কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও শেভরনের মতো প্রভাবশালী জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত এবং তেল পরিবহনের সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখত। এর বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করত। বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওয়াশিংটন কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলের সুরক্ষাকারী নয়; বরং তারা এ অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে এবং উপসাগরীয় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার সুবিধা নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জ্বালানি প্রাধান্য’ নীতির মূল ভিত্তি ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাহায্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অতিমাত্রায় কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শেল ও ফ্র্যাকিং শিল্প লোকসানের মুখে পড়ে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধবিরতি এড়ানোর প্রবণতা হরমুজ প্রণালিকে অনিশ্চিত করে রাখছে। ফলে বিশ্ববাজারে একটি ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ বজায় থাকছে। কোনো পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বদলে এ ‘নিয়ন্ত্রিত অস্থিরতা’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে। এভাবে জ্বালানির দাম এত কমে না, আবার বড় যুদ্ধের মতো সরবরাহে বিপর্যয়ও ঘটে না।
[আল জাজিরা থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]
সুলতান বারাকাত: অধ্যাপক, পাবলিক পলিসি, হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটি; ডিস্টিংগুইশড ভিজিটিং প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব জোহানেসবার্গ










