা
লড়াইয়ের
তুঙ্গে
পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীর
গণহত্যার
মোকাবেলায়
বাংলাদেশে
শুরু
হয়
সশস্ত্র
স্বাধীনতা
যুদ্ধ।
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়










