আমাদের
মহান বিজয়ের
৫০ বছর
পূর্ণ হলো
১৬ ডিসেম্বর।
৫০ বছর
আগে ১৯৭১
সালের ১৬
ডিসেম্বর যুদ্ধে
পরাস্ত পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীর আত্মসমপর্ণের
মধ্য দিয়ে
ওই বছর
২৬ মার্চ
ঘোষিত স্বাধীনতা
পূর্ণতা পায়
এবং পৃথিবীর
মানচিত্রে জায়গা
করে নেয়
স্বাধীন ও
সার্বভৌম বাংলাদেশ।
আজ যদি
আমাদের মনে
প্রশ্ন ওঠে
গত ৫০
বছরে আমরা
কী পেয়েছি
আর কী
পাইনি, তাহলে
জোর দিয়ে
বলা যাবে
যে আমাদের
প্রাপ্তির পাল্লা
অপ্রাপ্তির পাল্লার
চেয়ে অনেক
বেশি ভারী।
মানুষের মৌলিক
চাহিদাগুলোর শীর্ষে
অবস্থান খাদ্যের।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে
আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা
কোন পর্যায়ে
তা পর্যালোচনা
করাই এ
নিবন্ধের উদ্দেশ্য।
খাদ্যনিরাপত্তার সংজ্ঞা
অনুযায়ী তখনই
খাদ্যনিরাপত্তা বিরাজমান
যখন সবার
কর্মক্ষম, স্বাস্থ্যকর
ও উৎপাদনমুখী
জীবনযাপনের জন্য
সবসময় পর্যাপ্ত
পরিমাণে নিরাপদ
ও পুষ্টিমানসম্পন্ন
খাদ্যের লভ্যতা
ও প্রাপ্তির
ক্ষমতা বিদ্যমান
থাকে। ১৯৯৬
সালে রোমে
অনুষ্ঠিত বিশ্ব
খাদ্য সম্মেলনে
যোগদানকারী দেশগুলোর
রাষ্ট্রপ্রধান ও
সরকারপ্রধানরা নিরাপদ
ও পুষ্টিমানসম্পন্ন
খাদ্যপ্রাপ্তিকে প্রত্যেক
মানুষের অধিকার
হিসেবে পুনর্ব্যক্ত
করেন। আমাদের
জাতীয় খাদ্যনীতিতে
(২০০৬) খাদ্যনিরাপত্তায়
চিহ্নিত তিনটি
নিয়ামক হলো
খাদ্যের লভ্যতা
(availability of food), খাদ্যপ্রাপ্তির
সক্ষমতা (access
to food) ও
খাদ্যের জৈবিক
ব্যবহার (utilization
of food)।
সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার
প্রশ্নে সব
কয়টি নিয়ামক
গুরুত্বপূর্ণ এবং
এগুলোর মধ্যে
সুনির্দিষ্ট পারস্পরিক
নির্ভরতা বিদ্যমান
থাকায় খাদ্যনিরাপত্তা-সম্পর্কিত
সব বিষয়ে
সুষম ভারসাম্য
বজায় রাখা
অপরিহার্য।
খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ
উপাদানগুলোর মধ্যে
রয়েছে শর্করা
(চাল, গম,
আলু), আমিষ
(মাছ, মাংস,
ডিম, ডাল),
স্নেহ পদার্থ
(ভোজ্যতেল, দুগ্ধজাতীয়
খাবার), মিনারেলস
(শাকসবজি), মসলা
(পেঁয়াজ, রসুন,
আদা) ও
পানীয় (চা,
কফি)।
যেহেতু এ
দেশের কমবেশি
৯০ শতাংশ
মানুষের প্রধান
খাদ্য ভাত,
সেহেতু খাদ্যনিরাপত্তা
নিয়ে আলোচনায়
প্রথমে আসে
চালের বিষয়টি।
স্বাধীনতা লাভের
সময় দেশে
চাল উৎপাদনের
পরিমাণ ছিল
কমবেশি ১
কোটি টন,
যা ২০১৯-২০
অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে
৩ কোটি
৮৬ লাখ
৯৫ হাজার
টনে (বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)।
অর্থাৎ স্বাধীনতাকালীন
দেশের সাড়ে
সাত কোটি
জনসংখ্যা দ্বিগুণের
কিছুটা বেশি
বৃদ্ধি পেলেও
চাল উৎপাদন
বেড়েছে তিন
গুণের বেশি।
তবে চাল
উৎপাদনে দেশ
এখন পর্যন্ত
স্বনির্ভরতা অর্জন
করতে না
পারায় চাহিদা
মেটাতে প্রায়
প্রতি বছর
আমাদের কিছু
পরিমাণ চাল
আমদানি করতে
হচ্ছে।
খাদ্যশস্যে দ্বিতীয়
অবস্থানে থাকা
গম উৎপাদন
মোটেই সন্তোষজনক
নয়। সরকারি
তথ্য মোতাবেক
১৯৯৮-৯৯
অর্থবছরে দেশে
গম উৎপাদন
দাঁড়িয়েছিল ১৯
লাখ ৮
হাজার টনে,
যা এখন
১১-১২
লাখ টনের
মধ্যে সীমাবদ্ধ।
জলবায়ু পরিবর্তনের
প্রভাবে দেশে
শীতের তীব্রতা
ও স্থায়িত্ব
হ্রাস, গম
ফসলে মারাত্মক
ব্লাস্ট রোগের
আক্রমণ ইত্যাদি
কারণে একরপ্রতি
উৎপাদনশীলতা হ্রাস
পাওয়ায় গম
চাষে কৃষকের
কিছুটা অনীহা
দেখা দেয়ায়
দেশে গম
উৎপাদন ভীষণভাবে
হ্রাস পেয়েছে।
চাহিদার তুলনায়
উৎপাদনের পরিমাণ
পাঁচ ভাগের
এক ভাগে
নেমে আসায়
দেশ গমে
প্রায় পুরোপুরি
আমদানিনির্ভর হয়ে
পড়েছে।
তবে শর্করাজাতীয়
খাদ্য আলু
উৎপাদনে দেশ
স্বনির্ভরতা অর্জন
করেছে এবং
নিজেদের চাহিদা
মিটিয়ে পৃথিবীর
অনেক দেশে
তা রফতানি
করছে। আলু
উৎপাদনে বাংলাদেশের
অবস্থান বিশ্বে
সপ্তম। সবজি
উৎপাদনেও দেশ
স্বনির্ভরতা অর্জন
করেছে। এফএওর
তথ্যমতে, সবজি
উৎপাদনে বাংলাদেশ
এখন বিশ্বে
তৃতীয়।
বেশকিছু খাদ্যপণ্য
উৎপাদনে দেশ
পিছিয়ে আছে।
এগুলোর মধ্যে
চাহিদার তুলনায়
খাদ্যশস্য গম
উৎপাদনে স্বল্পতা
নিয়ে আগেই
আলোচনা করা
হয়েছে। আর
যেসব কৃষিজাত
খাদ্যপণ্যের উৎপাদন
চাহিদার বহুলাংশের
তুলনায় কম
সেগুলোর মধ্যে
রয়েছে ডাল,
ভোজ্যতেল, চিনি,
ফল, পেঁয়াজ,
রসুন, আদাসহ
বিভিন্ন ধরনের
মসলা। আমদানির
মাধ্যমে এসব
খাদ্যপণ্যের চাহিদা
মেটাতে হয়।
চালসহ শস্য
উৎপাদনে স্বনির্ভরতা
অর্জনে দেশ
বেশকিছু সীমাবদ্ধতা
ও চ্যালেঞ্জের
সম্মুখীন। অষ্টম
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়
চিহ্নিত এসব
সীমাবদ্ধতা ও
চ্যালেঞ্জের মধ্যে
রয়েছে (ক)
নিম্ন উৎপাদনশীলতা,
(খ) জলবায়ু
পরিবর্তন ও
সম্পর্কিত অন্যান্য
চ্যালেঞ্জ, (গ)
প্রাকৃতিক সম্পদের
ভিত্তির অবনমন
ও ভূগর্ভস্থ
পানির স্তর
হ্রাস, (ঘ)
কৃষিজমির প্রাপ্যতা
হ্রাস, (ঙ)
কৃষি ঋণপ্রাপ্তিতে
সমস্যা, (চ)
খাদ্যনিরাপত্তা ও
পুষ্টি সমস্যা,
(ছ) যথাযথ
ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ,
প্রক্রিয়াকরণ ও
বাজারজাত ব্যবস্থার
অভাব। এসব
সীমাবদ্ধতা ও
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক
পরিকল্পনায় বেশকিছু
কৌশল অবলম্বনের
কথা বলা
হয়েছে। এগুলোর
মধ্যে রয়েছে
(এক) ফসলের
উৎপাদনশীলতা ও
উৎপাদন বৃদ্ধির
মাধ্যমে খাদ্যের
সহজলভ্যতা, খাদ্যের
অধিকার ও
ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি
করা; (দুই)
পুষ্টিকর, নিরাপদ
ও চাহিদা
রয়েছে এমন
খাদ্যের চাহিদা
নিশ্চিত করার
জন্য খাদ্য
উৎপাদন পরিকল্পনা
গ্রহণ ও
বাস্তবায়ন করা;
(তিন) কভিড-১৯
মহামারীর পর
কৃষিপণ্যের সরবরাহ
শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার
এবং উন্নয়ন
সাধন করা,
কভিড-১৯-এর
বিরূপ প্রভাব
সর্বনিম্ন পর্যায়ে
নামিয়ে এনে
সংকট-পরবর্তী
কৃষির প্রবৃদ্ধি
ও খাদ্যনিরাপত্তা
নিশ্চিত করা;
(চার) কৃষি
উৎপাদন বৃদ্ধি
ও কৃষিপণ্যের
বিপণন সুবিধা
নিশ্চিতকরণ এবং
ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে
কৃষকদের সহায়তা
প্রদান করা;
(পাঁচ) মূল্যসংযোজন,
সরবরাহ শৃঙ্খলার
উন্নয়ন, চাহিদা
উপযোগী ও
রফতানিমুখী কৃষি
উন্নয়নের মাধ্যমে
কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ
ও কর্মসংস্থান
সৃষ্টিতে নতুন
ক্ষেত্র তৈরি
করা।
খাদ্যে পুষ্টিমান
বৃদ্ধিতে আমিষের
অবদান অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। আমিষের
প্রধান উৎস
মাছ উৎপাদনে
দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা
অর্জন করেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য
ও কৃষি
সংস্থার (এফএও)
‘দ্য
স্টেট অব
ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ
অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার
২০২০’ শীর্ষক
প্রতিবেদনের বরাত
দিয়ে বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক সমীক্ষা
২০২১-এ
বলা হয়েছে,
বিশ্বে অভ্যন্তরীণ
মুক্ত জলাশয়ে
মাছ উৎপাদনে
বাংলাদেশ তৃতীয়
এবং চাষকৃত
জলাশয়ে মাছ
উৎপাদনে পঞ্চম
স্থানে রয়েছে।
সামুদ্রিক মত্স্য
আহরণের ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের অবস্থান
বিশ্বে ১১তম।
সরকারি তথ্য
মোতাবেক সপ্তম
পরিকল্পনা মেয়াদকালে
(২০১৫-২০)
প্রাণিসম্পদে উল্লেখযোগ্য
উন্নতি হয়েছে।
দেশ মাংস
উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ
হয়েছে এবং
ডিম উৎপাদনে
স্বনির্ভরতার কাছাকাছি
পৌঁছেছে। তবে
দুধ উৎপাদনে
আমরা অনেকটা
পিছিয়ে আছি।
পণ্যটির চাহিদা
মেটাতে আমদানির
আশ্রয় নিতে
হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদে উন্নতি
হলেও এক্ষেত্রে
বেশকিছু সীমাবদ্ধতা
ও চ্যালেঞ্জ
রয়েছে। এগুলোর
মধ্যে রয়েছে
(ক) কম
উৎপাদনশীলতা, (খ)
মানসম্মত ফিড
ও তৃণজাতীয়
খাদ্যের অপর্যাপ্ততা,
(গ) নতুন
রোগের প্রাদুর্ভাব
ও পুরনো
রোগের পুনঃসংক্রমণ,
(ঘ) অপর্যাপ্ত
ভেটেরিনারি সেবা
ও প্রাণী
স্বাস্থ্য, (ঙ)
সীমিত ঋণ
সুবিধা। এসব
সীমাবদ্ধতা ও
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক
পরিকল্পনায় যেসব
কৌশল অবলম্বনের
কথা বলা
হয়েছে, সেগুলোর
মধ্যে রয়েছে
(এক) প্রক্রিয়াজাত
পণ্যসহ দুধ,
ডিম, মাংসের
টেকসই উৎপাদনে
সহায়তা প্রদান;
(দুই) ভূমিহীন,
ক্ষুদ্র ও
প্রান্তিক চাষীদের
টেকসই আয়
উপার্জন ও
কর্মসংস্থানের প্রসার
করা; (তিন)
জলবায়ু সহনশীল
ও সুলভ
মূল্যে পশুখাদ্য
ও তার
উন্নয়ন; (চার)
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে
পশু থেকে
উৎপাদিত পণ্য
ও উপজাত
পণ্য উৎপাদন,
বিপণন ও
রফতানিতে বেসরকারি
খাতের অংশগ্রহণ
বৃদ্ধিতে সহায়তা
প্রদান।
খাদ্যের লভ্যতা
খাদ্যনিরাপত্তার জন্য
যথেষ্ট নয়।
দরকার খাদ্য
কেনার সামর্থ্য।
প্রায় দুই
বছর ধরে
করোনা মহামারীর
কারণে গরিব
মানুষের সংখ্যা
বেড়েছে। কারণ
হিসেবে উল্লেখ
করা যায়,
দেশে কর্মসংস্থানে
মূল ভূমিকা
পালনকারী বেসরকারি
খাতে চাকরিচ্যুতি,
বেতন বা
মজুরি হ্রাস
এবং অন্যান্য
কারণে মানুষের
আয় উল্লেখযোগ্য
পরিমাণে হ্রাস
পেয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক
জনমত জরিপ
প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ
পরিচালিত ‘স্টেট
অব দ্য
গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস
২০২১’ শীর্ষক
এক সমীক্ষায়
বলা হয়েছে,
করোনা মহামারীর
সময়ে বিশ্বে
প্রতি তিনজনের
একজন চাকরি
বা কাজ
হারিয়েছেন। ফলে
মানুষের আয়
কমেছে। সমীক্ষায়
আরো বলা
হয়েছে, করোনার
সময় বাংলাদেশসহ
দক্ষিণ এশিয়ার
৫৫ শতাংশ
মানুষের আয়
কমেছে। তাছাড়া
করোনার কারণে
নতুন কর্মসংস্থান
সৃষ্টিতে শ্লথগতি
দেখা দেয়ায়
শ্রমশক্তিতে প্রবেশের
উপযোগী মানুষ,
বিশেষ করে
শ্রমশক্তির চূড়ামণি
যুবকরা বেকারদের
দলে ভিড়েছেন।
এতে বেড়েছে
বেকারত্বের হার,
যা দারিদ্র্য
হার বৃদ্ধিতে
ভূমিকা রেখেছে।
কারণ বেকারত্ব
ও দারিদ্র্য
একই মুদ্রার
এপিঠ-ওপিঠ।
২০২০-২১
অর্থবছরে একাধিক
বেসরকারি গবেষণা
প্রতিষ্ঠান বা
সংস্থা, যথা
পাওয়ার অ্যান্ড
পার্টিসিপেশন রিসার্চ
সেন্টার (পিপিআরসি),
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট
অব গভর্ন্যান্স
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
(বিআইজিডি), সেন্টার
ফর পলিসি
ডায়ালগের (সিপিডি)
গবেষণার ফলাফলে
দেখা যায়,
করোনা পরিস্থিতিতে
দেশে দারিদ্র্য
হারে উল্লম্ফন
ঘটেছে। এ
হার দাঁড়িয়েছে
৩৫ থেকে
৪২ শতাংশে।
দারিদ্র্যের এ
হার বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান ব্যুরোর
(বিবিএস) হাউজহোল্ড
ইনকাম অ্যান্ড
এক্সপেন্ডিচার সার্ভে
(হায়েস)-২০১৬-এর
২৪ দশমিক
৩ শতাংশ
এবং অর্থমন্ত্রীর
বাজেট বক্তৃতা
২০১৯-২০-এ
উল্লিখিত ২১
দশমিক ৮
শতাংশের তুলনায়
অনেক বেশি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর
গবেষণায় উঠে
আসা দারিদ্র্যের
এ উচ্চহারকে
চ্যালেঞ্জ করে
সরকারি তথ্য
ও উপাত্তের
ভিত্তিতে বর্তমানে
দেশে দারিদ্র্যর
হার কত
তা সরকারের
পক্ষ থেকে
এখন পর্যন্ত
জনগণকে জানানো
হয়নি।
খাদ্যনিরাপত্তার তৃতীয়
নিয়ামক খাদ্যের
জৈবিক ব্যবহারে
অসংগতির কারণে
পুষ্টিমানসম্পন্ন ও
নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির
ক্ষেত্রে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের
নিচে অবস্থান
করছে। গত
দুই দশকে
অর্থনৈতিক ও
সামাজিক ক্ষেত্রে
প্রশংসনীয় উন্নতি
হলেও দেশ
পুষ্টির ক্ষেত্রে
পিছিয়ে পড়েছে।
‘দ্য
স্টেট অব
ফুড অ্যান্ড
নিউট্রিশন ইন
দ্য ওয়ার্ল্ড
২০১৯’ অনুযায়ী
বাংলাদেশে প্রতি
ছয়জনের একজন
অপুষ্টিতে ভুগছে।
এর পেছনের
কারণগুলোর মধ্যে
রয়েছে (ক)
অপর্যাপ্ত খাদ্য
গ্রহণ, (খ)
গরিব ও
অতি গরিব
পরিবারগুলোয় অভ্যন্তরীণ
খাদ্য বিতরণে
অসমতা, (গ)
দুর্বল স্যানিটেশন
ব্যবস্থার কারণে
গরিব ও
অতি গরিব
পরিবারগুলোয় নানা
ধরনের সংক্রামক
রোগের প্রাদুর্ভাব।
গরিব ও
অতি গরিব
এক বিরাট
জনগোষ্ঠীর খাদ্য
সংগ্রহে আর্থিক
সক্ষমতার অভাব
এবং এর
ফলে তাদের
অপর্যাপ্ত খাদ্য
গ্রহণ, খাদ্যে
পুষ্টিমানের স্বল্পতা,
নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তিতে
অনিশ্চয়তা ইত্যাদি
কারণে বাংলাদেশের
খাদ্যনিরাপত্তা এখনো
ঝুঁকির মধ্যে
রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তার
নিয়ামকগুলো বিবেচনায়
নিয়ে তৈরি
‘গ্লোবাল
ফুড সিকিউরিটি
ইনডেক্স ২০২০’-এ
বাংলাদেশের অবস্থান
তলানিতে। অর্থাৎ
১১৩টি দেশের
তালিকায় বাংলাদেশের
অবস্থান ৮৪তম।
তাছাড়া তালিকা
অনুযায়ী খাদ্যনিরাপত্তায়
দক্ষিণ এশিয়ায়
সবচেয়ে পিছিয়ে
বাংলাদেশ। এ
অবস্থা থেকে
বেরিয়ে আসা
আমাদের জন্য
এক বড়
চ্যালেঞ্জ। এ
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা
করে আমাদের
জয়ী হতেই
হবে।
মো. আবদুল লতিফ
মন্ডল: সাবেক খাদ্য
সচিব
latifm43@gmail.com










