জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে বর্তমান বিশ্ব স্পষ্টতই সম্যক অবগত। তা সত্ত্বেও বিশ্বনেতারা কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। আলোচক, বিশ্লেষক ও পরিবেশবাদী এমনকি করপোরেট সেক্টরও সতর্কতার সঙ্গে চিহ্নিত করেছে যে কেবল টুভ্যালু, মালদ্বীপ কিংবা বাংলাদেশ নয়—জাপান, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এ বছরের জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনফারেন্স (ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স— কপ২৬) নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করেছে যে জলবায়ু সংকট নিরসনে অলস (ধীর?) পদক্ষেপ কোনো পরিবর্তন আনবে না। সতর্ক করার ক্ষেত্রে জি২০-ভুক্ত দেশগুলোও ছিল এবং এসব দেশই ৮০ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে। ইউরোপিয়ান ক্লাইমেট ফাউন্ডেশন এবং ইউরো-মেডিটেরিয়ান সেন্টারের তরফ থেকে উল্লেখ করা হয় যে, বাস্তবে জি২০-ভুক্ত প্রতিটি দেশের ওপরই জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্ণ প্রভাব পড়ে এবং আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এ কারণে তাদের অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। লক্ষ করলে দেখা যায়, তাপদাহ, খরা, দাবানল ও বন্যার পরিমাণ এবং ভয়াবহতা বাড়ার সম্ভাবনার সপক্ষে বেশকিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। নিশ্চিতভাবেই এগুলো অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। উপকূল এবং প্রধান সব শহর অধিক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ফলে বিশ্বজুড়ে কৃষি ও পর্যটন প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ থেকে প্রাথমিকভাবে খাদ্য সংস্থান এবং বহু মানুষের রোজগার হুমকির মুখে পড়বে।

জি২০ অর্থনীতিতে দ্রুতবর্ধনশীল ভারতকে এ বিষয়ে একটি প্রসঙ্গ অবগত করা হয়েছে। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। সঙ্গে যুক্ত হবে জলবায়ু সংকট, যা কিনা দেশটির লাখ লাখ কৃষককে আরো দরিদ্র করে তুলবে। পাশাপাশি বন্যার দীর্ঘস্থায়িতা ২৫ গুণ বাড়বে, তাপদাহ প্রভৃতির কারণে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বস্তুত ২০৫০ নাগাদ জি২০-ভুক্ত বেশির ভাগ দেশের জন্যই তাপদাহ একটি প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানের তুলনায় তাপদাহ ১০ গুণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় এ পরিমাণ ৬০ গুণ হবে। ধারণা করা যায়, এক প্রজন্মের মধ্যেই এদের উন্নতি ও সাফল্যের ভাঙন দেখা যাবে।

বিশ্বনেতাদের এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, কেবল ২০৫০ নাগাদ কার্বন নিঃসরণ নিট শূন্যে নামিয়ে নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। তাদের বুঝতে হবে সমঝোতা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থচিন্তা থেকে বের হয়ে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় এসেছে। এজন্য স্বতন্ত্র এবং সৃজনশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় অসহযোগিতার জন্য উচ্চমূল্য দিতে হবে।

আমাদের আরো মনে রাখা প্রয়োজন, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) চিহ্নিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর মতো করেই এরই মধ্যে পরিবর্তিত জলবায়ু লাখ লাখ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কেবল কৃষির ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র কৃষকরাই প্রধান।

উল্লেখ্য, শুষ্ক ভূমি প্রায় ২৫০ কোটি মানুষের বসবাসস্থল এবং পৃথিবীর মোট ভূমির ৪০ শতাংশ। বতসোয়ানা কিংবা বুরকিনা ফাসোর মতো আফ্রিকান দেশগুলো শুষ্ক ভূমিতে অবস্থিত। দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার এ দেশগুলো পানি সংকট থেকে শুরু করে খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বন্যার মতো পরিবেশগত অসংখ্য সংকট মোকাবেলা করে। এ দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দুর্বল এবং প্রতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্য সংকটে পড়ে।

কপ২৬ আলোচনায় বারবার মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে কৃষিতে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পক্ষে খাদ্য ব্যবস্থার নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে ওই গোষ্ঠী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টির নিরাপত্তা লাভ করবে। এভাবে অর্থনৈতিক স্থিতি নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

মূলত ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তার মাধ্যমে কেবল স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থাই সৃষ্টি হবে না, বরং দেশগুলোর অর্থনীতি উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এমন একটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তীকরণ অভিযোজনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন হবে।

জাতিসংঘ শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার জলবায়ু পরিবর্তন ও মতদ্বৈধতার একটি মারাত্মক অতিসরণ লক্ষ করেছেন। ফলে স্থানান্তরের পরিমাণ বাড়ছে এবং যারা দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন তাদের জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ইউএনএইচসিআর (শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার) থেকে বলা হয়েছে, তাদের অধীনে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ এবং স্থানান্তর হওয়া মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো থেকে আসে।

মনে রাখা প্রয়োজন, সতর্কতা হিসেবে এ বছরের আগস্টে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ জানিয়েছে, প্রতি বছরই পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে, যা পূর্বাবস্থায় ফেরানো অসম্ভব। তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, শুধু এ বছরই ভয়াবহ বন্যার কারণে ইউরোপে ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কানাডায় তাপদাহ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। সাইবেরিয়া, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও কানাডায় বেড়েছে দাবানলের প্রকোপ।

ইউএনএইচসিআর ১৩০টি দেশে প্রকল্প পরিচালনা এবং ৭০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করে, জলবায়ু সমস্যায় উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি বছর দুই কোটি মানুষ দুর্যোগে বিধ্বস্ত হয়ে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হবে। বর্তমানের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ।

 জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলায় শরণার্থী গ্রহণ ও আশ্রয় দেয়া কী পর্যায়ে এসে ঠেকেছে সে সম্পর্কেও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার কথা বলেছেন। লক্ষ করার মতো বিষয়, ঘটনাটি বাংলাদেশেও ঘটেছে। ইউএনএইচসিআর ও সহযোগীরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা হিসেবে কী করছেন তা উল্লেখ করা হয়। বর্ষাকালে বন্যা ও ভূমিধস রোধে পাহাড়ের কিনারে দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষরোপণ, রান্নার জন্য কাঠের বিকল্প জ্বালানির জোগান এবং শরণার্থীদের সহায়তায় দ্রুত সাড়া দেয়ার ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অবশ্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনই যে পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে জোর দেয়া হলে হাইকমিশনারের বক্তব্য যথাযথ হতো।

তবে বন উজাড় হওয়া এড়ানোর ক্ষেত্রে বেশকিছু বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সিএনএনের মতে, কপ২৬ চলাকালে এ বিষয়ে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, কেননা বহুদিন ধরে আলোচনার পর বন রক্ষার উপায় নির্ধারিত হলো। কপ২৬ চলাকালে ব্রাজিলসহ শতাধিক দেশ বন উজাড় বন্ধ করে পুনরায় বনায়ন শুরুর পাশাপাশি ভূমিক্ষয় রোধে কাজ করবে বলে স্বীকৃত হয়। এ দেশগুলো পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ বনাঞ্চল ধারণ করে। এর মধ্যে ১২টি দেশ ১২ বিলিয়ন ডলার পাবলিক ফান্ড এবং ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা প্রশংসার দাবিদার।

জলবায়ু পরিবর্তনে কয়লা প্রধান ও বৃহত্তম কারণ। যদিও কয়লার ব্যবহার কমানোর প্রক্রিয়া এগিয়েছে, এখনো বিশ্বে ব্যবহূত বিদ্যুতের ৩৭ শতাংশ উৎপাদনে কয়লা ব্যবহার হয়।  যা-ই হোক, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও চিলিসহ ৪০টি দেশ কয়লা ব্যবহার থেকে সরে আসার ব্যাপারে রাজি হয়েছে।

অতিসরণের আরেকটি বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মনোযোগ আকর্ষণ হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধে রাজি হওয়া ২৫টি দেশের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্পর্কে তারা সন্দেহপ্রবণ। আশা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং উন্নয়ন ব্যাংকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে। বহির্বিশ্বে গ্যাস প্রজেক্ট চালাতে প্রতি বছর প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এর মাত্র এক-চতুর্থাংশ অর্থায়ন লাভ করে। চীন তাদের দেশের বাইরে কয়লা প্রজেক্টে বিনিয়োগ বন্ধের বিষয়টি এরই মধ্যে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। মনে রাখা প্রয়োজন, বিশ্লেষকরা বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে উৎস থেকে বেরিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগে গ্রিনহাউজ গ্যাস ধরা পড়ে না। পদক্ষেপটি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে। যত দ্রুত তা করা যায় ততই মঙ্গল।

এক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তনিও গুতেরেসের দুশ্চিতার কথা স্মরণ করতে হয়। বলা হয়ে থাকে, উন্নত দেশগুলোতে ২০৩০ নাগাদ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০৪০ সাল নাগাদ কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের আরো সম্ভাবনা থাকছে। ধারণা করা হয়, এ কারণেই চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্লিন পাওয়ার ট্রানজিশন স্টেটমেন্টের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রায় স্বাক্ষর করেনি।

সব ধরনের আলোচনা ও জলবায়ু নিয়ে পরিবেশকর্মীদের বিশ্লেষণী প্রতিবাদের মধ্যে ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইবিআরডি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ নাগাদ বেসরকারি পর্যায়ের জলবায়ু অর্থায়ন দ্বিগুণ করা হবে। নিশ্চিতভাবেই প্রতিষ্ঠানের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবি রাখে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সচেতন তাও প্রমাণ করে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উপায় হিসেবে বেসরকারি খাতে মূলধন সুসংহত করার জন্য একটি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। কপ২৬-এ পরিকল্পনাটি প্রকাশিত হয়। এ কর্মপরিকল্পনা অনুসারে যেসব অঞ্চলে ইবিআরডি কর্ম পরিচালনা করে, সেসব অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। ইবিআরডির পরিকল্পনা মূলত গ্রিন এনার্জি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নে আগ্রহ সৃষ্টি করা।

পরিকল্পনার কেন্দ্রে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে গৃহীত কার্যপ্রণালির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ সীমিত করায় অর্থায়ন উপযোগী একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরিতে জোর দেয়া হয়। এ কাজগুলো করার ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে কার্বন সিঃসরণ সীমিত করার জন্য পদ্ধতি তৈরির মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন থাকা সাপেক্ষে জলবায়ুবান্ধব অর্থায়ন লাভ করা সম্ভব।

সর্বশেষ, যে বিষয়টি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তা হলো মিথেন নিঃসরণ। কপ২৬ চলাকালে শতাধিক দেশ এবং দল ‘বৈশ্বিক মিথেন অঙ্গীকার’ করে জানিয়েছে ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মিথেন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান মিথেন একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মিথেন নিঃসরণ কমিয়ে আনার মাধ্যমে দ্রততম সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অদৃশ্য ও গন্ধহীন মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় ৮০ গুণ উষ্ণায়ন করে থাকে। দুঃখজনকভাবে, চীন, রাশিয়া, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

কপ২৬ সম্মেলনের শেষের দিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—সর্বাধিক পরিমাণ কার্বন নিঃসরণকারী—স্বীকার করেছে যে আগামী দশকে তারা জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতা করবে। পদক্ষেপগুলো নির্দিষ্ট বিষয় অনুসারে নির্ধারণ হবে। এক্ষেত্রে মিথেন নিঃসরণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হবে। আশা করা যায়, এ যৌথ ঘোষণা একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রতীয়মান হবে। অতীতে চীন স্বল্পকালের জন্য তার অভ্যন্তরীণ কয়লাকেন্দ্রিক নিঃসরণ কমাতে অনিচ্ছুক মনোভাব প্রকাশ করেছিল। এ কারণে বর্তমান ঘোষণাটি দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীতা অনুভূত হওয়ার পরিচায়ক হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

যা-ই হোক, কপ২৬ সফল হয়েছে কিনা সে সিদ্ধান্তে যাওয়া কঠিন। রূপকের আশ্রয় নিয়ে বলা যায়, আমরা একটি অর্ধপূর্ণ পানির পাত্র দেখছি। আশা করা যায়, ধনী দেশগুলোর সাহায্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে বাকি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বাকি অংশ অক্সিজেন দিয়ে পূর্ণ হবে। সঙ্গে সঙ্গে আশা রাখছি, ধ্বংসাত্মক জলবায়ু-পরিবর্তন তৈরি করার বদলে পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করা হবে।

 

মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত

পররাষ্ট্র, তথ্য অধিকার ও সুশাসন বিশ্লেষক