এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরে বাঙালি বিশ্বের কাছে আত্মমর্যাদাশীল, আত্মপ্রত্যয়ী ও উন্নয়ন যাত্রাপথে সাফল্য অর্জনের কঠোর সংগ্রামে অবিচল জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে। সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অর্জনের পথের মূল চ্যালেঞ্জগুলো স্মরণ করব। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়লগ্নে এই নব্য স্বাধীন দেশটি অর্থনৈতিকভাবে আদৌ টিকে থাকতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্বের অনেক উন্নয়ন অর্থনীতিবিদের গভীর হতাশা ছিল। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জনসন নামের যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক যখন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সনের তদানীন্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সেক্রেটারি অব স্টেট ড. হেনরি কিসিঞ্জার তাতে সায় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ওপর ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত ইউস্ট ফালান্ড ও জন পারকিনসনের বিশ্বখ্যাত গবেষণা পুস্তকটির নামই ছিল বাংলাদেশ—এ টেস্ট কেস অব ডেভেলপমেন্ট। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার অনেক সাধ্য-সাধনা করে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ এর ফলে বৈদেশিক অনুদান, খাদ্য সহায়তা ও ‘সফট লোন’ পাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ বিবেচনা পায়। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন, এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশকে ওই অপমানজনক অবস্থান থেকে বের করে আনবেন। কিন্তু এক দশকের স্থলে বাংলাদেশের ৪৩ বছর লেগে গেছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সোপানে পৌঁছানোর জন্য। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল নির্ধারিত ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ ক্যাটাগরি থেকে ‘উন্নয়নশীল দেশের’ ক্যাটাগরিতে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে (করোনাভাইরাস মহামারীর বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ ২০২৪ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালে এই উত্তরণ কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছে)। এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের ‘নিম্ন আয়ের দেশ’ ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশ ‘নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ’ ক্যাটাগরিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের যে ডাইমেনশনগুলো বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে সেগুলো হলো, ১. বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। করোনাভাইরাস মহামারীর আঘাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে গেলেও বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ২০১৯ অর্থবছরের ১ হাজার ৯০৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে পৌঁছেছে বলে প্রাক্কলিত হয়েছে (জিএনআই বেশ কিছুটা বেড়েছে ভিত্তি বছর পরিবর্তনের ফলে)।
২. আইএমএফ বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু নমিনাল জিডিপি ভারতের মাথাপিছু জিডিপিকে ছাড়িয়ে গেছে, পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে ২০১৫ সালেই।
৩. ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছিল, যেখান থেকে ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর্যায়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী জনসংখ্যার অনুপাত ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল (গত দেড় বছরে মহামারীর কারণে দারিদ্র্য আবার ৫-১০ শতাংশ বেড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে)।
৪. ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর থেকে ১৯৮১-৮২ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপির অনুপাত হিসেবে বৈদেশিক ঋণ-অনুদান ১০ শতাংশের বেশি ছিল, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির এক শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে। বাংলাদেশ এখন আর খয়রাতনির্ভর দেশ নয়, একটি বাণিজ্যনির্ভর দেশ।
৫. এক দশক ধরে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত অর্জিত হচ্ছে। এর মানে বাণিজ্য ভারসাম্যের ঘাটতি এখন আর সংকটজনক নয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৈধ পথে প্রেরিত রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রশংসনীয় প্রবৃদ্ধি দেশের লেনদেন ভারসাম্যে স্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে।
৬. জনসংখ্যার অত্যধিক ঘনত্ব, জমি-জন অনুপাতের অত্যল্পতা এবং চাষযোগ্য জমির ক্রম-সংকোচন সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করে এখন ধান উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ধান উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ টন, ২০২০ সালে তা সাড়ে তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৩ কোটি ৮২ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। ধান, গম ও ভুট্টা মিলে ২০২০ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ টন। ৭০ লাখ টন আলুর অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে ২০২০ সালে বাংলাদেশে ১ কোটি ২ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে (এখনো আমরা অবশ্য প্রায় ৫০-৫৫ লাখ টন গম আমদানি করি)। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তরিতরকারি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। বাংলাদেশে একটি কৃষি বিপ্লব চলমান।
৭. করোনা মহামারীর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিল্প খাতের অবদান জিডিপির ৩৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল, বিনিয়োগ-জিডিপির অনুপাতও ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
৮. ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল ৪২ বিলিয়ন (মানে ৪২০০ কোটি) ডলারেরও বেশি, অথচ ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল মাত্র ৭৫ দশমিক ২ কোটি ডলার (করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি আয় ৩৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে তা আবার ৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে প্রাক্কলিত হয়েছে)। রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসছে বুনন ও বয়নকৃত তৈরি পোশাক খাত থেকে। চীনের পর বাংলাদেশ পোশাক রফতানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, সিরামিক পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও কৃষিভিত্তিক খাদ্যপণ্য রফতানি বাজারে ভালোই সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
৯. বাংলাদেশের ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বিদেশে কাজ করছে এবং বসবাস করছে। করোনাভাইরাস মহামারী সত্ত্বেও ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেড়ে ২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে।
১০. ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের সাফল্য গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র নারীদের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পৌঁছে দেয়ার একটা অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে। এই সফল উদ্ভাবন নোবেল প্রাইজ অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বস্বীকৃতি অর্জন করেছে।
১১. বাংলাদেশের নারীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ বাড়ির আঙিনার বাইরে অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে ক্রিয়াশীল। দেশের দ্রুত বিকাশমান পোশাক শিল্পে ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, আর এই শ্রমিকদের ৬০ শতাংশেরও বেশি নারী। সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক অবস্থানের এসব নারীর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটা তাদের বঞ্চনা ও চরম দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একটি তাত্পর্যপূর্ণ নিরোধক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ক্ষুদ্রঋণের সহায়তায় নারীর স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বাংলাদেশ বিশ্বে সফল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
১২. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টের শেষে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (গত চার মাসে রিজার্ভ আবার ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে)। ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের রুপির বৈদেশিক মুদ্রামান টাকার চেয়ে বেশি হলেও বাংলাদেশের ১ টাকায় এখন পাকিস্তানের ২ রুপি পাওয়া যায়। ভারতের রুপির বৈদেশিক মানের তুলনায়ও বাংলাদেশের টাকার মান ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৩. বাংলাদেশে এখন সাড়ে ১৬ কোটি সেলফোন রয়েছে, ১১ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
স্বাধীনতা-উত্তর ৫০ বছরে উল্লিখিত প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হয়েছে। মাথাপিছু জিডিপি যেহেতু একটি গড় সূচক, তাই মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যদি দেশে আয় বণ্টনে বৈষম্যও বাড়তে থাকে তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের উচ্চবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পুঞ্জীভূত হতে থাকে। ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রবৃদ্ধির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। অর্থনীতিতে আয়বৈষম্য পরিমাপক জিনি সহগ যখন বেড়ে শূন্য দশমিক ৫-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায় বা শূন্য দশমিক ৫ অতিক্রম করে তখন ওই দেশকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের জিনি সহগ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ মোতাবেক সেটা বেড়ে শূন্য দশমিক ৪৮৩-এ পৌঁছে গেছে। আরেকটি পরিমাপকের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে ২০১০ ও ২০১৬ সালের মধ্যে আয়বৈষম্য বিপজ্জনকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিপক্ষে এবং ৫-১০ শতাংশ ধনাঢ্য গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে। ২০১০ সালে দরিদ্রতম ৫ শতাংশ জনসংখ্যার মোট আয় ছিল মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে মাত্র শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে গেছে। ২০১০ সালে দরিদ্রতম ১০ শতাংশ জনসংখ্যার মোট আয় ছিল মোট জিডিপির ২ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা মাত্র ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে নেমে গেছে। সমস্যার আরেক পিঠে দেখা যাচ্ছে, দেশের ধনাঢ্য ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে ২০১০ সালে ছিল মোট জিডিপির ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ; যা ২০১৬ সালে বেড়ে ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছে গেছে। আরো দুঃখজনক হলো, জনগণের সবচেয়ে ধনাঢ্য ৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে ২০১৬ সালে চলে গেছে মোট জিডিপির ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়েলথ এক্সের প্রতিবেদন ওয়ার্ল্ড আল্ট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৮ মোতাবেক ২০১২ থেকে ২০১৭—এ পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে বার্ষিক ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ হার। দেশের আয় ও সম্পদের এমন পুঞ্জীভবন বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের’ নিকৃষ্ট নজির হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরছে। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছেই দেশের খেলাপি ব্যাংকঋণের ৮০ শতাংশেরও বেশি আটকে রয়েছে এবং এ ব্যাংকঋণ লুটেরারা ঋণের সিংহভাগ বিদেশে পাচার করে দিচ্ছেন। টরন্টোর ‘বেগমপাড়া’ ও মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোমের’ বাসিন্দাদের সিংহভাগই এ দেশের রাঘববোয়াল পুঁজি পাচারকারী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির হিসাব মোতাবেক এক দশক ধরে প্রতি বছর দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার হয়ে চলেছে গড়ে ৭-৯ বিলিয়ন ডলার।
সবশেষে দুটো গুরুতর বিষয় সামনে আনতে চাই। প্রথমত, এখনো এ দেশের জনগণের জীবনের সবচেয়ে বেশি দুর্দশা, যাতনা ও হয়রানি ঘটিয়ে চলেছে সর্বব্যাপ্ত দুর্নীতি। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করলেও গত তিন বছরে এ অঙ্গীকার পূরণকে সত্যিকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের নির্বাচনে লাইনচ্যুত গণতন্ত্রকে আবারো লাইনে পুনঃস্থাপন করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র যে জালিয়াতির দুষ্টচক্রে বন্দি হয়ে গেছে তা থেকে সহজে জাতির নিষ্কৃতি মিলবে না।
ড. মইনুল ইসলাম: সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি; একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়










