ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পতন, নতুন সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অধীনে অনুষ্ঠিত সত্তরের সাধারণ নির্বাচন, নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়, নির্বাচনের রায় মেনে নিয়ে ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ওই রায় বানচাল করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়া, এর বিরুদ্ধে বাঙালিদের মধ্যে গণবিদ্রোহের সৃষ্টি ও বাঙালি জাতিসত্তার স্ফুরণ ইত্যাদি ঘটনা ৭ মার্চের সমকালীন পটভূমি তৈরি করে। এ নিবন্ধে এসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এর আগে ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল, যা ‘যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন’ নামেই অধিক পরিচিত। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীনে চারটি দল নিয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস বিজয় ও ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন টিকে থাকতে সক্ষম হয়। এরপর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের (যা দিয়ে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সংবিধানহীন অবস্থায় পাকিস্তান পরিচালিত হয়ে আসছিল) ৯২-ক ধারা প্রয়োগ করে ওই সরকার বাতিল করে দেয়। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান তথাকথিত ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে এক অভিনব নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সেনা-আমলা নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করা। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নয়, পরোক্ষ পদ্ধতিতে পাকিস্তানের দুই অংশের ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার বিডি (  বেসিক  ডেমোক্র্যাটস) সদস্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হতেন। এ ব্যবস্থায় সরকার সমর্থিত ছাড়া জনপ্রিয় নেতাদের নির্বাচিত হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে আইয়ুব সরকার কর্তৃক ‘আগরতলা মামলা’ প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্ত সব আসামির নিঃশর্ত মুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের পতন হলে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তার সরকারের অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। বস্তুত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে দেশে এমন টলটলয়মান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, ইয়াহিয়ার সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৩০ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘আইনগত কাঠামো আদেশ (এলএফও)’ জারি করেন। তাতে সর্বজনীন ভোটাধিকার, জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩ (১৩টি নারী আসনসহ) নির্ধারণ, জনসংখ্যা অনুপাতে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে আসন সংখ্যা বণ্টন ইত্যাদি বাঙালিদের জনপ্রিয় দাবি মেনে নেয়া হয়।

তবে রক্ষাকবচ হিসেবে ১২০ দিনের মধ্যে গণপ্রতিনিধিরা সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থ হলে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত রাখা হয়। এর প্রতিবাদে কোনো কোনো দল বিশেষ করে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নির্বাচন বয়কট করে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের হাতে এলএফওর খড়্গ ন্যস্ত থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের তখনকার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া পাকিস্তানের দুই অংশের অন্য আরো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেয়।

বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে হিসাব ছিল প্রধানত দুটি। এক. বাঙালিদের দাবি-দাওয়ার পক্ষে কথা বলার অধিকার এবং তাদের সত্যিকার ও বৈধ প্রতিনিধি কে, তা নির্ধারিত হওয়া; দুই. নির্বাচনে ছয় দফার পক্ষে আওয়ামী লীগের যে বিজয় ঘটবে, এ ব্যাপারে তিনি প্রায় নিশ্চিত ছিলেন, যা বাঙালির জাতীয় মুক্তি অর্জনে অপরিহার্য ছিল।

বঙ্গবন্ধু তার ছয় দফা কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হলেন। এক অর্থে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের বহু আগেই তার নির্বাচনী প্রচার সমাপ্ত হয়েছিল। অর্থাৎ ছয় দফা কর্মসূচি গ্রহণের পর তিনি তিন মাস ধরে তা বাংলার প্রায় সর্বত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছিলেন। এরপর আইয়ুব সরকার ছয় দফা কর্মসূচি গ্রহণের অপরাধে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা (যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে তখন পরিচিত ছিল) দায়ের ও মামলার বিচারকাজ শুরু করলে সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। সরকার কর্তৃক মামলা প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্তদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের পতন ইত্যাদি ঘটনা বঙ্গবন্ধুকে নেতৃত্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে ১০ লাখ ছাত্র-জনতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর উত্তরণ ঘটে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতার আসনে। আগরতলা মামলা থেকে মুক্তিলাভের পরও বঙ্গবন্ধু দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা করেন। তাই নির্বাচনকালে খুব বেশি প্রচার বা জনসভার আয়োজন তার ও আওয়ামী লীগ দলের জন্য আবশ্যক ছিল না। এ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচার অভিযানে দলের প্রার্থীদের পক্ষে দেশের সর্বত্র উল্কার মতো ছুটে গিয়েছেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কয়েক লাখ লোকের প্রাণহানি ও ধ্বংসের এক তাণ্ডবলীলা ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচার স্থগিত রেখে মৃত ও জীবনবিপন্ন মানুষের মাঝে ছুটে যান এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করেন, যা তার অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করে।

৭ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় (ঘূর্ণিদুর্গত এলাকার কয়েকটি আসনের নির্বাচন ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১ অনুষ্ঠিত হয়)। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে পূর্ব বাংলার জন্য নির্ধারিত ১৬২টি এলাকাভিত্তিক আসনের ১৬০টি এবং সাতটি সংরক্ষিত নারী আসনের সব ক’টি অর্থাৎ মোট ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন ও প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৭২ দশমিক ৫৭ ভাগ লাভ করে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল আরো নিরঙ্কুশ। ৩০০টি এলাকাভিত্তিক আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সব ক’টি অর্থাৎ মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন ও প্রদত্ত ভোটের ৮৯ শতাংশ লাভ করে। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে ১৩৮টি এলাকাভিত্তিক আসনের মধ্যে ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮১টি এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের ছয়টির মধ্যে পাঁচটিসহ মোট ৮৬টি আসনে জয়লাভ করে। ভোট পায় প্রদত্ত ভোটের ৪২ দশমিক ২ শতাংশ।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও এর প্রাপ্ত সব আসন ছিল পূর্ব বাংলায়। অন্যদিকে ভুট্টোর পিপলস পার্টি পশ্চিম পাকিস্তানে অন্যান্য দলের তুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে বটে, কিন্তু দলের ওই বিজয়ও পশ্চিম অংশে সীমাবদ্ধ ছিল। সর্বপাকিস্তানভিত্তিক প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। পাকিস্তান যে কার্যত ‘এক রাষ্ট্র দুই দেশ’ নির্বাচনের এ ফলাফলে তার পুনর্নিশ্চয়ন হলো। ভুট্টো তো দাবিই করে বসলেন যে, পাকিস্তানে ‘দুটি মেজরিটি পার্টি’ যথা আওয়ামী লীগ ও তার দল পিপলস পার্টি। নির্বাচনের এ ফলাফল পাকিস্তানকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করায়। তাই জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের পরপর লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকার এক সম্পাদকীয় শিরোনাম ছিল ‘দ্য ফার্স্ট অ্যান্ড পারহ্যাপস লাস্ট ইলেকশন’।

পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নির্বাচনে এ ফলাফল বিশেষ করে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের একক বিজয় কিছুতেই ভাবতে পারেনি। তাদের ধারণা ছিল, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১২০ দিনের মধ্যে সংবিধান রচনা করতে সক্ষম হবেন না। তেমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট তার এলএফও কার্ড ব্যবহার করে সংসদ ভেঙে দিয়ে জান্তা শাসন অব্যাহত রাখবেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একক বিজয় সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয়। ভুট্টোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুরু হয় ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তার প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। বাঙালিরা পাকিস্তান রাষ্ট্রে ক্ষমতার মালিক হোক, কিছুতেই তা তারা পাকিস্তানের শুরু থেকেই মেনে নিতে পারছিল না। এবার ছয় দফা কর্মসূচিভিত্তিক সংবিধান রচিত হলে পাকিস্তানের অখণ্ডতা যে আর বজায় রাখা যাবে না সেটি ভালো করেই তারা জানত। তাই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের টোপ দেয়া হয়। ছয় দফা প্রশ্নে কিছুটা ছাড় দেয়ার জন্য নানাভাবে বঙ্গবন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছয় দফা প্রশ্নে ছিলেন অনড়। তিনি ছয় দফা প্রচারকালে বহুবার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ছয় দফা রাজনৈতিক দরকষাকষির কোনো ব্যাপার নহে’, ‘ছয় দফা বিনিময়যোগ্য বস্তু নয়’। কোনো পদ বা প্রলোভন বঙ্গবন্ধুকে তার অবস্থান অর্থাৎ বাঙালির জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা থেকে একটুও টলাতে পারেনি।’

বস্তুত ছয় দফা কর্মসূচি গ্রহণ ও তা প্রচারকালেই বাঙালি জাতিসত্তার উত্থান ঘটতে থাকে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তা আরো এগিয়ে যায়। ঊনসত্তরের সময়ই বাঙালিদের মধ্যে স্লোগান ওঠে, ‘তুমি কে আমি কে? বাঙালি বাঙালি, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব, ‘জয় বাংলা’ ইত্যাদি।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মাত্র দুদিন আগে অর্থাৎ ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান কর্তৃক স্থগিত ঘোষণা ছিল অগ্নিকুণ্ডে ঘৃতাহুতির শামিল। এ ঘোষণা বাঙালির চেতনামূলে বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দেয়। স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। গগনবিদারী স্লোগান ওঠে, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, স্বাধীন বাংলা কায়েম করো। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ চত্বরে ছাত্রলীগ ও ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশ লাল-সবুজের জমিনে মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রদর্শন করা হয়। একই দিন ‘স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। পরের দিন ৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ আয়োজিত জনতার বিশাল সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ‘স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ’, বঙ্গবন্ধুকে আন্দোলনের ‘সর্বাধিনায়ক’ ও ‘জাতির পিতা’ ঘোষণা করা হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী ২ মার্চ থেকে সারা বাংলায় অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকে। পাকিস্তান সরকারের নির্দেশ অমান্য ও অগ্রাহ্য করে জনগণ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকে।

এরপর এল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। প্রায় সব মহলের ধারণা ছিল, বঙ্গবন্ধু ওইদিন তার ভাষণে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন। এ অবস্থায় ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে একদিকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার প্রয়োজনে শক্তিপ্রয়োগে তার সরকার যে বদ্ধপরিকর সে কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুকে ইউডিআই (ইউনিল্যাটারাল ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্স) থেকে যাতে নিবৃত রাখা যায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। অর্থাৎ ভাষণে তিনি ‘ক্যারট অ্যান্ড স্টিক’ পলিসি অবলম্বন করেন। এমনই এক অবস্থার পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন।

 

ড. হারুন-অর-রশিদ: সাবেক উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়