গত
বছর
৪
জুন
প্রথমবারের
মতো
পালিত
হয়েছিল
জাতীয়
চা
দিবস।
দিবসটি
ঘিরে
সাজসজ্জা
ছিল
চোখে
পড়ার
মতো।
দিবস
উদযাপন
স্থল
ওসমানী
মিলনায়তনের
চেহারা
ছিল
চোখ
ধাঁধানো।
নামিদামি
মানুষ,
গাড়ি
ও
অতিথিদের
পদচারণায়
মিলনায়তন
ছিল
কানায়
কানায়
পূর্ণ।
কিন্তু
সেখানে
যাদের
একজনও
উপস্থিত
ছিলেন
না,
তারা
হলেন
চা
শ্রমিক
এবং
তাদের
প্রতিনিধিদের
কেউ।
এ
শ্রমিকরাই
চা
শিল্পের
প্রাণ।
তবে জেনেছি
এবার
চা
শ্রমিকের
প্রতিনিধিত্বকারী
বাংলাদেশ
চা
শ্রমিক
ইউনিয়নের
চার-পাঁচজনের
একটি
প্রতিনিধি
দল
দ্বিতীয়বারের
মতো
জাতীয়
চা
দিবস
উদযাপন
অনুষ্ঠানে
যোগ
দেবে।
এখনো
জানি
না
তাদের
কেউ
উদযাপন
মঞ্চে
স্থান
পাবেন
কিনা,
চা
শ্রমিকদের
পক্ষে
বক্তব্য
রাখবেন
কিনা।
তবে
আমি
গুরুত্বপূর্ণ
এ
দিবসে
একটি
বিষয়ে
সংক্ষেপে
আলোচনা
করব
এবং
তা
হলো
চা
শ্রমিকের
মজুরি।
যেকোনো
শিল্পে
শ্রমিকরাই
হলেন
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ।
তবে
চা
শিল্পে
শ্রমিকদের
বিষয়
সম্পূর্ণ
ভিন্ন।
পঞ্চগড়
ও
ঠাকুরগাঁওয়ে
সাম্প্রতিক
গড়ে
ওঠা
আটটি
বাগান
ও
স্মল
হোল্ডিংয়ের
বাইরে
বাংলাদেশের
মূল
১৫৮টি
চা
বাগানের
শ্রমিকরা
চা
বাগানের
মধ্যেই
লেবার
লাইন
বা
শ্রমিক
কলোনিতে
বসবাস
করেন।
সিলেট,
মৌলভীবাজার,
হবিগঞ্জ,
চট্টগ্রাম
ও
রাঙ্গামাটি
পার্বত্য
জেলার
এসব
বাগানে
কাজ
করেন
১
লাখ
৩৯
হাজারের
মতো
শ্রমিক।
তাদের
আবার
৯৫
শতাংশের
মতো
বাঙালি
নন।
চা শ্রমিকের
মজুরির
বিষয়টি
বাংলাদেশ,
ভারত
ও
শ্রীলংকায়
একটি
বহুল
আলোচিত
বিষয়।
এ
তিন
দেশের
মধ্যে
বাংলাদেশের
চা
শ্রমিকের
মজুরি
সবচেয়ে
কম।
দৈনিক
নগদ
১২০
টাকা।
বিভিন্ন
সূত্রমতে,
ভারতের
আসামে
একজন
শ্রমিক
পান
দৈনিক
নগদ
২০৫
রুপি।
আর
শ্রীলংকায়
দৈনিক
নগদ
মজুরি
১
হাজার
রুপি।
এর
ওপর
চা
শ্রমিকরা
বসবাসের
জন্য
ঘর,
চিকিৎসা,
স্বল্পমূল্যে
খাবার
ইত্যাদি
বাড়তি
সুবিধা
পেয়ে
থাকেন।
বাংলাদেশে একজন
চা
শ্রমিক
নগদ
১২০
টাকাসহ
টাকার
অংকে
মোট
কী
পান
তা
নিয়ে
মালিকের
সঙ্গে
শ্রমিক
প্রতিনিধিদের
দ্বন্দ্ব
বর্তমানে
তুঙ্গে।
ঐতিহ্যগতভাবে
চা
শ্রমিকের
মজুরি
ঠিক
হয়
চা
শ্রমিকদের
প্রতিনিধিত্বকারী
সংগঠন
বাংলাদেশ
চা
শ্রমিক
ইউনিয়ন
এবং
মালিকদের
প্রতিনিধিত্বকারী
সংগঠন
বাংলাদেশ
টি
অ্যাসোসিয়েশনের
মধ্যে
সম্পাদিত
চুক্তি
অনুসারে।
এ
চুক্তি
সাধারণত
স্বাক্ষর
হয়
দুই
বছর
পরপর
এবং
চুক্তি
সই
হওয়ার
সময়
মজুরি
কিছুটা
বাড়ে।
মালিক
ও
শ্রমিকের
সর্বশেষ
চুক্তি
কার্যকর
হয়
২০১৯
সালের
জানুয়ারি
থেকে
এবং
চা
শ্রমিকের
মজুরি
তখন
নির্ধারিত
হয়
চা
বাগানের
শ্রেণীভেদে
১১৭,
১১৮
ও
১২০
টাকা
(২০১৯ ও
২০২০
সালের
জন্য
কার্যকর)।
এর
আগে
পর্যন্ত
চা
শ্রমিকের
দৈনিক
নগদ
মজুরি
ছিল
১০২
টাকা।
শ্রমিক ও
মালিকপক্ষের
দরকষাকষির
মাঝে
সরকার
২০১৯
সালের
অক্টোবরে
চা
শ্রমিকদের
মজুরি
নির্ধারণের
জন্য
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড
গঠন
করে
দেয়।
এটি
ছিল
চা
শ্রমিকদের
জন্য
সরকারের
করে
দেয়া
তৃতীয়বারের
মতো
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড।
এবারের
ছয়
সদস্যের
মজুরি
বোর্ডে
চা
শ্রমিকদের
প্রতিনিধি
রামভজন
কৈরী।
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড
গঠন
করার
পর
ছয়
মাসের
মধ্যে
সরকারের
কাছে
সুপারিশ
পাঠানোর
বিধান
থাকলেও
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড
২০২১
সালের
১৩
জুন
খসড়া
গেজেট
প্রকাশ
করে।
করোনা
মহামারীর
কারণে
মজুরি
বোর্ডের
কাজ
বাধাগ্রস্ত
হয়েছে
খানিকটা।
কিন্তু
গুরুতর
বিষয়
হলো,
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ডের
সুপারিশ
রামভজন
কৈরী
ও
চা
শ্রমিকদের
হতাশ
করেছে।
প্রথমত,
চা
শ্রমিকের
মজুরি
১
টাকাও
বাড়ানো
হয়নি।
দ্বিতীয়ত,
চা
শ্রমিকরা
এতদিন
যেসব
সুযোগ-সুবিধা
পেয়ে
আসছিলেন,
তাও
সংকুচিত
করার
সুপারিশ
করে
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড।
শুধু
তাই
নয়,
সুপারিশে
শ্রম
আইনের
প্রতিও
অবজ্ঞা
প্রদর্শন
করা
হয়।
খসড়া
সুপারিশ
সরকারের
কাছে
পেশ
করার
আগে
সর্বশেষ
যে
সভা
হয়
মজুরি
বোর্ডে,
রামভজন
কৈরী
তা
বর্জন
করেন
এবং
তিনি
সুপারিশে
স্বাক্ষর
করা
থেকে
বিরত
থাকেন।
মজুরি
বোর্ডের
সভায়
তার
অভিজ্ঞতা
অত্যন্ত
বেদনাদায়ক
বলে
তিনি
জানিয়েছেন।
এর
ছয়
সদস্যের
পাঁচজনই
মালিকের
পক্ষে
এবং
তারা
মজুরি
১২০
টাকার
পক্ষে।
মালিকপক্ষের
দাবি,
তারা
শ্রমিকদের
নগদ
মজুরিসহ
যা
দেন
তা
৪০৩
টাকার
সমান।
তাদের
হিসাবের
মধ্যে
আমরা
শ্রম
আইনের
সুস্পষ্ট
লঙ্ঘন
দেখতে
পাই।
তারা
শ্রম
আইন
লঙ্ঘন
করে
ঘরভাড়া,
ওভারটাইম,
চিকিৎসা,
শিক্ষা
ইত্যাদি
যোগ
করে
যেভাবে
মজুরির
হিসাব
করেছেন,
তা
একেবারেই
বেআইনি।
শ্রমিকপক্ষের
দাবি,
তারা
সব
মিলিয়ে
যা
পান
তা
২০০
টাকার
নিচে।
সরকার বা
শ্রম
মন্ত্রণালয়
শেষ
পর্যন্ত
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ডের
সুপারিশ
গ্রহণ
না
করে
ফেরত
পাঠিয়েছে।
চা
শ্রমিক
প্রতিনিধিরা
শ্রম
মন্ত্রণালয়ের
সচিব
ও
প্রতিমন্ত্রীর
সঙ্গেও
বৈঠক
করেছেন।
সর্বশেষ
অবস্থা
হলো,
বোর্ড
চা
শ্রমিকরা
অতীতে
যেসব
সুযোগ-সুবিধা
পেয়ে
আসছিল
তা
কমাবে
না।
কিন্তু
মজুরি
১২০
টাকা
থাকবে
না
বাড়বে
তা
মজুরি
বোর্ড
নির্ধারণ
করবে।
এখনো
মজুরি
বোর্ড
কোনো
সিদ্ধান্তে
আসতে
পারছে
না।
আমরা যদি
অন্যান্য
শিল্পের
মজুরির
সঙ্গে
চা
শিল্পের
মজুরি
তুলনা
করি,
তবে
দেখি
চা
শ্রমিকের
মজুরি
অত্যন্ত
কম।
একটি
উদাহরণ
দেয়া
যেতে
পারে।
নির্মাণ
ও
কাঠ
শিল্পের
শ্রমিকদের
জন্য
সরকার
২০২১
সালের
১৬
আগস্ট
নিম্নতম
মজুরি
নির্ধারণ
করে
গেজেট
প্রকাশ
করেছে।
তাতে
দেখি
এ
শিল্পে
নিম্নতম
(৬ষ্ঠ) গ্রেডে
জোগালি
শ্রমিকের
দৈনিক
মজুরি
গ্রামে
৬২০
টাকা
এবং
শহরে
৬৮০
টাকা।
অন্যান্য
শিল্পে
মজুরি
আরো
বেশি।
তাহলে
চা
শ্রমিকের
মজুরি
এত
কম
কেন?
চা
শ্রমিকদের
দাবি,
তাদেরকে
এখনই
নগদ
মজুরি
৩০০
টাকা
দিতে
হবে।
আমরা
মনে
করি,
এ
দাবি
ন্যায়সংগত।
নিম্নতম মজুরি
বোর্ড
যদি
অন্যান্য
দেশের
চা
শ্রমিকদের
মজুরি,
জীবনযাত্রার
ব্যয়
বিবেচনায়
নেয়,
তবে
তারা
চা
শ্রমিকের
প্রতি
এমন
অবিচার
করতে
পারে
না।
মজুরি
বোর্ডে
রামভজন
কৈরীর
অভিজ্ঞতা
এবং
সবকিছু
দেখেশুনে
মনে
হচ্ছে
মালিকপক্ষ
মজুরি
বোর্ড
ছিনতাই
করেছে।
তবে
আমরা
আশা
করব,
মজুরি
বোর্ডের
বোধোদয়
হবে
এবং
চা
শ্রমিকদের
প্রতি
তারা
কোনো
চরম
অন্যায়
করবে
না।
আমরা চা
শ্রমিকের
মজুরি
বিষয়ে
মালিকপক্ষসহ
কয়েকটি
সংলাপে
বিশেষজ্ঞদের
কথা
শুনেছি।
তাদের
মধ্যে
বাংলাদেশ
ইনস্টিটিউট
অব
ডেভেলপমেন্ট
স্টাডিজের
মহাপরিচালক
ড.
বিনায়ক
সেন
স্পষ্ট
করে
দিয়েছেন
মজুরি
নির্ধারণের
জন্য
জীবনযাত্রার
ব্যয়
বিবেচনায়
নেয়া
অত্যন্ত
জরুরি।
‘আমরা
যদি
সিলেট
অঞ্চলের
জীবনযাত্রার
ব্যয়
বিবেচনায়
নেই,
তবে
তা
একজন
প্রাপ্তবয়স্ক
ব্যক্তির
জন্য
মাসিক
৭
হাজার
৭৫০
টাকা,
চার
সদস্যের
পরিবারের
জন্য
১৪
হাজার
৫০০
টাকা
এবং
তার
বেশি
সদস্যের
পরিবারের
জন্য
১৬
হাজার
৮০০
টাকা,’
বলেন
ড.
বিনায়ক
সেন।
‘চা
শ্রমিকদের
জীবনে
যা
ঘটেছে
তা
চরম
অন্যায়।
মূল্যস্ফীতি
ও
অন্যান্য
বিষয়
বিবেচনায়
নিলে
চা
শ্রমিকের
মজুরি
অবশ্যই
বাড়াতে
হবে।
আমরা
আশা
করব
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড
চা
শ্রমিকদের
মজুরি
যৌক্তিকভাবে
বাড়াবে’—এমন
মতামত
দিয়েছেন
তত্ত্বাধায়ক
সরকারের
সাবেক
উপদেষ্টা
ও
বিশিষ্ট
অর্থনীতিবিদ
ড.
হোসেন
জিল্লুর
রহমান।
আজকে যারা
জাতীয়
চা
দিবস
উদযাপনে
অংশ
নিচ্ছেন,
তাদের
প্রতি
আবেদন
থাকবে
চা
শ্রমিকদের
কথা
স্মরণে
রাখতে।
১৫০
বছর
ধরে
যে
শ্রমিকরা
চা
বাগানগুলো
বাঁচিয়ে
রেখেছেন,
তারা
বাংলাদেশে
যে
উন্নয়ন
হচ্ছে,
তার
সুফল
সমানভাবে
ভোগ
করতে
পারছেন
না।
তারা
এখনো
পূর্ণমর্যাদা
নিয়ে
বাংলাদেশের
নাগরিক
হয়ে
উঠতে
পারছেন
না।
তারা
দরিদ্র,
দুর্বল
এবং
বৃহত্তর
সমাজ
থেকে
বিচ্ছিন্ন।
তাদের
এ
অবস্থা
থেকে
বেরিয়ে
আসতে
সরকারকে
বিশেষ
নজর
দিতে
হবে।
তবে
তাত্ক্ষণিকভাবে
তাদের
ন্যায্য
মজুরির
বিষয়টি
মীমাংসা
করতে
হবে
এবং
নিম্নতম
মজুরি
বোর্ড
ও
মালিকদের
সংগঠন
বাংলাদেশ
টি
অ্যাসোসিয়েশনকে
বাংলাদেশ
শ্রম
আইনের
প্রতি
পূর্ণ
শ্রদ্ধাশীল
হতে
হবে।
ফিলিপ গাইন: গবেষক ও পরিচালক, সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড)










