১৯৬৫ সালে তাসখন্দে আইয়ুব-শাস্ত্রী চুক্তিটি দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়, তবে এতে সবচেয়ে খারাপ হতাহতের কারণ ছিল পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর অজেয়তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ। ফলে রাজনৈতিক নেতারা আইয়ুবকে ক্ষমতা থেকে উত্খাত করার উপায় ভাবতে বাধ্য হন।

১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে একটি সর্বদলীয় সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল, যেখানে কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল তাসখন্দ চুক্তি এবং এর প্রভাব। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। শেখ মুজিব এই ফোরাম ব্যবহার করেছিলেন তার ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করার জন্য, যা শুধু পূর্ব পাকিস্তানের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল না, বরং ফেডারেল রাষ্ট্রের উপস্থিতি ও দায়িত্ব বণ্টনের আরো ভালো ও অধিক যুক্তিসংগত প্রস্তাবনাও ছিল।

ছয় দফা কর্মসূচির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল—জনসংখ্যার ভিত্তিতে আইনি প্রতিনিধিত্বসহ সরাসরি সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের মাধ্যমে নির্বাচিত একটি ফেডারেল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা; ফেডারেল সরকার শুধু বৈদেশিক বিষয় এবং প্রতিরক্ষার জন্য দায়ী থাকবে; প্রতিটি প্রদেশের জন্য অবাধে পরিবর্তনযোগ্য পৃথক মুদ্রা; ফেডারেল সরকারের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের গ্যারান্টিসহ প্রদেশগুলোকে কর এবং রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষমতা প্রদান করা; প্রতিটি প্রদেশের জন্য আলাদা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের অ্যাকাউন্ট এবং প্রতিটি প্রদেশের একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন এবং তা পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে। আওয়ামী লীগের ছয় দফা-পরবর্তীকালে সরকার বিরোধীদের জন্য একটি ইস্যু হয়ে ওঠে এবং একটি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়, যা শহুরে সর্বহারা এবং ছাত্র ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দিয়ে উৎসাহের সঙ্গে গৃহীত হয়েছিল। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি সফল ধর্মঘটের মাধ্যমে আন্দোলনের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এ উদীয়মান আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য একটি হয়রানির বিষয় হয়ে ওঠে। তাকে বারবার গ্রেফতার করা হয়, মুক্তি দেয়া হয় এবং আবার গ্রেফতার করা হয়। এ অনৈতিক চক্র ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করার আগ পর্যন্ত পরবর্তী দুই বছর অব্যাহত ছিল। এ পরিস্থিতি ঢাকায় ছাত্রদের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে এবং একটি ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করতে পরিচালিত করেছিল, যাতে ছয় দফা কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অতিরিক্ত পয়েন্টের মধ্যে ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং মুজিব ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি।

এ ছাত্র আন্দোলনের কারণে অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এমন ইংগিতও ছিল যে, আইয়ুব খান সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসতে এবং সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচন করতে প্রস্তুত।

তত্কালীন পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের মনোভাব সুনজরে দেখা হয়নি। ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। একটি সর্বজনীন সামরিক আইনও জারি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ইয়াহিয়া খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছিলেন, কিন্তু ১৯৬৯ সালের ৩১ মার্চে তিনি নিজেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।

ইয়াহিয়া পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং প্রস্তাব করেছিলেন একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। তবে বিশ্লেষকরা যেমন পরে উল্লেখ করেছেন, ইয়াহিয়ার দূরদৃষ্টির অভাব ছিল এবং তিনি একটি নিমজ্জমান জাহাজের দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম ছিলেন না।

১৯৬৯ সালের ২৮ নভেম্বর ইয়াহিয়া পশ্চিম পাকিস্তানে ওয়ান ইউনিট ভেঙে দেন, যা কার্যত ১৯৫৬ ও ১৯৬২ সালের সংবিধানে বিদিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সমতার নীতিকে পরিবর্তন করে। তিনি একই সঙ্গে জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের সব আসনে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচনের আদেশ দেন। এ সিদ্ধান্ত প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের স্থায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। সংখ্যাগত শক্তির ওপর ভিত্তি করে পূর্ব পাকিস্তানকে ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট এককক্ষ জাতীয় পরিষদের ১৬২টি আসন দেয়া হয়েছিল, যা গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। ১৯৬৯ সালের ৩০ মার্চ ইয়াহিয়া একতরফাভাবে একটি আইনি কাঠামোর আদেশও জারি করেন, যা জাতীয় পরিষদের নির্বাচন পদ্ধতির বিধি এবং সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির জন্য কিছু বিধানের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার রূপরেখা দেয়। আদেশে অবশ্য ‘স্বায়ত্তশাসন’ বা ছয় দফা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

শেখ মুজিব কৌশলে আদেশ উপেক্ষা করেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল। এটা অনুভূত হয়েছিল যে, এ ধরনের বিজয়কে তখন ছয় দফার মধ্যে উল্লিখিত নীতিগুলোর ওপর গণভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এ বোঝাপড়া ও অনুমানই আওয়ামী লীগকে ১৯৭০ সালের জানুয়ারি থেকে একটি তীব্র প্রাক-নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে প্ররোচিত করেছিল।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর একটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় নিম্নভূমিতে আঘাত হানে এবং ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ইয়াহিয়া তখন চীন সফরে ছিলেন। তিনি ফেরার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু তার সংক্ষিপ্ত সফরটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল। বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতেও জাতীয় জরুরি ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ আপাত নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এবং সামন্ত ও স্বেচ্ছাচারী কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ফাটলকে আরো প্রশস্ত করে তোলে।

ইয়াহিয়ার প্রতি ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়, যখন পূর্ব পাকিস্তানের বিরাজমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ঘূর্ণিঝড়ের চার সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটে তাই স্পষ্টভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি আধিপত্য নিয়ে বাঙালিদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে প্রদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২টি আসনের মধ্যে দুটি ছাড়া সব ক’টিতেই জয়লাভ করে। এটি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করে। দলটি প্রাদেশিক আইনসভার মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন দখল করে বিরোধীদের পরাজিত করে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত বাকি ১০টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি।

অন্যদিকে ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জাতীয় পরিষদের ১৩৮টি পশ্চিম পাকিস্তানের আসনের মধ্যে ৮১টি নিয়ে দুর্বলভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ভুট্টো প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাকে কেন্দ্রে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে না দিলে তার দল বিধানসভার উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবে না। তবে মুসলিম লীগের কাইয়ুম উপদল ব্যতীত পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু দলগুলো আইনসভা বয়কট করার ভুট্টোর সিদ্ধান্তে একমত হয়নি। এ হুমকির মাধ্যমে ভুট্টো স্পষ্ট করেন যে, তিনি আইনসভাকে অকার্যকরের পরিকল্পনা করেছিলেন।

ইয়াহিয়া ও তার উপদেষ্টারা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনোত্তর বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেন এবং তারপর শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন। মুজিব পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করায় তারা এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। মুজিবের কথা বলার ভঙ্গি পরোক্ষভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের জানিয়ে দিচ্ছিল যে ক্ষমতার কেন্দ্র ঢাকায় চলে গেছে।

ইয়াহিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল ১০ জনেরও বেশি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে ভুট্টোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। পশ্চিম পাকিস্তানের লারকানায় ভুট্টোর বাড়িতে এ বৈঠক হয়। লারকানা বৈঠক আওয়ামী লীগের ছয় দফা ইস্যুতে পশ্চিম পাকিস্তানের একমাত্র মুখপাত্র হওয়ার ভুট্টোর দাবিকে প্রমাণিত করে। এ উদীয়মান দৃশ্যকল্পটি বিশেষ তাত্পর্য বহন করে। কারণ এরই মধ্যে ইয়াহিয়া ঘোষণা করেছিলেন যে, ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ভুট্টোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হামিদ, মিঠা, পীরজাদা ও টিক্কা খানের নেতৃত্বে জেনারেলদের একটি গোষ্ঠীর পরামর্শে ইয়াহিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেছিলেন।

ইয়াহিয়ার স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে একটি অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এ বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় যে, বাঙালিরা অখণ্ড পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে না। ছাত্রদের মধ্যে অতি উৎসাহীরা অবিলম্বে প্রকাশ্যে স্বাধীনতা ঘোষণার দাবি জানাতে থাকে। শেখ মুজিব বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকেন তবে ২ মার্চ প্রতিবাদ ধর্মঘটও ডাকেন। এরপর ৭ মার্চ একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ভারাক্রান্ত হূদয়ে বঙ্গবন্ধু তার বর্ণাঢ্য ভাষণে উল্লেখ করেন—‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরের রাজপথ আমাদের ভাইদের রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তাদের অধিকার চায়। আমরা কী ভুল করেছি?’

তিনি অসহযোগ আন্দোলনের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেগুলো হচ্ছে—(ক) জনগণ কর প্রদান করবে না; (খ) সরকারি কর্মচারীদের শুধু তার কাছ থেকে আদেশ নিতে হবে; (গ) পূর্ব পাকিস্তানের সচিবালয়, সরকারি ও আধা সরকারি অফিস এবং আদালতে কোনো ঘোষণা ছাড়া ধর্মঘট পালন করতে হবে; (ঘ) শুধু স্থানীয় ও আন্তঃজেলা টেলিফোন লাইনগুলো সচল থাকবে এবং (ঙ) রেলওয়ে ও বন্দরগুলো কাজ চালিয়ে যেতে পারবে, তবে তাদের যদি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে দমনের জন্য ব্যবহার করা হয় তাহলে সহযোগিতা করা যাবে না। ভাষণটি প্রায় ১৯ মিনিট স্থায়ী হয় এবং শেষ হয়, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা!’। এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা। এর মাধ্যমে প্রদেশব্যাপী আইন অমান্য ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যত কর্তৃত্বে পরিণত হয় এবং ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।

২৩ মার্চ বিষয়টি নজরে আসে। ইয়াহিয়ার সামরিক যন্ত্রের নমনীয়তায় হতাশ হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ মার্চ (পাকিস্তানের জাতীয় দিবস) প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকায় উত্তাল গণসমাবেশে ছাত্ররা আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে নতুন ডিজাইনের বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। এটি একটি প্রতীকী বিচ্ছিন্নতা ছিল।

টিক্কা খানের জরুরি পরিকল্পনার একটি ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত সামরিক সমাধানটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এবং ২৬ মার্চ ভোরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৫-২৬ মার্চ মধ্যরাতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল; আওয়ামী লীগকে বেআইনি ঘোষণা করে সম্পূর্ণ প্রেস সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো হয়। ভুট্টো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ। পাকিস্তান রক্ষা পেয়েছে।’ অখণ্ড পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়ে শুরু হয় বীরত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ।

 

মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার