পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
সমাজ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পাশাপাশি বিশাল দেশে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার জন্য ১৯৫২ পর্যন্ত অনেকগুলো ব্যবস্থা নেয়া হয়, যার ধারাবাহিকতা পরেও অব্যাহত থাকে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘পিপলস ব্যাংক অব চায়না’র কর্তৃত্বে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হয়। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মুদ্রা ব্যবস্থা একীভূত করা হয়, ঋণ সংকোচন করা হয়, সরকারি ব্যয় কঠোর নিরীক্ষার মধ্যে আনা হয় এবং মুদ্রামান অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উৎপাদকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করত এবং দেশী-বিদেশী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করত। চীনে বিপ্লব-পূর্ব সরকারের আমলেই শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এবং আধুনিক পরিবহনের বৃহদংশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল, বিপ্লবী সরকার প্রথমেই এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলো ক্রমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ১৯৫২ সাল পর্যন্তও শতকরা ১৭ ভাগ শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
কৃষির কথা আগেই বলেছি। ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে শতকরা ৪৮ ভাগ আবাদি জমি ভূস্বামীদের হাত থেকে নিয়ে গরিব বা ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এরপর পারস্পরিক সহযোগী দলের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে যৌথ চাষ এবং পরে কমিউন প্রতিষ্ঠার দিকে চীন অগ্রসর হয়। ১৯৫২ সাল নাগাদ কৃষক পরিবারের শতকরা ৩৯ ভাগ মানুষ পারস্পরিক সহযোগী দলে যুক্ত ছিল। এ বছরের মধ্যেই গ্রাম-শহরের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে। দাম স্থিতিশীল হয়, বাণিজ্য ব্যবস্থা সংগঠিত হয়, শিল্প ও কৃষি বিপ্লব-পূর্ব কালের উৎপাদন সূচকে পৌঁছে তা অতিক্রমের দিকে অগ্রসর হয়।
বস্তুত ১৯৫৮ সালের মধ্যে কৃষিতে কমিউন ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ আকার নেয়। এগুলো যে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অধীনেই অগ্রসর হয়ে একটি স্পষ্ট রূপ নিয়েছে তা নয়, স্থানীয় উদ্যোগ এবং ‘করতে করতে শেখা’ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫৮ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এ গণকমিউনগুলোই গ্রামীণ চীনের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। সারা দেশে মোট ৭৪ হাজার কমিউনের মধ্যে ৭ লাখ ৪০ হাজার বৃহৎ কৃষি সমবায় সংগঠিত হয়। বছরের শেষে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, শতকরা ৯০.৪ ভাগ কৃষক পরিবার কমিউনের অন্তর্গত হয়েছে। কমিউনগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে স্বনির্ভর সমবায়ী ব্যবস্থা। যেখানে মুদ্রা ও মজুরি কর্মপয়েন্ট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক ফয়েজ আহমদ ৬০ ও ৭০ দশকে একাধিকবার চীন সফর করেন। প্রথমবার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগে গিয়ে বেশ কিছুদিন ছিলেন, এরপর গেছেন মাও-পরবর্তী চীনে। তাঁর লেখায় দুই সময়েরই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও বিভিন্নজনের সাক্ষাত্কার পাওয়া যায়, যা চীনের পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৬৬ সালে কমিউন সফর করেছিলেন এবং এক সপ্তাহ সেখানে কৃষকদের সঙ্গে থেকেছেন। তাঁর লেখা থেকে এ বিশাল ও নতুন সমাজ-অর্থনৈতিক কাঠামোর সম্পর্কে একটি চিত্র পাওয়া যায়। কমিউনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন:
“বর্তমানে কৃষকদের প্রত্যেক দিনের
কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়ার্ক পয়েন্টে’ মাসিক
মজুরি দেয়া
হয়ে থাকে।
তাছাড়া শস্যের
মৌসুমে বিনাপয়সায় শস্য ও শাকসবজি
তাদের মধ্যে
বণ্টন করা
হয়। কোনো
পরিবারের জনসংখ্যা অধিক ও শ্রমশক্তি তার তুলনায় অল্প
হলে কমিউন
থেকে অতিরিক্ত পয়সা দেয়া হয়
সংসার চালানোর
জন্য। কমিউনের
সদস্যদের এখন
জীবনের পাঁচটি
রক্ষাকবচ রয়েছে
যথা—খাদ্য,
বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। একটি কমিউনের ছোট-বড় শতাধিক
গ্রামও থাকতে
পারে। অবশ্য
অনেক ক্ষেত্রে ২৫-৩০টি গ্রাম
একত্র করা
হয়েছে। কমিউনের
তিনটি স্তর
বা বিভাগ।
প্রথমে কমিউনের
কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব, দ্বিতীয় স্তর ব্রিগেড
ও ব্রিগেডের অধীন উৎপাদক টিম।
প্রত্যেকটি টিমের
কৃষকরা বিভিন্ন
গ্রুপে কাজ
করেন।”
ফয়েজ
আহমদ তাঁর
পর্যবেক্ষণ থেকে
আরো বলেছেন,
‘কমিউন প্রতিষ্ঠার পর পল্লী সমাজে কয়েকটি ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রথমে বাড়ির কর্তাব্যক্তির আয় ও ব্যয়ের কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়েছে এবং একজনের রুজির ওপর পরিবারের সবাই নির্ভর করেন না। কার্যক্ষম প্রত্যেকেই—মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে রোজগার করেন এবং শ্রম অনুযায়ী পয়সা পান। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিউনে সাধারণ খাবার ঘর চালু করা হয়েছে এবং এসব পাবলিক ডাইনিং হলে যেকোনো সদস্য স্বেচ্ছায় খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশই নিজের বাড়িতে রান্না করে খান, তদুপরি সর্বত্র নার্সারি ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ফলে মহিলাদের কাজের সুবিধা হয়েছে এবং তাঁরা পারিবারিক ঝামেলা থেকে রেহাই পেয়েছেন।... কমিউনের কৃষক পরিবারের ব্যক্তিগত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি কিছু নেই বলে একটা প্রচার রয়েছে। কিন্তু কোনো কমিউনেই ব্যক্তিগত সম্পত্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্তির প্রমাণ পাওয়া যায় না। সব কমিউনেই কৃষকদের ব্যক্তিগত চাষাবাদের জন্য জমি দেয়া হয়।... এ জমিতে কৃষকরা প্রধানত বছরে তিনবার শাকসবজি উৎপাদন করেন।’
তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে
চীন সফরের
অভিজ্ঞতা নিয়ে
লিখেছেন শেখ
মুজিবুর রহমান
ও মওলানা
ভাসানীও। তাঁদের
লেখাতে বিপ্লব-উত্তর চীনে
পরিবর্তনের ধারা
সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পাওয়া যায়।
উচ্চলম্ফ ও তার বিপদ
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৩
সাল পর্যন্ত
ছিল গণচীনের
দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকাল। ততদিনে সমগ্র
চীনে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক অর্থনৈতিক কাঠামো
নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়েছে। কমিউন ব্যবস্থা ছিল এর প্রধান
ভিত্তি। নতুন
বিস্তৃত কমিউন
ব্যবস্থার ওপর
অনেকখানি ভর
করেই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং
তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।
দেশের মানুষের
মধ্যে প্রত্যাশা তখন অনেক উঁচু।
দেশের ভেতর
ও বাইরে
অনেক বিরুদ্ধ
শক্তি। প্রশ্ন
হলো, উৎপাদন
ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে আবার
বৈষম্য-নিপীড়নবিরোধী সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ়
করতে হবে।
প্রাক পুঁজিবাদী ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা থেকে
দ্রুত বের
হয়ে একটি
সমাজতান্ত্রিক শিল্পোন্নত শোষণমুক্ত সমাজ ও অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পার্টি
ততদিনে অনেক
কঠিন পথ
পাড়ি দিয়েছে।
সমগ্র পার্টির
মধ্যে তাই
লক্ষ্য বাস্তবায়নে অস্থিরতা।
এ আবহের মধ্যে
অনেক দ্রুত
উন্নয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি পর্ব শুরু
হয় এ সময়েই। মাও
সে তুং
এ কর্মসূচির মূল প্রবক্তা ছিলেন।
তাঁর বক্তব্য
ছিল কৃষি
ও শিল্প
দুই খাতেই
সমান্তরালভাবে দ্রুত
উন্নয়ন করতে
সর্বশক্তি নিয়োগ
করতে হবে।
এর পাশাপাশি উৎপাদন সম্পর্কে বিপ্লবীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আমলাতন্ত্র বিশেষজ্ঞনির্ভরতা পরিহার করে রাজনৈতিক উদ্দীপনার ওপর ভর
করতে হবে।
স্বল্পস্থায়ী এ পর্বটি বৃহৎ
উচ্চলম্ফ বা The Great Leap Forward নামে পরিচিত।
পার্টির মধ্যে অর্থনীতির রূপান্তরে ‘ধীর’ এবং ‘দ্রুত’লয়—এ দুই মতই ছিল। লিউ শাউ চিসহ আরো অনেকে ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার পক্ষে ছিলেন। নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিমালিকানার ওপর আরো কিছুদিন নির্ভর করার পক্ষে ছিলেন। তাঁদের মত টেকেনি। দ্রুতগতিতে শিল্পায়নের জন্য শস্য ও স্টিল উৎপাদনে উচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। কমিউন ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি শুরু হয়। উদ্বৃত্ত ফসল শহরে বিক্রি এবং রফতানির মাধ্যমে দ্রুত শিল্পায়নের সম্পদ সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। মৌলিক ও বৃহৎ শিল্প স্থাপনের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প তৈরি হয়। এর জন্য বৃহদাকার বিনিয়োগ ছাড়াও সারা দেশে কমিউনে স্টিল উৎপাদনেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। কারখানার শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যায়। সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শহরে রেশনিং প্রথা চালু হয়।
১৫
বছরের মধ্যে
যুক্তরাজ্যকে অতিক্রম
করা, এক
বছরের মধ্যে
স্টিল উৎপাদন
দ্বিগুণ করা
এভাবে উচ্চ
লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা জনগণের
মধ্যে প্রচার
করা হয়েছিল।
সারা দেশে
গ্রাম-শহরে,
নিজেদের জীবন
সামষ্টিকভাবে পরিবর্তনের জন্য সব ধরনের
কাজে পার্টির
ক্যাডারসহ শ্রমিক-কৃষকদের মধ্যে
বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু
সমাজ অর্থনীতির বিপ্লবী রূপান্তরের জন্য
ইচ্ছা, শ্রম
ও আন্তরিকতাই যথেষ্ট নয়। উন্নয়নের বস্তুগত ভিত্তি, পূর্বশর্ত, পুরনো ব্যবস্থার রেশ,
প্রকৃতির নিয়ম,
বিজ্ঞান প্রযুক্তি আর সেই সঙ্গে
দক্ষ জনশক্তির জোগানের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর যথাযথভাবে পর্যালোচনা এবং সেই অনুযায়ী
কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ
দরকার ছিল।
এর যথেষ্ট
ঘাটতি ছিল।
তার ফলে
প্রথমদিকে সাফল্যের গতি দ্রুত হলেও
শিগগিরই নানা
জটিলতা দেখা
যেতে থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে বিপর্যয়ও দেখা দেয়।
রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক কোটা পূরণ, রফতানির
চাপ কোনো
কোনো অঞ্চলে
খাদ্য ঘাটতি
তৈরি করে।
১৯৫৭ সালের তুলনায় ১৯৬০ সালের মধ্যে কারখানা শ্রমিকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। শহরে খাদ্য চাহিদা বাড়ে। রাষ্ট্রের খাদ্য সংগ্রহের তাগিদ বাড়ে। খাদ্য ও পণ্যের তুলনায় আয় বেড়ে যায়। গ্রাম থেকে শহরে খাদ্য প্রেরণ অব্যাহত রাখায় চাহিদার তুলনায় খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে। পরিস্থিতির ভারসাম্যহীনতায় ১৯৬০ সালের পর শিল্প বিনিয়োগে বড় পতন ঘটে। অন্যদিকে সেচ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং স্টিল উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষাবস্থা দেখা দেয়। দুর্ভিক্ষে নিহত হওয়ারও অনেক রিপোর্ট পাওয়া যায়। ১৯৬০-৬১ সালে জনসংখ্যার হ্রাস এ ধারণা শক্তিশালী করে।
বিভিন্ন বিপর্যয় ও জটিলতা সৃষ্টির কারণে পার্টির মধ্যে এ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে সমালোচকদের বুর্জোয়া বিপথগামী বলা হয়, উচ্চপদে অনেক রদবদলও করা হয়। কিন্তু এর সমাধান খুঁজে না পাওয়ায় ১৯৬১ সালের জানুয়ারিতে অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির নবম প্লেনামে কৃষি ও শিল্প উচ্চলম্ফ কর্মসূচির সংশোধন আনা হয়। গ্রাম থেকে শহরে খাদ্য রফতানি বন্ধ করা হয়। সংকট সামাল দিতে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্য আমদানি করা হয়।
১৯৬২
সালে পার্টির
অনেকগুলো সম্মেলন
হয়। উচ্চলম্ফের কর্মসূচির বিপর্যয়ের কারণে
পার্টিতে মাওয়ের
অবস্থানও দুর্বল
হয়ে পড়ে।
অনেক অপসারিত
কর্মকর্তা পুনর্বাসিত হন। মাও বিরোধীদের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
এক পর্যায়ে
মাও সে
তুং নিজেও
পার্টির এক
সম্মেলনে তড়িঘড়ি
নানা ভুল
পদক্ষেপ নেয়ার
বিষয়ে আত্মসমালোচনা করেন। এরপর বেশ
কিছুদিন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম থেকে মাও
সে তুং
কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন। [চলবে]
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক,
অর্থনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়










